স্পিড যখন ১ এমবিপিএস : ইন্টারনেটের স্বর্ণযুগে স্বাগতম!

প্রথম যখন বাংলালায়ন নিই, তখন মহা আনন্দে ছিলাম। ২৫৬ কেবিপিএস গতির লাইনে একটু উঠানামা করলেও গড়ে ৩০ কিলোবাইট/সেকেন্ড থাকতো। মাত্র কয়েকমাস আগের কথা। তখন ৩০ কিলোবাইট/সেকেন্ডই যেন স্বপ্নীল ইন্টারনেট স্পিড ছিল। 8-| 8-| মহাখুশিতে ব্রাউজ ও ডাউনলোড করতে থাকলাম। সব মিলিয়ে প্রথম মাসের ডাউনলোড ছিল প্রায় ১৫ গিগাবাইট। দ্বিতীয় মাসের মাথায় এমন ডাউনলোড দেখেই বাংলালায়ন স্পিড কমিয়ে দিল। কী আর করা! ডাউনলোড কম করতে থাকলাম।

যাই হোক, পরবর্তীতে ল্যাপটপ কেনার সময় কিউবি শাটল মডেম ফ্রি পেলাম। সেটায় স্পিড ছিল ৫১২ কেবিপিএস। যেহেতু আমার কাছে অলরেডি আনলিমিটেড ছিল, তাই ১ গিগাবাইটই ১ মাস শেষে থেকে যেত। তাই প্রিপেইডে সমস্যা হচ্ছিল না। কিউবি ইউজ করি কেবল বাইরে গেলে এবং কারেন্ট না থাকলে। ;)

কিছুদিন আগে কিউবি স্পিড ডাবল করে দিল। সেই সুবাদে ঘরে এখন ১ এমবিপিএস গতির ইন্টারনেট! বিশ্বাসই করা যায় না। এই তো সেদিন বিশ্বাসই হতো না যে কখনো বাংলাদেশে ১ এমবিপিএস গতির ইন্টারনেট পাবো; তাও ঘরে বসে। অফিস-আদালতের হিসাব ভিন্ন। অথচ আজ…

কিউবি ঠিকই বলে, Absolute power brings out the monster in us. আমরা সবাই এখন স্পিড হাঙরি হয়ে গেছি। ৩২ কিলোবাইট/সেকেন্ড ভালো লাগছে না। সবার ৬৪ চাই। আর কিউবির এই ঐতিহাসিক ঘটনায় হঠাৎই যেন বাংলালায়নের খরচ দ্বিগুণ হয়ে গেল। ;) এখন বাংলালায়ন চাপের মধ্যে আছে। আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিড দ্বিগুণ ঘোষণা না করলে ব্যবসা শেষ। :P

১ এমবিপিএস-এর মজাই আলাদা। যদিও তেমন কোনো ডাউনলোড করতে পারছি না প্রিপেইড বলে। তাতে কী? ব্রাউজ তো করতে পারছি খুশি মনে। আর এদিকে বাংলালায়নও ৫১২ কেবিপিএস হলো বলে। :-*

চারিদিকে দেখি স্পিডের ছড়াছড়ি।

তবে এর ধন্যবাদটা প্রাপ্য কিউবির। তারা চাইলেই স্পিড আগের মতো রাখতে পারতো। ফলে বাংলালায়ন ও কিউবি মিলে গ্রাহকদের রক্ত চুষতে পারতো। কিউবিকে ধন্যবাদ। রক্ত চোষকদের রক্ত চোষার সুযোগটা বন্ধ করে দেয়ার জন্য। :)

একটা সময় ছিল বাংলাদেশে মোবাইলের স্বর্ণযুগ। তখন প্রথম মিনিটের পর ফ্রি কথা বলা যেত যতক্ষণ খুশি ততক্ষণ। এখন একেবারে ফ্রি না হলেও তুলনামূলক তো বেড়েছে? অতএব, বাংলাদেশে ইন্টারনেটের স্বর্ণযুগে স্বাগতম। :D:D

পূর্বে ইংরেজিতে প্রকাশিতঃ এক্সপ্রেস ব্লগার্স

একটি নকিয়া সেট নিখোঁজ এবং..অতঃপর

nokia

প্রথম প্রকাশঃ Death of Nokia 5130 – The Mystery of Missing Mobile

নকিয়া সেটটাকে খুব মিস করি। নকিয়ার ৫১৩০ সেটটা প্রিয় ছিল। ইন্টারনেট ব্যবহার করা ছাড়াও টুকিটাকি ফটোগ্রাফিও করতাম মোবাইলের ছোট ক্যামেরাটা দিয়ে। কিন্তু সেদিন ঘুম থেকে উঠে সেটটা যেন হাওয়ায় গায়েব হয়ে গেল।

