কিনিলাম ল্যাপটপ!

বহু কেচ্ছা-কাহিনীইন্সপাইরেশনের পরে অবশেষে একটা ল্যাপটপের সুযোগ্য মালিক হওয়া সম্ভবপর হলো। :D

উপরে যে দু’টো লিংক দেয়া আছে, দু’টোতেই ল্যাপটপ কেনা সম্পর্কিত যাবতীয় সব তথ্য আছে। পড়ে নিবেন। যারা আগের পোস্টে নানা রকম তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা।

৪২-৪৩ হাজার টাকা বাজেটে বর্তমান বাজারে ল্যাপটপ অহরহ হলেও আমি কিছু দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলাম। নেটবুক কিনতে চাইনি কারণ নেটবুকে অপটিক্যাল ড্রাইভ নেই এবং নেটবুকে মাল্টিটাস্কিং করা একটু ধীরগতির। তবে ব্যাটারি ব্যাকআপ বেশি হওয়ায় নেটবুকের প্রতি আকর্ষণ ছিল। আরেকটা কারণ ছিল নেটবুকগুলো বর্তমান বাজারে দেখতে অনেক সুন্দর। দেখলেই পছন্দ হয়।

গত ১০ই মার্চ এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চলে গেলাম ডিজিটাল এক্সপোতে। সমস্যায় পড়লাম, যেটাই পছন্দ হয়, সেটাই নেটবুক। আর আমার চাহিদা ছিল ১৩.৩” স্ক্রিন। কারণ, এতে ব্যাটারি কিছুটা কম টানে। কিন্তু মেলায় ১৩.৩” পেলাম না বললেই চলে। যেগুলো পাই একটাও পছন্দ হয় না। পরে তোশিবার একটা পেয়েছিলাম কিন্তু দাম কমায়ে সর্বনিম্ন আসলো ৫০ হাজার টাকা। কিনলাম না।

মেলায় ঢুকেই সনি ভায়ো পছন্দ হয়ে গেল। ৮৪ হাজার টাকার ল্যাপটপ বিক্রি করছে ৬৯ হাজার টাকায়। যারা ভায়ো কিনতে চাচ্ছেন তাদের জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ ছিল মেলায়। তবে সবচেয়ে বেশি পছন্দ হয়েছিল ম্যাকবুক প্রো ১৩.৩”। সেটা কেনার স্বপ্ন দেখার বেশি কিছু করার নেই তাই ওটার দিকে আর নজর দিলাম না। :(
Continue reading

ব্লগিং করে জিতলাম ডিজিটাল ক্যামেরা : কিছু প্রশ্ন এবং একটি শিক্ষণীয় ঘটনা

প্রথমেই একটা গোপন কথা বলে দেই। কিছুদিন আগে আমার ল্যাপটপ কেনা নিয়ে লেখা পোস্টটি হয়তো অনেকেই লক্ষ্য করেছেন। যারা নানা রকম পরামর্শ ও তথ্য দিয়ে পোস্ট দিয়েছেন তাদের জানাই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। এবারে গোপন কথাটা জানাই।

গত আগস্ট মাসে প্রযুক্তি বিষয়ক ম্যাগাজিন টেকনোলজি টুডে কর্তৃক প্রকাশিত নতুন ব্লগ সাইট টেকনোলজি টুডে ব্লগে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় এক মাসের সেরা পোস্ট লেখককে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দেয়া হয়। মোট ১৬টি পুরস্কারের মধ্যে প্রথম পুরস্কার হচ্ছে একটি নেটবুক। দ্বিতীয় পুরস্কার ডিজিটাল ক্যামেরা। তৃতীয় পুরস্কার আইপড। তো আমি এমনিতেই লেখালেখি করে থাকি। উপরন্তু একটা ল্যাপটপের খুব অভাব বোধ করছিলাম। দুয়ে দুয়ে চার মিলিয়ে লেখা শুরু করলাম। পুরস্কারই একমাত্র টার্গেট ছিল, এটা বলবো না। কারণ, টেক টুডে কর্তৃপক্ষের নজরে আসারও শখ ছিল। যদি তাদের ম্যাগাজিনে কিছু লেখা-টেখা দেয়া যায়। ;) আর পুরস্কারের আশাটা ছিল স্পিরিট।

