আপনি কেন ভয় পান?

ভূতুড়ে বাড়ি

মূলঃ Why Do you fear?

অনেক বিজ্ঞানী বা গবেষকই বিশ্বাস করেন সুপারন্যাচারাল বা অতিপ্রাকৃতিক বিষয়সমূহে। অন্যদিকে অনেক বিজ্ঞানী একে স্রেফ অবিশ্বাস করেন। এর কারণ হতে পারে এই যে, সুপারন্যাচারালের অস্তিত্বের প্রমাণগুলো চাক্ষুস নয়। দেখা যায়, এসব ঘটনা খুব অল্পসংখ্যক মানুষের জীবনেই ঘটে। তবে আমার কথা হচ্ছে, ভৌতিক কিছু না ঘটলেও কিছু কিছু জায়গা কিন্তু আমাদের মনে ভীতির সৃষ্টি করে। যেমন গভীর রাতে কোনো ঝোপ-ঝাড়ে, জঙ্গলে, কিংবা বহু বছর ধরে পরিত্যক্ত কোনো বাড়িতে ঢুকতে গেলে স্বভাবতঃই আমরা ভয় পাবো। কিছু না ঘটলেও আমাদের মনে ভয়-ভীতি কাজ করবেই। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন?

আমি নিজেকে কখনো জিজ্ঞেস করিনি আমি কেন ভয় পাই। বরং “ভয়” নিয়ে চিন্তা করার সময় হঠাৎই জবাব পেয়ে গেছি কেন আমরা ভয় পাই। আমরা ভয় পাই এর আসল কারণ হচ্ছে আমাদের মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া হয়।
Continue reading

পোড়ো ২ (প্রথম পর্ব)

পোড়ো ২ হরর গল্পদ্রষ্টব্যঃ পোড়ো গল্পটি নিতান্তই অলস মস্তিষ্কের কাল্পনিক অবদানমাত্র। বাস্তব কোনো কাহিনীর উপর ভিত্তি করে এ গল্প লেখা হয়নি। পোড়ো ১ গল্পের প্রথম পর্ব ও দ্বিতীয় পর্ব পড়তে যথাক্রমে এখানেএখানে ক্লিক করুন। পোড়ো ১-এর লেখকের অনুমতিক্রমেই পোড়ো এর সিকুয়েল পোড়ো ২ লিখছি আমি। আশা করছি আপনাদের ভালো লাগবে। ধন্যবাদ।

১.
স্টিভ ঘুম থেকে উঠলো সকাল সকাল। হাই তুলে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো প্রায় সাড়ে নয়টা বাজে। পাশে রুমের জানালার ভারি পর্দা ভেদ করে সূর্যের আলো পুরোপুরি ঘরে আসতে পারেনি। তবে পর্দার ফাঁক দিয়ে ঠিকই কড়া রোদ জানা দিচ্ছে দিবালোকের উপস্থিতি।

স্টিভ (পূর্বের পর্বে স্টিভেন্স) বিছানা ছেড়ে পর্দা সরিয়ে জানালা খুলে দিলো। সঙ্গে সঙ্গে দমকা হাওয়া এসে ঝাপ্টা দিলো তার মুখে। বাইরের বাতাস অনেক ঠাণ্ডা। এখানকার আবহাওয়া বেশ অদ্ভূত। সূর্যের রাগী রোদকে উপেক্ষা করেই যেন একই সঙ্গে ঠাণ্ডা বাতাস বইতে থাকে। এতে অবশ্য ভালোই হয়। গরম তেমন একটা গায়ে লাগে না।

স্টিভ ও রোনাল্ড মূলত বেড়াতে এসেছে। তাদের বাড়ি থেকে প্রায় কয়েকশ’ মাইল দূরের এই বনাঞ্চল তাদের বেশ প্রিয়। অবশ্য শেষবার যখন আসে তখনকার ঘটনা কারো মন থেকেই মুছে যায়নি। তবুও রোনাল্ডের শরীর একটু ভালো হতেই কাজে লেগে যায় সে। এক মাস পর আবার দুই ভাই মিলে আসে সেই পুরনো জায়গায়। আসার আগে অবশ্য স্টিভ বারবার জিজ্ঞেস করেছে, তার আবার পুরনো স্মৃতি ফিরে আসবে কি না। রোনাল্ড জানিয়েছে, জঙ্গলে তাবু ফেলতে না গেলেই সে ঠিক থাকবে।

Continue reading

একটি ভয়ঙ্কর ভূতের বাড়ির কথা (দ্বিতীয় পর্ব)

