মোজিলা সামিট ২০১৩: ওপেন ইন্টারনেটের লক্ষ্যে মোজিলার অবস্থান ও ভবিষ্যতের ফায়ারফক্স (২য় দিন)

এই পোস্টটি তিনটি ধারাবাহিক পোস্টের দ্বিতীয় পর্ব। যুক্তরাষ্ট্রের সান্তা ক্লারায় চলমান মোজিলা সামিট ২০১৩ থেকে বিভিন্ন হাইলাইটগুলো নিয়ে আজকের এই পোস্ট। সিরিজের প্রথম পোস্টটি দেখুন এখানে: মোজিলা সামিট ২০১৩: মোজিলা ও ফায়ারফক্স ওএস-এর ভবিষ্যত (১ম দিন)

মজিলা ম্যাগাজিন

মোজিলা সামিট ২০১৩-এর দ্বিতীয় দিনের শুরুর প্রেজেন্টেশনগুলো ছিল মোজিলা কীভাবে একটি উন্মুক্ত ইন্টারনেটের লক্ষ্যে এগোচ্ছে এবং ফায়ারফক্স ব্রাউজার ও ফায়ারফক্স ওএস এর জন্য ভবিষ্যতে কী অপেক্ষা করছে। যেমনটা উপরের ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন, মোজিলার চোখে এই বিষয়গুলো ওপেন ইন্টারনেটের সাইন বা চিহ্ন। তবে ওপেন ইন্টারনেটের আগে মোজিলা দেখছে আসলে কত শতাংশ মানুষ ইন্টারনেটের সঙ্গে পরিচিত বা ইন্টারনেটকে তাদের জীবনে উন্নয়ন আনার জন্য কাজ করছে। Continue reading

মোজিলা সামিট ২০১৩: মোজিলা ও ফায়ারফক্স ওএস-এর ভবিষ্যত (১ম দিন)

মোজিলা সামিট ২০১৩

মোজিলা সামিট ২০১৩

বেশ কয়েক মাসের ব্যাপক প্রস্তুতির পর অবশেষে বিশ্বব্যাপী মোজিলিয়ানদের নিয়ে তিনটি শহরজুড়ে পর্দা উঠেছে বহুল-আলোচিত মোজিলা সামিট ২০১৩-এর। বেলজিয়ামের ব্রাসেলস, কানাডার টরোন্টো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সান্তা ক্লারায় ৪ঠা অক্টোবর স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনী ঘোষণা দেয়া হয় মোজিলা সামিট ২০১৩-এর। সুবিশাল এই তিনদিনব্যাপী আয়োজনের উদ্বোধনীতেই মোজিলা ও মোজিলিয়ানদের ভবিষ্যত সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়া হয়েছে।

মোজিলা বাংলাদেশ টিম এবারের মোজিলা সামিট ২০১৩-এর সান্তা ক্লারা ভেনুতে অংশ নেয়ার সুযোগ লাভ করেছে। আর সেই টিমের হয়েই মোজিলা বাংলাদেশের অন্যান্য অবদানকারী এবং আগ্রহীদের মোজিলা সামিটের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হাইলাইট করার জন্যই আজকের এই পোস্ট।

হাইলাইটগুলো প্রকাশিত হচ্ছে দি মজিলা ম্যাগাজিন-এ।

Continue reading

এলো এইচএসসি, আর বরাবরের মতোই দুশ্চিন্তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না!

hsc exam

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই শুরু হতে যাচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। এরকম খবর প্রতি বছর পত্র-পত্রিকায় পড়ে আসলেও এবারের ঘটনা ভিন্ন। কেননা, এবার আমাকেই বসতে হবে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায়।

প্রিপারেশন জানতে চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।পরীক্ষা নিয়ে টেনশন কোনোকালেই কেন যেন ছিল না। পড়াশোনার প্রতি খুব একটা টান বা মনোযোগ দু’টোর একটাও নেই। অনেক আগে ক্লাস ওয়ান-টু-তে পড়াকালীন বেশ প্রখর ছাত্র ছিলাম বলে অভিভাবক সূত্রে জানা যায়। 😐 কিন্তু সেসব দিনের কথাই মনে পড়ে না। তাই এইচএসসি পরীক্ষা সামনে রেখে এখন ব্লগিং করছি আর ফেসবুকে বসে আছি।

