অ্যান্ড্রয়েড কথন ১৩০০+ হিটের পেছনের কথা

অ্যান্ড্রয়েড কথন লোগোগতকাল ৩০শে আগস্ট আমার জন্য মনে রাখার মতো একটা দিন গেলো। ২৯ তারিখ রাত থেকে ল্যাপটপে টানা বসেছিলাম বার্লিনের আইএফএ প্রদর্শনীর আগে হতে যাওয়া প্রেস কনফারেন্সগুলো নিয়ে রিপোর্ট লিখতে। সনি আর স্যামসাং নতুন কিছু পণ্য আনবে বলেছিল আর তাই বিশ্বের হাজার হাজার মানুষের মতো আমিও ফলো করছিলাম বেশ কয়েকটি বিদেশি সাইট। তবে বাংলায় তাৎক্ষণিকভাবে আপডেট দেয়ার জন্য আমার মতো আর কেউ ছিলো কি না সে ব্যাপারে আমার অবশ্য সন্দেহ আছে।

যাই হোক, সারারাত আর মোটামুটি সারাদিন খাটা-খাটনির ফলও পেলাম গতকালই। দিন শেষে সাইটের হিট ছিল ১,৩৫৭। তবে এখানে আরও অনেক তথ্য লুকানো আছে। যারা অ্যান্ড্রয়েড কথন নিয়ে আগ্রহী, তারা পুরো পোস্টটা পড়তে পারেন।

Continue reading

আচ্ছা, রাতে লেখালেখির ইচ্ছেটা বেড়ে যায় কেন বলুনতো?

writing

অনেকদিন ধরেই একটা বিষয় খেয়াল করছি। রাত যখন গভীর থেকে গভীরতম’র দিকে যায়, নিরবতা যখন তার ‘পিন-পতন’ স্তরে পৌঁছায়, তখন কেন যেন ‘কিছু একটা’ লেখার ইচ্ছে অনেক বেড়ে যায়। কাজের তাগিদে দিনে অনেক লেখালেখির কাজ করতে হয়। ইদানীং সেটা পরীক্ষার কারণে কমে আসলেও বিভিন্ন বিষয়ের উপর লেখালেখিটা ধরে রেখেছি। কিন্তু রাতের লেখার ইচ্ছেটা সেগুলোর সঙ্গে ঠিক যেন খাপ খায় না। এই যেমন এখন কিছু একটা লিখতে খুব ইচ্ছে করছে। কিন্তু যেসব সাইটে কাজ করি, সেগুলোয় লেখার পাতা খুললে লেখার আগ্রহটা কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ এই যে এখানে লিখে চলেছি এখন, লেখার আগ্রহটা কিন্তু ঠিকই রয়ে গেছে।

এই বিষয়ে আমার একটা থিওরি আছে। সেটা হলো যে কোনো কাজই যখন “কাজ” হিসেবে করতে হয়, তখন তার প্রতি আগ্রহ কমে যায়। কেউ ছবি তুলতে ভালোবাসলে তাকে যদি ছবি তোলার “কাজ” দেয়া হয়, তখন তিনি অস্বীকার করতে পারবেন না যে তিনি সেই কাজে “আগ্রহ” হারিয়ে ফেলেন খুব সহজেই। যারা কাজের মধ্যেও আগ্রহ ধরে রাখতে পারেন, যেই কাজটা বেশ কঠিন, কেবল তারাই সফল হতে পারেন।

যাই হোক, সফলতার কথা পরে হবে। আসল কথা হলো, মাঝরাতে কী লিখতে ইচ্ছে করে? এটা কি কেবল আমার, নাকি আরো অনেকেরই? এক সময় যখন ইন্টারনেট নামক বস্তুটি ছিল না, মানুষ যখন ডায়েরিকে সবচেয়ে কাছের বস্তু বলে ভাবতো, যখন ডায়েরির সঙ্গে জীবনের একান্ত গোপন কথাগুলোও ভাগাভাগি করে নিতো, তখন তারা কী রাতেই লিখতো?

