অনিশ্চিতের উদ্দেশ্যে

কুয়াশা

দু’ধারে ল্যাম্পপোস্ট, দু’জোড়া পা, কুয়াশার মাঝে হারিয়ে যাওয়া

এখন অনেক রাত। মধ্যরাত যদি রাত বারোটাকে বলা হয়, তাহলে মধ্যরাত পেরিয়েছে ১ ঘণ্টা ১৭ মিনিট আগে। অবশ্য দূরের মাজারের মাইকের আওয়াজ এখনও দিনের মতোই স্পষ্ট। বলা যায়, দিনের চেয়ে বেশি স্পষ্ট। বাউলরা মিলে গান ধরেছে। গতকাল উরস ছিল বলে সেই রেশ এখনও কাটেনি। আগে প্রায়ই গভীর রাত পর্যন্ত বাউলদের গান শোনা যেত। আজ অনেকদিন পর সেই অনুভূতিটা ফিরে এলো।

এসব বাউলদের গানে বেশিরভাগ কথাই আমি বুঝি না। কিন্তু তাদের যন্ত্র সঙ্গীতে কেমন যেন একটা উদাস করা ভাব আছে। যেই জিনিসটা আগে কোনোদিন করেছে কি না জানিনা, এখন আমার উপর বেশ ভালোই প্রতিক্রিয়া ফেলছে। কাজকর্ম সব বাদ দিয়ে বসে আছি হেলান দিয়ে। গান শুনছি না। গানে কোনো মনোযোগ নেই। কিন্তু তবুও কেমন যেন শূন্য একটা অনুভূতি হচ্ছে। Continue reading

ভাগ্য বদলাতে পারে হেডফোন B-) (পরীক্ষিত ;) )

মাস কয়েক আগে নতুন একটা সেট কিনেছি । সেটটার আসল বৈশিষ্ট্য সেট নিজে নয়, বরং এর সঙ্গে থাকা হেডফোনটি। সত্যিই দারুণ মিউজিক এক্সপেরিয়েন্স দেয় হেডফোনটা। তাই কেনার পর ভাবলাম, এখন আর কোথাও বিরক্ত হয়ে বসে থাকা লাগবে না। যখন কোথাও অপেক্ষা করতে হবে, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকবে হবে, হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে থাকবো। গান বলতে অবশ্য মেমোরি কার্ডের গান বোঝাচ্ছি। অনেক চেষ্টা করেও এফএম রেডিওগুলো শোনার ধৈর্য্য তৈরি করতে পারেনি। যদি কোনোদিন এমন এফএম স্টেশন বের হয় যেখানে আরজে বলে কিছু থাকবে না তাহলে সেই স্টেশন শুনবো।

গান শুনে আমি সময় কাটাতে পারি ভালো। যদিও আমার গানের কালেকশন খুবই অল্প, তবুও এর প্রত্যেকটা গানের সঙ্গেই কিছু না কিছু স্মৃতি জড়িয়ে আছে। কোনোটা নস্টালজিক হওয়ার মতো (সবচেয়ে বেশি নস্টালজিক মিউজিক হচ্ছে গডফাদার এর থিম। এ নিয়ে পরে আরেকটা পোস্ট করবো ভাবছি।), কোনোটা মজার কোনো মূহুর্ত মনে করিয়ে দেয়ার মতো ইত্যাদি। তাই নতুন হেডফোন পেয়ে বেশ খুশিই হয়েছিলাম।
Continue reading

[দৈনিক প্যাঁচাল – ১] প্রেম নাকি প্রেমপূর্ব প্রতারণা?

এসএসসি পরীক্ষা। ২৪শে ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার। ইসলাম শিক্ষা পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষ করে মিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বারান্দায় দাঁড়ালাম। দেখলাম প্রায় সবারই পরীক্ষা দেয়া শেষ। শেষ হওয়ারই কথা, সময় শেষ হতে আর আছে মাত্র দুই মিনিট। তখন রাতুল বের হলো। রাতুল আমার দুই বেঞ্চ সামনের সিটে পরীক্ষা দেয়। গত বছর ক্লাস নাইনে আমার ভর্তির রোল ৯৩ আর ওর ছিল ৯১। সেই হিসেবে ও আমার আগে পড়েছে। পরে টেন-এ উঠে আমার রোল ৩৭-এ আসে। ওর রোল কত হয় তা ঠিক মনে নেই। তবে সিট আর একসঙ্গে থাকে না।

সিট না থাকলেও তেমন কোনো সমস্যা হয় না। কারণ, ওর সঙ্গে পরীক্ষার হল ছাড়া ক্লাসে বা বাইরে তেমন কোনো কথা হয়না বললেই চলে।

