এলো এইচএসসি, আর বরাবরের মতোই দুশ্চিন্তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না!

hsc exam

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই শুরু হতে যাচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। এরকম খবর প্রতি বছর পত্র-পত্রিকায় পড়ে আসলেও এবারের ঘটনা ভিন্ন। কেননা, এবার আমাকেই বসতে হবে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায়।

প্রিপারেশন জানতে চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।পরীক্ষা নিয়ে টেনশন কোনোকালেই কেন যেন ছিল না। পড়াশোনার প্রতি খুব একটা টান বা মনোযোগ দু’টোর একটাও নেই। অনেক আগে ক্লাস ওয়ান-টু-তে পড়াকালীন বেশ প্রখর ছাত্র ছিলাম বলে অভিভাবক সূত্রে জানা যায়। 😐 কিন্তু সেসব দিনের কথাই মনে পড়ে না। তাই এইচএসসি পরীক্ষা সামনে রেখে এখন ব্লগিং করছি আর ফেসবুকে বসে আছি।

আমার সম্পর্কে মানুষের একটা জনপ্রিয় ভুল ধারণা হলো, আমি মারাত্মক ট্যালেন্টেড। কোনো এক অশরীরী আমার নামে সাইবার ওয়ার্ল্ডে এই দুর্নাম ছড়াচ্ছে তা এখনও বের করতে না পারলেও মানুষ কেন সেটা বিশ্বাস করে সেটা আরও বড় অবাক হওয়ার কারণ। আমি হলাম পুরোমাত্রায় টেক-অ্যাডিক্টেড মানুষ। টেক-অ্যাডিক্টেড মানুষ পড়ালেখা করে না এমনটা না। কিন্তু তবুও আমার আলসেমিটা একটু বেশিই। 😕 Continue reading

আচ্ছা, রাতে লেখালেখির ইচ্ছেটা বেড়ে যায় কেন বলুনতো?

writing

অনেকদিন ধরেই একটা বিষয় খেয়াল করছি। রাত যখন গভীর থেকে গভীরতম’র দিকে যায়, নিরবতা যখন তার ‘পিন-পতন’ স্তরে পৌঁছায়, তখন কেন যেন ‘কিছু একটা’ লেখার ইচ্ছে অনেক বেড়ে যায়। কাজের তাগিদে দিনে অনেক লেখালেখির কাজ করতে হয়। ইদানীং সেটা পরীক্ষার কারণে কমে আসলেও বিভিন্ন বিষয়ের উপর লেখালেখিটা ধরে রেখেছি। কিন্তু রাতের লেখার ইচ্ছেটা সেগুলোর সঙ্গে ঠিক যেন খাপ খায় না। এই যেমন এখন কিছু একটা লিখতে খুব ইচ্ছে করছে। কিন্তু যেসব সাইটে কাজ করি, সেগুলোয় লেখার পাতা খুললে লেখার আগ্রহটা কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ এই যে এখানে লিখে চলেছি এখন, লেখার আগ্রহটা কিন্তু ঠিকই রয়ে গেছে।

এই বিষয়ে আমার একটা থিওরি আছে। সেটা হলো যে কোনো কাজই যখন “কাজ” হিসেবে করতে হয়, তখন তার প্রতি আগ্রহ কমে যায়। কেউ ছবি তুলতে ভালোবাসলে তাকে যদি ছবি তোলার “কাজ” দেয়া হয়, তখন তিনি অস্বীকার করতে পারবেন না যে তিনি সেই কাজে “আগ্রহ” হারিয়ে ফেলেন খুব সহজেই। যারা কাজের মধ্যেও আগ্রহ ধরে রাখতে পারেন, যেই কাজটা বেশ কঠিন, কেবল তারাই সফল হতে পারেন।

যাই হোক, সফলতার কথা পরে হবে। আসল কথা হলো, মাঝরাতে কী লিখতে ইচ্ছে করে? এটা কি কেবল আমার, নাকি আরো অনেকেরই? এক সময় যখন ইন্টারনেট নামক বস্তুটি ছিল না, মানুষ যখন ডায়েরিকে সবচেয়ে কাছের বস্তু বলে ভাবতো, যখন ডায়েরির সঙ্গে জীবনের একান্ত গোপন কথাগুলোও ভাগাভাগি করে নিতো, তখন তারা কী রাতেই লিখতো?