যাই হোক, টানা একমাস অনেক লেখা পোস্ট করলাম। পরে কর্তৃপক্ষ মেয়াদ আরও একমাস বাড়িয়ে দিলো। তখন টিকে থাকা আমার জন্য বেশ কঠিন হয়ে যায় কারণ আমার এসএসসি সামনে ছিল। যাই হোক, তবুও প্রতিদিন সময় বের করে পোস্ট লিখতে থাকলাম। একসময় মেয়াদ শেষ হলো, এবং একমাস পর জানুয়ারির প্রথম দিন রেজাল্ট আসলো।
Continue reading

ফেসবুক বন্ধে প্রতিবাদের ঝড় সাইবার ওয়ার্ল্ডে

নিচের লেখাটি বিডিনিউজ24 টেকনোলজি পাতায় প্রথম প্রকাশিত হয়

শনিবার ২৯ মে সন্ধ্যায় ফেসবুক ব্লক হওয়ার পর থেকেই প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে বিভিন্ন বাংলা ব্লগ, ফোরাম এবং মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারে। বলা চলে বাংলা ব্লগ গুলোর বিভিন্ন আর্টিকেল ও আলোচনায় কার্যত প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশে ফেসবুক বন্ধ করার বিষয়টি।

২৯ মে সন্ধ্যায় ফেসবুক এক্সেস বন্ধ করার পর প্রতিবাদমূলক পোস্ট সবচে বেশি প্রকাশিত হয়েছে জনপ্রিয় বাংলা ব্লগ সাইট সামহোয়্যার ইন ব্লগ-এ। এছাড়াও বিভিন্ন ব্লগে প্রতিনিয়তই ফেসবুক ব্লক করার পক্ষে-বিপক্ষে পোস্ট প্রকাশিত হয়ে আসছে। এগুলোর মধ্যে ফেসবুক ব্লক করার বিষয়টিকে ‘নির্বোধের মতো সিদ্ধান্ত’ বলেই অভিহিত করেছেন অনেকে।

এক পোস্টে ব্লগার অরূপ রাহী মন্তব্য করেছেন, ফেসবুক বন্ধ করা কোনো সমাধান নয়। তার মতে, কেউ কোনো বিষয়ে কোনো মতামত, সমালোচনা, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করলেই সেই মাধ্যমটিকে বন্ধ করার বিষয়টি যে কাজে আসে না, ‘তা ইতিহাস বারবার প্রমাণ করছে’।

ফেসবুক বন্ধের প্রধান কারণ হিসেবে পত্র পত্রিকাগুলো ফেসবুকে মহানবীর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের কারণটিই উল্লেখ করেছে। তবে, দুই নেত্রীর ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশের পরপরই ফেসবুক বন্ধ করায় অনেকেই মনে করছেন, প্রকৃত কারণ নেত্রীদের ব্যঙ্গাত্মক ছবিই। কারণ মহানবীর ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন ফেসবুকে রয়েছে বহুদিন ধরেই।

আবার নেত্রীদের ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন আঁকা যদি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হয়, তাহলে কার্টুনিস্ট শিশিরকেও গ্রেফতার করা হোক, এমন দাবি জানিয়েছেন ব্লগার কুঁড়ের বাদশা। তিনি লিখেছেন, ‘আপনারা কি কখনও প্রথম আলো পড়েন নি?’ এই ব্লগার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ‘শুধু মন্ত্রী-এমপি নয় হাসিনা-খালেদারও ব্যঙ্গ কার্টুন’ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

