জ্যোতির্বিদ কর্তৃক আম্মু জানিয়া আসিল, আমি নাকি প্রেমিক পুরুষ!

gemini মিথুন রাশি

সকালে আম্মু একটা কাজে এক জায়গায় গিয়েছিল। কোথায় গিয়েছিল সেটা না-ই বললাম। তো সেখানে নাকি হঠাৎই কোন এক নামকরা জ্যোতির্বিদও এসে উপস্থিত হয়েছে। ফাও পেয়ে আম্মুর সঙ্গের অন্যান্য মহিলারা নাকি তাকে জেঁকে ধরেছিল রাশিফল দেখে দিতে। আম্মুরও শখ জাগলো আমাদের তিন ভাই-বোনের রাশিফল জানার। তাই তিনিও লাইন দিয়ে বসে গেলেন।

জুনের পাঁচ হচ্ছে আমার বার্থডে। সেই হিসেবে আমার রাশি হচ্ছে মিথুন। জ্যোতির্বিদ সাহেব নাকি আম্মুকে আমার রাশি দেখে বললেন, আমি হচ্ছি প্রেমিক পুরুষ। আজকে রাতে আমি ঘরে ফেরার পর আম্মুর নিজ জবান সূত্রে আমি এই তথ্য জানলাম। 😐 Continue reading

আজ কলেজেঃ গার্লফ্রেন্ড ভার্সাস কম্পিউটার

beautiful girl

কলেজে টিফিনের পর দেখলাম বিশালদেহী আবির বড় বড় পদক্ষেপে এগিয়ে আসছে। বুঝলাম, বকবকানির জন্য নতুন কিছু খুঁজে পেয়েছে পোলাটা। প্রতিদিনই তার একটা না একটা ডায়ালগ জোগাড় করে আনে আর সারা ক্লাস অস্থির করে ফেলে। হাঁটতে হাঁটতে যখন আমার দিকে কয়েকবার তাকালো, আমি রীতিমতো প্রমাদ গুণতে শুরু করলাম। সবকিছু যেন স্লো মোশন হয়ে গেল। মনে হলো ছাত্রদের কোলাহল অনেক দূর থেকে আসছে। আশেপাশে সব ঘোলা হয়ে গেছে। কেবল আবিরের শরীরটা স্পষ্ট। ও আসছে। ধীর অথচ দীর্ঘ পদক্ষেপে এসেই চলেছে। এ আসা যদি না শেষ হয়…. তাহলে অবশ্য ভালোই হতো।

যাই হোক, অবশেষে আবির ক্লাসরুমে এসে ঢুকলো। “দোস্ত, নিশিগো (ছদ্মনাম) ক্লাসের এক পোলায় তো মারাত্মক ছবি তুলে।” Continue reading

অ্যান্ড্রয়েড কথন ১৩০০+ হিটের পেছনের কথা

অ্যান্ড্রয়েড কথন লোগোগতকাল ৩০শে আগস্ট আমার জন্য মনে রাখার মতো একটা দিন গেলো। ২৯ তারিখ রাত থেকে ল্যাপটপে টানা বসেছিলাম বার্লিনের আইএফএ প্রদর্শনীর আগে হতে যাওয়া প্রেস কনফারেন্সগুলো নিয়ে রিপোর্ট লিখতে। সনি আর স্যামসাং নতুন কিছু পণ্য আনবে বলেছিল আর তাই বিশ্বের হাজার হাজার মানুষের মতো আমিও ফলো করছিলাম বেশ কয়েকটি বিদেশি সাইট। তবে বাংলায় তাৎক্ষণিকভাবে আপডেট দেয়ার জন্য আমার মতো আর কেউ ছিলো কি না সে ব্যাপারে আমার অবশ্য সন্দেহ আছে।

যাই হোক, সারারাত আর মোটামুটি সারাদিন খাটা-খাটনির ফলও পেলাম গতকালই। দিন শেষে সাইটের হিট ছিল ১,৩৫৭। তবে এখানে আরও অনেক তথ্য লুকানো আছে। যারা অ্যান্ড্রয়েড কথন নিয়ে আগ্রহী, তারা পুরো পোস্টটা পড়তে পারেন।

Continue reading

আচ্ছা, রাতে লেখালেখির ইচ্ছেটা বেড়ে যায় কেন বলুনতো?

