শূন্য অনুভূতি

গতকালের মতো আজও কেমন যেন একটা শূন্য অনুভূতি রয়ে গেছে। সত্যি কথা বলতে কি, আজকের শূন্য অনুভূতিটা গতকালের চেয়ে গাঢ়। বাউলরা গান গেয়ে চলেছে। তাদের বাদ্যযন্ত্রের সুর না চাইলেও শুনতে হচ্ছে। তাদের সুর যেমনই হোক না কেন, বরাবরের মতোই কেমন যেন শূন্য একটা অনুভূতি এনে দিচ্ছে। বাইরে আজও কুয়াশা পড়েছে। কিন্তু অজানা কোনো স্মৃতির উদ্দেশ্যে আমি আজ স্মৃতির পাতা হাতড়াচ্ছি না। কিছু একটা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে চাচ্ছি। একটু ভালো থাকতে চাচ্ছি।

হঠাৎ করেই ভালো থাকাটা বেশ কঠিন মনে হচ্ছে কেন যেন। আর শূন্য অনুভূতিটা এতোটাই গাঢ় রূপ নিয়েছে যে, বিশ্বাস করতে বাধ্য হচ্ছি, শূন্যই শেষ নয়। শূন্যেরই প্রকারভেদ আছে। হালকা শূন্য, মোটামুটি শূন্য কিংবা ঘন শূন্য। আর অংকের হিসেবে বলতে গেলে বলতে হবে এই মূহুর্তে আবার অনুভূতিটা শূন্য3। গাণিতিকভাবে এটা শুদ্ধ হোক বা না হোক, মানসিকভাবে এটাই এখন সত্যি।

স্মৃতির পাতা হাতড়ে – সূচনা

স্মৃতি। মানুষের জীবনের এক আশ্চর্য বাস্তবতা। প্রত্যেক মানুষেরই স্মৃতির পাতায় জমে থাকে অনেক না বলা কথা। অনেক ভালো লাগা, অনেক কষ্ট-বেদনা, দুঃখ-যন্ত্রণা সবসময়ই স্থান করে নেয় প্রতিটি মানুষের স্মৃতির পাতা। সবারই রয়েছে জীবনভর নানারকম স্মৃতি। জীবনের যে কোনো বয়সে এসে স্মৃতির পাতা হাতড়ে বের করা যায় এমন অনেক মুহুর্ত যা এক মূহুর্তের জন্য মুখে এক চিলতে হাসির কারণ হয়ে যায়। আবার এমন অনেক মূহুর্ত স্মৃতির পাতায় বন্দী হয়ে রয় যেগুলো নিমিষেই হাসিখুশি মনটাকে করে দিতে পারে বর্ষার মেঘের মতোই মলিন।

প্রত্যেকের স্মৃতিগুলোই যেন বৈচিত্র্যময়। একজনের জীবন কীভাবে কেটেছে তা হয়তো আরেকজন দেখতে পারে, তার জীবনী লিখতে পারে, কিন্তু কারো স্মৃতির পাতা কেউ লিখতে পারে না। স্মৃতির পাতা যেন প্রতিটি মানুষের পরম আপন। মানুষ নিজে চাইলেও যেন তার স্মৃতির পাতাকে হুবহু ভাষায় প্রকাশ করতে পারে না। প্রকৃতি তাকে সেই শক্তি দেয়নি। সে কেবল তার স্মৃতির পাতা সম্পর্কে অন্যকে কিছুটা ধারণা দিতে পারে মাত্র। স্মৃতি, সে যে শুধু তারই একান্ত ব্যক্তিগত সম্পত্তি।
Continue reading

[দৈনিক প্যাঁচাল – ৩] ইভটিজিং-এর দায় থেকে বেঁচে যাওয়ার রোমাঞ্চকর ঘটনা!

শুরু হওয়ার প্রায় এক বছর দৈর্ঘ্যের সমান এক মাস দশদিন পর অবশেষে এসএসসি পরীক্ষাটা শেষ হলো। এবার বাকি আছে প্র্যাকটিক্যাল। কমার্সের ছাত্র হওয়ায় ব্যবহারিকের ঝামেলাও কম। মাত্র একটা বিষয়ে ব্যবহারিক। আমার চতুর্থ বিষয় কম্পিউটার। সুতরাং, বুঝতেই পারছেন এটার ব্যবহারিক আমার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ আর কঠিন। :-B :-B

