গল্পঃ My Best Friend Simi (শেষ পর্ব)

My Best friend simi

(পর্ব ১২)

শেষ পর্ব হওয়ায় এই পর্বের দৈর্ঘ্য স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বড়। একবারে শেষ করতে না পারলে অনুগ্রহপূর্বক খণ্ড খণ্ড করে তিনবারে পর্বটি পড়ুন। ধন্যবাদ।

২৮
আজ রাতটা যেন সাইফের আর কাটতেই চায় না।
এমনিতে সাইফ অনেক কষ্টে অন্য কিছুতে মনোযোগ বসিয়ে রাত পার করে দেয়। কোনো রাতেই সে ঘুমায় না, কিংবা ঘুমাতে পারে না। কেবল ভোরের দিকে কিছুটা তন্দ্রামতো আসে। কিন্তু সেই সময়টুকু পর্যন্ত কোনোরকমে কাটিয়ে দেয় সাইফ। কখনো শুয়ে শুয়ে উপরে ঘূর্ণায়মান ফ্যানের দিকে তাকিয়ে থাকে। কখনো লাইট নিভিয়ে অন্ধকারেই চোখ খুলে বসে থাকে। কিন্তু যখন যেভাবেই থাকুক না কেন, ওর মন সব সময় কেবল একটা কথাই ভাবতে থাকে, সিমির কথা।

মাঝে মাঝে সাইফের অবাক লাগে। মনের কি বিরক্ত লাগে না? মানুষের মন আসলে সবচেয়ে রহস্যময় জিনিস। তার আশেপাশে কত ছেলেমেয়ে আছে যারা একের পর এক রিলেশনে গড়ছে আর ভাঙ্গছে। ওদের কাছে এটা যেন সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের মতো ঘটনা। সাইফ কেন সে রকম হতে পারলো না কে জানে। হয়তো কাউকে সত্যি সত্যি ভালোবাসলে এমন হওয়া যায় না। হয়তো এই ছেলেমেয়েগুলোও যেদিন কাউকে মন থেকে ভালোবাসবে, তখন সত্যিই সিরিয়াস হয়ে যাবে। তখন আর সম্পর্ক ভেঙ্গে গেলে এতো কেয়ারলেস থাকতে পারবে না।

মাঝে মাঝে সাইফের নিজেকে মনে হয় মানসিক রোগী। এটা ভাবতে তার খারাপ লাগে না। সে আসলে বিশ্বাসই করে যে সে মানসিক রোগী। নাহলে যে চলে গেছে তার স্মৃতি আঁকড়ে রাখবে কেন? তার চেয়ে বড় কথা, তার স্মৃতি আঁকড়ে থাকার মধ্যেই মানসিক আনন্দ খুঁজে পাবে কেন?

সাইফ হয়তো কোনোদিন সিমিকে বোঝাতেই পারেনি সিমি তার কাছে কতোটা মূল্যবান, কতোটা বেশি আপন। মানুষের সব রকম প্রতিক্রিয়া সাধারণত আপন মানুষের উপরই পড়ে এই সত্যটা হয়তো সিমি বুঝতে পারেনি বা মেনে নিতে পারেনি। সাইফের ব্যক্তিগত যেসব কষ্ট রয়েছে, সেসব কষ্ট সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলেই যে ও বেশ রূঢ় ব্যবহার করে ফেলত, আর সেটা যে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে ছিল, তা যেন সৃষ্টিকর্তা জেনেও ইচ্ছে করে সিমির কাছে গোপন করে গেছেন। সিমির সঙ্গে বলা প্রতিটি রুড কথার জন্য সাইফ নিজেকে কতোবার ধিক্কার দিয়েছে তা বুঝি সৃষ্টিকর্তা একাই উপভোগ করেছেন। কে জানে, হয়তো প্রথমদিন সিমির হাত ধরে সাইফ মনে মনে যে স্রষ্টার কাছে বলেছিল যে, এই সিমিকে সবসময় সুখী রাখাই হবে তার জীবনের অন্যতম একটা উদ্দেশ্য, তখন বুঝি সৃষ্টিকর্তা অট্টহাসি দিয়েছিলেন। তিনি নিশ্চয়ই হাসির ফাঁকে আপনমনে বলেছেন, ‘রাখিস সুখী! দেখবো কতোটা সুখী রাখতে পারিস! আগে তো নিজে সুখী থাকবি, নাকি!’