writing

অনেকদিন ধরেই একটা বিষয় খেয়াল করছি। রাত যখন গভীর থেকে গভীরতম’র দিকে যায়, নিরবতা যখন তার ‘পিন-পতন’ স্তরে পৌঁছায়, তখন কেন যেন ‘কিছু একটা’ লেখার ইচ্ছে অনেক বেড়ে যায়। কাজের তাগিদে দিনে অনেক লেখালেখির কাজ করতে হয়। ইদানীং সেটা পরীক্ষার কারণে কমে আসলেও বিভিন্ন বিষয়ের উপর লেখালেখিটা ধরে রেখেছি। কিন্তু রাতের লেখার ইচ্ছেটা সেগুলোর সঙ্গে ঠিক যেন খাপ খায় না। এই যেমন এখন কিছু একটা লিখতে খুব ইচ্ছে করছে। কিন্তু যেসব সাইটে কাজ করি, সেগুলোয় লেখার পাতা খুললে লেখার আগ্রহটা কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ এই যে এখানে লিখে চলেছি এখন, লেখার আগ্রহটা কিন্তু ঠিকই রয়ে গেছে।

এই বিষয়ে আমার একটা থিওরি আছে। সেটা হলো যে কোনো কাজই যখন “কাজ” হিসেবে করতে হয়, তখন তার প্রতি আগ্রহ কমে যায়। কেউ ছবি তুলতে ভালোবাসলে তাকে যদি ছবি তোলার “কাজ” দেয়া হয়, তখন তিনি অস্বীকার করতে পারবেন না যে তিনি সেই কাজে “আগ্রহ” হারিয়ে ফেলেন খুব সহজেই। যারা কাজের মধ্যেও আগ্রহ ধরে রাখতে পারেন, যেই কাজটা বেশ কঠিন, কেবল তারাই সফল হতে পারেন।

যাই হোক, সফলতার কথা পরে হবে। আসল কথা হলো, মাঝরাতে কী লিখতে ইচ্ছে করে? এটা কি কেবল আমার, নাকি আরো অনেকেরই? এক সময় যখন ইন্টারনেট নামক বস্তুটি ছিল না, মানুষ যখন ডায়েরিকে সবচেয়ে কাছের বস্তু বলে ভাবতো, যখন ডায়েরির সঙ্গে জীবনের একান্ত গোপন কথাগুলোও ভাগাভাগি করে নিতো, তখন তারা কী রাতেই লিখতো?

আমি অন্তত এ যাবৎ যাদের চিনি, তাদের মধ্যে যারা ডায়েরি লিখতো বা এখনো লিখে, তারা নাকি রাতেই ডায়েরিটা লিখে। তাদের এই ডায়েরি রাতে লেখার সঙ্গে কি আমার রাতে “কিছু একটা” লেখার কোনো সম্পর্ক আছে? তারা রাতে ডায়েরি লিখেন কি দিনের শেষের কথাগুলো লিখে রাখতে, রাতেই একমাত্র সময় পান বলে, নাকি তাদের মধ্যেও লেখার প্রবল ইচ্ছেটা রাতেই জাগ্রত হয়ে ওঠে বলে?

বলা মুশকিল। আমার যেই রাতে লেখার ইচ্ছেটা জেগে ওঠে, সেটা কি তাদের সেই ডায়েরি লেখার ইচ্ছের মতোই? এমন কেউ কি আছেন যাদের আমার মতোই রাতের নিস্তব্ধতায় লেখার ইচ্ছেটা জেগে ওঠে? আপনারা কি বলতে পারবেন ঠিক কী লেখার ইচ্ছে হয়? আর কেনই বা সেটা রাতে হয়?

ঠিক এক বছর আগে এইদিন শুরু হয়েছিল কলেজ লাইফ

আজ থেকে ঠিক এক বছর আগের এই দিনে কলেজে ভর্তির জন্য গিয়েছিলাম। তারচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, সেদিনের আবহাওয়া ঠিক আজকের মতোই ছিল। আজ সকাল থেকেই যেমন টুপটাপ বৃষ্টি পড়ছে, সেদিনই ঠিক একইভাবে সকালে টুপটাপ বৃষ্টি পড়ছিল। তবে সেদিন বের হওয়ার সময় ইচ্ছে করেই ছাতা নেইনি। কারণ, তখন আকাশের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল আর বৃষ্টি আসবে না। ঠিক আজ সকালে যেমন মনে হয়েছে।

