ফিরে আসবে অ্যান্ড্রয়েড কথন। একটু সময় লাগলেও সব লেখা আর মন্তব্যই পাওয়া যাবে। শুভানুধ্যায়ী ও পাঠকদের জানাই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। 🙂

অ্যান্ড্রয়েড কথন

অ্যান্ড্রয়েড কথন হ্যাকের খবর আশা করছি ইতোমধ্যেই সবাই জানেন। এ নিয়ে আমার (সজীব) মন্তব্যও প্রকাশিত হয়েছে আমার ব্যক্তিগত ব্লগে। অ্যান্ড্রয়েড কথন হ্যাক নিয়ে পাঠক যারা তাদের উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন ও আমাদের ফিরে আসার অপেক্ষা করে শুভ কামনা জানিয়েছেন তাদের প্রথমেই ধন্যবাদ।

অ্যান্ড্রয়েড কথন হ্যাক হবার পর প্রথম দুশ্চিন্তা ছিল ডেটাবেস নিয়ে। সাইটের ফুল ব্যাকআপ থাকলে হ্যাকড থেকে রিস্টোর হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ প্রযুক্তি চালু থাকায় হ্যাক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খুব একটা দুশ্চিন্তায় পড়ার কোনো কারণ ছিল না। কিন্তু সর্বশেষ ব্যাকআপের ডেটাবেস ফাইলে কিছু ত্রুটি থাকার কারণে আমরা কোনোভাবেই পুরো ডেটাবেস রিস্টোর করতে পারছিলাম না। আমাদের ব্যাকআপ নেয়ার জন্য এই একটি পদ্ধতিই সক্রিয় ছিল। অন্য মাধ্যমে সর্বশেষ নেয়া ব্যাকআপ ছিল এক মাস আগের। অর্থাৎ, এই প্রযুক্তির ব্যাকআপগুলো কাজ না করার অর্থ এক মাস আগে ফিরে যাওয়া, যার মানে গত একমাসের সব লেখা ও মন্তব্য গায়েব।

View original post 167 more words

শূন্য অনুভূতি

গতকালের মতো আজও কেমন যেন একটা শূন্য অনুভূতি রয়ে গেছে। সত্যি কথা বলতে কি, আজকের শূন্য অনুভূতিটা গতকালের চেয়ে গাঢ়। বাউলরা গান গেয়ে চলেছে। তাদের বাদ্যযন্ত্রের সুর না চাইলেও শুনতে হচ্ছে। তাদের সুর যেমনই হোক না কেন, বরাবরের মতোই কেমন যেন শূন্য একটা অনুভূতি এনে দিচ্ছে। বাইরে আজও কুয়াশা পড়েছে। কিন্তু অজানা কোনো স্মৃতির উদ্দেশ্যে আমি আজ স্মৃতির পাতা হাতড়াচ্ছি না। কিছু একটা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে চাচ্ছি। একটু ভালো থাকতে চাচ্ছি।

হঠাৎ করেই ভালো থাকাটা বেশ কঠিন মনে হচ্ছে কেন যেন। আর শূন্য অনুভূতিটা এতোটাই গাঢ় রূপ নিয়েছে যে, বিশ্বাস করতে বাধ্য হচ্ছি, শূন্যই শেষ নয়। শূন্যেরই প্রকারভেদ আছে। হালকা শূন্য, মোটামুটি শূন্য কিংবা ঘন শূন্য। আর অংকের হিসেবে বলতে গেলে বলতে হবে এই মূহুর্তে আবার অনুভূতিটা শূন্য3। গাণিতিকভাবে এটা শুদ্ধ হোক বা না হোক, মানসিকভাবে এটাই এখন সত্যি।

বনসবাই কমলা (a.k.a. চায়নিজ কমলা)

