আজ কলেজেঃ গার্লফ্রেন্ড ভার্সাস কম্পিউটার

beautiful girl

কলেজে টিফিনের পর দেখলাম বিশালদেহী আবির বড় বড় পদক্ষেপে এগিয়ে আসছে। বুঝলাম, বকবকানির জন্য নতুন কিছু খুঁজে পেয়েছে পোলাটা। প্রতিদিনই তার একটা না একটা ডায়ালগ জোগাড় করে আনে আর সারা ক্লাস অস্থির করে ফেলে। হাঁটতে হাঁটতে যখন আমার দিকে কয়েকবার তাকালো, আমি রীতিমতো প্রমাদ গুণতে শুরু করলাম। সবকিছু যেন স্লো মোশন হয়ে গেল। মনে হলো ছাত্রদের কোলাহল অনেক দূর থেকে আসছে। আশেপাশে সব ঘোলা হয়ে গেছে। কেবল আবিরের শরীরটা স্পষ্ট। ও আসছে। ধীর অথচ দীর্ঘ পদক্ষেপে এসেই চলেছে। এ আসা যদি না শেষ হয়…. তাহলে অবশ্য ভালোই হতো।

যাই হোক, অবশেষে আবির ক্লাসরুমে এসে ঢুকলো। “দোস্ত, নিশিগো (ছদ্মনাম) ক্লাসের এক পোলায় তো মারাত্মক ছবি তুলে।”

“কোন পোলা?”
“ঐ যে, ওগো লগে যে তরুদ্যানে কথা কয়। মোটা কইরা।”
“ওহ, চিনসি। হ, জানি তো। তো কী হইসে?”

তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে হাত নেড়ে আবির বললো, “তুমি তো কিছুই করবার পারলা না।”
“কিছু মানে?”

“মিয়া! ঐ পোলায় নিশির মডেলিং ছবি তুলে। আর তুমি খালি কথাই কইয়া গেলা দুই মাইল দূর থেইকা। আর ওই পোলার সামনে নিশি ডাইনদিকে পোজ দিবো। পোলায় কইবো এমনে না হেমনে। তারপরে মাইয়া বাম দিকে কাইৎ হইবো। আর তুমি খালি কথা কইয়াই গেলা।”
“আরে আজব তো! ঐ পোলা ছবি ভালো তুলে সেই জন্য ছবি তুলে। এইটার সঙ্গে আমার কথা কওয়া না কওয়ার সম্পর্ক কী?”

আমার কথা যেন কানেই গেল না এমন একটা ভাব করে আবির অভ্যাসমতো বলে চললো, “মামা, এর লাইগাই কই। তোর ঐ কম্পিউটার দিয়া কোনো কাজ হইবো না। কম্পিউটার ছাড়ো, ক্যামেরা হাতে লও।”

আমি গাধার মতো দুই মিনিট ওর দিকে তাকিয়ে থাকলাম। অবশ্য এইটা রেগুলার। আবিরের সঙ্গে কথায় পারা অসম্ভব ব্যাপার। তাও বললাম, “শোন, তুই যে কইতাসোস, ঐ পোলায় ছবি তুললে তোর সমস্যা কই? আমারই বা সমস্যা কই? আমার তো আর গার্লফ্রেন্ড না তাই না?”
“শোন মামা, গার্লফ্রেন্ড হওয়া লাগে না। মেয়ে ফ্রেন্ডের লগেই যখন আরেক পোলা কথা কয়, তখনই বুকের ভিতরে কেমন জানি করে!”
“শোন ছাগল, তোর করতে পারে, আমার করে না। আমি ফ্রেন্ড আর গার্লফ্রেন্ডের পার্থক্য বুঝি। আর তাছাড়া এতো ক্লোজ ফ্রেন্ডও না।”
“তো তুই ওরে গার্লফ্রেন্ড বানাস না ক্যান? কম্পিউটার ছাড় বুঝছস। কম্পিউটারের সামনে বইসা কিচ্ছু হইবো না। ক্যামেরা ল ক্যামেরা।” আবিরের সাদামাটা পরামর্শ।
“আজব! গার্লফ্রেন্ড বানামু ক্যান?”
“তোর গার্লফ্রেন্ড আছে?”