আমি অন্তত এ যাবৎ যাদের চিনি, তাদের মধ্যে যারা ডায়েরি লিখতো বা এখনো লিখে, তারা নাকি রাতেই ডায়েরিটা লিখে। তাদের এই ডায়েরি রাতে লেখার সঙ্গে কি আমার রাতে “কিছু একটা” লেখার কোনো সম্পর্ক আছে? তারা রাতে ডায়েরি লিখেন কি দিনের শেষের কথাগুলো লিখে রাখতে, রাতেই একমাত্র সময় পান বলে, নাকি তাদের মধ্যেও লেখার প্রবল ইচ্ছেটা রাতেই জাগ্রত হয়ে ওঠে বলে?

বলা মুশকিল। আমার যেই রাতে লেখার ইচ্ছেটা জেগে ওঠে, সেটা কি তাদের সেই ডায়েরি লেখার ইচ্ছের মতোই? এমন কেউ কি আছেন যাদের আমার মতোই রাতের নিস্তব্ধতায় লেখার ইচ্ছেটা জেগে ওঠে? আপনারা কি বলতে পারবেন ঠিক কী লেখার ইচ্ছে হয়? আর কেনই বা সেটা রাতে হয়?

গল্পঃ পৃথিবীর যত সুখ

‘অ্যাই, শুনছো? অ্যাই! ঘুম ভাঙছে না বুঝি?’
নীলার কানের কাছে প্রায় ফিসফিস করে পাঁচ মিনিট ধরে ডেকে যাচ্ছে অনিক। কিন্তু ভালোবাসা মাখা সেই ডাক যেন কানেই যাচ্ছে না নীলার। শরীরটা ভালো না তার। তাই হঠাৎ করে তাকে ডেকে তুলতে চাচ্ছে না অনিক। মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে আরেকবার ডাকায় আস্তে করে চোখ মেললো নীলা। অনিকের মুখে হাসি ফুটলো। প্রতিদিন সকালে নীলার ঘুম থেকে ওঠার দৃশ্যটা সে কখনোই মিস করে না। কেন যেন এই দৃশ্যের মাঝেও অনেক মানসিক শান্তি খুঁজে পায় সে।

‘আমাকে যে অফিসে যেতে হবে!’ বলল অনিক।
‘ওহ! কয়টা বাজে?’
‘প্রায় সাতটা।’
‘ও।’

মনটা আবার খারাপ হয়ে গেল অনিকের। নীলা কিছুই বললো না। ওর শরীরটা আসলেই ভালো না। অন্যান্য দিন এমন সময় নীলা ব্যস্ত হয়ে দৌড়াদৌড়ি করে অনিকের জন্য নাস্তা রেডি করে। অনিকও যতোটা সম্ভব নীলাকে কাজে সাহায্য করে। কিন্তু আজ নীলার শরীর খারাপ বলে তাকে আর ডাকেনি অনিক। যাবার মূহুর্তে বলে যাওয়ার জন্যই ঘুমটা ভেঙ্গেছে নীলার।

‘আমার আজকে অফিসে যাওয়া একদমই উচিৎ নয়, কিন্তু আজ এমনই কিছু কাজ আছে যে না গিয়েও পারছি না,’ মন খারাপ করে কৈফিয়তের সুরে নীলার কানের কাছে বললো অনিক।
নীলা তার দিকে না তাকিয়েই ক্ষীণ কণ্ঠে বললো, ‘সমস্যা নেই, তুমি যাও।’
তার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো অনিক। আর দুই-এক মিনিট, তারপরই নীলা পুরোপুরি সজাগ হয়ে উঠবে। সেই দুই মিনিট সময় পার করলো সে নীলার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে।