Continue reading

পোস্টটি উবুন্টু ১০.০৪ লুসিড লিংক্স থেকে লেখা : আমার প্রাথমিক বিশ্লেষণ

ubuntu wallpaper

উবুন্টুতে পদার্পণ নিতান্ত শখের বশে। হঠাৎই একদিন মনে হলো শখের ডেস্কটপ কম্পিউটারে একটু নতুন স্বাদ যোগ করি। যেই কথা সেই কাজ। উবুন্টুর সাইট থেকে সিডির অর্ডার দিলাম। অর্ডার দেয়ার পর কিছুদিন উর্ধ্বশ্বাসে অপেক্ষায় রইলাম সিডি আসার, যদিও তিন সপ্তাহের আগে আসার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। এরই মধ্যে পরিকল্পনা হলো কক্সবাজার যাবার। ব্যস! ভুলে গেলাম উবুন্টুর কথা; ঘুরে এলাম কক্সবাজার । কক্সবাজার থেকে এসেই হাতে পড়লো উবুন্টু ৯.১০। সোজা ইন্সটল। কিছুদিন মাতামাতি। পরে সব শেষ।

এরমাঝেও প্রায়ই উবুন্টু ব্যবহার করেছি। বিশেষ করে যখন বারবার লোডশেডিংয়ের কারণে এক্সপি ডিস্টার্ব দিচ্ছিলো, তখন কাজ করতে উবুন্টু লাইভ সিডি দারুণ কাজে এসেছে। এই বৈশিষ্ট্যটার জন্য উবুন্টুর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। :)

যাই হোক, এবার মূল কথায় আসি। উবুন্টু লুসিড লিংক্স মুক্তি পেয়েছে শুনেই ডাউনলোড দিয়েছিলাম। আজ ডাউনলোড সম্পন্ন হলো। উবি দিয়ে ইন্সটল করলাম (কারণ পার্টিশনিংয়ের ঝামেলা পারি না :( )। এবারে আসি আমার মতামতে।

Continue reading

গুগল অফিস থেকে চিঠি

খুব ছোট ছিলাম। প্রাইমারি শিক্ষার অনুপাতে ক্লাস ফাইভ কি সিক্সে। তখন থেকেই ইন্টারনেটের প্রতি অসাধারণ আগ্রহ আর উৎসাহটা টের পাই। বড় ভাইয়ার কাছে ইন্টারনেটে খুঁটিনাটি শিখেছিলাম।
প্রথম দিকে (এখনও) সাইবার ক্যাফে থেকেই কম্পিউটার ব্যবহার করতাম। তখন ব্রাউজার খুললেই গুগলের হোমপেজ ওপেন হত। তখন অবশ্য বুঝতাম না যে এটাও একটা ওয়েবসাইট। আর তখন আমি গুগলকে গুগলি বলে উচ্চারণ করতাম।

খুব শীঘ্রি বিষয়টা ধরতে পারলাম। টেবিলের ইংরেজী বানান আর গুগলের ইংরেজী বানানে সুন্দর একটা মিল আছে। টেবিলের উচ্চারণ যদি টেবলি না হয়ে টেবিল হয়, তাহলে গুগলের উচ্চারণও গুগলি না হয়ে গুগল-ই হবে। এইভাবে ভুলটার সংশোধন করলাম।