আমার সম্পর্কে মানুষের একটা জনপ্রিয় ভুল ধারণা হলো, আমি মারাত্মক ট্যালেন্টেড। কোনো এক অশরীরী আমার নামে সাইবার ওয়ার্ল্ডে এই দুর্নাম ছড়াচ্ছে তা এখনও বের করতে না পারলেও মানুষ কেন সেটা বিশ্বাস করে সেটা আরও বড় অবাক হওয়ার কারণ। আমি হলাম পুরোমাত্রায় টেক-অ্যাডিক্টেড মানুষ। টেক-অ্যাডিক্টেড মানুষ পড়ালেখা করে না এমনটা না। কিন্তু তবুও আমার আলসেমিটা একটু বেশিই। 😕 Continue reading

অল্পক্ষণের নিরাশার কথা

‘হুম।’
‘তোমাকে ডিস্টার্ব করে থাকলে সরি।’
‘দেখো, আর যাই করো, বেশি বুঝবানা। তাহলে কিন্তু মেজাজ খুব খারাপ হয়।’
‘বেশি বুঝার কিছু নাই। আমার মনে হচ্ছে আমি তোমাকে ডিস্টার্ব করছি। সে জন্য বললাম।’
‘হুম।’

দুপুর থেকে ফেসবুকে বসে রয়েছি। ঘুম থেকে উঠেছি দেরি করে। আগের রাতে ঘুমিয়েছিও দেরি করে। ঘুম থেকে উঠে গিয়েছিলাম আইডিবিতে। একটা রাউটার আর কিবোর্ড কেনার খুব দরকার ছিল। ঈদের আগেরদিন আইডিবি বন্ধ থাকবে জানতাম না। শুধু শুধুই গিয়ে ঘুরে এলাম। আসার পর ল্যাপটপ খুলে বিছানায় আধশোয়া হয়ে পড়ে রয়েছি। ঘুমও আসছে না, কাজ করতেও ইচ্ছে করছে না। আগামীকাল কুরবানীর পরের হাজারটা কাজের কথা চিন্তা করে এখনই মাথা ধরতে শুরু করেছে। আমি এমনিতেও কথা কম বলি। ‘হুম’ হচ্ছে আমার সবচেয়ে বেশি বলা আর লেখা শব্দ। তাই কেউ আমাকে বারবার হুম বলতে দেখলে প্রায়ই ভুল বুঝে যে আমি এড়ানোর চেষ্টা করছি।

কিন্তু কয়েকদিন কথা বলার পর বুঝে যাওয়ার কথা যে ‘হুম’ হচ্ছে আমার সবচেয়ে বেশি বলা শব্দ। কিন্তু তাও না বুঝলে আমার আর কী করার আছে। তাই আমিও তর্কে গেলাম না। বিছানায় আধশোয়া হয়ে পড়ে রইলাম। Continue reading

আচ্ছা, রাতে লেখালেখির ইচ্ছেটা বেড়ে যায় কেন বলুনতো?

writing

অনেকদিন ধরেই একটা বিষয় খেয়াল করছি। রাত যখন গভীর থেকে গভীরতম’র দিকে যায়, নিরবতা যখন তার ‘পিন-পতন’ স্তরে পৌঁছায়, তখন কেন যেন ‘কিছু একটা’ লেখার ইচ্ছে অনেক বেড়ে যায়। কাজের তাগিদে দিনে অনেক লেখালেখির কাজ করতে হয়। ইদানীং সেটা পরীক্ষার কারণে কমে আসলেও বিভিন্ন বিষয়ের উপর লেখালেখিটা ধরে রেখেছি। কিন্তু রাতের লেখার ইচ্ছেটা সেগুলোর সঙ্গে ঠিক যেন খাপ খায় না। এই যেমন এখন কিছু একটা লিখতে খুব ইচ্ছে করছে। কিন্তু যেসব সাইটে কাজ করি, সেগুলোয় লেখার পাতা খুললে লেখার আগ্রহটা কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ এই যে এখানে লিখে চলেছি এখন, লেখার আগ্রহটা কিন্তু ঠিকই রয়ে গেছে।