‘শোনো, আমি নাস্তা তৈরি করে গেছি, তুমি ঠিক এক ঘণ্টা পর আটটায় বিছানা থেকে উঠবে। ফ্রিজে ব্রেড রাখা আছে। আমি জেলি দিয়ে রেখেছি, তুমি খেয়ে নিও। আর খাওয়া শেষে পুরো দুই গ্লাস পানি খাবে। পানি খেয়ে সোজা বিছানায় যাবে। কোনো কাজের বাহাদুরি দেখাতে হবে না, বুঝেছো?’ প্রায় যেন আদুরে ধমক দিলো অনিক।

তার এই আচরণের সঙ্গে পরিচিত নীলা। সে একটু হেসে বললো, ‘আচ্ছা ঠিক আছে।’ অনিক বলে চললো, ‘দুপুরের ভাতও আমি রান্না করে রেখেছি। তরকারি কাল রাতেরটাই আছে, আর রান্নার দরকার হবে না। আমি ফোন করে তোমাকে ডেকে দিবো যদি ঘুমিয়ে থাকো। দুপুরে কিন্তু অবশ্যই খেয়ে নিবে সোনা। তোমার শরীরটা ভালো না। না খেলে কিন্তু শরীর আরো খারাপ হবে।’

Continue reading

গল্পঃ My Best Friend Simi (শেষ পর্ব)

My Best friend simi

(পর্ব ১২)

শেষ পর্ব হওয়ায় এই পর্বের দৈর্ঘ্য স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বড়। একবারে শেষ করতে না পারলে অনুগ্রহপূর্বক খণ্ড খণ্ড করে তিনবারে পর্বটি পড়ুন। ধন্যবাদ।

২৮
আজ রাতটা যেন সাইফের আর কাটতেই চায় না।
এমনিতে সাইফ অনেক কষ্টে অন্য কিছুতে মনোযোগ বসিয়ে রাত পার করে দেয়। কোনো রাতেই সে ঘুমায় না, কিংবা ঘুমাতে পারে না। কেবল ভোরের দিকে কিছুটা তন্দ্রামতো আসে। কিন্তু সেই সময়টুকু পর্যন্ত কোনোরকমে কাটিয়ে দেয় সাইফ। কখনো শুয়ে শুয়ে উপরে ঘূর্ণায়মান ফ্যানের দিকে তাকিয়ে থাকে। কখনো লাইট নিভিয়ে অন্ধকারেই চোখ খুলে বসে থাকে। কিন্তু যখন যেভাবেই থাকুক না কেন, ওর মন সব সময় কেবল একটা কথাই ভাবতে থাকে, সিমির কথা।

মাঝে মাঝে সাইফের অবাক লাগে। মনের কি বিরক্ত লাগে না? মানুষের মন আসলে সবচেয়ে রহস্যময় জিনিস। তার আশেপাশে কত ছেলেমেয়ে আছে যারা একের পর এক রিলেশনে গড়ছে আর ভাঙ্গছে। ওদের কাছে এটা যেন সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের মতো ঘটনা। সাইফ কেন সে রকম হতে পারলো না কে জানে। হয়তো কাউকে সত্যি সত্যি ভালোবাসলে এমন হওয়া যায় না। হয়তো এই ছেলেমেয়েগুলোও যেদিন কাউকে মন থেকে ভালোবাসবে, তখন সত্যিই সিরিয়াস হয়ে যাবে। তখন আর সম্পর্ক ভেঙ্গে গেলে এতো কেয়ারলেস থাকতে পারবে না।

মাঝে মাঝে সাইফের নিজেকে মনে হয় মানসিক রোগী। এটা ভাবতে তার খারাপ লাগে না। সে আসলে বিশ্বাসই করে যে সে মানসিক রোগী। নাহলে যে চলে গেছে তার স্মৃতি আঁকড়ে রাখবে কেন? তার চেয়ে বড় কথা, তার স্মৃতি আঁকড়ে থাকার মধ্যেই মানসিক আনন্দ খুঁজে পাবে কেন?