আমি অন্তত এ যাবৎ যাদের চিনি, তাদের মধ্যে যারা ডায়েরি লিখতো বা এখনো লিখে, তারা নাকি রাতেই ডায়েরিটা লিখে। তাদের এই ডায়েরি রাতে লেখার সঙ্গে কি আমার রাতে “কিছু একটা” লেখার কোনো সম্পর্ক আছে? তারা রাতে ডায়েরি লিখেন কি দিনের শেষের কথাগুলো লিখে রাখতে, রাতেই একমাত্র সময় পান বলে, নাকি তাদের মধ্যেও লেখার প্রবল ইচ্ছেটা রাতেই জাগ্রত হয়ে ওঠে বলে?

বলা মুশকিল। আমার যেই রাতে লেখার ইচ্ছেটা জেগে ওঠে, সেটা কি তাদের সেই ডায়েরি লেখার ইচ্ছের মতোই? এমন কেউ কি আছেন যাদের আমার মতোই রাতের নিস্তব্ধতায় লেখার ইচ্ছেটা জেগে ওঠে? আপনারা কি বলতে পারবেন ঠিক কী লেখার ইচ্ছে হয়? আর কেনই বা সেটা রাতে হয়?

পোড়ো ২ (প্রথম পর্ব)

পোড়ো ২ হরর গল্পদ্রষ্টব্যঃ পোড়ো গল্পটি নিতান্তই অলস মস্তিষ্কের কাল্পনিক অবদানমাত্র। বাস্তব কোনো কাহিনীর উপর ভিত্তি করে এ গল্প লেখা হয়নি। পোড়ো ১ গল্পের প্রথম পর্ব ও দ্বিতীয় পর্ব পড়তে যথাক্রমে এখানেএখানে ক্লিক করুন। পোড়ো ১-এর লেখকের অনুমতিক্রমেই পোড়ো এর সিকুয়েল পোড়ো ২ লিখছি আমি। আশা করছি আপনাদের ভালো লাগবে। ধন্যবাদ।

১.
স্টিভ ঘুম থেকে উঠলো সকাল সকাল। হাই তুলে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো প্রায় সাড়ে নয়টা বাজে। পাশে রুমের জানালার ভারি পর্দা ভেদ করে সূর্যের আলো পুরোপুরি ঘরে আসতে পারেনি। তবে পর্দার ফাঁক দিয়ে ঠিকই কড়া রোদ জানা দিচ্ছে দিবালোকের উপস্থিতি।

স্টিভ (পূর্বের পর্বে স্টিভেন্স) বিছানা ছেড়ে পর্দা সরিয়ে জানালা খুলে দিলো। সঙ্গে সঙ্গে দমকা হাওয়া এসে ঝাপ্টা দিলো তার মুখে। বাইরের বাতাস অনেক ঠাণ্ডা। এখানকার আবহাওয়া বেশ অদ্ভূত। সূর্যের রাগী রোদকে উপেক্ষা করেই যেন একই সঙ্গে ঠাণ্ডা বাতাস বইতে থাকে। এতে অবশ্য ভালোই হয়। গরম তেমন একটা গায়ে লাগে না।

স্টিভ ও রোনাল্ড মূলত বেড়াতে এসেছে। তাদের বাড়ি থেকে প্রায় কয়েকশ’ মাইল দূরের এই বনাঞ্চল তাদের বেশ প্রিয়। অবশ্য শেষবার যখন আসে তখনকার ঘটনা কারো মন থেকেই মুছে যায়নি। তবুও রোনাল্ডের শরীর একটু ভালো হতেই কাজে লেগে যায় সে। এক মাস পর আবার দুই ভাই মিলে আসে সেই পুরনো জায়গায়। আসার আগে অবশ্য স্টিভ বারবার জিজ্ঞেস করেছে, তার আবার পুরনো স্মৃতি ফিরে আসবে কি না। রোনাল্ড জানিয়েছে, জঙ্গলে তাবু ফেলতে না গেলেই সে ঠিক থাকবে।

Continue reading

পরীক্ষা শেষ, কী করে কোথায় গিয়ে সময় কাটানো যায়?

