পরীক্ষা শেষ, কী করে কোথায় গিয়ে সময় কাটানো যায়?

অবশেষে দেড় মাস পরে এসএসসি শেষ হলো। B-) নিজেকে খুব লাইটওয়েট লাইটওয়েট লাগছে। :P খুব সম্ভবত মে মাসে রেজাল্ট দিবে। তার আগ পর্যন্ত মোটামুটি ভালোই একটা ফাঁকা সময় পড়ে আছে সামনে। পরীক্ষার খাতায় যদিও লিখে এসেছি যে পরীক্ষা শেষে গ্রামে বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করবো :-B আসলে অন্য কিছু করার চিন্তাভাবনা করেছি।

হাতে টাকা-পয়সা বেশি নেই। কিছু কেনাকাটা করে হাত পুরোই খালি। তবুও খালি বেড়াইতে মন চায়। :( কিন্তু ঢাকায় তো বেড়ানোর জায়গা খুঁজে পাই না। নন্দন-ফ্যান্টাসি নিয়ে অনেক আগেই বোর হয়ে গেছি। এসব জায়গায় যাওয়া-আসার ট্রাফিক জ্যামেই মজার অর্ধেক নষ্ট হয়ে যায়। আর উপরন্তু খরচের চাপ তো আছেই। :((

ডেইলি স্টারের ম্যাগাজিন স্টার ক্যাম্পাসে প্রকাশিত একটি লেখার প্রথম প্যারায় লিখেছিলাম আমি এসএসসির পর ওয়ার্ডপ্রেস থিম ডেভেলপমেন্ট, পিএইচপি, সিএসএস এসব শিখবো। এখনো এসব শিখার ইচ্ছে আছে। কিন্তু কোত্থেকে কীভাবে শিখবো বুঝতে পারছি না। ইন্টারনেটের অসংখ্য টিউটোরিয়াল আর ভিডিও খুব একটা কাজে দিচ্ছে না। এই একটা কাজ আমি টিউটোরিয়াল ঘেঁটে শিখতে পারবো না। :( আর তাছাড়া পুরোটা সময় মনিটরের সামনে বসেও কাটাতে চাচ্ছি না।

তাই বরাবরের মতোই ব্লগারদের কাছে ফ্রি পরামর্শ আহ্বান করছি। B:-/ এই লম্বা ছুটিটা কীভাবে কাটানো যায়? মুভি দেখতে দেখতে টায়ার্ড। কিছু গল্পের বই পড়বো ঠিক করেছি। বেড়াতে যাওয়ার জায়গা খুঁজে পাচ্ছি না। যেগুলো পাচ্ছি সেগুলোতে অনেক খরচ। :( কিছু সময় লেখালেখিতে কাটাবো আর কিছু সময় ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখবো। অবশ্য এখনো নিশ্চিত নই পিএইচপির দিকে এগোবো নাকি জাভাস্ক্রিপ্টের দিকে যাবো। তবে যেটাই হোক একটা কিছু শিখতে শুরু করবো শিগগিরই।

বাকি সময়টা কী করে কাটাবো, এর জন্য ক্রিয়েটিভ আইডিয়া চাই। :P বেস্ট আইডিয়াদাতাকে আধা লিটার কোক খাওয়াতে রাজি আছি। :D

বিশালতার মাঝে একদিন – ২

প্রথম পর্বের পর

সেইন্ট মার্টিনে পা রেখে অদ্ভূত একটা অনুভূতি হওয়ার কথা ছিল। কোনো এক আজগুবি কারণে তেমন কিছুই হলো না। এতোদিন সেইন্ট মার্টিন নিয়ে মনে মনে যে চিত্র এঁকেছি, বাস্তবের সেইন্ট মার্টিন যেন সেই চিত্রের সঙ্গে খাপ খায় না। দূর থেকে সেইন্ট মার্টিন দেখে প্রথমেই যেই জিনিসটা বেমানান লাগলো, সেটা হলো মোবাইল কোম্পানির একটা টাওয়ার। অবশ্যই এই দ্বীপে প্রযুক্তির ছোঁয়া রয়েছে এবং তার প্রয়োজনও রয়েছে। কিন্তু একেবারে সামনে থেকেই এই টাওয়ার দেখতে পাওয়ায় সেইন্ট মার্টিনের পরিবেশের সেই প্রাকৃতিক ছোঁয়া পাবো ভেবেছিলাম, তা হারিয়ে গেল।