যাই হোক, প্র্যাকটিক্যালের খাতা রেডি করা হলো। বাকি রইলো মৌখিক। মৌখিক ছাড়াও নাকি ব্যবহারিকে আবার কী প্রশ্নের উত্তর লিখতে হয়। আজকে কথাটা শুনে আমি টাশকিত। আমি জানতাম না যে ব্যবহারিক পরীক্ষায় আবার লিখিত অংশ থাকে। অনেককে জিজ্ঞেস করলাম, কেউ সঠিক করে বলতে পারলো না। অবশেষে স্যার কর্তৃক ঘোষণা আসলো রোববার সকাল দশটার দিকে কম্পিউটারের ছাত্ররা স্কুলে গিয়ে প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার জন্য সাজেশন নিয়ে আসবে।

কথামতো আজ সকালে গেলাম, কিন্তু বাসা থেকে বের হতে হতেই তখন এগারোটা বাজে। ;) স্কুলে গেলাম। তখন মেয়েদের শিফটের ক্লাস চলছিল। অফিস রুমে কাউকে পেলাম না। শিক্ষক মিলনায়তনে কয়েকটা বোতল আর খালি চেয়ার ছাড়া আর কিছু নেই (ওহ লম্বা টেবিলটার কথা তো বলাই হয়নি! :#) )। এদিক-ওদিক খুঁজে কোথাও পেলাম না। সেই স্যারের আবার ফোন নাম্বারও নেই। অনেক খুঁজে আমার মতোই প্র্যাকটিক্যালের প্রশ্ন নিতে আসা আরেক ছাত্র পেলাম। সেও স্যারকে খুঁজছে। স্যারকে ডানের বিল্ডিংয়ে গেলে পাওয়া যাবে নাকি বামের বিল্ডিংয়ে, এই নিয়ে যখন আমরা দু’জন কপাল কুঁচকে বিচলিত সময় কাটাচ্ছি, তখন সাদা পোশাকে ডিবি এসে ঝাড়ি নিল। X( সাদা পোশাক হলে কী হবে, হাতে ওয়্যারলেস নিয়ে ঘুরলে যে কেউ বুঝবে ব্যাটা হয় বাসের সুপারভাইজর নয় পুলিশের লোক। :P তো আমরা অনেক কষ্টে তাকে বুঝাতে সমর্থ হলাম যে আমাদের উদ্দেশ্য ইভটিজিং নয়। তারপর তিনি কোনো যুক্তি ছাড়াই আমাদেরকে চলে যেতে বললেন। X( মেজাজ খারাপ করে আমরা স্কুল থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে আসলাম।

কিছুক্ষণ পর যখন আমরা প্রায় ৮-১০জন জড়ো হয়েছি, তখন আমরা আবার স্কুলে গেলাম। তখন ঐ বদ ডিবিটাকে দেখলাম না কোথাও। X( স্যারেরও খবর নেই। হঠাৎই লক্ষ্য করলাম স্যার একটা রুমে বসে আছে। আমরা গিয়ে ধরলাম। স্যার বলে ছুটির পর আসতে। তখন বাজে সাড়ে এগারোটা। ছুটি বারোটায়। এতক্ষণ কোথায় দাঁড়িয়ে থাকবো? X((X((
Continue reading

[দৈনিক প্যাঁচাল – ১] প্রেম নাকি প্রেমপূর্ব প্রতারণা?

এসএসসি পরীক্ষা। ২৪শে ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার। ইসলাম শিক্ষা পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষ করে মিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বারান্দায় দাঁড়ালাম। দেখলাম প্রায় সবারই পরীক্ষা দেয়া শেষ। শেষ হওয়ারই কথা, সময় শেষ হতে আর আছে মাত্র দুই মিনিট। তখন রাতুল বের হলো। রাতুল আমার দুই বেঞ্চ সামনের সিটে পরীক্ষা দেয়। গত বছর ক্লাস নাইনে আমার ভর্তির রোল ৯৩ আর ওর ছিল ৯১। সেই হিসেবে ও আমার আগে পড়েছে। পরে টেন-এ উঠে আমার রোল ৩৭-এ আসে। ওর রোল কত হয় তা ঠিক মনে নেই। তবে সিট আর একসঙ্গে থাকে না।

সিট না থাকলেও তেমন কোনো সমস্যা হয় না। কারণ, ওর সঙ্গে পরীক্ষার হল ছাড়া ক্লাসে বা বাইরে তেমন কোনো কথা হয়না বললেই চলে।

‘পরীক্ষা কেমন দিলা?’ জিজ্ঞেস করলাম।
‘আরে মিয়া নৈর্ব্যক্তিক কঠিন করসে।’ মেজাজ খারাপ করে উত্তর দিল রাতুল।

