অ্যান্ড্রয়েড কথন হ্যাক ও এ নিয়ে আমার কিছু কথা

অ্যান্ড্রয়েড কথনঅ্যান্ড্রয়েড কথনের সূচনা নিয়ে আগেই একবার লিখেছিলাম। আজ সন্ধ্যায় সাইটটি হ্যাক হয়ে যাবার পর মনে হলো পাঠকদের উদ্দেশ্যে আমার কিছু লেখা উচিৎ। এছাড়াও ব্যাকআপ ফাইল আপলোড হতে যে সময় নিচ্ছে ততক্ষণে ক্ষোভ-দুঃখ ঝাড়ার মতো একটাই উপায় আছে আমার কাছে, লেখা।

সূচনা

অ্যান্ড্রয়েড কথনের যাত্রা শুরু হয় একরকম হঠাৎ করেই। আমার প্রথম অ্যান্ড্রয়েড কেনার প্রায় কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মনে হলো অ্যান্ড্রয়েড নিয়ে ডেডিকেটেড কোনো সাইট থাকা প্রয়োজন। ইতোমধ্যেই অ্যান্ড্রয়েড নিয়ে বাংলা ব্লগোস্ফিয়ারে অনেক লেখা আছে, কিন্তু ডেডিকেটেড কোনো সাইট নেই।

এরচেয়েও বড় কারণ ছিল, লেখালেখি বা ব্লগিং-এর প্রতি আমার একটা নেশা আছে। অ্যান্ড্রয়েড হাতে পাবার পরই মনে হয়েছে এটা নিয়ে অনেক লেখালেখি করা যাবে। আর লেখক/ব্লগার মাত্রই জানেন যে, সবাই এই আশা করে যে তার লেখা মানুষ পড়বে।

যাই হোক, অনেকটা চুপিসারেই অ্যান্ড্রয়েড কথনের যাত্রা শুরু হয়। ফেসবুকে কেবল আমার বন্ধুতালিকায় থাকা ভাইয়ারাই প্রথমে সাইটটি দেখেন ও এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেন। ফেসবুকের মাধ্যমেই মূলত অ্যান্ড্রয়েড কথন মাত্র ৩ মাসে দেড় লাখেরও বেশি পেজভিউ পেতে সক্ষম হয়। বর্তমানেও অ্যান্ড্রয়েড কথনের প্রধান দুই ট্রাফিক সোর্স হলো ফেসবুক আর গুগল।

সময় পেরোতে থাকে। আমিও বিপুল উদ্যমে লিখতে থাকি। কিছু কিছু ভাইয়া পরামর্শ দেন বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিতেও লেখার। এতে করে অ্যাডসেন্স, অ্যাফিলিয়েট ইত্যাদি মাধ্যম থেকে আয়-রোজগার করা যাবে। ইংরেজিতে লিখতে আমার কোনো বাধা নেই। কিন্তু লেখার চেয়ে মার্কেটিং, এসইও ইত্যাদি কাজে বেশি সময় কাটাতে হবে। এছাড়াও ইংরেজি সাইট দাঁড় করানোও বেশ কঠিন। অন্যদিকে অ্যান্ড্রয়েড কথন মোটামুটি পরিচিতি পেয়ে গেছে। মানুষ নিয়মিত অ্যান্ড্রয়েড কথন পড়ছেন। তৈরি কমিউনিটি ছেড়ে অন্যদিকে যেতে সায় দিচ্ছিল না মন। তাছাড়া আমার সামনে পরীক্ষা রেখে দু’টো সাইট চালানোও সম্ভব না। Continue reading

আসছে শত শত ব্লগ : কনফিউশন দূর করবেন যেভাবে

মুক্তভাবে লেখালেখির এক সত্যিকারের মঞ্চ হচ্ছে ব্লগ। ২০০৫ সালের দিকে সা.ইনের মাধ্যমেই মূলত বাংলা ব্লগের প্রবর্তন হয়। সেই থেকে বাঙ্গালীরা মুক্তভাবে লেখালেখি এক অনন্য সুযোগ পেয়ে যায়। শুরু হয় বাংলা ব্লগিং। মাতৃভাষায় লেখালেখির এই এক মঞ্চ থেকে ধীরে ধীরে ইন্টারনেট জগতে বের হতে থাকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আরো অসংখ্য মঞ্চ।

