যেসব বিজ্ঞাপনের সমালোচনা না করে পারা যায় না -২ : উচ্ছৃঙ্খল বানানোর প্রতিযোগিতা

এই সিরিজের আগের পোস্টঃ তাহলে মেয়েদের প্রতিভা মানেই সৌন্দর্য্য?

টিভিতে ইদানিং নতুন একটা বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয়। বিজ্ঞাপনের দৃশ্যটা এরকমঃ কতগুলো ছেলে একসাথে রাস্তায় হাউকাউ মার্কা একটা গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাচতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই রাস্তার অপর পাশ থেকে আরেকটা দলকে আসতে দেখা যায়। বিজ্ঞাপনচিত্রটিতে দলের সামনে থাকা উদ্ভট রঙের কাপড় পরা মেয়েটাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে বোঝায় যায়। মেয়েটা এসে যখন একটা ভাব নিয়ে আগে থেকেই নাচতে থাকা দলটার সামনে এসে দাঁড়ায়, তখন প্রথম দলের সামনের ছেলেটা বলে উঠে show me what you’ve got (তোমার কী আছে দেখাও 😐 ) ।

তারপর রাস্তার মাঝেই মেয়েটার দাপাদাপি শুরু হয়। 😐 কতক্ষণ পাগল-ছাগলের মতো ড্যান্সিংয়ের পর প্রথম দলটা প্রতিযোগিতার মতো করে “আবার জিগায়” গানটার সুরে নাচতে থাকে। তখন একজনের ফোনে একটা কল আসে। সে বলে উঠে, “মম!” তারপর সে ফোনটা রিসিভ করে একটু দূরে চলে যায়।

যারা মোটামুটি টিভি দেখেন, তারা ইতিমধ্যেই ধরে ফেলেছেন আমি স্যামসাং চ্যাম্প টাচস্ক্রিন মোবাইল সেটটির নতুন টিভি কমার্শিয়ালের কথা বলছি।

পোস্টটা লেখা শুরু করার আগে টাইটেল দিতে চেয়েছিলাম ‘মেয়েদের উচ্ছৃঙ্খল বানানোর প্রতিযোগিতা’। কারণ, রাস্তাঘাটে এমন ড্যান্স করার অভ্যাস বাংলাদেশে অনেক ছেলেদেরই হয়তো আছে। কিন্তু কয়টা মেয়ে এমন আছে সেটা নিয়ে আমার প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু পরে মেয়েদের শব্দটা বাদ দিলাম। কারণ, ওটা থাকলে কতিপয় সাধু ব্লগাররা বলবেন ছেলেরা নাচলে উচ্ছৃঙ্খল হয় না, মেয়েদের বেলায়ই যত সমস্যা।

আমার কথা হলো, সমস্যাটা কেবল ছেলে বা কেবল মেয়েদের নয়, বরং এ জাতীয় একটি বিজ্ঞাপনচিত্র সমস্যা সৃষ্টি করে পুরো যুব সমাজের মধ্যেই। বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব বাংলাদেশে পড়ছে বহু আগে থেকেই। হয়তো বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতেই আমাদেরকে সেসব সংস্কৃতি মেনে নিতে হচ্ছে। কিন্তু রাস্তাঘাটে এমন উচ্ছৃঙ্খল নাচ‍! এ ধরনের একটি বিজ্ঞাপনচিত্র অনুমতি পেল কী করে বাংলাদেশে?

বলা বাহুল্য, বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন জগতে রাস্তায় নাচ নতুন কিছু না। তবে নাচের তো একটা ধরন আছে রে ভাই। এইটা কোন প্রজাতির নাচ? এই নাচকে সম্বোধন করতে সবচেয়ে সঠিক যেই শব্দটা মনে আসছে সেটা হলো ‘ডিজুস স্টাইল’ -এর নাচ। এই ধরনের উচ্ছৃঙ্খল নাচ দেশের ছেলেদের এবং বিশেষ করে মেয়েদর মধ্যে ঢোকানোর যে প্রবণতা চলছে, সেটা কি কেউ বুঝে না নাকি বুঝেও পাত্তা দেয় না? একসময় আমাদের দেশের রাস্তাঘাটে যখন এমন পরিবেশের সৃষ্টি হবে, তখন আপনি আপনার বাবা-মা বা মুরুব্বিদের নিয়ে রাস্তায় বের হবেন কী করে একবার ভেবেছেন? অথবা যারা এমন উচ্ছৃঙ্খলবাজির মধ্যে যাবে না, তাদেরও তো করুণ দশাই হবে। বন্ধুমহলে ঠাঁই থাকবে না। সবাই টিউব লাইট বলে ডাকবে। আরো নানা সমস্যা।

এইসবের বিহিত করা যায় কী করে সেটা লিখতে বসিনি আমি। সাধারণত আমি বিজ্ঞাপন বেশ সহনশীল চোখেই দেখি। বিজ্ঞাপন তো বিজ্ঞাপনই। কিন্তু কিছু কিছু বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে নির্মাতারা এতোই বাড়াবাড়ি করে ফেলেন যে সেটা নিয়ে না বললেই নয়। এই স্যামসাং চ্যাম্প (নামও একখান, শিম্পাঞ্জী মার্কা!) বিজ্ঞাপন নিয়ে আপনাদের মতামত শোনার জন্য অপেক্ষা করছি।