বাজারে এসেছে বনসাই ওরফে চাইনিজ কমলা। :-/ :-/ অর্ধবৃদ্ধাঙুলির সমান (প্রায় ;) ) ছোট আকৃতির এই কমলাগুলো বাজারে এসেই জয় করে নিয়েছে ফলখোরদের মন। B-)B-) তবে এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে দেশি কমলার উপর। চাইনিজ কমলার মন ভোলানো স্বাদ আর ভূবন ভোলানো ঘ্রাণ দেশি কমলার মার্কেট শেয়ার কমিয়ে দিয়েছে। X( X( X( X( X( X( ক্রেতারা জানিয়েছেন, সুন্দর সুন্দর ব্যাগে করে বিক্রি করা ডজনখানেক কমলার মধ্যে কোনোটাই পঁচা বা নষ্ট পাওয়া যায় না। এছাড়াও ছোট মরিচে ঝাল বেশি প্রবাদটির একটি উত্তম দৃষ্টান্তও দেখা যায় চাইনিজ কমলায়। কেননা, ছোট হলেও এগুলো “মিষ্টি বেশি”। :P :P :P :P

আমি খাচ্ছি। !:#P !:#P আপনি খেয়েছেন কি? :-B :-B

একটি গুলি..একজন পুলিশকে বাঁচানোর চেষ্টা..এবং তারপর..মৃত্যু!

চারিদিকে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ। মানুষের দিগ্বিদিক ছোটাছুটি। এরই মাঝে ছুটে এসে একুশ বছরের এক ছাত্রের হাঁপাতে থাকা। হঠাৎই পাশে হাতে গুলি খেয়ে পুলিশের একজন কর্মকর্তা মাটিতে লুটিয়ে পড়া। পুলিশের লোকটিকে বাঁচাতে সেই ছাত্রের দৌড়ে যাওয়া। সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি গুলির শব্দ। তারপর পুলিশকে বাঁচাতে যাওয়া সেই ছাত্রেরও মাটিতে লুটিয়ে পড়া। বার দুয়েক “আরাফাত আরাফাত” নাম উচ্চারণ করা। এবং তারপর…মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া।

না, যেকোন যুদ্ধের সিনেমার চেয়ে ভয়াবহ হলেও ঘটনাটি একটি বাস্তব সত্য। গত বুধবার বিডিআরের তথাকথিত বিদ্রোহে অসংখ্য সেনা কর্মকর্তার পাশাপাশি নিহত হয় তিনজন সিভিলিয়ান। তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন পিপলস ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের বিবিএ’র ছাত্র খন্দকার তারেক আজিজ (ডাকনাম সজীব)। একুশ বছর বয়সী এই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর সচিত্র প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে দেশের প্রায় সবক’টি স্যাটেলাইট চ্যানেলে। কাকতালীয়ভাবে তারেক আজিজ সজীবের বড় বোন আমার বড় বোনের খুব কাছের বান্ধবী। তাই মর্মান্তিক মৃত্যুর দুঃসংবাদটা আমাদেরকেই প্রথম পেতে হয়েছিল।

তারেক আজিজ (সজীব) মা-বাবার দ্বিতীয় সন্তান। তার বড় বোন পায়েলের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট ভাই শুভ। বয়স আট কি নয় বছর। ঢাকার টোলারবাগে একটি ফ্ল্যাটে সপরিবারে থাকতো সজীব। খুব উচ্ছল, প্রাণবন্ত একটি ছেলে ছিলো সে। প্রচুর কথা বলতো। খুব হাসাতে পারতো সবাইকে। এছাড়াও খুব মিশুক প্রকৃতির ছিলো। সবাইকে খুব সহজেই আপন করে নেয়ার ক্ষমতা ছিলো ওর। আমি অবশ্য সজীব ভাইয়াকে দেখিনি। আমি শুধু পায়েল আপু আর শুভকেই চিনতাম। দুঃসংবাদটি শোনার পর দেরি না করে আমি, আমার বোন আর দুলাভাই রওনা হলাম সজীব ভাইয়াদের বাসায়। রাত প্রায় এগারোটার দিকে পৌঁছলাম টোলারবাগস্থ ফ্ল্যাটে। সেখানে ছিল এক করুণ পরিস্থিতি। কেউ কল্পনাও করতে পারেনি গতকালের প্রাণচঞ্চল যুবক আজ লাশ হয়ে পড়ে থাকবে ঢাকা মেডিকেলের মর্গে। অথচ কল্পনাকেও হার মানিয়ে ঠিকই নিষ্ঠুর বাস্তবতা সজীবকে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের গুলিতে নিহত করে মা-বাবার সান্নিধ্য থেকে অনেক দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