এই বিষয়ে আমার একটা থিওরি আছে। সেটা হলো যে কোনো কাজই যখন “কাজ” হিসেবে করতে হয়, তখন তার প্রতি আগ্রহ কমে যায়। কেউ ছবি তুলতে ভালোবাসলে তাকে যদি ছবি তোলার “কাজ” দেয়া হয়, তখন তিনি অস্বীকার করতে পারবেন না যে তিনি সেই কাজে “আগ্রহ” হারিয়ে ফেলেন খুব সহজেই। যারা কাজের মধ্যেও আগ্রহ ধরে রাখতে পারেন, যেই কাজটা বেশ কঠিন, কেবল তারাই সফল হতে পারেন।

যাই হোক, সফলতার কথা পরে হবে। আসল কথা হলো, মাঝরাতে কী লিখতে ইচ্ছে করে? এটা কি কেবল আমার, নাকি আরো অনেকেরই? এক সময় যখন ইন্টারনেট নামক বস্তুটি ছিল না, মানুষ যখন ডায়েরিকে সবচেয়ে কাছের বস্তু বলে ভাবতো, যখন ডায়েরির সঙ্গে জীবনের একান্ত গোপন কথাগুলোও ভাগাভাগি করে নিতো, তখন তারা কী রাতেই লিখতো?

আমি অন্তত এ যাবৎ যাদের চিনি, তাদের মধ্যে যারা ডায়েরি লিখতো বা এখনো লিখে, তারা নাকি রাতেই ডায়েরিটা লিখে। তাদের এই ডায়েরি রাতে লেখার সঙ্গে কি আমার রাতে “কিছু একটা” লেখার কোনো সম্পর্ক আছে? তারা রাতে ডায়েরি লিখেন কি দিনের শেষের কথাগুলো লিখে রাখতে, রাতেই একমাত্র সময় পান বলে, নাকি তাদের মধ্যেও লেখার প্রবল ইচ্ছেটা রাতেই জাগ্রত হয়ে ওঠে বলে?

বলা মুশকিল। আমার যেই রাতে লেখার ইচ্ছেটা জেগে ওঠে, সেটা কি তাদের সেই ডায়েরি লেখার ইচ্ছের মতোই? এমন কেউ কি আছেন যাদের আমার মতোই রাতের নিস্তব্ধতায় লেখার ইচ্ছেটা জেগে ওঠে? আপনারা কি বলতে পারবেন ঠিক কী লেখার ইচ্ছে হয়? আর কেনই বা সেটা রাতে হয়?

এক ঝড়ো সন্ধ্যায় দুই চাকার গল্প

(পোস্টটি গতকাল লেখা হয়েছিলো। কিন্তু রাত অনেক হয়ে যাওয়ায় বাংলায় আর লেখার সময় পাইনি। ভালোই হলো এখন শান্তিতে লেখা যাবে। ইংরেজি ব্লগের বিদেশি পাঠকরা তো মানুষ মহাখালি সিগনাল আর জাহাঙ্গীর গেইট চিনবে না, তাই ওগুলো ওখানে লেখা হয়নি। এখানে বিস্তারিত লেখা যাবে। 😀 )

বৃষ্টিতে সাইকেল
কয়েক সপ্তাহের টানা অস্বাভাবিক গরমে মনে হচ্ছিল ফ্রিজে ঢুকে বসে থাকি। তাও গরমটা একটু সহ্য করা যেত যদি মাথার উপরে ফ্যানটা সারাদিন ঘুরতো। গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যেভাবে বিদ্যুৎঅলারা রাগ দেখানো শুরু করেছিলো, এতে আমরা সবাই যেন রীতিমতো কোনঠাসা হয়ে পড়েছিলাম।

বুধবার কলেজ শেষে অফিসে যাওয়ার কথা ছিল। মহাখালির বিডিনিউজ অফিসের কথা বলছি। কলেজ থেকে যেতে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট লাগে। কিন্তু মাথার উপর এতো গরম নিয়ে এতোটুকু রাস্তা হাঁটার ধৈর্য্য হলো না। তাই লেগুনায় বসে বাসায় চলে এলাম। ভাবলাম, বিকেলের দিকে সূর্যের তাপ একটু কমলে আবার আসবো।