সাইফের জীবনে কখনোই সুখ ছিল না। হাসি-আনন্দ এসব ওর ভাগ্যে লেখা ছিল না কোনোদিনই। কিন্তু তবুও সাইফ জীবনের অল্প ক’টা দিন সুখী ছিল। সব অভাববোধ দূর হয়ে গিয়েছিল কেবল সিমিকে পাওয়ার কারণে। নিজের জীবনের অর্থ খুঁজে বেড়ানো সাইফ ভেবে নিয়েছিল, সিমি আমাকে ভালোবাসে, আমিও সিমিকে ভালোবাসি, সিমি সুখী থাকলে আমিও সুখী থাকি, অতএব আমার দায়িত্ব হবে সবসময় ওকে সুখী রাখা।

পরে অবশ্য সাইফের মনে হয়েছে, ওর ভাগ্যে তো সুখ লেখাই ছিল না। তাহলে সিমিকে সে পাবে কেন? যদিও সে তার চেষ্টার ত্রুটি করেনি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সব ভাগ্যেই লেখা ছিল। নইলে রিলেশন কতোবার ভাঙ্গে আবার জোড়া লাগে। এমনকি যেসব রিলেশন শেষ পর্যন্ত টিকে গেছে, সেগুলোও কয়েকবার কোনো না কোনো কারণে ভেঙ্গেছিল। কিন্তু সাইফের বেলায় এসেই সব পাল্টে গেল।

এটা ছিল সাইফের জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্ট। তাকে বেস্ট ফ্রেন্ড বলে দাবি করতো সিমি। সেই বেস্ট ফ্রেন্ড তার কাছে একটা সুযোগ পেলো না। সাইফ তাকে অনেক ভালোবাসতো। এমনকি সাইফ যতদূর বুঝতে পেরেছে সিমিও তাকে এখনো ভালোবাসে। কিন্তু ও আরেকবার কষ্ট পাওয়ার ভয়ে সাইফকে আর কাছে টানতে চায় না। সাইফ যতোই বলল, যতোই বুঝালো, সিমি কোনো কথাই শুনলো না। সাইফ যদি কোনোদিন সিমিকে এতটুকুই সুখী করতে পারে তাহলে সেই সময়টুকুর দোহাই দিয়ে ওর কাছে জীবনে মাত্র একবার সুযোগ চাইলো। সাইফ তাকে বলল সেদিন রাতে তার ভুল বুঝতে পারার কথা। সাইফ তাকে বলল যে এর আগের সমস্যার পর থেকে তো ও আর তেমন কিছুই করেনি, সব ঠিক করে নিয়েও কেন আবার ইচ্ছে করে ভেঙ্গে দেয়া? সিমির উত্তর ছিল, সাইফ আবারও আগের মতো হয়ে যেতে পারে। ওর এই ভুল ধারণা একটা সুন্দর স্বপ্নকে জ্বলে পুড়ে যাওয়ার ইন্ধন জোগালো। সাইফ অনেক অনুনয় বিনয় করলো। নিজের অজান্তেই কাঁদলো। সিমিকে ছাড়া সে কিছু ভাবতে পারে না। সে জীবনে অন্তত একবার সুযোগ চাইলো। কিন্তু প্রতিবারই তার হাতটা খালিই ফিরিয়ে দিলো সিমি।

