পোড়ো ২ (প্রথম পর্ব)

পোড়ো ২ হরর গল্পদ্রষ্টব্যঃ পোড়ো গল্পটি নিতান্তই অলস মস্তিষ্কের কাল্পনিক অবদানমাত্র। বাস্তব কোনো কাহিনীর উপর ভিত্তি করে এ গল্প লেখা হয়নি। পোড়ো ১ গল্পের প্রথম পর্ব ও দ্বিতীয় পর্ব পড়তে যথাক্রমে এখানেএখানে ক্লিক করুন। পোড়ো ১-এর লেখকের অনুমতিক্রমেই পোড়ো এর সিকুয়েল পোড়ো ২ লিখছি আমি। আশা করছি আপনাদের ভালো লাগবে। ধন্যবাদ।

১.
স্টিভ ঘুম থেকে উঠলো সকাল সকাল। হাই তুলে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো প্রায় সাড়ে নয়টা বাজে। পাশে রুমের জানালার ভারি পর্দা ভেদ করে সূর্যের আলো পুরোপুরি ঘরে আসতে পারেনি। তবে পর্দার ফাঁক দিয়ে ঠিকই কড়া রোদ জানা দিচ্ছে দিবালোকের উপস্থিতি।

স্টিভ (পূর্বের পর্বে স্টিভেন্স) বিছানা ছেড়ে পর্দা সরিয়ে জানালা খুলে দিলো। সঙ্গে সঙ্গে দমকা হাওয়া এসে ঝাপ্টা দিলো তার মুখে। বাইরের বাতাস অনেক ঠাণ্ডা। এখানকার আবহাওয়া বেশ অদ্ভূত। সূর্যের রাগী রোদকে উপেক্ষা করেই যেন একই সঙ্গে ঠাণ্ডা বাতাস বইতে থাকে। এতে অবশ্য ভালোই হয়। গরম তেমন একটা গায়ে লাগে না।

স্টিভ ও রোনাল্ড মূলত বেড়াতে এসেছে। তাদের বাড়ি থেকে প্রায় কয়েকশ’ মাইল দূরের এই বনাঞ্চল তাদের বেশ প্রিয়। অবশ্য শেষবার যখন আসে তখনকার ঘটনা কারো মন থেকেই মুছে যায়নি। তবুও রোনাল্ডের শরীর একটু ভালো হতেই কাজে লেগে যায় সে। এক মাস পর আবার দুই ভাই মিলে আসে সেই পুরনো জায়গায়। আসার আগে অবশ্য স্টিভ বারবার জিজ্ঞেস করেছে, তার আবার পুরনো স্মৃতি ফিরে আসবে কি না। রোনাল্ড জানিয়েছে, জঙ্গলে তাবু ফেলতে না গেলেই সে ঠিক থাকবে।

Continue reading

আজ বৃষ্টি ও চোখের জল দুই-ই ঝরেছে অঝোরে

কাছের মানুষগুলোর একটি কমন নেচার হচ্ছে তারা কষ্ট দিবে। এই কাছের মানুষটা অনেকভাবেই কাছের হতে পারে। হতে পারে সে এমন একটা বন্ধু যার সাথে জীবনের খুটিনাটি সব শেয়ার করা হয়, অথবা সে হতে পারে ভালোবাসার মানুষ, পরিবারের আপন কেউ, কিংবা নিতান্তই ছোটবেলার বন্ধু। কাছের মানুষ হলে সে কষ্ট দিবেই। আমি ভেবেচিন্তে বের করার চেষ্টা করেছিলাম কাছের মানুষগুলো কষ্ট দেয় কেন। কিন্তু অনেক জ্ঞানীগুণী লোকই হয়তো বের করতে পারেননি কাছের মানুষ কেন কষ্ট দেয়। আর আমার স্বল্প জ্ঞানে তা যে সম্ভব হবে না সেটা তো জানা কথাই।

একবার মনে হলো কাছের মানুষগুলো কষ্ট দেয় কারণ তারা আমাদের উপর তাদের অধিকারটুকু আদায় করে নেয়। তারা কাছের মানুষ, তাদের কারণে জীবনে কিছুটা সুখ-শান্তি উপলব্ধি করা যায়। তাদের কারণে মনে শান্তি আসে। অনেক বিপদ-আপদে তাদের পাশে পাওয়া যায়। কাঁধে তাদের হাত পাওয়া যায়। আরও পাওয়া যায় তাদের আন্তরিক সহযোগিতা। এতকিছুর বিনিময়ে একটু কষ্ট বোধহয় আমাদের প্রাপ্যই হয়ে যায়। এই প্রাপ্যটা দিতেই তারা কষ্ট দেয়।
Continue reading

যেসব বিজ্ঞাপনের সমালোচনা না করে পারা যায় না -২ : উচ্ছৃঙ্খল বানানোর প্রতিযোগিতা

এই সিরিজের আগের পোস্টঃ তাহলে মেয়েদের প্রতিভা মানেই সৌন্দর্য্য?