ছোটবেলা থেকেই ওয়েবসাইট তৈরীর প্রতি প্রচন্ড নেশা ছিল। এ পর্যন্ত কয়টা পঙ্গু ওয়েবসাইট বানিয়েছি তার কোন ঠিক ঠিকানা নেই। তবে শেষ পর্যন্ত গুগলপেজ আর ওয়ার্ডপ্রেস এবং ব্লগস্পটকে আঁকড়ে ধরেছি। তারা এখনো আমার সাথেই আছে। গুগলের খুব কম সার্ভিসই আছে যেগুলো আমি ব্যবহার করিনি। একসময় গুগল গ্রুপস নিয়ে প্রচুর সময় ও অর্থ ব্যয় করেছি। একসময় বুঝলাম ওটা আমার জন্য না। তারপর গ্রুপস ছেড়ে হাই ফাইভ ইত্যাদিতে আগ্রহ দেখালাম। কিছুদিন ভালই গেল। তবে আমার বুঝতে দেরি হলো না যে ওগুলো মানুষের মূল্যবান সময়টাকে পিটিয়ে হত্যা করা ছাড়া আর কিছুই না। উপলব্ধি করলাম ওটাও আমার কাজে আসবে না। সেই থেকে সোশ্যাল নেটওয়ার্ক নামের শব্দটাকে আমি অপছন্দ করি। অবশ্য ফেসবুক ব্যবহার করছি। তবে সেটার পিছনে খুব একটা সময় ব্যয় করিনা।

বড় ভাইয়া ওয়েবসাইট বানাতে এক্সপার্ট। ওনার সাটে দেখতাম গুগল বস্ বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন। দেখে খুবই ভাল লাগত। কারণ সময়ের সাথে সাথে আমিও বুঝতে পেরেছি যে, গুগলের লোগো যতই হাস্যকর হোকনা কেন, গুগলকে ছাড়া ইন্টারনেট একপ্রকার অচল হয়ে পড়বে। ঠিক তাই, ইন্টারনেটের প্রসারে গুগলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। যাই হোক, আমি ছোটখাট ওয়েবসাইট বানাতাম। একসময় সব ছেড়ে বাংলা ব্লগে ঢুকলাম। ভালই যাচ্ছিল। এখনও ভালই যাচ্ছে। তবে আমার চিন্তাধারার পরিধি একটু বড়ই ছিল। তাই ইংরেজীতে ব্লগি শুরু করলাম এখানে (http://aminulislam333.wordpress.com & http://aisaijb.blogspot.com)। ইংরেজী ব্লগিংটাকে আমি ইংরেজী চর্চার অন্যতম একটি স্থান হিসেবে ধরে নিয়েছিলাম।

যাই হোক, কথা বলছিলাম জনপ্রিয় গুগলের অন্যতম সার্ভিস গুগল এডসেন্স নিয়ে। আজকাল কমবেশী সবাই এ সম্বন্ধে জানেন। আমি যখনই জানতে পারলাম যে ব্লগসাইটেও এডসেন্স ব্যবহার করা যায়, বিন্দুমাত্র দেরি না করে সাইন আপ করলাম। চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে গুগল আমার রেজিষ্ট্রেশন গ্রহণ করে একটিভ করে দিল। আর আমিও মহানন্দে বিজ্ঞাপন শো করতে থাকলাম। খুব বেশিদিন হয়নি গুগল এডসেন্স ব্যবহার করছি। অথচ গুগল এডসেন্স সম্পর্কে জানতাম আরো তিন চার বছর আগেই। (এতদিনে মাথার কিছুটা উন্নতি হয়েছে তো, তাই মাতব্বরিও বেড়েছে।)

নিয়মমাফিক একাউন্ট দশ ডলার পেরুলে ট্যাক্স ইনফরমেশন চাইল মহোদয় গুগল। দিলাম। ইমেইলের মাধ্যমে গুগল জানাল,
“আপনার পোস্টাল ঠিকানায় (বাসায়) একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে যা আপনার পিন কোড বহন করছে। আমরা আশা করছি আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যেই এটা আপনার কাছে পৌঁছে যাবে। অনুগ্রহ করে পৌঁছা মাত্রই আপনার পিন প্রয়োগ করে পেমেন্ট রিলিজ করবেন। ধন্যবাদ।”

