যেসব বিজ্ঞাপনের সমালোচনা না করে পারা যায় না -১ : তাহলে মেয়েদের প্রতিভা মানেই সৌন্দর্য্য?

টিভিতে সম্প্রতি ক্রিমের একটা বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয়। একটা মেয়ে সাইকেল রেসে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখে। আর মাকে বলে রেসে চ্যাম্পিয়ন হলে একটা বাড়িও কিনবে। পুরস্কার মাত্র ৫০ হাজার টাকায় বাড়ি কেনা সম্ভব নয়, মেয়েটার ছোটভাই এ কথা মনে করিয়ে দিলে দেখা যায় মেয়েটা সাইকেল চালানো প্র্যাকটিস বাদ দিয়ে ক্রিমের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে। [সমস্যা ১] পরে দেখা যায় মেয়েটা রেসে চ্যাম্পিয়ন হয় এবং পুরস্কার পায় ৫০ হাজার টাকা; যা দিয়ে বাড়ি কেনা অসম্ভব। তার ছোটভাই তখন খোঁচা দিয়ে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বাড়ির গেইট কেনার পরামর্শ দেয়।

কিন্তু কাহিনী এখানেই শেষ নয়, বরং কাহিনী সবে শুরু। একজন ফটোগ্রাফার তার কিছু ছবি তুলে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর মেয়েটার কাছে একটা ফোন আসে, সে জানতে পারে তাকে একটা স্পোর্টস কোম্পানিতে মডেলিং-এর সুযোগ দেয়া হয়েছে। সে মডেলিং শুরু করে এবং এক সময় বাড়ি কেনার টাকাও তার হয়।

এবারে আসুন সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলি। আমার কাছে প্রথম সমস্যা মনে হয়েছে মেয়েটা ক্রিম নিয়ে মেতে উঠে কেন? তার মানে কি শুরু থেকেই তার কেবল মডেলিংয়ের শখ ছিল? তাহলে সাইকেল রেসে তার যে প্রতিভা আছে সেটা কি তুচ্ছ?

দ্বিতীয়ত, আলটিমেটলি দেখা গেল মেয়েটা সুন্দরী (বলা যায় ক্রিম দিয়ে ফর্সা হওয়ায়) বলে সে মডেলিংয়ে চান্স পায় এবং ধারণা করা যায় তার সাইকেলিংয়ের এখানেই ইতি।

এর মানে কি, মেয়েদের প্রতিভা মানেই সুন্দরী হওয়া আর টেলিভিশনে চান্স পাওয়া?

আমি সবসময়ই দেখে আসছি টিভি বিজ্ঞাপনগুলোর একটাই টোন, যে কোনো মেয়েরই স্বপ্ন টিভিতে চান্স পাওয়া। যেন টিভি ছাড়া অন্য কোথাও মেয়েদের কোনো দাম নেই। এই বিজ্ঞাপনচিত্রগুলো দর্শকদের চিন্তাভাবনাকেও যে ‌’মডেলিং-এর স্বপ্নে’র মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেয় না, সে নিশ্চয়তা কি কেউ দিতে পারবে?

টিভি বিজ্ঞাপন নিয়ে আমি সাধারণত মাথা ঘামাই না। কিন্তু এই পার্টিকুলার বিজ্ঞাপনটা বেশ চোখে পড়ে। কোথায় সাইকেল রেসিং আর কোথায় মডেলিং। কই আইয়ুব খান আর কই খিলি পান। বাংলাদেশটা গেল!