সজীব ভাইয়ার মা বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন। ছেলের রক্তাক্ত চেহারা টেলিভিশনের পর্দায় দেখে বারবার চিৎকার করে উঠছিলেন। বিডিআরের একটি গুলি তারেক আজিজ সজীবের মাথার একপাশে লেগে মাথা ভেদ করে অন্যপাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ফলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। তার মৃতদেহ কয়েকজনে মিলে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য বারবার প্রদর্শিত হয় চ্যানেল আইসহ বেশকিছু চ্যানেলে, যা দেখে বারবার কেঁদে উঠছিলেন সজীব ভাইয়ার মা। অন্যদিকে সজীবের বাবা অনেক শক্ত। নিজেকে সামলাতে পেরেছিলেন তিনি। কারণ তিনি জানতেন, পরদিন (বৃহস্পতিবার) তাকে অনেক কাজ করতে হবে। ঢাকা মেডিকেলের মর্গ থেকে পোস্ট মর্টেম করানোর পর লাশ আনতে হবে। তারপর আবার তাকে তাদের দেশের বাড়ি নিয়ে যেতে হবে। ভেঙে পড়লে চলবে না। তবে তার চোখও সময় সময় ভেজা দেখা যাচ্ছিলো। টেলিভিশনের পর্দায় ছোট ভাইয়ের ছবি দেখে বড় বোন পায়েল আপুও চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলো না। বড় আদরের ভাই ছিলো ওর।
আর ছোট ভাই শুভ। ওর কান্না থামানো মুশকিল হয়ে পড়েছিল। সজীব ভাইয়ের রক্তাক্ত মৃতদেহ টিভিতে দেখার পর তার সে কি প্রশ্ন! “বিডিআররা আমার ভাইকেই কেন মারলো? বিডিআররা আমার ভাইয়ার কাছে টাকা চাইতো, তাহলেই তো টাকা দিয়ে দিতো। কী দোষ করেছিলো আমার ভাইয়া? গুলি মাথায়ই লাগলো কেন? পায়ে বা হাতেও তো লাগতে পারতো? বিডিআর গুলি কেন করলো? আমি বিডিআরকে ছাড়বো না!” এরকম শত শত জবাব না জানা প্রশ্ন করে যাচ্ছিল শুভ একনাগাড়ে। এভাবে একসময় জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়লো শুভ।
ঘরের অন্যান্য সদস্যদেরও একই অবস্থা। কেউ কথা বলছিলো না, কেউ পাথরের মতো চুপচাপ বসেছিলো। কেউ বা আবার স্মৃতিচারণ করছিলো সজীবের বেঁচে থাকার সময়কার স্মৃতিময় কথা। সজীবের খুব কাছের বন্ধু আরাফাত, যার নাম গুলি খাওয়ার পরপর মুখে এনেছিল সজীব। সে বললো, দুপুর আড়াইটার দিকে অচেনা এক নাম্বার থেকে ফোন রিসিভ করে সে। অপরিচিত একজন লোক জানায়, পুলিশের লোককে বাঁচাতে গিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তারেক আজিজ। প্রথমে আমি বিশ্বাস করতে পারিনি তিনি সত্যি কথা বলছেন। পরে অবশ্য ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করে পোস্ট মর্টেমের জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠিয়ে দেয়।