ফ্রেন্ডের ফোনে ঘুম ভাঙলো। ভাইব্রেশন দেয়া ছিল। ফোন সাইলেন্ট করা। ঘুম থেকে উঠে মুখ ধুতে বাথরুমে গেলাম। ফিরে দেখি সেট নেই। নেই তো নেই-ই। পুরো রুমের কোথাও নেই। তারপরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য শোকেসের উপর, ভেতরে, সব জায়গায় দেখলাম। কম্বল নামিয়ে ঝাড়লাম। কোথাও নেই। অন্য রুমে যাইনি, তাই অন্য রুমে সেট যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। তবুও খুঁজলাম। সামনে আম্মুকে পেয়ে জানালাম সেট না পাওয়ার কথা। আম্মু ভাবলেশহীন কণ্ঠে বলল, যাবে কই? ঘরেই আছে। সকাল সকাল তো আর চোর আসে নাই।

আম্মুর হালকা ঝাড়ি মার্কা কথা শুনে মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। সেট খুঁজতে শুরু করলাম। টর্চ লাইট দিয়ে শোকেস, আলমারির নিচে খুঁজলাম। সকাল সকাল এ কি ঝামেলা।

ততক্ষণে আম্মুর মোবাইল দিয়ে অনেকবার ফোন দিয়েছি। ভাইব্রেশন শুনিনি কোথাও। কী যন্ত্রণা! আজ ভাইব্রেশন দিলাম, আর আজই এমনটা হলো।

Continue reading

গুগল অফিস থেকে চিঠি

খুব ছোট ছিলাম। প্রাইমারি শিক্ষার অনুপাতে ক্লাস ফাইভ কি সিক্সে। তখন থেকেই ইন্টারনেটের প্রতি অসাধারণ আগ্রহ আর উৎসাহটা টের পাই। বড় ভাইয়ার কাছে ইন্টারনেটে খুঁটিনাটি শিখেছিলাম।
প্রথম দিকে (এখনও) সাইবার ক্যাফে থেকেই কম্পিউটার ব্যবহার করতাম। তখন ব্রাউজার খুললেই গুগলের হোমপেজ ওপেন হত। তখন অবশ্য বুঝতাম না যে এটাও একটা ওয়েবসাইট। আর তখন আমি গুগলকে গুগলি বলে উচ্চারণ করতাম।

খুব শীঘ্রি বিষয়টা ধরতে পারলাম। টেবিলের ইংরেজী বানান আর গুগলের ইংরেজী বানানে সুন্দর একটা মিল আছে। টেবিলের উচ্চারণ যদি টেবলি না হয়ে টেবিল হয়, তাহলে গুগলের উচ্চারণও গুগলি না হয়ে গুগল-ই হবে। এইভাবে ভুলটার সংশোধন করলাম।

ছোটবেলা থেকেই ওয়েবসাইট তৈরীর প্রতি প্রচন্ড নেশা ছিল। এ পর্যন্ত কয়টা পঙ্গু ওয়েবসাইট বানিয়েছি তার কোন ঠিক ঠিকানা নেই। তবে শেষ পর্যন্ত গুগলপেজ আর ওয়ার্ডপ্রেস এবং ব্লগস্পটকে আঁকড়ে ধরেছি। তারা এখনো আমার সাথেই আছে। গুগলের খুব কম সার্ভিসই আছে যেগুলো আমি ব্যবহার করিনি। একসময় গুগল গ্রুপস নিয়ে প্রচুর সময় ও অর্থ ব্যয় করেছি। একসময় বুঝলাম ওটা আমার জন্য না। তারপর গ্রুপস ছেড়ে হাই ফাইভ ইত্যাদিতে আগ্রহ দেখালাম। কিছুদিন ভালই গেল। তবে আমার বুঝতে দেরি হলো না যে ওগুলো মানুষের মূল্যবান সময়টাকে পিটিয়ে হত্যা করা ছাড়া আর কিছুই না। উপলব্ধি করলাম ওটাও আমার কাজে আসবে না। সেই থেকে সোশ্যাল নেটওয়ার্ক নামের শব্দটাকে আমি অপছন্দ করি। অবশ্য ফেসবুক ব্যবহার করছি। তবে সেটার পিছনে খুব একটা সময় ব্যয় করিনা।