সাইফ হয়তো কোনোদিন সিমিকে বোঝাতেই পারেনি সিমি তার কাছে কতোটা মূল্যবান, কতোটা বেশি আপন। মানুষের সব রকম প্রতিক্রিয়া সাধারণত আপন মানুষের উপরই পড়ে এই সত্যটা হয়তো সিমি বুঝতে পারেনি বা মেনে নিতে পারেনি। সাইফের ব্যক্তিগত যেসব কষ্ট রয়েছে, সেসব কষ্ট সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলেই যে ও বেশ রূঢ় ব্যবহার করে ফেলত, আর সেটা যে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে ছিল, তা যেন সৃষ্টিকর্তা জেনেও ইচ্ছে করে সিমির কাছে গোপন করে গেছেন। সিমির সঙ্গে বলা প্রতিটি রুড কথার জন্য সাইফ নিজেকে কতোবার ধিক্কার দিয়েছে তা বুঝি সৃষ্টিকর্তা একাই উপভোগ করেছেন। কে জানে, হয়তো প্রথমদিন সিমির হাত ধরে সাইফ মনে মনে যে স্রষ্টার কাছে বলেছিল যে, এই সিমিকে সবসময় সুখী রাখাই হবে তার জীবনের অন্যতম একটা উদ্দেশ্য, তখন বুঝি সৃষ্টিকর্তা অট্টহাসি দিয়েছিলেন। তিনি নিশ্চয়ই হাসির ফাঁকে আপনমনে বলেছেন, ‘রাখিস সুখী! দেখবো কতোটা সুখী রাখতে পারিস! আগে তো নিজে সুখী থাকবি, নাকি!’

Continue reading

গল্পঃ My Best Friend Simi (পর্ব ১২)

My Best friend simi

(পর্ব ১১)

২৫
আজও কলেজ প্রায় ফাঁকা। সকাল থেকে এক নাগাড়ে বৃষ্টি হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই আসতে পারেনি। সেই সুযোগে যাদের বাসা কাছেই তারাও ফাঁকি দিতে মিস করেনি। কিন্তু সাইফ আজ ঠিকই এসেছে। সে অনেক ভালো ছাত্র তাই বলে নয়, সে যখন বেরিয়েছে তখন বৃষ্টি থেমেছিল। তাই ইচ্ছে থাকলেও কলেজে যাওয়া বাদ দিতে পারেনি।

কলেজে এসে দেখে তার ক্লাসরুমে মাত্র দশজন আছে। তাদের মধ্যে অনিকও ছিল। অনিক ছেলেটা বেশ প্রাণচঞ্চল। শারমিন নামের একটা মেয়ের সঙ্গে ওর রিলেশন আছে আজ প্রায় তিন বছরেরও বেশি হয়েছে। এতো দীর্ঘ সময় রিলেশন ধরে রাখা কঠিন। ওদের মাঝে অনেকবার ব্রেকআপ হওয়ার কথা শুনেছে সাইফ। কিন্তু প্রতিবারই সব ঠিক করে নেয় অনিক। ব্যক্তিগতভাবে অনিক খুব ফাস্ট। কথা দিয়ে মানুষকে ভোলাতে তার এক মিনিট সময়ও লাগে না। বিশেষ করে মার্কেটিং-এর কাজে ওকে লাগালে ও বেশ ভালো করতে পারবে বলে সাইফের বিশ্বাস। এসব মানুষই হয়তো রিলেশন টিকিয়ে রাখতে পারে। রিলেশন টিকিয়ে রাখতে কেবল ভালোবাসা আর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশই যথেষ্ট না। ভুলিয়ে-ভালিয়েও রাখতে হয়, যেটাকে শুদ্ধ বাংলায় পটানো বলে!