বাংলা ব্লগে বিভিন্ন ব্লগার বিভিন্ন বিষয়ে লিখে থাকেন। ব্লগের সংজ্ঞা নতুন করে দেবার কিছু নেই। আসছি সমকালীন একটি বিষয়ে। সম্প্রতি প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাদের ব্লগসাইটটি সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ, আগে যারা ইনভাইটেশন কোড ছাড়া রেজিস্ট্রেশন করতে পারতেন না, তারাও এখন কোন কোড ছাড়াই রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। প্রথম আলো ব্লগ বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম কোন ব্লগ যা কোন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার অধীনে। ইতিমধ্যেই প্রথম আলো ব্লগ পেয়েছে ইতিবাচক সাড়া। এটা সত্যিই আশাব্যঞ্জক। এছাড়াও সম্প্রতি বিডিনিউজ২৪ সংবাদ সংস্থাটিও নিজেদের ব্লগসাইট বের করেছে যেখানে যেকেউ রেজি: করে ব্লগিং করতে পারেন। বোঝা যাচ্ছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলা ব্লগোস্ফিয়ার হয়ে উঠবে বাঙ্গালীদের যোগাযোগের সবচাইতে শক্তিশালী মাধ্যম। সবচাইতে শক্তিশালী কমিউনিটি। যা ইতিমধ্যেই অনেকটা হয়ে গেছে।

বাংলা ব্লগোস্ফিয়ারে প্রতিনিয়ত আসছে নতুন নতুন ব্লগ ও ব্লগার। এটা আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়। তবে লক্ষ্য করলে একটা জিনিস দেখা যায় যে, একই ব্লগার প্রায় সব ব্লগেই রেজিষ্ট্রেশন করে বসে আছেন। ব্লগিং করেন আর না করেন, নতুন ব্লগের নাম শুনলেই রেজিষ্ট্রেশন করে ফেলেন এমন অনেক ব্লগার আছেন।

একাধিক ব্লগে একই ব্লগারের রেজিষ্ট্রেশন করা খারাপ কিছু না। তবে আমার মতে, এতে একজন ব্লগারের নিয়মিত ব্লগিং করাটা কমে যায়। একাধিক ব্লগে অবদান রাখতে গিয়ে তিনি কোনটাতেই ঠিকমত ব্লগিং করতে পারেন না। আমি স্বীকার করি একজন ব্লগার কয়টা ব্লগে ব্লগিং করবেন এটা একান্তই তার নিজস্ব ব্যাপার। এখানে আমি শুধু আমার মতামতটা বলেছি। কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলিনি।

কোন ব্লগে ব্লগিং করবো, এটা নিয়ে অনেকেই কনফিউশনে পড়ে যান। আমি নিজেই কনফিউশনে ছিলাম। তবে এখন আর সেই কনফিউশনে নেই। এই কনফিউশন দূর করতে আমি কিছু পরীক্ষা করেছি এবং তারপর সিদ্ধান্তে এসেছি কোন ব্লগ আমার জন্য পারফেক্ট। আমার সেই পরীক্ষাগুলো আপনিও করতে পারেন। তারপর সিদ্ধান্তে আসতে পারেন আসলে কোন ব্লগে আপনি নিয়মিত হবেন।

১. প্রথমেই লক্ষ্য করুন, কোন ব্লগ আপনার কাছে সবচেয়ে ভাল লাগে। যেটা আপনার সবচাইতে বেশি পছন্দ, আপনি সেই ব্লগে নিয়মিত হতে পারেন।

২. কোন ব্লগের অ্যাডমিন প্যানেল (এডিটর ও অন্যান্য সুবিধা যা আপনি লগইন করার পর পেয়ে থাকেন) আপনার কাছে সবচাইতে ইউজারফ্রেন্ডলি মনে হয়। কোনটা ব্যবহার করে আপনি সন্তুষ্ট? চেষ্টা করুন সেটাই সবসময় ব্যবহার করতে।

৩. কোন ব্লগে সহব্লগারদের কাছ থেকে কেমন মন্তব্য পান, সেটাও যাচাই করে দেখতে পারেন। এটা স্বাভাবিক যে প্রতিটি ব্লগেই বিভিন্ন ধরণের মনমানসিকতার মানুষ থাকবে। কিন্তু তবুও এখানে ভিন্নতা আছে। কোন ব্লগ ব্যবহার করে আপনি কেমন ফিডব্যাক পান, এটা সম্ভবত আপনার লেখালেখির উৎসাহের উপর ইম্প্যাক্ট করে। (করে কি না সেটা সম্পূর্ণ আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমার উপর করে, তাই আমি এই পয়েন্টটা দিলাম)

৪. কোন ব্লগে ব্লগার সংখ্যা বেশি, এটাতে নজর দেবেন না। কারণ কোয়ান্টিটি ইজন’ট বেটার দ্যান কোয়ালিটি।

মূলত উপরোক্ত তিনটি পরীক্ষার পরই আমি আমার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেই। আপনিও চেষ্টা করুন। আর হ্যাঁ, ব্লগ নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনার কোন টিপস থাকলে অবশ্যই অবশ্যই শেয়ার করবেন।

ধন্যবাদ।