বড় ভাইয়া ওয়েবসাইট বানাতে এক্সপার্ট। ওনার সাটে দেখতাম গুগল বস্ বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন। দেখে খুবই ভাল লাগত। কারণ সময়ের সাথে সাথে আমিও বুঝতে পেরেছি যে, গুগলের লোগো যতই হাস্যকর হোকনা কেন, গুগলকে ছাড়া ইন্টারনেট একপ্রকার অচল হয়ে পড়বে। ঠিক তাই, ইন্টারনেটের প্রসারে গুগলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। যাই হোক, আমি ছোটখাট ওয়েবসাইট বানাতাম। একসময় সব ছেড়ে বাংলা ব্লগে ঢুকলাম। ভালই যাচ্ছিল। এখনও ভালই যাচ্ছে। তবে আমার চিন্তাধারার পরিধি একটু বড়ই ছিল। তাই ইংরেজীতে ব্লগি শুরু করলাম এখানে (http://aminulislam333.wordpress.com & http://aisaijb.blogspot.com)। ইংরেজী ব্লগিংটাকে আমি ইংরেজী চর্চার অন্যতম একটি স্থান হিসেবে ধরে নিয়েছিলাম।

যাই হোক, কথা বলছিলাম জনপ্রিয় গুগলের অন্যতম সার্ভিস গুগল এডসেন্স নিয়ে। আজকাল কমবেশী সবাই এ সম্বন্ধে জানেন। আমি যখনই জানতে পারলাম যে ব্লগসাইটেও এডসেন্স ব্যবহার করা যায়, বিন্দুমাত্র দেরি না করে সাইন আপ করলাম। চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে গুগল আমার রেজিষ্ট্রেশন গ্রহণ করে একটিভ করে দিল। আর আমিও মহানন্দে বিজ্ঞাপন শো করতে থাকলাম। খুব বেশিদিন হয়নি গুগল এডসেন্স ব্যবহার করছি। অথচ গুগল এডসেন্স সম্পর্কে জানতাম আরো তিন চার বছর আগেই। (এতদিনে মাথার কিছুটা উন্নতি হয়েছে তো, তাই মাতব্বরিও বেড়েছে।)

নিয়মমাফিক একাউন্ট দশ ডলার পেরুলে ট্যাক্স ইনফরমেশন চাইল মহোদয় গুগল। দিলাম। ইমেইলের মাধ্যমে গুগল জানাল,
“আপনার পোস্টাল ঠিকানায় (বাসায়) একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে যা আপনার পিন কোড বহন করছে। আমরা আশা করছি আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যেই এটা আপনার কাছে পৌঁছে যাবে। অনুগ্রহ করে পৌঁছা মাত্রই আপনার পিন প্রয়োগ করে পেমেন্ট রিলিজ করবেন। ধন্যবাদ।”

ত্রিভূজ ভাইয়ার একটি পোস্টে পড়েছিলাম যে, এই কার্ডটা সহজে হাতে আসেনা। আমাদের পোস্ট অফিসের গুণধর ও কাজের প্রতি অতিশয় যত্নশীলতার (!) কারণে তা পোস্ট অফিসেই পড়ে থাকে। সেক্ষেত্রে অনেক ঝক্কি-ঝামেলা পোহাবার পর পেমেন্ট রিলিজ করা হয়ে থাকে। তবুও আশায় বুক বেঁধে রইলাম। তিন সপ্তাহ শেষ হবে ২০ তারিখে।

আশ্চর্যজনকভাবে, ১৮ তারিখে পিওন চিঠি নিয়ে হাজির! আমার মা তো অবাক। এমনিতে ইন্টারনেট সম্পন্ধে ততটা জ্ঞান রাখেননা, তবে গুগল যে বিশাল একটি কোম্পানী, তা আমাদের দুই ভাইয়ের কাছ থেকে বহুবারই শুনেছেন। সেই গুগল থেকে প্রেরিত চিঠি যা আমেরিকা থেকে এসেছে, গ্রহণ করতে মায়ের কেমন লাগবে সেটা বর্ণনা করতে যাওয়াটা বোকামী। (বর্ণনা করা যায় না।)

যাই হোক, আমিও খুবই উত্তেজিত (এক্সাইটেড) ছিলাম। গুগলের অফিস থেকে স্ট্যান্ডার্ড মেইল। যদিও খুব সাধারণ ব্যাপার। তবে পনেরো বছর বয়সে আনন্দ করার জন্য এটি একটি যথেষ্ট খোরাক।

——–
তবে একটি প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে। গুগল চেক পাঠালে, সেই চেক কিভাবে ভাঙ্গাবো? কেউ জানলে অনুগ্রহ করে বিস্তারিত জানাবেন।

[মূল প্রকাশ]