কিন্তু সূর্যের তাপ কমার তো কোনো লক্ষণই নেই। এদিকে অফিসে যাওয়াও দরকার ছিল। এদিকে অনেকদিন ধরে শখের সাইকেলটা পড়ে রয়েছে। নতুন সাইকেল চালানো শিখে যেটা টের পেয়েছি তা হলো নিয়মিত না চালালে অনেকদিন পর বের হলে সহজেই পা ব্যথা শুরু হয়। তাই বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঠিক করলাম যাই হোক অফিসে আজ যাবোই।

রাস্তায় বের হয়ে টের পেলাম কড়া রোদের মধ্যেও সুন্দর একটা বাতাস আছে যেটা বাসায় বসে টের পাওয়া যায় না। যদিও বাতাস খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। ঘেমেছি গোসলের মতো। 😐 তবুও সাইকেল চালানোয় খুব একটা কষ্ট হয়নি। মিরপুর থেকে টেকনিক্যাল-শ্যামলী ঘুরে মহাখালী গেলাম ৪৫ মিনিটে। দূরত্ব ১০ কিলোমিটার। আমি অঙ্কে খুবই কাঁচা তাই এক ভাইয়াকে দিয়ে হিসেব কষালাম। ঘণ্টায় ১৩.৩ কিলোমিটার ছিল গড় গতি। খুব একটা খারাপ না। অবশ্য ওনাদের ২৫-৩০ কিমি/ঘণ্টার কথা শুনলে বড়ই নগণ্য মনে হয়। 😦

যাই হোক, অফিসে পৌঁছে আর ভেতরে ঢুকলাম না। ঘেমে যেই অবস্থা হয়েছে, এই অবস্থায় অফিসে ঢুকলে সবাই ভাববে ইমার্জেন্সি। তাই একটা দোকান থেকে এক বোতল ঠাণ্ডা পানি নিয়ে মুখ ধোয়ার ব্যবস্থা করলাম। সাইকেল চালাতো কোনো কষ্ট হলো না। বাতাসও ছিল অনেক। প্রায়ই বাতাসের বেগে গতি ধীর করতে হচ্ছিল। এরপরও কেন এতো ঘামলাম বুঝলাম না। যাই হোক, অবশেষে ফুটপাথের পাশে লক করে অফিসের দিকে পা বাড়ালাম। মনে ভয়, যদি চুরি হয়। 😦 Continue reading

মুভি দেখার আগে জেনে নিন রেটিং, বুঝে নিন কোন রেটিং কী বোঝায়

ইংরেজি মুভির ভক্ত মানুষের অভাব বোধ করি কোনো দেশেই নেই। একসময় ভাবতাম বাংলাদেশে বুঝি ইংরেজি মুভি তেমন একটা চলে না। বলা বাহুল্য, তখন আমি নিজেও ইংরেজি ছবির খুব একটা ভক্ত ছিলাম না। পরে নিজে ভক্ত হলাম এবং ইন্টারনেট ও ব্লগের কল্যাণে জানতে পারলাম বাংলাদেশে মুভি পাগলের অভাব নেই।

যারা নিয়মিত মুভি দেখেন তারা হয়তো ইতিমধ্যেই জানেন বড় পর্দায় মুক্তিপ্রাপ্ত প্রতিটি ছবিকেই এমপিএএ (Motion Pictures Association of America’s film-rating system) বিভিন্ন ধরনের রেটিং দিয়ে থাকে। এসব রেটিং-এর উপর ভিত্তি করে উন্নত রাষ্ট্রে থিয়েটারের টিকেট বিক্রি করা হয়। যেমন, একটি NC-17 মুভি দেখতে সতেরো বছরের কম বয়সী কাউকে থিয়েটারে ঢুকতেই দেবে না কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও মুভি রেটিংগুলো কাজে আসে যাতে দর্শকরা পরিবারের সাথে কোন কোন মুভিগুলো দেখা যাবে তা আগে থেকেই জানতে পারেন এবং রেটিং দেখে নিমিষেই ধারণা করে নিতে পারেন মুভিটিতে আপত্তিকর সামগ্রী আছে কি না।

যারা ইন্টারনেট থেকে মুভি ডাউনলোডের ক্ষেত্রে নিতান্তই নতুন, তাদের উপকার হবে আশা করে এই পোস্টে বিভিন্ন প্রকার রেটিং এবং এর অর্থ সহজভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছি। এছাড়াও কেবল রেটিং নয়, অন্য কী উপায়ে আপনি মুভিতে কী ধরনের দৃশ্য রয়েছে তা মূহুর্তের মধ্যেই জানতে পারবেন তাও আলোচনা করবো এই পোস্টে। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