অবশেষে দেড় মাস পরে এসএসসি শেষ হলো। B-) নিজেকে খুব লাইটওয়েট লাইটওয়েট লাগছে। :P খুব সম্ভবত মে মাসে রেজাল্ট দিবে। তার আগ পর্যন্ত মোটামুটি ভালোই একটা ফাঁকা সময় পড়ে আছে সামনে। পরীক্ষার খাতায় যদিও লিখে এসেছি যে পরীক্ষা শেষে গ্রামে বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করবো :-B আসলে অন্য কিছু করার চিন্তাভাবনা করেছি।

হাতে টাকা-পয়সা বেশি নেই। কিছু কেনাকাটা করে হাত পুরোই খালি। তবুও খালি বেড়াইতে মন চায়। :( কিন্তু ঢাকায় তো বেড়ানোর জায়গা খুঁজে পাই না। নন্দন-ফ্যান্টাসি নিয়ে অনেক আগেই বোর হয়ে গেছি। এসব জায়গায় যাওয়া-আসার ট্রাফিক জ্যামেই মজার অর্ধেক নষ্ট হয়ে যায়। আর উপরন্তু খরচের চাপ তো আছেই। :((

ডেইলি স্টারের ম্যাগাজিন স্টার ক্যাম্পাসে প্রকাশিত একটি লেখার প্রথম প্যারায় লিখেছিলাম আমি এসএসসির পর ওয়ার্ডপ্রেস থিম ডেভেলপমেন্ট, পিএইচপি, সিএসএস এসব শিখবো। এখনো এসব শিখার ইচ্ছে আছে। কিন্তু কোত্থেকে কীভাবে শিখবো বুঝতে পারছি না। ইন্টারনেটের অসংখ্য টিউটোরিয়াল আর ভিডিও খুব একটা কাজে দিচ্ছে না। এই একটা কাজ আমি টিউটোরিয়াল ঘেঁটে শিখতে পারবো না। :( আর তাছাড়া পুরোটা সময় মনিটরের সামনে বসেও কাটাতে চাচ্ছি না।

তাই বরাবরের মতোই ব্লগারদের কাছে ফ্রি পরামর্শ আহ্বান করছি। B:-/ এই লম্বা ছুটিটা কীভাবে কাটানো যায়? মুভি দেখতে দেখতে টায়ার্ড। কিছু গল্পের বই পড়বো ঠিক করেছি। বেড়াতে যাওয়ার জায়গা খুঁজে পাচ্ছি না। যেগুলো পাচ্ছি সেগুলোতে অনেক খরচ। :( কিছু সময় লেখালেখিতে কাটাবো আর কিছু সময় ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখবো। অবশ্য এখনো নিশ্চিত নই পিএইচপির দিকে এগোবো নাকি জাভাস্ক্রিপ্টের দিকে যাবো। তবে যেটাই হোক একটা কিছু শিখতে শুরু করবো শিগগিরই।

বাকি সময়টা কী করে কাটাবো, এর জন্য ক্রিয়েটিভ আইডিয়া চাই। :P বেস্ট আইডিয়াদাতাকে আধা লিটার কোক খাওয়াতে রাজি আছি। :D

[দৈনিক প্যাঁচাল -২] বহুল প্রতীক্ষিত একটি দিন আজ

আজ বহুল প্রতীক্ষিত একটি দিন। গত নভেম্বর থেকেই মনে হচ্ছিল কবে আজকের দিনটা আসবে। গত ডিসেম্বরে তো যেন সহ্যই হচ্ছিল না এই দিনটা কেন আসছে না। জানুয়ারিতে তো অপেক্ষা করারও সময় পাইনি। আর ফেব্রুয়ারিতে? পুরো মাসজুড়েই যেন একটা টাইম মেশিনের অভাব খুব ফিল করছিলাম।