গত বছরের এই দিন বের হয়ে বেশ বিপদে পড়েছিলাম। কোনো বাসই পাচ্ছিলাম না। ভাবছিলাম ভর্তির দিন, দেরি হলে আবার কি না কি সমস্যায় পড়তে হয়। সিএনজি নেব ভাবছি এমন সময় ভাগ্যক্রমে একটা বাস পেয়ে যাই। তৃতীয়বারের মতো যাই কলেজে। প্রথমবার গিয়েছিলাম ফরম আনতে। দ্বিতীয়বার রেজাল্ট জানতে। আর সেবার ভর্তি হতে। তবে কলেজে ভর্তি হতে যে এতো কাঠ-খড় পোড়ানো লাগবে সেটা কে জানতো।

বাস থেকে মহাখালী ফ্লাইওভারের কাছে নামলাম। তখন একেবারে কাকভেজা বা বিড়াল-কুকুর ভেজা বৃষ্টি যেটাই বলেন হচ্ছিল। ফ্লাইওভার থেকে কলেজে পৌঁছতে পৌঁছতে ভিজে চুপসে গেলাম। শার্ট-প্যান্ট দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছিল। কলেজে পৌঁছে শাহীন হলে ঢুকেই পড়লাম আরেক বিপদে। এতোগুলো এসির মধ্যে মনে হলো যেন শীতকালে ডিপ ফ্রিজে ঢুকে পড়েছি। অবশেষে কলেজে ঢুকতে পারলাম প্রথমবারের মতো। Continue reading

ভাগ্য বদলাতে পারে হেডফোন B-) (পরীক্ষিত ;) )

মাস কয়েক আগে নতুন একটা সেট কিনেছি । সেটটার আসল বৈশিষ্ট্য সেট নিজে নয়, বরং এর সঙ্গে থাকা হেডফোনটি। সত্যিই দারুণ মিউজিক এক্সপেরিয়েন্স দেয় হেডফোনটা। তাই কেনার পর ভাবলাম, এখন আর কোথাও বিরক্ত হয়ে বসে থাকা লাগবে না। যখন কোথাও অপেক্ষা করতে হবে, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকবে হবে, হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে থাকবো। গান বলতে অবশ্য মেমোরি কার্ডের গান বোঝাচ্ছি। অনেক চেষ্টা করেও এফএম রেডিওগুলো শোনার ধৈর্য্য তৈরি করতে পারেনি। যদি কোনোদিন এমন এফএম স্টেশন বের হয় যেখানে আরজে বলে কিছু থাকবে না তাহলে সেই স্টেশন শুনবো।

গান শুনে আমি সময় কাটাতে পারি ভালো। যদিও আমার গানের কালেকশন খুবই অল্প, তবুও এর প্রত্যেকটা গানের সঙ্গেই কিছু না কিছু স্মৃতি জড়িয়ে আছে। কোনোটা নস্টালজিক হওয়ার মতো (সবচেয়ে বেশি নস্টালজিক মিউজিক হচ্ছে গডফাদার এর থিম। এ নিয়ে পরে আরেকটা পোস্ট করবো ভাবছি।), কোনোটা মজার কোনো মূহুর্ত মনে করিয়ে দেয়ার মতো ইত্যাদি। তাই নতুন হেডফোন পেয়ে বেশ খুশিই হয়েছিলাম।
Continue reading

এক ঝড়ো সন্ধ্যায় দুই চাকার গল্প

(পোস্টটি গতকাল লেখা হয়েছিলো। কিন্তু রাত অনেক হয়ে যাওয়ায় বাংলায় আর লেখার সময় পাইনি। ভালোই হলো এখন শান্তিতে লেখা যাবে। ইংরেজি ব্লগের বিদেশি পাঠকরা তো মানুষ মহাখালি সিগনাল আর জাহাঙ্গীর গেইট চিনবে না, তাই ওগুলো ওখানে লেখা হয়নি। এখানে বিস্তারিত লেখা যাবে। 😀 )

বৃষ্টিতে সাইকেল
কয়েক সপ্তাহের টানা অস্বাভাবিক গরমে মনে হচ্ছিল ফ্রিজে ঢুকে বসে থাকি। তাও গরমটা একটু সহ্য করা যেত যদি মাথার উপরে ফ্যানটা সারাদিন ঘুরতো। গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যেভাবে বিদ্যুৎঅলারা রাগ দেখানো শুরু করেছিলো, এতে আমরা সবাই যেন রীতিমতো কোনঠাসা হয়ে পড়েছিলাম।