Continue reading

গল্পঃ My Best Friend Simi (পর্ব ৯)

My Best friend simi

(পর্ব ৮)

১৯
পরদিন যথারীতি তুমুল বৃষ্টি। ভোর থেকেই বৃষ্টি শুরু হলো। সেই বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষণ নেই। বাসায় বসে সাইফ ভাবছে আর আধঘণ্টা বৃষ্টি হলে কলেজেই যাবে না। কিন্তু যেই সে ভাবলো, সঙ্গে সঙ্গেই যেন বৃষ্টি কমে এলো। তাই সাইফের কলেজে না যাওয়া আর হলো না। আবার বৃষ্টি নামার আগেই কলেজে পৌঁছানোর জন্য তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে পড়লো।

কলেজে আজ ছাত্র-ছাত্রী প্রায় নেই বললেই চলে। সবাই বৃষ্টিকে অজুহাত বানিয়ে ক্লাস ফাঁকি দিয়েছে। অবশ্য এমন দিনগুলোতে ক্লাস করে অভ্যাস আছে সাইফের। তাই ওর মন খারাপ হলো না। বরং অবাক হলো যখন দেখলো ক্লাসরুমে সাত-আটজন ছেলে ছাড়াও মেয়েদের মধ্যে সিনথিয়া বসে আছে। এই বৃষ্টির দিনে সিনথিয়া কলেজে আসবে ভাবতেই পারেনি সাইফ। অবশ্য ওর আসতে কি! নিজেদের গাড়ি আছে। গ্যারেজ থেকে গাড়িতে উঠবে, কলেজের সামনে এসে নামবে। বিত্তশালীদের অনেক সমস্যাই কোনো সমস্যা না।

Continue reading

গল্পঃ My Best Friend Simi (পর্ব ৮)

My Best friend simi

(পর্ব ৭)

১৭
দুপুরের পর আবার বৃষ্টি নেমেছে। দুপুরের দিকে বৃষ্টি যা-ই একটু থেমেছিল, সেই ক্ষতিটা পুষিয়ে নিতেই যেন আকাশ ভেঙ্গে ঢল নেমেছে। একটানা এতো লম্বা সময় এভাবে বৃষ্টি হতে খুব কমই দেখা যায়। সাইফ তার জানালা দিয়ে বৃষ্টির ফোঁটার মাটিতে পড়া দেখছে। পানি জমে আছে তার জানালার সামনে। সেই জমে থাকা পানির উপর অনবরত বৃষ্টির ধারা পড়ছে। সব মিলিয়ে যেন ছোট্ট একটা লেক তৈরি হয়েছে ওর জানালার সামনেই।

অন্য কোনো সময় হলে হয়তো দৃশ্যটা খুব উপভোগ করতে পারতো সাইফ। কিন্তু এখন আর সে কিছুই উপভোগ করে না। উপভোগ করতে হলেও অনুভূতি থাকতে হয়। আজ তার মধ্য থেকে অনুভূতিগুলো পালিয়ে গেছে। সে এখন চাইলেও কিছু অনুভব করতে পারে না। কেবল একটাই তার অনুভ’তি রয়েছে, তা হলো সিমির অভাব।

তুমুল বৃষ্টির শব্দে কখন থেকে সাইফের ফোন বাজছে সে খেয়ালও করেনি। যখন দেখলো ততক্ষণে দশবার মিসকল হয়ে গেছে। সিনথিয়া ফোন করেছিল। সাইফ আবার ফোন করবে ভাবছে এমন সময় সিনথিয়া আবার ফোন করলো। ফোন ধরলো সাইফ।

Continue reading

গল্পঃ My Best Friend Simi (পর্ব ৬)

My Best friend simi

(পঞ্চম পর্ব)