নৈর্ব্যক্তিক আমার কাছেও একটু কঠিন মনে হয়েছে। তবে ৪০টার মধ্যে ৩০টার বেশিই সহজ হলে বাকি ১০টার জন্য বোধহয় পুরো প্রশ্নকেই কঠিন বলা ঠিক যায় না। তাই আমি কিছু না বলে মাথা নেড়ে সায় জানালাম।

‘বাসায় যাবা? নাকি অপেক্ষা করবা?’ জিজ্ঞেস করলাম।
‘না অপেক্ষা করবো না। তবে আমার মামা (মামা না যেন অন্য এক আত্মীয়ের কথা বলেছিল ঠিক মনে নেই) আসতে পারে। চলো গেটের সামনে গিয়ে দাঁড়াই।’

অপেক্ষমান গার্ডিয়ানদের ভিড় ঢেলে বের হলাম। অবাক লাগলো। কিছু কিছু অভিভাবক আছেন যারা ৯.৩০-এ পরীক্ষার্থীকে ঢুকিয়ে দিয়ে গেটের সঙ্গে লেগে দাঁড়িয়ে থাকেন টানা তিন তিনটা ঘণ্টা। অনেকেই আশেপাশের মার্কেটে বসে সময় কাটান, গল্প করেন। কিন্তু একটা শ্রেণীর অভিভাবক আছেন যারা পুরোটা সময়ই গেটের সঙ্গে লেগে দাঁড়িয়ে থাকেন। পুলিশরা যাদের নিয়ে সবসময়ই বিরক্ত।

‘মনে হয় যেন এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে পরীক্ষা দিতে এসেছে, তাই এইভাবে দাঁড়িয়ে আছে,’ রাতুল বলল।
আমি কিছু বললাম না। রাস্তা পার হয়ে ফেয়ার প্লাজার সামনে দাঁড়িয়ে রইলাম। রাস্তায় তখন প্রচণ্ড জ্যাম। সব রিকশা একটার সঙ্গে আরেকটা লেগে আছে। রাস্তা পার হওয়ার উপায় নেই। দুই-একটা গাড়ি আসলে ঐগুলোর সামনে দিয়ে রাস্তা কোনোরকমে পার হওয়া যায়। রিকশায় যেই সুবিধাটা নেই।

কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর রাতুল বলল, ‘ধুর চলো যাইগা। আসবে না মনে হয়।’ তখনও আমি জানিনা যে ও আসলে একটা মেয়ের জন্য অপেক্ষা করছিল। /:) /:)

এগিয়ে এসে বাগদাদ মার্কেটের কোণায় দেখলাম আরেকজন পরীক্ষার্থী ফাইল হাতে দাঁড়িয়ে আছে। রাতুলকে ডাক দিলো। রাতুল আর আমি দু’জনই কাছে গেলাম। তখন খেয়াল করলাম ঐ ছেলেটার হাতে সিগারেট ধরানো। রাতুল কীভাবে যেন সেটা আগেই টের পেয়ে গেল।

‘দে ব্যাটা টান দিয়া লই,’ বলে রাতুল সিগারেটটা নিল। তার তীক্ষ্ম চোখ তখন রাস্তায়। কেউ দেখছে কি না দেখলো বোধহয়। তারপর মুখের সামনে রোদ ঢাকার মতো করে প্রবেশ পত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ডের ফাইলটা ধরে সিগারেটে টান দিল। ওর এই ভঙ্গিটা দেখে খুব হাসি আসলো তখন। হাসলামও। আমাকে হাসতে দেখে রাতুলও হাসলো। হেসে বলল, ‘সেই’ মেয়েটা নাকি তাকে বলেছে সে যদি সিগারেট ছাড়তে পারে তাহলে তাকে সে পছন্দ করবে। /:)

আমি কিছু বললাম না। কিছুক্ষণ পর কতগুলো মেয়ের মধ্য থেকে কেউ একজন ওকে ইশারায় ডাকলো। বিদায় নিয়ে চলে গেল রাতুল। ওকে জিজ্ঞেস করলাম কোন মেয়েটা? ও বলল লম্বা চুল যেই মেয়েটার। কিন্তু ওখানে তখন অনেকগুলো মেয়ে ছিল তাই লম্বাচুলো মেয়েটাকে খুঁজে পেলাম না। পরে খোঁজা বাদ দিয়ে আমি হাঁটা ধরলাম। আর মনে মনে ভাবলাম, একে কী নামে অভিহিত করা যায়? প্রেম? নাকি প্রেমপূর্ব প্রতারণা? /:) /:)

এক হাতে ছুরি তোমার, অন্য হাত খালি!