বাস্তবেও তাই হয়েছিল। সেইন্ট মার্টিন বেশ সুন্দর একটি জায়গা। সত্যিই অনেক সুন্দর। কিন্তু ততোটা সুন্দর নয় যতোটা আপনি মনে মনে ভাবছেন।

সেইন্ট মার্টিনেও রয়েছে লোকালয়। প্রথম দৃষ্টিতে ছোট একটি গ্রামের মতো মনে হবে এটি। এখানকার স্থানীয়দেরও বেশ দেখা যায়। তাদের বাড়িঘরও অনেকটা গ্রাম্য বাড়িঘরের মতোই। তাই জাহাজ থেকে নেমে হোটেল আর বিভিন্ন দোকানের ছোটখাটো বাজার পার হয়ে যখন দ্বীপের মূল সৈকতের দিকে যাচ্ছিলাম, তখন রাস্তার দু’পাশের দৃশ্য দেখে একটা গ্রাম বলাকেই পারফেক্ট মনে হচ্ছিল।

মূল সৈকতে যাবার আগে অব্শ্য হোটেল থেকে দুপুরের খাবার খেয়ে নিয়েছিলাম। সকাল ৭টায় রওনা হয়ে সেইন্ট  মার্টিন পৌঁছেছি দুপুর তিনটেয়। খিদে তো লাগবেই। খাবার বলতে সেখানে সামুদ্রিক মাছ, মুরগি, সবজি ও ডাল ছিল। বলা বাহুল্য, এর আগের তিন কক্সবাজারের সৈকতে রূপচাঁদা মাছ নিয়েছিলাম। খুব একটা ভালো লাগেনি। তাই সেইন্ট মার্টিনের ভাজা রূপচাঁদার মনকাড়া ঘ্রাণ উপেক্ষা করে সবজি, মুরগি আর ডাল দিয়েই লাঞ্চ সারলাম। পরে অবশ্য জেনেছি, সেইন্ট মার্টিনে গিয়ে ভাজা রূপচাঁদা মাছ না খেলে যাওয়াটাই বৃথা! 😥

Continue reading

উদ্ভট সব স্বপ্ন দেখছি আজকাল; কেন যে প্রেমে পড়েছিলাম!

শুধু প্রেম বললে ভুল হবে, প্রেমে একেবারে অন্ধ হয়ে আছি আমি। যখন তখন ছুটে যেতে চাই তার কাছে। শেষ যেদিন তার মিষ্টি স্বর কানে ভেসে এসেছিল, আমি পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। প্রতিক্ষণে আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম তার মাঝে। আকাশে বাতাসে শুধু তারই ছন্দ, তারই রূপ, তারই মধুময় স্পর্শ। মোহে এতোটাই অন্ধ হয়ে গেছি যে প্রতিরাতে তার কথা ভাবি। আকাশে এক ছটাক মেঘ জমলেই মনে পড়ে তার কথা। দক্ষিণের হাওয়ার অল্প একটু গা ছুঁয়ে গেলেই মনে পড়ে তার ভুবন-ভোলানো রূপের কথা।

সে আর কেউ না, আমার সবচেয়ে পছন্দের জায়গা, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। 😀 😛 😀 😛

কক্সবাজার সৈকতে সূর্যাস্তের ছবিটা আমার তোলা। প্রথম প্রকাশঃ আমার ব্লগে

কেবল সৈকতই নয়, বরং পুরো কলাতলী এলাকাটাই আমার চোখে প্রতিটা মুহুর্তে ভাসে। এ পর্যন্ত দু’বার কক্সবাজার যাবার সৌভাগ্য হয়েছে। কিন্তু কোনোবারই মন ভরেনি। বারবার ইচ্ছে হয়েছে সেখানেই কাটিয়ে আসি সপ্তাহের পর সপ্তাহ। সমুদ্রের প্রতি প্রবল এক টান সৃষ্টি হয়েছে আমার মধ্যে। ঠিক করেছি, টাকা হলে প্রতি তিনমাসে একবার কক্সবাজার ঘুরবো। 😉