১৩
‘সিমির সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব এতোটাই ঘনিষ্ঠ ছিল যে আমাদের দু’জনের এমন কোনো কথা নেই যা অন্যজন জানতো না,’ সাইফ বলতে শুরু করলো। ‘ও ওর জীবনের খুঁটিনাটি যেমন আমার সঙ্গে শেয়ার করতো, আমিও আমার জীবনের খুঁটিনাটি সবই ওর সঙ্গে শেয়ার করতাম। বলা যেতে পারে, আমার জীবনের প্রথম বেস্ট ফ্রেন্ড হওয়ায় আমিও মন খুলে ওর সঙ্গে কথা বলতাম। তবে একটা সময় পরে ওর সঙ্গে যত কথা হতো তার বেশিরভাগই ছিল ওর বয়ফ্রেন্ড নিয়ে। কারণ, ঐ সময়টায় ওদের মধ্যে বেশ সমস্যা চলছিল।’

সিনথিয়া জিজ্ঞেস করলো, ‘কী সমস্যা?’

‘সমস্যাটা কী নিয়ে এর উত্তর আসলে এক কথায় দেয়া মুশকিল। আগেই বলেছি, ওর বয়ফ্রেন্ড খুব পজেজিভ মাইন্ডেড ছিল। তাই ছোটখাটো বিষয়েও অনেক বড় সমস্যার সৃষ্টি হতো। যেমন ধরো ওকে জিজ্ঞেস না করে কাউকে সিমি ফেসবুকে ফ্রেন্ড বানালে, কিংবা নিজের কোনো ছবি ফেসবুকে দিলে ও রেগে যেত। এ নিয়ে ওদের সমস্যা দিনকে দিন বেড়েই যাচ্ছিল। আর সিমি এই স্ট্রেসের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছিল।’

‘তখন আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করতাম ওর মন ভালো রাখার। ওর মন অন্য বিষয়ে ডাইভার্ট করার চেষ্টা করতাম। ওকে হাসানোর চেষ্টা করতাম। খুব একটা পারতাম না অবশ্য। ও আমার সঙ্গে ওর মনের সব কথা খুলে বলতো। আমি খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতাম। শুনতে ভালো লাগতো ওর কথা। ওর সমস্যা নিয়ে টেনশন করতাম। পরামর্শ দিতাম। আমি যে ওর কথা শুনছি এ নিয়েও ও বেশ খুশি ছিল। ও বলতো, ওর কথা শোনার কেউ নেই। তা শুনে অবশ্য আমার ভালোই লাগতো। কারো জীবনে একেবারে আলাদা কেউ হওয়ার অন্যরকম একটা অনুভূতি আছে। এই অনুভূতি শুধু ভালোবাসা থাকলেই হবে এমন কিন্তু নয়। কারণ, তখন আমাদের মাঝে এমন কোনো সম্ভাবনাও ছিল না। আমরা অনেক কাছে ছিলাম। আবার একই সঙ্গে বেশ খানিকটা দূরত্ব বজায় রাখতাম।’
Continue reading

গল্পঃ My Best Friend Simi (পর্ব ৪)

My Best friend simi

তৃতীয় পর্ব


সকালে ক্লাসে আসতে একটু দেরি করে ফেলল সাইফ। ও সাধারণত সবার আগে ক্লাসে আসে। আজ বৃষ্টিতে আটকে দেরি হয়ে গেছে। এছাড়াও আরেকটা ঘটনা ঘটেছে। সাইফ বৃষ্টিতে ভিজে গেছে। কলেজ গেট দিয়ে ঢোকা মাত্রই ক্লাসমেটদের মধ্যে একরকম হৈ-চৈ শুরু হয়ে গেছে যে সাইফ বৃষ্টিতে ভিজে গেছে। সাইফ সেটা দেখে অবশ্য মজাই পেলো। সবাই ভাবছে অনেকদিন পর বৃষ্টিতে ভিজেছে। অথচ সে যে প্রতিদিন বৃষ্টিতে ভেজে কেবল ভেজা কাপড় গায়েই শুকানোর জন্য, তা সে ছাড়া আর কেউ জানে না।