“না।”
“তোর মতো পোলার গার্লফ্রেন্ড নাই মামা, আমার তো এইটা বিশ্বাস হয় না।”
“ক্যান, বিশ্বাস না হওয়ার কী হইলো?”
“তোমগো মতো ভদ্র পোলাপানের আরও বেশি গার্লফ্রেন্ড থাকে। দেখলে মনে হয় কিছু বুঝো না, কিন্তু আড়ালে মেয়ে ফ্রেন্ডের অভাব নাই।”
“হেহ হেহ, আমি ঐ রকম না। 😉 বিশ্বাস না হইলে রিভুরে জিগা।”

রিভু আবিরের অত্যাচার সহ্যকারী আরেক ক্লাসমেট। ও মাথা ঝাঁকিয়ে বললো, “হ ব্যাটা সজীবের গার্লফ্রেন্ড নাই।”
“ক্যান ব্যাটা? গার্লফ্রেন্ড বানাস না? পাস না এই কথা তো মানুম না।” আবিরের সোজাসাপ্টা কথা।
বললাম, “দরকার নাই সেই জন্য বানাই না।”
“না দোস্ত তোর কোনো একটা কারণ আছে। কী কারণ জলদি ক। আমি তো গার্লফ্রেন্ড বানাই না কারণ যখনই মাইয়ার প্রতি মনটা একটু গলতে শুরু করবো তখনই হালায় যাইবোগা। এর লাইগা আমি রিস্ক লই না। কিন্তু তোর কী কারণ ক।”
“আজব তো! কোনো কারণ নাই। এমনিই।”
“শোন দোস্ত, তোর তাইলে নিশ্চিত কোনো একটা দুঃখ আছে মনে। তুই মনে হয় কাউরে অনেক পছন্দ করতি কিন্তু ঐ মেয়ে মনে হয় তোরে ছাইড়া গেছে গা, ঠিক না?”
“হ, কইসে তোরে।”
“এইটাই। বুঝছি।”

রিভুর দিকে তাকাইলাম, “দোস্ত ওরে কিছু কবি? অয় একটা মাইর খাইবো আমার হাতে।”

রিভু আবিরকে বললো, দেখ ক্লাসে কইয়া দিমু কিন্তু। তখন আবিরকে একটু চিন্তান্বিত দেখা গেল। “না দোস্ত, কইস না। সবাই পঁচাইবো আমারে।”
“তাইলে চুপ কর।”
“আচ্ছা যা চুপ করলাম।”

কিন্তু আবির কি আর চুপ করে। একটু পরেই বের করলো নতুন টপিক। “দোস্ত, ফ্যান্টাসি কিংডম যামু। কবে যাবি? এই শুক্রবার চল।”
“না ব্যাটা, সামনে টেস্ট পরীক্ষা।”
“টেস্ট পরীক্ষা দেইখা কী হইছে ব্যাটা? ইনজয় করুম ইনজয়। যাবি কি না ক।”
“নাহ।”
“তাইলে কই যাবি? চল মোস্ট ওয়েলকাম দেখি।”
আমি আর রিভু একসঙ্গে আবিররে বললাম, “ক্যান? ইউ পম গানা? 😉 ”
“না ব্যাটা চল। ইনজয় করুন ইনজয়।”
“টেস্টের আগে না।”

নতুন টপিক নিয়ে আবির আর রিভু ক্লাস থেকে বের হয়ে গেল। আমার অনেক গরম লাগছিল তাই ফ্যানের নিচে দাঁড়িয়ে রইলাম। তাকিয়ে তাকিয়ে ওদের বেরিয়ে যাওয়া দেখলাম। তারপর অভ্যাসমতো একটু আগে হয়ে যাওয়া কথাবার্তাগুলো কানে বাজতে থাকলো। কিছু মিথ্যে বলা হয়ে গেছে। আবির বকবক বেশি করলেও মাঝে মাঝে দু-একটা ঠিক জিনিস ধরতে পারে। তবে সেটা নিয়ে অবাক হলাম না। কারণ, তখন ভাবার মতো আরও অনেক কিছুই ছিল।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s