রাতে থমথমে এক পরিস্থিতি বিরাজ করছিল সজীবের ঘরে। কারো চোখে ঘুম নেই। কেউ বিশ্বাস করতে পারছিলো না সজীব আর নেই। আর কোনোদিন কথা বলে সারা ঘর মাথায় তুলবে না সজীব। সজীবের বাবা জানায়, কিছুদিন আগেও নাকি সজীব বলছিলো, “আমাকে ঘরেই সবাই শুধু অভদ্র অভদ্র বলে ডাকে। বাইরে সবাই আমাকে ভালো জানে। দেখে নিয়ো, আমি এমন কোন ভালো কাজ করবো, যাতে সব টিভি চ্যানেলে আমাকে ফলাও করে দেখানো হয়।” তখন তো আর সে ভাবতেও পারেনি, টিভি চ্যানেলে তাকে দেখানো হবে ঠিকই, তবে জীবিত সজীবকে নয়, নিহত ও রক্তাক্ত সজীবের লাশকে।
রাতে জোরাজুরি করে শুতে যেতে বলল বাসার সবাই। সজীব ভাইয়ার খাটেই আমি শুয়েছিলাম। পাশে ছিলো শুভ ও তার বাবা। উল্লেখ্য, আমার ডাকনামও সজীব। তখন আঙ্কেল বলে উঠলেন, কাল এই বিছানায় শুয়েছিল সজীব। আজও এই বিছানায় সজীব শুয়ে আছে। কিন্তু আমার সজীব আর নেই!

রাত তিনটায় বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন সজীব ভাইয়ার বড় বোন পায়েল আপুও বারান্দায় গেলো। বললো, গতকালও এই সময় সজীব পাশের ঘরে ঘোরাঘুরি করছিল। আমার আগে ও কোনদিন শুয়ে পড়তো না। অথচ আজ ও আমার আগেই শুয়ে আছে। মর্গে।

পায়েল আপুকে সান্তুনা দেবার ভাষা আমার জানা ছিলো না।

[এতো এতো উচ্চপদস্থ সেনাকর্মকর্তার মৃত্যুর আড়ালে হারিয়ে গেছে তিনজন সাধারণ মানুষের করুণ মৃত্যুর কথা। আমরা যদি স্বাভাবিকভাবে বিচার করি, তাহলে দেখবো, উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তার আগে তাদের প্রত্যেকেরই একটা পরিচয় আছে। সেটা হলো এই যে, তারা মানুষ। একইভাবে নিরাপরাধ তিনজন বেসামরিক ব্যক্তিও মানুষই ছিলেন। সাধারণ রিক্সাওয়ালা বা সজীবের মতো তরুণদের বেঁচে থাকার অধিকার সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। কিন্তু তাদের কথা বলার কেউ নেই। মূলত এজন্যই এই পোস্টটি লিখি আমি।]

উল্লেখ্য, পোস্টটি প্রথমে সা.ইন ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল

বিধর্মীদের প্রতিঃ মুসলমানদের ভয় পাবার কিছু নেই

উপস্থিত ব্লগারদের কাছে অনুরোধ করছি সম্পূর্ণ পোস্টটা পড়তে। শুরুর দিকে একরকম মনে হলেও পোস্টের উদ্দেশ্য শিরোনামের মতই। তাই অনুগ্রহ করে পোস্টটা পড়ুন ও আপনার মন্তব্য লিখুন।

ইন্ট্রো
গত বেশ কয়েকদিন ধরে কলকাতার একটি মেয়ের সাথে বেশ ভাবে আছি B-)। কলকাতায় ফোন করলে পিক আওয়ারে কলরেট হচ্ছে ১৮ টাকা/মিনিট আর অফপিকে ১৫ টাকা/মিনিট। তাই ফোন চ্যাট সম্ভব হয় না। ইয়াহুতেই কাজ সারতে হয়। বাসায় পিসি নেই যার কারণে ভয়েস চ্যাটও করা সম্ভব হয় না। মাঝেমধ্যে চার পাঁচদিন পরপর রাতের দিকে ইয়াহুতে মেয়েটাকে পাওয়া যায়।
তো আমার সাথে ওর সম্পর্ক বন্ধুর মত। অনেক ফ্রি এবং ফ্রেন্ডলি একটা মেয়ে ও। সব বিষয়ে সহজেই কথাবার্তা বলা যায় ওর সাথে। বাংলাদেশের অধিকাংশ মেয়েদের মত অত সন্দেহপ্রবণ নয়। যাই হোক, মেয়েটা মুসলমান নয়; হিন্দু। তবে ধর্মের বিভেদ ভুলে আমরা একে অপরকে খুব ভাল বন্ধু হিসেবেই নিয়ে নিয়েছিলাম।