ত্রিভূজ ভাইয়ার একটি পোস্টে পড়েছিলাম যে, এই কার্ডটা সহজে হাতে আসেনা। আমাদের পোস্ট অফিসের গুণধর ও কাজের প্রতি অতিশয় যত্নশীলতার (!) কারণে তা পোস্ট অফিসেই পড়ে থাকে। সেক্ষেত্রে অনেক ঝক্কি-ঝামেলা পোহাবার পর পেমেন্ট রিলিজ করা হয়ে থাকে। তবুও আশায় বুক বেঁধে রইলাম। তিন সপ্তাহ শেষ হবে ২০ তারিখে।

আশ্চর্যজনকভাবে, ১৮ তারিখে পিওন চিঠি নিয়ে হাজির! আমার মা তো অবাক। এমনিতে ইন্টারনেট সম্পন্ধে ততটা জ্ঞান রাখেননা, তবে গুগল যে বিশাল একটি কোম্পানী, তা আমাদের দুই ভাইয়ের কাছ থেকে বহুবারই শুনেছেন। সেই গুগল থেকে প্রেরিত চিঠি যা আমেরিকা থেকে এসেছে, গ্রহণ করতে মায়ের কেমন লাগবে সেটা বর্ণনা করতে যাওয়াটা বোকামী। (বর্ণনা করা যায় না।)

যাই হোক, আমিও খুবই উত্তেজিত (এক্সাইটেড) ছিলাম। গুগলের অফিস থেকে স্ট্যান্ডার্ড মেইল। যদিও খুব সাধারণ ব্যাপার। তবে পনেরো বছর বয়সে আনন্দ করার জন্য এটি একটি যথেষ্ট খোরাক।

——–
তবে একটি প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে। গুগল চেক পাঠালে, সেই চেক কিভাবে ভাঙ্গাবো? কেউ জানলে অনুগ্রহ করে বিস্তারিত জানাবেন।

[মূল প্রকাশ]

কোয়াবের প্রতিঃ সাইবার ক্যাফের কম্পিউটারগুলোকে ইউনিকোড সাপোর্টেড করুন

সময়ের সাথে সাথে পাল্টে যায় সবকিছু। বিশেষ করে একটি রাষ্ট্রের জন্য সময় অনেক কিছুই পাল্টে দেয়। তেমনিভাবে বাংলাদেশও কালের পরিক্রমায় আজ অনেক বদলেছে। বাংলাদেশেও প্রবেশ করতে শুরু করেছে তথ্য-প্রযুক্তির উন্নত সব প্রযুক্তি। বাংলাদেশেও এখন আছে লক্ষ লক্ষ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। আছেন ব্লগার, ওয়েব ডেভেলপার ও প্রোগ্রাম। বিশ্ববিখ্যাত ভিডিও শেয়ারিং ওয়েবসাইট ইউটিউবের প্রতিষ্ঠাতা তিন তরুণের মধ্যেই তো একজন আছে বাংলাদেশী। যা বাংলাদেশের জন্য সত্যিই গর্বের বিষয়।

বাংলাদেশ থেকে গত কয়েক বছরে প্রকাশিত হয়েছে হাজার হাজার ওয়েবসাইট। এর একেকটি একেক উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি। একেকটি একেক ডিজাইনের। এর মধ্যে গত পাঁচ ছয় বছরের মধ্যেই ইউনিকোডের মাধ্যমে মাতৃভাষা ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলায় ওয়েবসাইট তৈরির কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম যখন একটি বাংলা ওয়েবসাইট প্রকাশিত হয়, তখন তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয় বাঙ্গালীদের মাঝে। প্রিয়তম ভাষা বাংলাকে কম্পিউটারের পর্দায় না শুধু, বরং তথ্যসমুদ্র ইন্টারনেটেও দেখতে পেয়ে বাঙ্গালীর সে কি আনন্দ। আসলে আনন্দ পাবার মতই বিষয়। তথ্য-প্রযুক্তির এই উন্নত যুগে বাংলা ভাষায় ওয়েবসাইট না থাকাটাই বরং আশ্চর্যজনক হতো। বিশ্বের ইতিহাসা বাংলা একটি গৌরবগাঁথা ভাষা। বাংলার আছে রক্তভেজা ইতিহাস, আছে কোটি কোটি মানুষের প্রাণ। এই ভাষার সমৃদ্ধিতে আমরা কাজ করবো না তো কারা করবে।