Continue reading

গল্পঃ পৃথিবীর যত সুখ

‘অ্যাই, শুনছো? অ্যাই! ঘুম ভাঙছে না বুঝি?’
নীলার কানের কাছে প্রায় ফিসফিস করে পাঁচ মিনিট ধরে ডেকে যাচ্ছে অনিক। কিন্তু ভালোবাসা মাখা সেই ডাক যেন কানেই যাচ্ছে না নীলার। শরীরটা ভালো না তার। তাই হঠাৎ করে তাকে ডেকে তুলতে চাচ্ছে না অনিক। মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে আরেকবার ডাকায় আস্তে করে চোখ মেললো নীলা। অনিকের মুখে হাসি ফুটলো। প্রতিদিন সকালে নীলার ঘুম থেকে ওঠার দৃশ্যটা সে কখনোই মিস করে না। কেন যেন এই দৃশ্যের মাঝেও অনেক মানসিক শান্তি খুঁজে পায় সে।

‘আমাকে যে অফিসে যেতে হবে!’ বলল অনিক।
‘ওহ! কয়টা বাজে?’
‘প্রায় সাতটা।’
‘ও।’

মনটা আবার খারাপ হয়ে গেল অনিকের। নীলা কিছুই বললো না। ওর শরীরটা আসলেই ভালো না। অন্যান্য দিন এমন সময় নীলা ব্যস্ত হয়ে দৌড়াদৌড়ি করে অনিকের জন্য নাস্তা রেডি করে। অনিকও যতোটা সম্ভব নীলাকে কাজে সাহায্য করে। কিন্তু আজ নীলার শরীর খারাপ বলে তাকে আর ডাকেনি অনিক। যাবার মূহুর্তে বলে যাওয়ার জন্যই ঘুমটা ভেঙ্গেছে নীলার।

‘আমার আজকে অফিসে যাওয়া একদমই উচিৎ নয়, কিন্তু আজ এমনই কিছু কাজ আছে যে না গিয়েও পারছি না,’ মন খারাপ করে কৈফিয়তের সুরে নীলার কানের কাছে বললো অনিক।
নীলা তার দিকে না তাকিয়েই ক্ষীণ কণ্ঠে বললো, ‘সমস্যা নেই, তুমি যাও।’
তার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো অনিক। আর দুই-এক মিনিট, তারপরই নীলা পুরোপুরি সজাগ হয়ে উঠবে। সেই দুই মিনিট সময় পার করলো সে নীলার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে।

‘শোনো, আমি নাস্তা তৈরি করে গেছি, তুমি ঠিক এক ঘণ্টা পর আটটায় বিছানা থেকে উঠবে। ফ্রিজে ব্রেড রাখা আছে। আমি জেলি দিয়ে রেখেছি, তুমি খেয়ে নিও। আর খাওয়া শেষে পুরো দুই গ্লাস পানি খাবে। পানি খেয়ে সোজা বিছানায় যাবে। কোনো কাজের বাহাদুরি দেখাতে হবে না, বুঝেছো?’ প্রায় যেন আদুরে ধমক দিলো অনিক।

তার এই আচরণের সঙ্গে পরিচিত নীলা। সে একটু হেসে বললো, ‘আচ্ছা ঠিক আছে।’ অনিক বলে চললো, ‘দুপুরের ভাতও আমি রান্না করে রেখেছি। তরকারি কাল রাতেরটাই আছে, আর রান্নার দরকার হবে না। আমি ফোন করে তোমাকে ডেকে দিবো যদি ঘুমিয়ে থাকো। দুপুরে কিন্তু অবশ্যই খেয়ে নিবে সোনা। তোমার শরীরটা ভালো না। না খেলে কিন্তু শরীর আরো খারাপ হবে।’

Continue reading

পোড়ো ২ (প্রথম পর্ব)