এবার আসি স্বপ্নের ব্যাপারে। ইদানীং গাঁজাখুরি সব স্বপ্ন দেখছি। 😦 বুঝলাম না জ্বীন-ভূতে আছড় করলো কি না।  তবে গতকাল রাতের স্বপ্নটা বেশ ইন্টারেস্টিং। স্বপ্ন থেকে ঘুম ভেঙ্গে নিজেই এক ঘণ্টা একা একা হেসেছি। ঘুমানোর সময় গতকাল আকাশে চাঁদ আর বাইরের দমকা হাওয়ার শব্দ শুনে সমুদ্রের কথা মনে পড়ে গেল। সমুদ্রের সঙ্গে কাটানো সময়গুলো নিয়ে ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পড়েছি। শুনেছি যা ভাবতে ভাবতে মানুষ ঘুমিয়ে পড়ে, প্রায় সময়ই তা নিয়েই স্বপ্ন দেখে। আমিও ঠিক তাই দেখেছি। উম, ঠিক তা না। একটু আজগুবি টাইপের। স্বপ্ন কী দেখেছি? বলছি।

গতরাতে স্বপ্ন দেখলাম আমি আর আমার কয়েকজন বন্ধু মিলে টাইটানিকে করে কক্সবাজার যাচ্ছি!!! 😆

ঢাকা থেকে কক্স’স বাজার জাহাজে কেমনে যায় সেটাই বুঝলাম না। তার উপর আবার ১৯১২ সালের মরা জাহাজ টাইটানিক কোত্থেকে আসলো, সেটা তো মাথায় ঢুকা দূরে থাক, মাথার ধারে কাছেও আসলো না। 😦

নাহ্‌, কক্স’স বাজারের প্রতি প্রেমটা একটু বেশিই হয়ে গেছে। প্রেমিকার সঙ্গে সময় না কাটিয়ে আর ভালো লাগছে না। দু’মাস পর প্রি-টেস্ট পরীক্ষা। তারপর টেস্ট, তারপর এসএসসি। কবে যে প্রেমিকার কাছে যাবো…। 😦

coxs bazar road

কলাতলী রোড, যার কথা প্রতিদিন মনে পড়ে।

coxs bazar

তবে নিত্য-নতুন বহুতল ভবনের জন্য অচিরেই নিজস্ব সৌন্দর্য্য হারাবে কলাতলী রোড।

অর্পিত [পর্ব ৪]

প্রথম পর্ব
অনুগ্রহ করে প্রথম পর্ব থেকে পড়া শুরু করে গল্পের ধারাবাহিকতা রক্ষা করুন। অর্পিত গল্পটি কাল্পনিক মস্তিষ্কের অবদানে রচিত রোমান্স ও থ্রিলের সমন্বয়ের একটি ধারাবাহিক গল্প। বিভিন্ন ব্লগে এর আগে এই ধারাবাহিকের তিনটি পর্ব প্রকাশিত হয়েছে। চতুর্থ পর্ব আজ প্রকাশিত হলো।
==============================================
Continue reading

আসছে শত শত ব্লগ : কনফিউশন দূর করবেন যেভাবে

মুক্তভাবে লেখালেখির এক সত্যিকারের মঞ্চ হচ্ছে ব্লগ। ২০০৫ সালের দিকে সা.ইনের মাধ্যমেই মূলত বাংলা ব্লগের প্রবর্তন হয়। সেই থেকে বাঙ্গালীরা মুক্তভাবে লেখালেখি এক অনন্য সুযোগ পেয়ে যায়। শুরু হয় বাংলা ব্লগিং। মাতৃভাষায় লেখালেখির এই এক মঞ্চ থেকে ধীরে ধীরে ইন্টারনেট জগতে বের হতে থাকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আরো অসংখ্য মঞ্চ।

বাংলা ব্লগে বিভিন্ন ব্লগার বিভিন্ন বিষয়ে লিখে থাকেন। ব্লগের সংজ্ঞা নতুন করে দেবার কিছু নেই। আসছি সমকালীন একটি বিষয়ে। সম্প্রতি প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাদের ব্লগসাইটটি সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ, আগে যারা ইনভাইটেশন কোড ছাড়া রেজিস্ট্রেশন করতে পারতেন না, তারাও এখন কোন কোড ছাড়াই রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। প্রথম আলো ব্লগ বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম কোন ব্লগ যা কোন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার অধীনে। ইতিমধ্যেই প্রথম আলো ব্লগ পেয়েছে ইতিবাচক সাড়া। এটা সত্যিই আশাব্যঞ্জক। এছাড়াও সম্প্রতি বিডিনিউজ২৪ সংবাদ সংস্থাটিও নিজেদের ব্লগসাইট বের করেছে যেখানে যেকেউ রেজি: করে ব্লগিং করতে পারেন। বোঝা যাচ্ছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলা ব্লগোস্ফিয়ার হয়ে উঠবে বাঙ্গালীদের যোগাযোগের সবচাইতে শক্তিশালী মাধ্যম। সবচাইতে শক্তিশালী কমিউনিটি। যা ইতিমধ্যেই অনেকটা হয়ে গেছে।