বাংলা ইউনিকোডে তৈরি করা সম্ভব এবং সহজ এটি বুঝার পরই বাংলাদেশে একের পর এক তৈরি হতে থাকে ইউনিকোডভিত্তিক সম্পূর্ণ বাংলা ভাষার ওয়েবসাইট। এরই ধারাবাহিকতায় প্রকাশিত হয় সামহোয়্যার ইন ব্লগ, বিজ্ঞানী ডট কম, টেকটিউনসের মত প্রযুক্তিবিষয়ক ও সামাজিক বিষয়ক ওয়েবসাইট। প্রত্যেকটি সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্করণ প্রকাশিত হয়। বের হয় বিবর্তনের মত সাহিত্য পত্রিকাও। আজও এসব সাইট চলমান। শুধু চলমান বললে ভুল হবে, বরং জনপ্রিয়। ইন্টারনেটে মাতৃভাষায় পড়তে ও লিখতে কে না পছন্দ করে।

মূল বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন সাইবার ক্যাফে থেকে। বাংলাদেশে তথ্য-প্রযুক্তি বা বিশেষ করে ইন্টারনেটের প্রসারে সাইবার ক্যাফে একটি অতি-গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সাইবার ক্যাফে না থাকলে বহু মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুযোগই পেতেন না। কারণ একটি কম্পিউটার ক্রয় করা ও মাসে মাসে ইন্টারনেট খরচ দেয়ার সাধ্য ক’জনেরই বা আছে। তাই সাইবার ক্যাফে বাংলাদেশে ইন্টারনেট প্রযুক্তি উন্নয়নের একটি অন্যতম সহায়ক। তবে বর্তমানে সামহোয়্যার ইন, বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার অনলাইন সংস্করণসহ ইত্যাদি অসংখ্য ওয়েবসাইট ইউনিকোডে তৈরি হয়েছে এবং ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে বাংলা ফন্ট না থাকলে এই সমস্ত সাইট দেখা যাচ্ছে না। যদিও কিছু কিছু ওয়েবসাইট ইওটি ফন্ট ডাউনলোড করার মাধ্যমে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারে দেখার সুবিধা দিচ্ছে, তবুও উন্মুক্ত জ্ঞানকোষ বাংলা উইকিপিডিয়ার মত অসংখ্য ওয়েবসাইটই দেখা যাচ্ছে না। এসমস্ত সাইট হারাচ্ছে প্রচুর সংখ্যক ভিজিটর শুধু এই কারণে যে, তারা যেই কম্পিউটার ব্যবহার করছেন, সেই কম্পিউটার ইউনিকোড সাপোর্ট করে না। বাংলার ব্যবস্থা না থাকায় আরো নানামুখী সমস্যা হচ্ছে। বাংলা প্রিন্টের সুবিধার্থে অনেকেই কম্পিউটারে বিজয় বাংলা সফটওয়্যার ইন্সটল করে রাখেন (তাও অনেক অল্পসংখ্যক। পুরো মিরপুর এক নম্বর ঘুরে মাত্র দু’টো ক্যাফেতে বাংলা প্রিন্টিংয়ের সুবিধা আছে) কিন্তু বিজয় ফন্ট দিয়ে তো আর ইউনিকোডের কাজ হয় না। তাই ব্যবহারকারীরা পারেন না প্রিয় মাতৃভাষায় তৈরিকৃত অসংখ্য ওয়েবসাইট ভিজিট করে পড়তে বা লিখতে।