এমনকি গতকাল ৯ই মার্চও মনে হচ্ছিল টাইম মেশিনে করে আজকের দিনটায় চলে আসতে।

আজ মার্চের ১০ তারিখ। এসএসসি পরীক্ষা শেষ। :D

মনে পড়ে ফেব্রুয়ারির এক তারিখ মিরপুর এক নম্বর দিয়ে হেঁটে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার সময় অনেক টেনশনের মধ্যে একটা চিন্তা ছিল কবে আসবে ১০ তারিখ বৃহস্পতিবার। কবে শেষ হবে পরীক্ষা।

আজ সকালে বাতাসময় আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে যাবার সময় কেবলই সেদিনের কথা মনে পড়ছিল। স্কুলে দুই বছর স্যাররা কত ভয়ই না দেখিয়েছে এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে। অথচ বাস্তবে এতোটা ভয়ের কিছু ছিল না আসলে পরীক্ষাটা। আমাদের স্কুলের আর দশটা পরীক্ষার মতোই সাদামাটা একটা পরীক্ষা। বাড়তি ছিল কেবল কিছু আনুষ্ঠানিকতা।

গতকাল কে যেন ফেসবুকে জিজ্ঞেস করেছিল আজ আমার কী পরীক্ষা। আমি বললাম, পিসি। :D তিনি অনেকবার জিজ্ঞেস করলেন। আমি একই উত্তর দিলাম। পরে মেজাজ খারাপ হয়ে আর কথা বলেননি।

কিন্তু আমি তো সত্যিই বলেছিলাম। X((

আজ সকালবেলা পরীক্ষা ছিল আমার। ঐচ্ছিক বিষয়; কম্পিউটার। কী কারণে যেন কম্পিউটার ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে নিতে চায় না পোলাপান। সব কৃষি নিয়ে মাথা খাটায়। যাই হোক, আমার কাছে কম্পিউটার সহজ মনে হয় (সংখ্যাতত্ত্বের অধ্যায়টি ছাড়া; আমি ঐটার কিছুই বুঝি না :(( )।

পরীক্ষার প্রশ্ন মোটামুটি সহজই হয়েছে বলা যায়। আজও সহজই হয়েছে। পরীক্ষা শেষে মাঠে এসে দেখি দশ-বারোজন শিক্ষার্থী মাত্র। পুরো স্কুল যেন গড়ের মাঠ! :P মজাই লাগলো।

অনেকদিন পর মাথা থেকে একটা বোঝা গেল যেন। এবার দু’মাস মজা করে নেই। পরীক্ষার রেজাল্ট দিলেই মজা ছুটে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। :| :|

যাক ভালোমতোই গেল বিশ্বকাপ উদ্বোধনী (চিন্তায় ছিলাম রিকশার চেইন না পড়ে যায়)

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও কয়েকটি ম্যাচ বাংলাদেশে হচ্ছে বলে আনন্দের সীমা নেই অনেকেরই। সেই অনেকের মধ্যে আমি একজন হতে পারলাম না। আমার আনন্দের সীমা আছে। ঘরের চার দেয়ালই আনন্দের সীমা। কারণ, মাঠে যাওয়া দূরে থাক মাঠের ধারেকাছেও খেলা চলাকালীন যাওয়া সম্ভব না। :(( টিভিই সব ভরসা। তার উপর যদি খেলার সময় কারেন্ট যায় তাহলে তো বোঝেনই। X((