বুধবার কলেজ শেষে অফিসে যাওয়ার কথা ছিল। মহাখালির বিডিনিউজ অফিসের কথা বলছি। কলেজ থেকে যেতে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট লাগে। কিন্তু মাথার উপর এতো গরম নিয়ে এতোটুকু রাস্তা হাঁটার ধৈর্য্য হলো না। তাই লেগুনায় বসে বাসায় চলে এলাম। ভাবলাম, বিকেলের দিকে সূর্যের তাপ একটু কমলে আবার আসবো।

কিন্তু সূর্যের তাপ কমার তো কোনো লক্ষণই নেই। এদিকে অফিসে যাওয়াও দরকার ছিল। এদিকে অনেকদিন ধরে শখের সাইকেলটা পড়ে রয়েছে। নতুন সাইকেল চালানো শিখে যেটা টের পেয়েছি তা হলো নিয়মিত না চালালে অনেকদিন পর বের হলে সহজেই পা ব্যথা শুরু হয়। তাই বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঠিক করলাম যাই হোক অফিসে আজ যাবোই।

রাস্তায় বের হয়ে টের পেলাম কড়া রোদের মধ্যেও সুন্দর একটা বাতাস আছে যেটা বাসায় বসে টের পাওয়া যায় না। যদিও বাতাস খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। ঘেমেছি গোসলের মতো। 😐 তবুও সাইকেল চালানোয় খুব একটা কষ্ট হয়নি। মিরপুর থেকে টেকনিক্যাল-শ্যামলী ঘুরে মহাখালী গেলাম ৪৫ মিনিটে। দূরত্ব ১০ কিলোমিটার। আমি অঙ্কে খুবই কাঁচা তাই এক ভাইয়াকে দিয়ে হিসেব কষালাম। ঘণ্টায় ১৩.৩ কিলোমিটার ছিল গড় গতি। খুব একটা খারাপ না। অবশ্য ওনাদের ২৫-৩০ কিমি/ঘণ্টার কথা শুনলে বড়ই নগণ্য মনে হয়। 😦

যাই হোক, অফিসে পৌঁছে আর ভেতরে ঢুকলাম না। ঘেমে যেই অবস্থা হয়েছে, এই অবস্থায় অফিসে ঢুকলে সবাই ভাববে ইমার্জেন্সি। তাই একটা দোকান থেকে এক বোতল ঠাণ্ডা পানি নিয়ে মুখ ধোয়ার ব্যবস্থা করলাম। সাইকেল চালাতো কোনো কষ্ট হলো না। বাতাসও ছিল অনেক। প্রায়ই বাতাসের বেগে গতি ধীর করতে হচ্ছিল। এরপরও কেন এতো ঘামলাম বুঝলাম না। যাই হোক, অবশেষে ফুটপাথের পাশে লক করে অফিসের দিকে পা বাড়ালাম। মনে ভয়, যদি চুরি হয়। 😦 Continue reading

মুভি দেখার আগে জেনে নিন রেটিং, বুঝে নিন কোন রেটিং কী বোঝায়

ইংরেজি মুভির ভক্ত মানুষের অভাব বোধ করি কোনো দেশেই নেই। একসময় ভাবতাম বাংলাদেশে বুঝি ইংরেজি মুভি তেমন একটা চলে না। বলা বাহুল্য, তখন আমি নিজেও ইংরেজি ছবির খুব একটা ভক্ত ছিলাম না। পরে নিজে ভক্ত হলাম এবং ইন্টারনেট ও ব্লগের কল্যাণে জানতে পারলাম বাংলাদেশে মুভি পাগলের অভাব নেই।

যারা নিয়মিত মুভি দেখেন তারা হয়তো ইতিমধ্যেই জানেন বড় পর্দায় মুক্তিপ্রাপ্ত প্রতিটি ছবিকেই এমপিএএ (Motion Pictures Association of America’s film-rating system) বিভিন্ন ধরনের রেটিং দিয়ে থাকে। এসব রেটিং-এর উপর ভিত্তি করে উন্নত রাষ্ট্রে থিয়েটারের টিকেট বিক্রি করা হয়। যেমন, একটি NC-17 মুভি দেখতে সতেরো বছরের কম বয়সী কাউকে থিয়েটারে ঢুকতেই দেবে না কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও মুভি রেটিংগুলো কাজে আসে যাতে দর্শকরা পরিবারের সাথে কোন কোন মুভিগুলো দেখা যাবে তা আগে থেকেই জানতে পারেন এবং রেটিং দেখে নিমিষেই ধারণা করে নিতে পারেন মুভিটিতে আপত্তিকর সামগ্রী আছে কি না।