ঘটনা
একদিন [চ্যাটবক্সে] ও বললো, একটা কথা বলি কিছু মনে করবে না তো?
আমি বললাম, বলো।
তখন ও বললো, আমার না মুসলমানদেরকে খুব ভয় লাগে। মুসলমানরা প্রচন্ড রাগী। রেগে গেলে ওরা মানুষ খুন করতে পারে।
কথাটা শুনে আমার মধ্যে একটা শিহরণ খেলে গেল। একজন মুসলমান হিসেবে আমার দায়িত্ব একজন বিধর্মীকে ইসলামের দিকে আহবান করা। সেটা নাহয় পারলামই না। কিন্তু একজন বিধর্মীর মন থেকে ইসলাম সম্বন্ধে ভুল ধারণা দূর করাটা তো আমার অনিবার্য কর্তব্য। সেই তাগিদ থেকেই বললাম, তোমার কেন এমন মনে হয়? ইসলাম তো এমন শিক্ষা দেয় না।
ও বলল, আমাদের এখানে আমি অনেক ঘটনা দেখেছি। হিন্দু বা অন্য ধর্মাবলম্বীরা এতটা রুড নয়। এইতো সেদিনের ঘটনা, একটা মুসলমান কি নিয়ে যেন ঝগড়া করে আরেকটা হিন্দুকে মেরেই ফেললো।

আমি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলাম। তারপর বললাম, তোমার ধারণা ভুল। কিছু মুসলমান থাকতে পারে যারা এমনটা করে, কিন্তু তাই বলে তুমি সমগ্র মুসলিম জাতিকে এক চোখে দেখতে পারো না। তুমি হয়তো ইসলাম সম্বন্ধে ততটা জানোনা, জানার কথাও না। তাই বলে তুমি হয়তো তোমার আশেপাশের মুসলমানদের দেখে ইসলাম সম্বন্ধে ধারণা নিতে চাইছ, তাই না?

ও স্বীকার করল।

তোমার ভুলটা এখানেই। আসল ব্যাপারটা হচ্ছে ‘কিছু সংখ্যক’ “নামধারী” মুসলমান পুরো ইসলাম ধর্মকে মিথ্যা পরিচয় দিতে এইসব কার্যক্রম বিশ্বজুড়ে চালিয়ে যাচ্ছে। এদের দেখে সচেতন বুদ্ধিমান মানুষের উচিৎ হবে না যে ইসলাম সম্বন্ধে ধারণা নেয়ার চেষ্টা করা। আমি তোমাকে বলি শোন। হিটলারের নাম তো শুনেছো নাকি?

ও বললো হ্যাঁ, শুনেছি। তখন আমি বললাম, হিটলার কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন? ও বললো ও নাকি জানেনা। [ঐ মুহুর্তে আমারও মনে ছিল না হিটলার কোন ধর্ম অনুসরণ করতেন] বললামঃ ধরো হিটলার খ্রিষ্টান ছিলেন। হিটলার যে হাজার হাজার নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা করেছে সেটা তো জানো?

ও বললো, হ্যাঁ বইয়ে পড়েছি।
আমি বললাম, গুড। তো হিটলার যে এতবড় অপরাধ করলো, এজন্য কি তুমি খ্রিষ্টান ধর্মকে দায়ী করবে?

