একদিন, যায়যায়দিন

২০০৫ সালের দিকে সামহোয়্যার ইন ব্লগের সাথে পরিচিত হই। সেই থেকে আমার লেখালেখি যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে টের পাই তথ্য-প্রযুক্তি নিয়ে লেখালেখির আসক্তি আমার বেশি। তাই এই জাতীয় লেখাই বেশি লিখি। জীবনের প্রথম লেখা প্রকাশ হয় প্রথম আলোর কম্পিউটার প্রতিদিন পাতায়। পরপর তিনবার। এরপর অবশ্য আমি আর লেখা পাঠাইনি। অনেকদিন থেমে ছিলাম। ইদানীং আবার লেখালেখি শুরু করেছি। এই মাসের মাসিক সি নিউজ পত্রিকায় আমার তিনটা লেখা ছাপালো। তবে আমার সবসময়ই ইচ্ছা ছিল দৈনিক পত্রিকায় লেখা। দৈনিক পত্রিকা হিসেবে যায়যায়দিন আমার একটি প্রিয় পত্রিকা। এদের পৃষ্ঠা যেমন উন্নত, তেমনি লেখার স্টাইল ও প্রিন্টও অসাধারণ। এই তো কিছুদিন আগেও স্বপ্ন দেখতাম যায়যায়দিনে লেখার। আল্লাহ সেই স্বপ্ন পূরণের পথ করে দিলেন। যায়যায়দিনে পরীক্ষামূলক লেখা পাঠালাম। ধারণা করেছিলাম দৈনিক পত্রিকার ডিমান্ড অনেক বেশি থাকবে। আমার লেখা হয়তো তাদের পছন্দ হবে না। তাই ছাপানোর আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু গত শনিবারে আমার লেখা প্রকাশ হতে দেখে কিছুটা আশার মুখ দেখলাম। যায়যায়দিনে আরেকটি লেখা পাঠানোর পর আমাকে যায়যায়দিনের অফিসে যাবার জন্য বলা হলো। দিনটি ছিল গতকাল।

যায়যায়দিন পত্রিকা যেমন উন্নত, তাদের অফিসটাও সেরকম। কী একখান অফিস, দেখার মত। বিশাল এক বিল্ডিং। প্রথম দুইতলা পুরোটাই দানবীয় মেশিনে ভরপুর। অর্থাৎ প্রেস। তৃতীয় তলায় কম্পিউটার সেকশন। আমাকে সোজা তৃতীয় তলায় নিয়ে যাওয়া হলো। দেখলাম বিশাল এক হলরুমে অনেকগুলো কম্পিউটার। সবাই যার যার মত কাজ করে যাচ্ছে। হলের এক দিকে লন্ডন, বেইজিং, নিউ ইয়র্ক সহ প্রায় ১৪টার মত শহরের সময় প্রদর্শন করছে ১৪টি ঘড়ি। দারুণ লাগলো। আমাকে সোজা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের কম্পিউটারের দিকে নিয়ে যাওয়া হলো। সেখানে পরিচয় হলো এই বিভাগের বিভাগীয় সম্পাদকের সাথে। উনি খুব সহজভাবে আন্তরিকতার সাথে আমাকে গ্রহণ করলেন। কুশল বিনিময় ও পরিচয় পর্বের পর তিনি জিজ্ঞেস করলেন মোবাইল সম্বন্ধে আমি কতটুকু জানি। আমি বললাম, মোটামুটি। তখন তিনি বললেন, ম্যাকিনটশের উপর ভিত্তি করে নির্মিত অ্যাপলের আইফোন, উইন্ডোজভিত্তিক উইন্ডোজ মোবাইল, সিমবিয়ান, পাম ইত্যাদির নাম তো শুনেছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন সম্প্রতি গুগল তৈরি করেছে তাদের নিজস্ব একটি মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমের প্লাটফর্ম, নাম এন্ড্রয়েড। আপনাকে সেই বিষয়ে কিছু লিখতে হবে আমাদের আগামী সংখ্যার জন্য।

আমাকে ইংরেজীতে লেখা এন্ড্রয়েড সম্বন্ধে বিস্তারিত দুইটি পৃষ্ঠা দেয়া হলো। সেগুলো পড়ে সময় নিয়ে যায়যায়দিনের অফিসে বসেই এন্ড্রয়েড নিয়ে একটা লেখা লিখে ফেললাম। ভাগ্য ভালো তিনি লেখাটা পছন্দ করবেন। খুব সম্ভবত আগামী শনিবার যায়যায়দিনের “বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি” বিভাগে প্রকাশিত হবে লেখাটা। আশা করছি সবাই পড়বে।

পরে বিভাগীয় সম্পাদক সাহেবের সাথে কথা বললাম কিছুক্ষণ। বিভিন্ন বিষয়ে। তার মধ্যে মুখ্য ছিল কম্পিউটার নিয়ে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমার বাসায় তো পিসি বা ইন্টারনেট কোনটাই নেই। তো সপ্তাহে একদিন কি এখানে আসলে ইন্টারনেট কানেকশন সহ একটা কম্পিউটার পাওয়া যাবে? তিনি বললেন, একদিন নয়, সপ্তাহের সাতদিনই আপনি এখানে কাজ করতে পারবেন। কোন সমস্যা নেই। আমি আপনার জন্য কম্পিউটার ম্যানেজ করছি।

বাঁচলাম। কম্পিউটার না থাকাটা একটা বড় সমস্যা। এতে করে ওদের অফিসে গিয়ে ওদের কাজ করতে পারবো। অবশ্য অফিসটা বাসা থেকে অনেক দূরে। তবে সপ্তাহে এক দুইবার যাওয়া সম্ভব।

Outside of JaiJaiDin's office
যায়যায়দিন অফিসের মূল বিল্ডিং

তারপর আর কী। ইফতার করতে বলা হলো। ইফতার করলাম অফিসে। এই রমজানের প্রথম ইফতার যা বাইরে কোথাও করলাম। খুব ভালো লাগলো। জীবনের প্রথমবারের মত কোন গণমাধ্যমের অফিসে গেলাম। তাও আবার আমার পছন্দের একটি পত্রিকার অফিসেই। পরবর্তীতে হয়তো আরো অনেকবার যাব। কিন্তু প্রথমবারের মত অনুভূতি তো আর কখনোই হবে না। সব মিলিয়ে আমার যায়যায়দিন অফিসে একদিন খুব ভালো গেল। This will be one of the most memorable days in my life.