হঠাৎই কুরবানীর ঈদের কথা মনে পড়ে গেল। কারণটা অবশ্য সহজ। সম্প্রতি উবুন্টু অপারেটিং সিস্টেমের নতুন সংস্করণ মুক্তি পেয়েছে। বছরে সাধারণত দু’বার সফটওয়্যারটির নতুন নতুন সংস্করণ মুক্তি পেয়ে থাকে। অনেকে বলেন, এই দু’বার উবুন্টুপ্রেমীদের মধ্যে ঈদের আনন্দের মতো আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। কেননা, তাদের প্রিয় উবুন্টুতে নতুন সব আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য যুক্ত হয়।

এখান থেকেই ঈদের কথা মনে পড়লো। সেইসঙ্গে মনে পড়লো কুরবানী ঈদের কথা।

কুরবানীর ঈদের একটি মজার স্মৃতি হলো, এবার যে গরু কুরবানী দেয়া হয়েছে সেটি গাবতলী গরুর হাট থেকে আমার বাসায় (মিরপুর ১) আমি নিয়ে এসেছি! (কানে কানে বলি, সঙ্গে গরুওয়ালাও ছিল!) কুরবানীর সিজনে রাস্তা দিয়ে গরুর সঙ্গে হাঁটার মজাই আসলে আলাদা! বছরের অন্য কোনো সময় গরুর সঙ্গ এতো বেশি ভালো লাগে না, যতোটা লাগে কুরবানীর সময়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত পরিবারের কর্তারাও গরুর সঙ্গে নিজেকে বেশ মানিয়ে নেন। কেউ কেউ গরুকে এমনভাবে সাজিয়ে ঘরে তোলেন, যেন সদ্য বিয়ে করে এনেছেন! হি: হি: হি:

তবে গরুর সঙ্গে এই হেঁটে আসার মধ্যে অন্যরকম একটা মজা আছে। প্রায় চল্লিশ মিনিটের রাস্তায় কমপক্ষে দু’শ মানুষকে গরুর দাম বলতে হলো। আমাদের গরুটার দাম খুব বেশি ছিল না। তবে সেই অনুপাতে বেশ স্বাস্থ্যবান ছিল। তাই সবাই দাম শুনে মন্তব্য করছিল যে গরু কিনে নাকি আমরা জিতেছি। ভালো, আমিও বেশ বিজেতার ভাব করে মহারাজ গরুর সঙ্গে হেঁটে বাড়ি ফিরলাম।

ঈদের দিন সকালে সবসময়ই গরুর নিরীহ ভাবভঙ্গি দেখে মায়া লাগে। অবলা জন্তুটাকে আল্লাহর নামে কুরবানী দেয়া হয় ঠিকই, কিন্তু ওর দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবলে এটা একটু কষ্টেরই। মুরুব্বীদের কাছে আগে শুনতাম গরু নাকি কুরবানী হওয়ার আগের রাতে স্বপ্নে দেখে এবং টের পেয়ে যায় যে সে কুরবানী হতে যাচ্ছে। অনেকেই নাকি ঈদের দিন সকালে গরুকে কাঁদতেও দেখেছেন। আমি গরুটাকে কাঁদতে না দেখলেও নিস্তব্ধ একটা ভাব লক্ষ্য করেছি, যেটা মন খারাপ করে দেয়।

যাই হোক, বেলা বাড়লো। একের পর এক গরু কুরবানী হতে থাকলো। সেদিন সবাই যেন গরু-ছাগলের শত্রু হয়ে গেল। আর এলাকার হিরো ছিলেন মাওলানা সাহেব ও মাদ্রাসার কিছু ছাত্র, যারা গরু-খাসি কুরবানী দিচ্ছিলো।

কুরবানীর দিন পাশের এক এলাকায় এক হুজুরকে দেখেছিলাম একটা গরু ও একটা খাসিকে একসঙ্গে শুইয়ে রেখেছেন। অর্থাৎ, একটার পরপরই আরেকটা জবাই করা হবে। ব্যাপারটা বেশ অদ্ভূত লেগেছিল। হুজুরের সেই মুহুর্তের অবস্থানকে স্পষ্টভাবে বলা যেতে পারে আমার পছন্দের একটি গানের কলিগুলো পাল্টে দিয়ে; এভাবেঃ

এক হাতে ছুরি তোমার; অন্য হাত খালি,
এক পাশে – গরু-উ-উ-উ একপাশে খাসী!
তোমার ছোট ছুরি বলো; কাটবে কি!!!!!