সাইবার ক্যাফে মালিকদের একটি নিয়ন্ত্রণকারী কমিটি বা বোর্ড আছে যাকে আমরা Cyber Cafe Owners’ Association Bangladesh (CCOAB) নামে চিনি। আমি মনে করি ঐ বোর্ড যদি দেশের সব সাইবার ক্যাফে মালিকদেরকে নিজেদের সবক’টি কম্পিউটারে ইউনিকোড সেটিংস ইন্সটল করানোর পদক্ষেপ নেন, তাহলে দেশের কোন ক্যাফেতেই আর এ সমস্যা থাকবে না। তাই আমি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি কোয়াবের যথাযথ কমিটির, অনুগ্রহ করে এ ব্যাপারে অচিরেই কোন একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। আমরা আমাদের মাতৃভাষা বাংলাদেশকে অনেক ভালবাসি। আমাদের দেশের কম্পিউটারেই আমাদের ভাষা প্রদর্শন হবে না এর চাইতে লজ্জার ব্যাপার আর কী হতে পারে। আমাদের মধ্যে দেশপ্রেম আছে। কিন্তু আমাদেরকে সেই দেশপ্রেমের নজির দেখাতে হবে। নইলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুরন্ত আশা কবিতার মতই আমরা বাঙ্গালী চিরকালই পিছে পড়ে থাকব। বিশ্বের বুকে একটি সম্মানজনক স্থান আমরা নিজেরা বানিয়ে নিতে পারব না। যেই রাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে সেই রাষ্ট্রের প্রতি ভালবাসা নেই, সেই রাষ্ট্র কীভাবে উন্নত হবে? আমরা সবাই জানি বাংলা ভাষাকে পাবার জন্য সালাম, রফিক, শফিকের মত লক্ষ লক্ষ তাজা প্রাণের ত্যাগের কথা, আমরা জানি আমাদের পিছনের ইতিহাস। আমাদেরকে সেভাবেই চলতে হবে। যেন বিশ্বের যেকোন হাইওয়েতে যে কেউ আমাদের দেখলেই বাঙ্গালী বলে সম্মান করে।

ফেসবুকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ্লিকেশন

ফেসবুকে অ্যাপ্লিকেশনের ছড়াছড়ি। সবাই-ই কমবেশি অ্যাপ্লিকেশনের সাথে সংযুক্ত। কেউ কেউ অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করেন, কেউ বা আবার এর সুবিধা ভোগ করেন। তবে এই হাজার হাজার অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে কয়টি অ্যাপ্লিকেশনই বা আছে সত্যিকারর্থে গুরুত্বপূর্ণ বা প্রয়োজনীয়?

উত্তরটা দেয়া কঠিন। কারণ কারো পক্ষে এই হাজার হাজার অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে তারপর বোঝা সম্ভব না যে কোনটা আসলে ভাল আর কোনটা অকাজের। প্রথম কথা হচ্ছে ধৈর্য্যই হবে না এতগুলো অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করার। তবে যত যাই হোক, সব ভাল’র মধ্যেই যেমন খারাপ মিশ্রিত থাকে, তেমনি আজেবাজে অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যেও কিছু কিছু অ্যাপ্লিকেশন থাকে সত্যিই খুব কাজের। আজ আমি আপনাদের তেমনই একটি অ্যাপ্লিকেশনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেব।

ওয়ার্ল্ড টুডে
ওয়ার্ল্ড টুডে নামের এই অ্যাপ্লিকেশনটি সংবাদভিত্তিক। ওয়ার্ল্ড টুডে অ্যাপ্লিকেশনের ডেভেলপার বা এর সাথে সংশ্লিষ্ট কেউ সংবাদ পরিবেশন করছে না। বরং বিশ্বখ্যাত সংবাদ সংস্থা তথা বিবিসি, রয়টার্স, সিএনএন ইত্যাদি’র সংবাদ শিরোনাম রাখা হয়েছে এই অ্যাপ্লিকেশনে।