তবে ভাগ্য ভালো, উব্দোধনী অনুষ্ঠানের সময় কারেন্ট যায় নাই, ডিশও যায় নাই। B-) শান্তিমতো পুরোটা প্রোগ্রাম দেখতে পারলাম। প্রথমে তো খুঁজেই পাই না কোন চ্যানেলে দেখাচ্ছে। ভাইয়া কতক্ষণ এনটিভি-ইটিভির খবর-টবর দেখে তারপর চ্যানেল ঘুরিয়ে বিটিভিতে রাখলো। বিটিভিও খবর শেষ করে সঙ্গীতানুষ্ঠান শুরু করে দিল। :-* কী আর করা! বসে বসে সঙ্গীত শুনতে থাকলাম। একটু পরে বিডিনিউজে দেখলাম অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে। তবুও বিটিভিতে দেখানোর খবর নেই। পরে খেয়াল করলাম আমরা বিটিভি ওয়ার্ল্ড খুলে বসে আছি। বিটিভি ওয়ার্ল্ডে কেন দেখালো না এটা না বুঝে শেষে অনেক খুঁজে ইএসপিএন বের করলাম। ততক্ষণে জাতীয় সঙ্গীত শুরু হয়ে গেছে। এর আগে কী মিস করেছি আল্লাহই জানে। /:)

জাতীয় সঙ্গীতের সময় মাঠটা অসাধারণ লাগছিল। দূরের ফ্লাডলাইটগুলো কেবল সবুজ আর লাল আলো তৈরি করে অদ্ভূত এক পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। সম্ভবত প্রথমবারের মতো আমার মনে হলো সবুজ আর লাল আসলে দুইটা খুব সুন্দর রঙ। :D

Continue reading

বিশালতার মাঝে একদিন – ২

প্রথম পর্বের পর

সেইন্ট মার্টিনে পা রেখে অদ্ভূত একটা অনুভূতি হওয়ার কথা ছিল। কোনো এক আজগুবি কারণে তেমন কিছুই হলো না। এতোদিন সেইন্ট মার্টিন নিয়ে মনে মনে যে চিত্র এঁকেছি, বাস্তবের সেইন্ট মার্টিন যেন সেই চিত্রের সঙ্গে খাপ খায় না। দূর থেকে সেইন্ট মার্টিন দেখে প্রথমেই যেই জিনিসটা বেমানান লাগলো, সেটা হলো মোবাইল কোম্পানির একটা টাওয়ার। অবশ্যই এই দ্বীপে প্রযুক্তির ছোঁয়া রয়েছে এবং তার প্রয়োজনও রয়েছে। কিন্তু একেবারে সামনে থেকেই এই টাওয়ার দেখতে পাওয়ায় সেইন্ট মার্টিনের পরিবেশের সেই প্রাকৃতিক ছোঁয়া পাবো ভেবেছিলাম, তা হারিয়ে গেল।

বাস্তবেও তাই হয়েছিল। সেইন্ট মার্টিন বেশ সুন্দর একটি জায়গা। সত্যিই অনেক সুন্দর। কিন্তু ততোটা সুন্দর নয় যতোটা আপনি মনে মনে ভাবছেন।

সেইন্ট মার্টিনেও রয়েছে লোকালয়। প্রথম দৃষ্টিতে ছোট একটি গ্রামের মতো মনে হবে এটি। এখানকার স্থানীয়দেরও বেশ দেখা যায়। তাদের বাড়িঘরও অনেকটা গ্রাম্য বাড়িঘরের মতোই। তাই জাহাজ থেকে নেমে হোটেল আর বিভিন্ন দোকানের ছোটখাটো বাজার পার হয়ে যখন দ্বীপের মূল সৈকতের দিকে যাচ্ছিলাম, তখন রাস্তার দু’পাশের দৃশ্য দেখে একটা গ্রাম বলাকেই পারফেক্ট মনে হচ্ছিল।

মূল সৈকতে যাবার আগে অব্শ্য হোটেল থেকে দুপুরের খাবার খেয়ে নিয়েছিলাম। সকাল ৭টায় রওনা হয়ে সেইন্ট  মার্টিন পৌঁছেছি দুপুর তিনটেয়। খিদে তো লাগবেই। খাবার বলতে সেখানে সামুদ্রিক মাছ, মুরগি, সবজি ও ডাল ছিল। বলা বাহুল্য, এর আগের তিন কক্সবাজারের সৈকতে রূপচাঁদা মাছ নিয়েছিলাম। খুব একটা ভালো লাগেনি। তাই সেইন্ট মার্টিনের ভাজা রূপচাঁদার মনকাড়া ঘ্রাণ উপেক্ষা করে সবজি, মুরগি আর ডাল দিয়েই লাঞ্চ সারলাম। পরে অবশ্য জেনেছি, সেইন্ট মার্টিনে গিয়ে ভাজা রূপচাঁদা মাছ না খেলে যাওয়াটাই বৃথা! 😥

Continue reading

উদ্ভট সব স্বপ্ন দেখছি আজকাল; কেন যে প্রেমে পড়েছিলাম!