টিভিতে ইদানিং নতুন একটা বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয়। বিজ্ঞাপনের দৃশ্যটা এরকমঃ কতগুলো ছেলে একসাথে রাস্তায় হাউকাউ মার্কা একটা গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাচতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই রাস্তার অপর পাশ থেকে আরেকটা দলকে আসতে দেখা যায়। বিজ্ঞাপনচিত্রটিতে দলের সামনে থাকা উদ্ভট রঙের কাপড় পরা মেয়েটাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে বোঝায় যায়। মেয়েটা এসে যখন একটা ভাব নিয়ে আগে থেকেই নাচতে থাকা দলটার সামনে এসে দাঁড়ায়, তখন প্রথম দলের সামনের ছেলেটা বলে উঠে show me what you’ve got (তোমার কী আছে দেখাও 😐 ) ।

তারপর রাস্তার মাঝেই মেয়েটার দাপাদাপি শুরু হয়। 😐 কতক্ষণ পাগল-ছাগলের মতো ড্যান্সিংয়ের পর প্রথম দলটা প্রতিযোগিতার মতো করে “আবার জিগায়” গানটার সুরে নাচতে থাকে। তখন একজনের ফোনে একটা কল আসে। সে বলে উঠে, “মম!” তারপর সে ফোনটা রিসিভ করে একটু দূরে চলে যায়।

যারা মোটামুটি টিভি দেখেন, তারা ইতিমধ্যেই ধরে ফেলেছেন আমি স্যামসাং চ্যাম্প টাচস্ক্রিন মোবাইল সেটটির নতুন টিভি কমার্শিয়ালের কথা বলছি।

পোস্টটা লেখা শুরু করার আগে টাইটেল দিতে চেয়েছিলাম ‘মেয়েদের উচ্ছৃঙ্খল বানানোর প্রতিযোগিতা’। কারণ, রাস্তাঘাটে এমন ড্যান্স করার অভ্যাস বাংলাদেশে অনেক ছেলেদেরই হয়তো আছে। কিন্তু কয়টা মেয়ে এমন আছে সেটা নিয়ে আমার প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু পরে মেয়েদের শব্দটা বাদ দিলাম। কারণ, ওটা থাকলে কতিপয় সাধু ব্লগাররা বলবেন ছেলেরা নাচলে উচ্ছৃঙ্খল হয় না, মেয়েদের বেলায়ই যত সমস্যা।

আমার কথা হলো, সমস্যাটা কেবল ছেলে বা কেবল মেয়েদের নয়, বরং এ জাতীয় একটি বিজ্ঞাপনচিত্র সমস্যা সৃষ্টি করে পুরো যুব সমাজের মধ্যেই। বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব বাংলাদেশে পড়ছে বহু আগে থেকেই। হয়তো বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতেই আমাদেরকে সেসব সংস্কৃতি মেনে নিতে হচ্ছে। কিন্তু রাস্তাঘাটে এমন উচ্ছৃঙ্খল নাচ‍! এ ধরনের একটি বিজ্ঞাপনচিত্র অনুমতি পেল কী করে বাংলাদেশে?

বলা বাহুল্য, বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন জগতে রাস্তায় নাচ নতুন কিছু না। তবে নাচের তো একটা ধরন আছে রে ভাই। এইটা কোন প্রজাতির নাচ? এই নাচকে সম্বোধন করতে সবচেয়ে সঠিক যেই শব্দটা মনে আসছে সেটা হলো ‘ডিজুস স্টাইল’ -এর নাচ। এই ধরনের উচ্ছৃঙ্খল নাচ দেশের ছেলেদের এবং বিশেষ করে মেয়েদর মধ্যে ঢোকানোর যে প্রবণতা চলছে, সেটা কি কেউ বুঝে না নাকি বুঝেও পাত্তা দেয় না? একসময় আমাদের দেশের রাস্তাঘাটে যখন এমন পরিবেশের সৃষ্টি হবে, তখন আপনি আপনার বাবা-মা বা মুরুব্বিদের নিয়ে রাস্তায় বের হবেন কী করে একবার ভেবেছেন? অথবা যারা এমন উচ্ছৃঙ্খলবাজির মধ্যে যাবে না, তাদেরও তো করুণ দশাই হবে। বন্ধুমহলে ঠাঁই থাকবে না। সবাই টিউব লাইট বলে ডাকবে। আরো নানা সমস্যা।

এইসবের বিহিত করা যায় কী করে সেটা লিখতে বসিনি আমি। সাধারণত আমি বিজ্ঞাপন বেশ সহনশীল চোখেই দেখি। বিজ্ঞাপন তো বিজ্ঞাপনই। কিন্তু কিছু কিছু বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে নির্মাতারা এতোই বাড়াবাড়ি করে ফেলেন যে সেটা নিয়ে না বললেই নয়। এই স্যামসাং চ্যাম্প (নামও একখান, শিম্পাঞ্জী মার্কা!) বিজ্ঞাপন নিয়ে আপনাদের মতামত শোনার জন্য অপেক্ষা করছি।