ভেজা চুলে আঙ্গুল চালাতে চালাতে তিনতলায় উঠলো সাইফ। তাকে দেখে ক্লাসের সবাই বেশ মজা পাচ্ছে। রীতিমতো কাকভেজা ভিজেছে সে। চুলগুলো এলোমেলো। বলা বাহুল্য, ওর চুল এলোমেলো থাকতে কেউ দেখেনি আগে। তাই আজ সবাই যেন এক অন্যরকম সাইফকে দেখছে এমনভাবে তাকিয়ে আছে। কেউ একজন সিনথিয়াকে খবরটা জানালো। কিন্তু ও সাইফকে এগিয়ে নিতে আসলো না।

সাইফ ক্লাসরুমে ঢোকা মাত্রই ক্লাসে যারা বসে বা দাঁড়িয়ে গল্প করছিল তারা যেন চুপ হয়ে গেল। সাইফের ভেজা শরীর আর এলোমেলো চুল দেখে সবাই যেন থমকে গেছে। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর সবাই একসঙ্গে হেসে উঠলো। সাইফও প্রাণহীন একটা হাসি দিয়ে একেবারে পেছনের সিটে গিয়ে বসলো। তার কাপড় শুকাতে সময় লাগবে। নিচে তখন ঘণ্টা বাজছে।

Continue reading

My Best Friend Simi (পর্ব ৩)

My Best friend simi

দ্বিতীয় পর্ব


ভোর থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। বরাবরের মতোই এক ফাঁকে না ভিজেই কলেজে ঢুকে গেছে সাইফ। কিন্তু অন্যরা এতো ভাগ্যবান নয়। যারা ছাতা আনেনি, তারা তো ভিজেছেই, যারা ছাতা এনেছে তারাও মোটামুটি না ভিজে পারেনি। সাইফকে দেখে সবাই হেসে উঠলো। ছেলেটা কীভাবে যে বৃষ্টি এড়ায় কে জানে।

বেঞ্চে ব্যাগ রেখে বারান্দায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখছিল সাইফ। বৃষ্টির সঙ্গে তার মনে পড়ার মতো স্মৃতি খুব বেশি নেই। কিন্তু যে কয়েকটি আছে, সেগুলোই সারাজীবনের জন্য যথেষ্ট। তার ভাবতে কষ্ট লাগে, সেসব শুধুই স্মৃতি হয়ে গেল। কখনোই আর সেসব মুহুর্তগুলোর পুনরাবৃত্তি হবে না।

সাইফ যখন এসব ভাবছে এরই মধ্যে সিনথিয়া এসে হাজির। শরীরের অর্ধেক ভিজে চুপচুপে হয়ে আছে আর বাকি অর্ধেক খটখটে শুকনো। কিম্ভূত লাগছে দেখতে। তার নিজেরই অস্বস্তি হচ্ছে। সবাই হাসছে তাকে দেখে। ইচ্ছে হচ্ছে গিয়ে পুরোটুকু ভিজে আসি। ক্লাস শুরু হতে আরো ৩০ মিনিট বাকি। বাড়তি কাপড় থাকলে ইচ্ছেমতো ভেজা যেতো। কিন্তু কলেজে কি আর বাড়তি কাপড় আনা যায়!

সাইফের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখলো কতক্ষণ সিনথিয়া। দু’জনই চুপচাপ। সিনথিয়া অনুভব করলো, সাইফের সঙ্গে বৃষ্টিতে ভেজার ইচ্ছেটা তার খুব প্রবল হয়ে উঠেছে। সে মনে মনে ঠিক করলো, আজ ছুটির পর যে করেই হোক সাইফকে বৃষ্টিতে ভিজিয়ে দেবে। সে দু’দিন আগের ঘটনা সম্পূর্ণ ভুলেই গেল।

Continue reading