শুধু প্রেম বললে ভুল হবে, প্রেমে একেবারে অন্ধ হয়ে আছি আমি। যখন তখন ছুটে যেতে চাই তার কাছে। শেষ যেদিন তার মিষ্টি স্বর কানে ভেসে এসেছিল, আমি পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। প্রতিক্ষণে আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম তার মাঝে। আকাশে বাতাসে শুধু তারই ছন্দ, তারই রূপ, তারই মধুময় স্পর্শ। মোহে এতোটাই অন্ধ হয়ে গেছি যে প্রতিরাতে তার কথা ভাবি। আকাশে এক ছটাক মেঘ জমলেই মনে পড়ে তার কথা। দক্ষিণের হাওয়ার অল্প একটু গা ছুঁয়ে গেলেই মনে পড়ে তার ভুবন-ভোলানো রূপের কথা।

সে আর কেউ না, আমার সবচেয়ে পছন্দের জায়গা, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। 😀 😛 😀 😛

কক্সবাজার সৈকতে সূর্যাস্তের ছবিটা আমার তোলা। প্রথম প্রকাশঃ আমার ব্লগে

কেবল সৈকতই নয়, বরং পুরো কলাতলী এলাকাটাই আমার চোখে প্রতিটা মুহুর্তে ভাসে। এ পর্যন্ত দু’বার কক্সবাজার যাবার সৌভাগ্য হয়েছে। কিন্তু কোনোবারই মন ভরেনি। বারবার ইচ্ছে হয়েছে সেখানেই কাটিয়ে আসি সপ্তাহের পর সপ্তাহ। সমুদ্রের প্রতি প্রবল এক টান সৃষ্টি হয়েছে আমার মধ্যে। ঠিক করেছি, টাকা হলে প্রতি তিনমাসে একবার কক্সবাজার ঘুরবো। 😉

এবার আসি স্বপ্নের ব্যাপারে। ইদানীং গাঁজাখুরি সব স্বপ্ন দেখছি। 😦 বুঝলাম না জ্বীন-ভূতে আছড় করলো কি না।  তবে গতকাল রাতের স্বপ্নটা বেশ ইন্টারেস্টিং। স্বপ্ন থেকে ঘুম ভেঙ্গে নিজেই এক ঘণ্টা একা একা হেসেছি। ঘুমানোর সময় গতকাল আকাশে চাঁদ আর বাইরের দমকা হাওয়ার শব্দ শুনে সমুদ্রের কথা মনে পড়ে গেল। সমুদ্রের সঙ্গে কাটানো সময়গুলো নিয়ে ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পড়েছি। শুনেছি যা ভাবতে ভাবতে মানুষ ঘুমিয়ে পড়ে, প্রায় সময়ই তা নিয়েই স্বপ্ন দেখে। আমিও ঠিক তাই দেখেছি। উম, ঠিক তা না। একটু আজগুবি টাইপের। স্বপ্ন কী দেখেছি? বলছি।

গতরাতে স্বপ্ন দেখলাম আমি আর আমার কয়েকজন বন্ধু মিলে টাইটানিকে করে কক্সবাজার যাচ্ছি!!! 😆

ঢাকা থেকে কক্স’স বাজার জাহাজে কেমনে যায় সেটাই বুঝলাম না। তার উপর আবার ১৯১২ সালের মরা জাহাজ টাইটানিক কোত্থেকে আসলো, সেটা তো মাথায় ঢুকা দূরে থাক, মাথার ধারে কাছেও আসলো না। 😦