স্ক্রীনশট

এছাড়াও বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডট কমের ফিডও আছে এই অ্যাপ্লিকেশনটিতে। শুধু সংবাদ শিরোনামই নয়, আপনার জন্য তথ্য-প্রযুক্তি, বিজনেস, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান, খেলাধুলা, প্রকৃতি ইত্যাদি ক্যাটাগরীর ব্যবস্থা রয়েছে অ্যাপ্লিকেশনে। যার মাধ্যমে আপনি যেই সংস্থার যেই বিভাগের সংবাদ পড়তে চান, সেই সংস্থার সেই বিভাগের সংবাদই আপনি পড়তে পারবেন। এই অ্যাপ্লিকেশনটির মাধ্যমে আপনাকে সিএনএন, রয়টার্স, বিবিসি, বিডিনিউজ টুয়েন্টি ফোর প্রভৃতি সাইটে সংবাদ শিরোনামের জন্য ঢুঁ মারতে হবে না, বরং একস্থান থেকেই আপনি সব এজেন্সির সর্বশেষ সংবাদের শিরোনাম পেয়ে যাচ্ছেন।


দ্রুততর সংবাদ শিরোনাম খোঁজ করার জন্য রয়েছে ক্যাটাগরীর সুবিধা।

এই অ্যাপ্লিকেশনটি যে কেউ ব্যবহার করতে পারবেন। অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন। অ্যাপ্লিকেশনটি তৈরি করেছেন গোলাম কিবরিয়া স্বপন (বিবর্তনের সম্পাদক)।

অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহারের পর আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না যেন।

স্টিকিঃ এই ব্লগের সূচনা

বাংলা ব্লগিং ইন্টারনেটে বেশ ঝামেলা হলেও মাতৃভাষা বলে বাংলায় ব্লগিং করার প্রবল ঝোঁকটা দমন করা যায় না। বাংলার সবচাইতে বড় সমস্যা হলো এই যে, ভিজিটরের কম্পিউটারে বাংলা ফন্টটি না থাকলে সেই সাইট দেখা দুষ্কর। তবে ইদানীং সেই সমস্যা কমে আসছে।

এবারে আসুন জানা যাক এই ব্লগটি কেন তৈরি হল। মূলত বাংলা ব্লগিং করে থাকি আমি সামহোয়্যার ইন ব্লগে। কিন্তু প্রায়ই অনেক ব্লগারের কাছ থেকে অভিযোগ শুনি যে সা.ইন থেকে পোস্ট উধাও হয়ে যায়। আমি ভয়ে ভয়ে আছি কবে আমার পোস্টও নাই হয়ে যায়। দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সা.ইন ব্লগ ব্যাকআপ হিসেবে এই ব্লগ তৈরি করা হল। এছাড়াও সা.ইনে আরেকটি সমস্যা হলো এই যে, আনরেজিস্টার্ড পাঠকরা সেখানে মন্তব্য করতে পারেন না। কিন্তু আমি চাই আমার পোস্টে সকল পাঠক মন্তব্য করুক। সবাই যাতে মন্তব্য করতে পারে সেটাই এই ব্লগ তৈরির অন্যতম উদ্দেশ্য। এখন থেকে সা.ইনে প্রকাশিত আমার সব ব্লগের শেষে এই ওয়ার্ডপ্রেসে প্রকাশিত একই লেখার ব্যাকআপ লিংকও দিয়ে দেয়া হবে, যাতে আনরেজিস্টার্ডরাও মন্তব্য করতে পারেন।

মূলত এটাই হচ্ছে এই ব্লগ তৈরির পেছনে মূল উদ্দেশ্য। বাংলা ব্লগের পাশাপাশি আপনারা আমার ইংরেজি ব্লগও ঘেঁটে আসতে পারেন যেখানে আমি তুলনামূলক বেশি অ্যাকটিভ। আর বিস্তারিত জানতে আমার সম্পর্কে পৃষ্ঠা দেখতে পারেন।