পোড়ো ২ হরর গল্পদ্রষ্টব্যঃ পোড়ো গল্পটি নিতান্তই অলস মস্তিষ্কের কাল্পনিক অবদানমাত্র। বাস্তব কোনো কাহিনীর উপর ভিত্তি করে এ গল্প লেখা হয়নি। পোড়ো ১ গল্পের প্রথম পর্ব ও দ্বিতীয় পর্ব পড়তে যথাক্রমে এখানেএখানে ক্লিক করুন। পোড়ো ১-এর লেখকের অনুমতিক্রমেই পোড়ো এর সিকুয়েল পোড়ো ২ লিখছি আমি। আশা করছি আপনাদের ভালো লাগবে। ধন্যবাদ।

১.
স্টিভ ঘুম থেকে উঠলো সকাল সকাল। হাই তুলে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো প্রায় সাড়ে নয়টা বাজে। পাশে রুমের জানালার ভারি পর্দা ভেদ করে সূর্যের আলো পুরোপুরি ঘরে আসতে পারেনি। তবে পর্দার ফাঁক দিয়ে ঠিকই কড়া রোদ জানা দিচ্ছে দিবালোকের উপস্থিতি।

স্টিভ (পূর্বের পর্বে স্টিভেন্স) বিছানা ছেড়ে পর্দা সরিয়ে জানালা খুলে দিলো। সঙ্গে সঙ্গে দমকা হাওয়া এসে ঝাপ্টা দিলো তার মুখে। বাইরের বাতাস অনেক ঠাণ্ডা। এখানকার আবহাওয়া বেশ অদ্ভূত। সূর্যের রাগী রোদকে উপেক্ষা করেই যেন একই সঙ্গে ঠাণ্ডা বাতাস বইতে থাকে। এতে অবশ্য ভালোই হয়। গরম তেমন একটা গায়ে লাগে না।

স্টিভ ও রোনাল্ড মূলত বেড়াতে এসেছে। তাদের বাড়ি থেকে প্রায় কয়েকশ’ মাইল দূরের এই বনাঞ্চল তাদের বেশ প্রিয়। অবশ্য শেষবার যখন আসে তখনকার ঘটনা কারো মন থেকেই মুছে যায়নি। তবুও রোনাল্ডের শরীর একটু ভালো হতেই কাজে লেগে যায় সে। এক মাস পর আবার দুই ভাই মিলে আসে সেই পুরনো জায়গায়। আসার আগে অবশ্য স্টিভ বারবার জিজ্ঞেস করেছে, তার আবার পুরনো স্মৃতি ফিরে আসবে কি না। রোনাল্ড জানিয়েছে, জঙ্গলে তাবু ফেলতে না গেলেই সে ঠিক থাকবে।

Continue reading

আজ বৃষ্টি ও চোখের জল দুই-ই ঝরেছে অঝোরে

কাছের মানুষগুলোর একটি কমন নেচার হচ্ছে তারা কষ্ট দিবে। এই কাছের মানুষটা অনেকভাবেই কাছের হতে পারে। হতে পারে সে এমন একটা বন্ধু যার সাথে জীবনের খুটিনাটি সব শেয়ার করা হয়, অথবা সে হতে পারে ভালোবাসার মানুষ, পরিবারের আপন কেউ, কিংবা নিতান্তই ছোটবেলার বন্ধু। কাছের মানুষ হলে সে কষ্ট দিবেই। আমি ভেবেচিন্তে বের করার চেষ্টা করেছিলাম কাছের মানুষগুলো কষ্ট দেয় কেন। কিন্তু অনেক জ্ঞানীগুণী লোকই হয়তো বের করতে পারেননি কাছের মানুষ কেন কষ্ট দেয়। আর আমার স্বল্প জ্ঞানে তা যে সম্ভব হবে না সেটা তো জানা কথাই।

একবার মনে হলো কাছের মানুষগুলো কষ্ট দেয় কারণ তারা আমাদের উপর তাদের অধিকারটুকু আদায় করে নেয়। তারা কাছের মানুষ, তাদের কারণে জীবনে কিছুটা সুখ-শান্তি উপলব্ধি করা যায়। তাদের কারণে মনে শান্তি আসে। অনেক বিপদ-আপদে তাদের পাশে পাওয়া যায়। কাঁধে তাদের হাত পাওয়া যায়। আরও পাওয়া যায় তাদের আন্তরিক সহযোগিতা। এতকিছুর বিনিময়ে একটু কষ্ট বোধহয় আমাদের প্রাপ্যই হয়ে যায়। এই প্রাপ্যটা দিতেই তারা কষ্ট দেয়।
Continue reading