প্রথম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন

বাইরে অনেক বাতাস। স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক ঠাণ্ডা। গ্রীষ্মের এই অত্যধিক ঠাণ্ডা বাতাসের দু’টো অর্থ হতে পারে। এক, ঝড়-বৃষ্টি আসছে, অথবা দুই, ঝড়-বৃষ্টি হয়ে গেছে। আজকের ক্ষেত্রে বৃষ্টি হয়ে গেছে। তাই বাইরে অনেক ঠাণ্ডা বাতাস। ড্রয়িংরুমের পর্দাটা থেকে থেকেই কেঁপে উঠছে। আকাশে ছোট্ট একটা চাঁদ। ফ্যাকাসে রঙের চাঁদটার পাশ কেটে যাচ্ছে অসংখ্য খণ্ড খণ্ড মেঘ।

ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে বসে এসব দেখা যায় না। এই দৃশ্য চোখে পড়লো যখন রাত ১১.৪৫ মিনিটে বাড়ির মেইন গেইট লাগানোর জন্য বের হলাম। বাসার চারপাশে সব বিল্ডিং। এসবের মাঝেও প্রকৃতির অশুভ ও অপূর্ব এই দৃশ্য চোখে পড়া যেন ভাগ্যেরই ব্যাপার। গেইটটা খোলা ছিল। আমাদের বাসা দক্ষিণমুখী। আর বাসার সামনেই গলির রাস্তা। তাই খোলা জায়গা দিয়ে গেইটে প্রচুর বাতাস আসে। সেই বাতাসে গেইট যেন আপনা-আপনিই নড়ে উঠছিল। গেইট লাগানোর ঠিক পূর্ব-মূহুর্তে চোখে পড়লো আজকের পোস্টের মূল বিষয়, হাজীর বিল্ডিং।

Continue reading

একটি ভয়ঙ্কর ভুতের বাড়ির কথা (প্রথম পর্ব)

ভূতের বাড়ি বা হন্টেড হাউজের সংখ্যা পৃথিবীতে নেহায়েত কম নয়। আমার ধারণা, সভ্য পৃথিবী যেভাবে ভূত-প্রেতের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে চলে, সেখানে পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এতো এতো ভূতের বাড়ির অস্তিত্ব কিছুটা অবাক করার মতোই বটে। তবে বাস্তব কিছুটা ভিন্ন। হন্টেড হাউজ বা ভূতের বাড়ি কখনো কখনো লোককথায় গড়ে ওঠে, কখনো বা বাস্তবেই কোনো না কোনোকিছু অস্বাভাবিক থাকে। তবে তা কতখানি সত্য, তাও কেন যেন শক্ত দলিল-প্রমাণ দিয়ে দেখা যায় না।

আজকে একটা ভূতের বাড়ির কথা বলবো। মজার ব্যাপার হলো, ভূতের বাড়িটা স্থানীয়ভাবে বেশ নামকরা। আগে অনেককেই ভূতের বাড়ি ভূতের বাড়ি বলে ডাকতে শুনতাম। তবে এখন বিল্ডিংটাকে হাজীর বিল্ডিং নামেই বেশি শোনা যায়।

বিল্ডিংটার মালিক এক হাজী সাহেব। তার আসল নাম কী জানি না। আসলে জানার চেষ্টাও করিনি। এটি কোনো অনুসন্ধানীমূলক পোস্ট নয়। এটি কেবল লোকমুখে যেসব কথা প্রচলিত আছে সেসব নিয়েই একটি ‘জানানোমূলক পোস্ট’। :P:P

তো আমাদের আজকের এই ভূতের বাড়ির অবস্থান ঢাকার ব্যস্ততম (এবং ধূলাবালি এবং মার্কেটের দিক দিয়ে মোটামুটি শীর্ষস্থানে থাকা) এলাকা মিরপুর এক নম্বর। মিরপুর মাজার রোডের বুদ্ধিজীবি শহীদ মিনারের খানিকটা উত্তরে এই ভূতের বাড়ির অবস্থান। এই ভূতের বাড়ির ইতিহাস কিছুটা বোরিং টাইপের। কিন্তু যথেষ্ট ইন্টারেস্টিংও।

আমি ছোটবেলা থেকে এই বাড়িটি একদম খালি দেখে আসছি। তখন অবশ্য বাড়ির চেহারা এখনকার মতো রঙিন ছিল না। খসে পড়া চূনের রঙে ভর্তি ছিল পুরোটা বিল্ডিং। কাঁচগুলো সেই শুরু থেকেই একইভাবে ভাঙ্গা। জীবনে কাউকে এই বাড়ির দোতলা বা তিনতলায় উঠতে দেখিনি। জনমানুষের ছায়াও নেই এই বাড়িটিতে। এতো ব্যস্ততম রাস্তার ধারে এই বাড়ির বাউন্ডারির ভেতরটা যেন সেই কলিযুগ থেকেই খালি।
Continue reading