নাহ্‌, কক্স’স বাজারের প্রতি প্রেমটা একটু বেশিই হয়ে গেছে। প্রেমিকার সঙ্গে সময় না কাটিয়ে আর ভালো লাগছে না। দু’মাস পর প্রি-টেস্ট পরীক্ষা। তারপর টেস্ট, তারপর এসএসসি। কবে যে প্রেমিকার কাছে যাবো…। 😦

coxs bazar road

কলাতলী রোড, যার কথা প্রতিদিন মনে পড়ে।

coxs bazar

তবে নিত্য-নতুন বহুতল ভবনের জন্য অচিরেই নিজস্ব সৌন্দর্য্য হারাবে কলাতলী রোড।

আপনার একটেল এখন রবি; গ্রামীণফোন কিন্তু অলরেডি শনি!

দেশব্যাপী হুলস্থুল করে মোবাইল কোম্পানি একটেল তাদের নাম পরিবর্তন করে রবি করলো। এটা কি বর্তমান সরকারের নাম পরিবর্তনের ট্রেন্ড-এর ফল, নাকি ঝিমিয়ে পড়া ব্যবসা নতুন করে চালু করতে নাম পরিবর্তন, না ঠিক বোঝা না গেলেও এতটুকু নিশ্চিত যে, নাম পরিবর্তনের কোনো সুফল ভোগ করছেন না একটেল ওরফে রবি’র ব্যবহারকারীরা।

এমতাবস্থায় একটা কথা নিশ্চিত করে বলা যেতে পারে যে, একটেল নাম বদলে রবি হয়ে গেলেও, গ্রামীণফোন কিন্তু নাম বদলাবে না (অবশ্য অদূর ভবিষ্যতে টেলিনর হলে হতেও পারে!)। গ্রামীণফোনের আসলে নাম বদলানোর কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, নাম বদলানো ছাড়াই গ্রামীণফোনকে আমরা শনি বলে ডাকতে পারি। =p~ =p~ :#) :#)

কার কী মতামত?

আমাকে বোধহয় পছন্দ করে গুগল‍!

কী কারণে তা জানিনা, তবে সবসময় একটা ব্যাপার লক্ষ্য করেছি যে, আমি কোনো ব্লগ তৈরি করে সেটাতে পোস্ট করা শুরু করলে গুগল খুব ভালোমতোই আমার পোস্টগুলোকে ইনডেক্স করে। বিশেষ করে ওয়ার্ডপ্রেস ডট কমে হলে তো কথাই নেই। সেদিন সেল্ফ-হোস্টেড থেকে http://aminulislam333.wordpress.com/ এই ঠিকানায় সবগুলো পোস্ট ইমপোর্ট করলাম। ওমা! কয়েক ঘণ্টা যেতে না যেতেই দেখি সবগুলো পোস্ট ইনডেক্স করে ফেলেছে গুগল। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রথম পৃষ্ঠায়ই আমার ব্লগকে ধরে আনছে। সেটা নাহয় ওয়ার্ডপ্রেস ডট কম, তাই মেনে নিলাম। কিন্তু সেলফ হোস্টেডে? নিচের ছবিটা দেখুন।

ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষ্যে আমার ব্লগে একটা কনটেস্ট দাঁড় করেছিলাম। যে এই সময়ে সবচাইতে বেশি গঠনমূলক মন্তব্য করবেন, তার জন্য রয়েছে ভ্যালেন্টাইনস ডে থেকে শুরু করে টানা দুই মাস বিনামূল্যে আমার ব্লগে বিজ্ঞাপনের সুযোগ। সরাসরি করতে গেলে ৩০ ডলার লাগতো। কনটেস্ট জিতে গেলে সেটা আর লাগছে না।

Click This Link

ঘটনা হলো, গুগলে valentine’s day 2010 contest লিখে সার্চ করলে রেজাল্ট আসে সর্বমোট ৩২,৪০০,০০০টি। এর মধ্যে ৭ নম্বরটাই (প্রথম পাতায়) আমার ব্লগের ঠিকানা।

গুগল কি আমাকে পছন্দ করে নাকি বুঝলাম না। ;) পছন্দ করুক আর যাই করুক, লাভটা কিন্তু আমারই। ;) ;) B-)B-):P:D