যারা ইন্টারনেট থেকে মুভি ডাউনলোডের ক্ষেত্রে নিতান্তই নতুন, তাদের উপকার হবে আশা করে এই পোস্টে বিভিন্ন প্রকার রেটিং এবং এর অর্থ সহজভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছি। এছাড়াও কেবল রেটিং নয়, অন্য কী উপায়ে আপনি মুভিতে কী ধরনের দৃশ্য রয়েছে তা মূহুর্তের মধ্যেই জানতে পারবেন তাও আলোচনা করবো এই পোস্টে। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

Continue reading

গল্পঃ পৃথিবীর যত সুখ

‘অ্যাই, শুনছো? অ্যাই! ঘুম ভাঙছে না বুঝি?’
নীলার কানের কাছে প্রায় ফিসফিস করে পাঁচ মিনিট ধরে ডেকে যাচ্ছে অনিক। কিন্তু ভালোবাসা মাখা সেই ডাক যেন কানেই যাচ্ছে না নীলার। শরীরটা ভালো না তার। তাই হঠাৎ করে তাকে ডেকে তুলতে চাচ্ছে না অনিক। মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে আরেকবার ডাকায় আস্তে করে চোখ মেললো নীলা। অনিকের মুখে হাসি ফুটলো। প্রতিদিন সকালে নীলার ঘুম থেকে ওঠার দৃশ্যটা সে কখনোই মিস করে না। কেন যেন এই দৃশ্যের মাঝেও অনেক মানসিক শান্তি খুঁজে পায় সে।

‘আমাকে যে অফিসে যেতে হবে!’ বলল অনিক।
‘ওহ! কয়টা বাজে?’
‘প্রায় সাতটা।’
‘ও।’

মনটা আবার খারাপ হয়ে গেল অনিকের। নীলা কিছুই বললো না। ওর শরীরটা আসলেই ভালো না। অন্যান্য দিন এমন সময় নীলা ব্যস্ত হয়ে দৌড়াদৌড়ি করে অনিকের জন্য নাস্তা রেডি করে। অনিকও যতোটা সম্ভব নীলাকে কাজে সাহায্য করে। কিন্তু আজ নীলার শরীর খারাপ বলে তাকে আর ডাকেনি অনিক। যাবার মূহুর্তে বলে যাওয়ার জন্যই ঘুমটা ভেঙ্গেছে নীলার।

‘আমার আজকে অফিসে যাওয়া একদমই উচিৎ নয়, কিন্তু আজ এমনই কিছু কাজ আছে যে না গিয়েও পারছি না,’ মন খারাপ করে কৈফিয়তের সুরে নীলার কানের কাছে বললো অনিক।
নীলা তার দিকে না তাকিয়েই ক্ষীণ কণ্ঠে বললো, ‘সমস্যা নেই, তুমি যাও।’
তার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো অনিক। আর দুই-এক মিনিট, তারপরই নীলা পুরোপুরি সজাগ হয়ে উঠবে। সেই দুই মিনিট সময় পার করলো সে নীলার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে।

‘শোনো, আমি নাস্তা তৈরি করে গেছি, তুমি ঠিক এক ঘণ্টা পর আটটায় বিছানা থেকে উঠবে। ফ্রিজে ব্রেড রাখা আছে। আমি জেলি দিয়ে রেখেছি, তুমি খেয়ে নিও। আর খাওয়া শেষে পুরো দুই গ্লাস পানি খাবে। পানি খেয়ে সোজা বিছানায় যাবে। কোনো কাজের বাহাদুরি দেখাতে হবে না, বুঝেছো?’ প্রায় যেন আদুরে ধমক দিলো অনিক।

তার এই আচরণের সঙ্গে পরিচিত নীলা। সে একটু হেসে বললো, ‘আচ্ছা ঠিক আছে।’ অনিক বলে চললো, ‘দুপুরের ভাতও আমি রান্না করে রেখেছি। তরকারি কাল রাতেরটাই আছে, আর রান্নার দরকার হবে না। আমি ফোন করে তোমাকে ডেকে দিবো যদি ঘুমিয়ে থাকো। দুপুরে কিন্তু অবশ্যই খেয়ে নিবে সোনা। তোমার শরীরটা ভালো না। না খেলে কিন্তু শরীর আরো খারাপ হবে।’

Continue reading