উদ্ভট সব স্বপ্ন দেখছি আজকাল; কেন যে প্রেমে পড়েছিলাম!

শুধু প্রেম বললে ভুল হবে, প্রেমে একেবারে অন্ধ হয়ে আছি আমি। যখন তখন ছুটে যেতে চাই তার কাছে। শেষ যেদিন তার মিষ্টি স্বর কানে ভেসে এসেছিল, আমি পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। প্রতিক্ষণে আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম তার মাঝে। আকাশে বাতাসে শুধু তারই ছন্দ, তারই রূপ, তারই মধুময় স্পর্শ। মোহে এতোটাই অন্ধ হয়ে গেছি যে প্রতিরাতে তার কথা ভাবি। আকাশে এক ছটাক মেঘ জমলেই মনে পড়ে তার কথা। দক্ষিণের হাওয়ার অল্প একটু গা ছুঁয়ে গেলেই মনে পড়ে তার ভুবন-ভোলানো রূপের কথা।

সে আর কেউ না, আমার সবচেয়ে পছন্দের জায়গা, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। 😀 😛 😀 😛

কক্সবাজার সৈকতে সূর্যাস্তের ছবিটা আমার তোলা। প্রথম প্রকাশঃ আমার ব্লগে

কেবল সৈকতই নয়, বরং পুরো কলাতলী এলাকাটাই আমার চোখে প্রতিটা মুহুর্তে ভাসে। এ পর্যন্ত দু’বার কক্সবাজার যাবার সৌভাগ্য হয়েছে। কিন্তু কোনোবারই মন ভরেনি। বারবার ইচ্ছে হয়েছে সেখানেই কাটিয়ে আসি সপ্তাহের পর সপ্তাহ। সমুদ্রের প্রতি প্রবল এক টান সৃষ্টি হয়েছে আমার মধ্যে। ঠিক করেছি, টাকা হলে প্রতি তিনমাসে একবার কক্সবাজার ঘুরবো। 😉

এবার আসি স্বপ্নের ব্যাপারে। ইদানীং গাঁজাখুরি সব স্বপ্ন দেখছি। 😦 বুঝলাম না জ্বীন-ভূতে আছড় করলো কি না।  তবে গতকাল রাতের স্বপ্নটা বেশ ইন্টারেস্টিং। স্বপ্ন থেকে ঘুম ভেঙ্গে নিজেই এক ঘণ্টা একা একা হেসেছি। ঘুমানোর সময় গতকাল আকাশে চাঁদ আর বাইরের দমকা হাওয়ার শব্দ শুনে সমুদ্রের কথা মনে পড়ে গেল। সমুদ্রের সঙ্গে কাটানো সময়গুলো নিয়ে ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পড়েছি। শুনেছি যা ভাবতে ভাবতে মানুষ ঘুমিয়ে পড়ে, প্রায় সময়ই তা নিয়েই স্বপ্ন দেখে। আমিও ঠিক তাই দেখেছি। উম, ঠিক তা না। একটু আজগুবি টাইপের। স্বপ্ন কী দেখেছি? বলছি।

গতরাতে স্বপ্ন দেখলাম আমি আর আমার কয়েকজন বন্ধু মিলে টাইটানিকে করে কক্সবাজার যাচ্ছি!!! 😆

ঢাকা থেকে কক্স’স বাজার জাহাজে কেমনে যায় সেটাই বুঝলাম না। তার উপর আবার ১৯১২ সালের মরা জাহাজ টাইটানিক কোত্থেকে আসলো, সেটা তো মাথায় ঢুকা দূরে থাক, মাথার ধারে কাছেও আসলো না। 😦

নাহ্‌, কক্স’স বাজারের প্রতি প্রেমটা একটু বেশিই হয়ে গেছে। প্রেমিকার সঙ্গে সময় না কাটিয়ে আর ভালো লাগছে না। দু’মাস পর প্রি-টেস্ট পরীক্ষা। তারপর টেস্ট, তারপর এসএসসি। কবে যে প্রেমিকার কাছে যাবো…। 😦

coxs bazar road

কলাতলী রোড, যার কথা প্রতিদিন মনে পড়ে।

coxs bazar

তবে নিত্য-নতুন বহুতল ভবনের জন্য অচিরেই নিজস্ব সৌন্দর্য্য হারাবে কলাতলী রোড।