ও তখন বোধহয় একটু চিন্তিত হয়ে পড়লো। বলল, না, ওর অপরাধের জন্য খ্রিষ্টান ধর্মকে দায়ী করা ভুল হবে।

তখন আমি বললাম, আচ্ছা তুমি বলতো, হিটলারের মত না হোক, অকারণে মানুষ হত্যা, বোমাবাজি, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি ইত্যাদি করার মত প্রচুর সংখ্যক টেররিস্ট হিন্দু ধর্মে আছে কি না?
ও বললো, অবশ্যই আছে।
আমি বললাম, তাহলে আমি যদি ওদের চালচলন-আচার-ব্যবহার ইত্যাদি দেখে হিন্দু ধর্ম সম্বন্ধে ধারণা নিতে চেষ্টা করি, তাহলে তুমি কি আমাকে সম্মতি দিবে? বা ওদের কার্যক্রমের সাথে বেদ বা উপনিশাদের কি কোন মিল আছে?

ও বললো, না। ওরা নামে হিন্দু, কার্যক্রমে ওদের মধ্যে হিন্দুইজমের কিছুই পাওয়া যাবে না।

আমি বললাম, এতক্ষণে মূল পয়েন্টে এসেছো। পৃথিবীর প্রতিটি ধর্মেই এমনটা আছে। কিছু সংখ্যক মানুষ, যারা মূলত ধর্মবহির্ভূত কিন্তু ধর্মের অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে নিজেদের কুকর্মের দ্বারা। ওরা আসলে কোন ধর্মেরই অনুসারী নয়। আমি তোমাকে বলব, তুমি যদি ইসলাম সম্বন্ধে জানতে চাও, তাহলে মুসলমানদের দিকে লক্ষ্য না করে সোজা কুরআন ও হাদিসের বাণী পড়। কারণ সেখানেই পাওয়া যাবে প্রকৃত ইসলাম। একইভাবে তুমি যদি খ্রিষ্টান বা হিন্দু ধর্ম সম্বন্ধে জানতে চাও, তোমার উচিৎ হবে কোন খ্রিষ্টান বা হিন্দুর দিকে লক্ষ্য না করে সোজা যার যার ধর্মের ধর্মগ্রন্থের দিকে নজর দেয়া। কেননা, ধর্মের মূলমন্ত্রটাই যে সেখানে।

ও তখন ব্যাপারটা বুঝল। শুধু বুঝলো না বরং ভালভাবেই বুঝলো। তখন বলল, তুমি একেবারে ঠিক কথাটা বলেছো। আমার ভুল ধারণা ছিল আসলে সেটা।
জিজ্ঞেস করলাম, এখন তোমার ভুল ধারণা ভেঙ্গেছে? নাকি আরো লেকচার লাগবে ) ?
ও হাসলো (ইমোটিকন দিল আরকি)। বলল, বুঝতে পেরেছি। আসলে বোমাবাজরা বা সন্ত্রাসীরা কোন ধর্মের অনুসারীই নয়। তোমার এই কোট টা অসাধারণ হয়েছে।

আমি বললামঃ 😀

মূল আলোচনা
যারা ইসলামিক টেলিভিশন কিংবা পিস টিভি নিয়মিত দেখেন, তারা নিশ্চয়ই এতক্ষণে ধরে ফেলেছেন যে বক্তৃতাগুলো মূলত ডক্টর জাকির নায়েকের দেয়া। অন্যের বক্তব্য নিজে দিয়ে দেয়া হয়তো একরকম অপরাধ। কিন্তু এর দ্বারা যদি অন্ততপক্ষে একজন অমুসলিমেরও ভুল ভাঙ্গে, তাহলে এই অপরাধ ক্ষমার যোগ্য হয়ে যাওয়া কথা।

আপনাদের সবার কাছে প্রশ্ন, আল্লাহ কি আমাদের শুধু নামাজ পড়ে রোজা রেখে হালাল খেয়ে বাঁচতে বলেছেন? বিধর্মীদেরকে ইসলামের প্রতি দাওয়াত দেয়া, ইসলাম সম্বন্ধে মানুষের ভূল ধারণা ভাঙ্গাবার দায়িত্ব কি আমাদের উপর বর্তায় না? আমরা তার কতটুকু পালন করি?