বাংলা ব্লগোস্ফিয়ারে প্রতিনিয়ত আসছে নতুন নতুন ব্লগ ও ব্লগার। এটা আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়। তবে লক্ষ্য করলে একটা জিনিস দেখা যায় যে, একই ব্লগার প্রায় সব ব্লগেই রেজিষ্ট্রেশন করে বসে আছেন। ব্লগিং করেন আর না করেন, নতুন ব্লগের নাম শুনলেই রেজিষ্ট্রেশন করে ফেলেন এমন অনেক ব্লগার আছেন।

একাধিক ব্লগে একই ব্লগারের রেজিষ্ট্রেশন করা খারাপ কিছু না। তবে আমার মতে, এতে একজন ব্লগারের নিয়মিত ব্লগিং করাটা কমে যায়। একাধিক ব্লগে অবদান রাখতে গিয়ে তিনি কোনটাতেই ঠিকমত ব্লগিং করতে পারেন না। আমি স্বীকার করি একজন ব্লগার কয়টা ব্লগে ব্লগিং করবেন এটা একান্তই তার নিজস্ব ব্যাপার। এখানে আমি শুধু আমার মতামতটা বলেছি। কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলিনি।

কোন ব্লগে ব্লগিং করবো, এটা নিয়ে অনেকেই কনফিউশনে পড়ে যান। আমি নিজেই কনফিউশনে ছিলাম। তবে এখন আর সেই কনফিউশনে নেই। এই কনফিউশন দূর করতে আমি কিছু পরীক্ষা করেছি এবং তারপর সিদ্ধান্তে এসেছি কোন ব্লগ আমার জন্য পারফেক্ট। আমার সেই পরীক্ষাগুলো আপনিও করতে পারেন। তারপর সিদ্ধান্তে আসতে পারেন আসলে কোন ব্লগে আপনি নিয়মিত হবেন।

১. প্রথমেই লক্ষ্য করুন, কোন ব্লগ আপনার কাছে সবচেয়ে ভাল লাগে। যেটা আপনার সবচাইতে বেশি পছন্দ, আপনি সেই ব্লগে নিয়মিত হতে পারেন।

২. কোন ব্লগের অ্যাডমিন প্যানেল (এডিটর ও অন্যান্য সুবিধা যা আপনি লগইন করার পর পেয়ে থাকেন) আপনার কাছে সবচাইতে ইউজারফ্রেন্ডলি মনে হয়। কোনটা ব্যবহার করে আপনি সন্তুষ্ট? চেষ্টা করুন সেটাই সবসময় ব্যবহার করতে।

৩. কোন ব্লগে সহব্লগারদের কাছ থেকে কেমন মন্তব্য পান, সেটাও যাচাই করে দেখতে পারেন। এটা স্বাভাবিক যে প্রতিটি ব্লগেই বিভিন্ন ধরণের মনমানসিকতার মানুষ থাকবে। কিন্তু তবুও এখানে ভিন্নতা আছে। কোন ব্লগ ব্যবহার করে আপনি কেমন ফিডব্যাক পান, এটা সম্ভবত আপনার লেখালেখির উৎসাহের উপর ইম্প্যাক্ট করে। (করে কি না সেটা সম্পূর্ণ আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমার উপর করে, তাই আমি এই পয়েন্টটা দিলাম)

৪. কোন ব্লগে ব্লগার সংখ্যা বেশি, এটাতে নজর দেবেন না। কারণ কোয়ান্টিটি ইজন’ট বেটার দ্যান কোয়ালিটি।

মূলত উপরোক্ত তিনটি পরীক্ষার পরই আমি আমার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেই। আপনিও চেষ্টা করুন। আর হ্যাঁ, ব্লগ নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনার কোন টিপস থাকলে অবশ্যই অবশ্যই শেয়ার করবেন।

ধন্যবাদ।