‘পরীক্ষা কেমন দিলা?’ জিজ্ঞেস করলাম।
‘আরে মিয়া নৈর্ব্যক্তিক কঠিন করসে।’ মেজাজ খারাপ করে উত্তর দিল রাতুল।

নৈর্ব্যক্তিক আমার কাছেও একটু কঠিন মনে হয়েছে। তবে ৪০টার মধ্যে ৩০টার বেশিই সহজ হলে বাকি ১০টার জন্য বোধহয় পুরো প্রশ্নকেই কঠিন বলা ঠিক যায় না। তাই আমি কিছু না বলে মাথা নেড়ে সায় জানালাম।

‘বাসায় যাবা? নাকি অপেক্ষা করবা?’ জিজ্ঞেস করলাম।
‘না অপেক্ষা করবো না। তবে আমার মামা (মামা না যেন অন্য এক আত্মীয়ের কথা বলেছিল ঠিক মনে নেই) আসতে পারে। চলো গেটের সামনে গিয়ে দাঁড়াই।’

অপেক্ষমান গার্ডিয়ানদের ভিড় ঢেলে বের হলাম। অবাক লাগলো। কিছু কিছু অভিভাবক আছেন যারা ৯.৩০-এ পরীক্ষার্থীকে ঢুকিয়ে দিয়ে গেটের সঙ্গে লেগে দাঁড়িয়ে থাকেন টানা তিন তিনটা ঘণ্টা। অনেকেই আশেপাশের মার্কেটে বসে সময় কাটান, গল্প করেন। কিন্তু একটা শ্রেণীর অভিভাবক আছেন যারা পুরোটা সময়ই গেটের সঙ্গে লেগে দাঁড়িয়ে থাকেন। পুলিশরা যাদের নিয়ে সবসময়ই বিরক্ত।

‘মনে হয় যেন এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে পরীক্ষা দিতে এসেছে, তাই এইভাবে দাঁড়িয়ে আছে,’ রাতুল বলল।
আমি কিছু বললাম না। রাস্তা পার হয়ে ফেয়ার প্লাজার সামনে দাঁড়িয়ে রইলাম। রাস্তায় তখন প্রচণ্ড জ্যাম। সব রিকশা একটার সঙ্গে আরেকটা লেগে আছে। রাস্তা পার হওয়ার উপায় নেই। দুই-একটা গাড়ি আসলে ঐগুলোর সামনে দিয়ে রাস্তা কোনোরকমে পার হওয়া যায়। রিকশায় যেই সুবিধাটা নেই।

কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর রাতুল বলল, ‘ধুর চলো যাইগা। আসবে না মনে হয়।’ তখনও আমি জানিনা যে ও আসলে একটা মেয়ের জন্য অপেক্ষা করছিল। /:) /:)

এগিয়ে এসে বাগদাদ মার্কেটের কোণায় দেখলাম আরেকজন পরীক্ষার্থী ফাইল হাতে দাঁড়িয়ে আছে। রাতুলকে ডাক দিলো। রাতুল আর আমি দু’জনই কাছে গেলাম। তখন খেয়াল করলাম ঐ ছেলেটার হাতে সিগারেট ধরানো। রাতুল কীভাবে যেন সেটা আগেই টের পেয়ে গেল।

‘দে ব্যাটা টান দিয়া লই,’ বলে রাতুল সিগারেটটা নিল। তার তীক্ষ্ম চোখ তখন রাস্তায়। কেউ দেখছে কি না দেখলো বোধহয়। তারপর মুখের সামনে রোদ ঢাকার মতো করে প্রবেশ পত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ডের ফাইলটা ধরে সিগারেটে টান দিল। ওর এই ভঙ্গিটা দেখে খুব হাসি আসলো তখন। হাসলামও। আমাকে হাসতে দেখে রাতুলও হাসলো। হেসে বলল, ‘সেই’ মেয়েটা নাকি তাকে বলেছে সে যদি সিগারেট ছাড়তে পারে তাহলে তাকে সে পছন্দ করবে। /:)

আমি কিছু বললাম না। কিছুক্ষণ পর কতগুলো মেয়ের মধ্য থেকে কেউ একজন ওকে ইশারায় ডাকলো। বিদায় নিয়ে চলে গেল রাতুল। ওকে জিজ্ঞেস করলাম কোন মেয়েটা? ও বলল লম্বা চুল যেই মেয়েটার। কিন্তু ওখানে তখন অনেকগুলো মেয়ে ছিল তাই লম্বাচুলো মেয়েটাকে খুঁজে পেলাম না। পরে খোঁজা বাদ দিয়ে আমি হাঁটা ধরলাম। আর মনে মনে ভাবলাম, একে কী নামে অভিহিত করা যায়? প্রেম? নাকি প্রেমপূর্ব প্রতারণা? /:) /:)