অবশেষে সাইফ জানিয়ে দিলো, সে আজীবন সিমিকেই ভালোবাসবে। সিমি হয়তো কোনোদিন তার কাছে আর ফিরে আসবে না। না আসুক। সাইফ তাকে যতোটা গভীরভাবে ভালোবেসেছে, এতে সিমিকে ছাড়া অন্য কাউকে কাছে টানা তার পক্ষে অসম্ভব। কথায় বলে, সময় সব সারিয়ে দেয়। কিন্তু সাইফ নিজেকে চেনে, সময় সারালে ও সেটা বুঝতে পারতো। সিমিকে যে সময় ‘সারিয়ে’ দেবে না, সেটা সে ভালো করেই জানে। তাই সে সিদ্ধান্ত নিলো, সিমির সঙ্গে সে আর যোগাযোগ রাখবে না। বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার যন্ত্রণা অনেক গভীর। সে মনে প্রাণে ভালোবাসবে সিমিকে। সবসময় সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করবে সিমি যেন সুখে থাকে। আর যদি কোনোদিন সে ফিরে আসে, সেটা যতদিন পরেই হোক বা যে অবস্থাতেই হোক না কেন, সিমিকে নিজের বুকে টেনে নিবে সাইফ।

সাইফ আর সিমির এই অদৃশ্য বন্ধনের মধ্যে সিনথিয়াকে নিয়ে ভাবার কোনো অবকাশ রইলো না।

২৯
সাইফ আজ কলেজে এসেছে ঠিকই, কিন্তু সাথে বইপত্র কিছুই আনেনি। একেবারে খালি হাতে এসেছে। ওর কলেজে আসার উদ্দেশ্যই সিনথিয়ার সঙ্গে কথা বলা। ফোনে জেনেছে, সিনথিয়ার আজই কলেজে শেষ দিন। যা জানানোর আজই জানাতে হবে সাইফকে। আর যা জানানোর তা সামনা-সামনি জানতে চায় সিনথিয়া।

কিন্তু সকাল থেকেই সাইফকে কলেজে অনুপস্থিত দেখে বেশ ভেঙ্গে পড়েছিল সিনথিয়া। এই অনুপস্থিতিকে ‘না’ ধরে নিল। অবশেষে কলেজ ছুটির কিছুক্ষণ আগে কোত্থেকে যেন এসে হাজির হলো সাইফ।

ক্লাসমেটরা কিছুক্ষণ ‘হাই, ক্লাসে আসোনি কেন, কী অবস্থা’ ইত্যাদি বলে তারপর চলে গেল যার যার বাসার দিকে। মাঠের পাশে তখন কেবল সাইফ আর সিনথিয়া। বরাবরের মতোই একটা দল তখন মাঠে ফুটবলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সিনথিয়ার নিশ্চুপ জিজ্ঞাসু দৃষ্টি সাইফের চোখ এড়ালো না। সাইফের একটু একটু খারাপ লাগছিল না এমনটা না। কিন্তু সে সিনথিয়ার সঙ্গে প্রতারণা করতে চায় না। আজ ভালোয় ভালোয় সব মেনে নিয়ে মাস তিনেক পরে সম্পর্ক ভেঙ্গে ফেলার চেয়ে যা হবার প্রথমবারই হয়ে যাওয়া ভালো মনে করে সাইফ। তাই সেও দূরে মাঠের অপর প্রান্তের দিকে তাকিয়ে বলে দিলো, ‘আমি সিমিকেই ভালোবাসি, সিনথি।’

দীর্ঘশ্বাস ফেলল সিনথিয়া। সেইসঙ্গে কিছুটা রাগও যেন ঝড়লো, ‘একটা মেয়ে, যে চলে গেছে, তাকে ধরে রাখার কী আছে আমাকে বোঝাও তো সাইফ?’
‘বোঝাতে পারবো না। কিছু কিছু ব্যাপার বুঝতে হলে ঠিক ঐ ধরনের অবস্থায় থাকতে হয়। আর ঠিক আমার অবস্থায় তুমি কোনোদিনই আসতে পারবে না।’
‘কেন পারবো না? আমার তো মনে হয় অলরেডি এসেই পড়েছি। কেবল আমাদের মাঝে খোলাখুলি সম্পর্কটা হয়নি। এতটুকুই তো, তাই না?’
সাইফ কিছু বলল না। সিনথিয়া সমান তেজে বলে চলল, ‘সিমি কোনোদিনই তোমার লাইফে আর আসবে না। অন্তত আমার মনে হয় না ও আসবে।’
‘না আসলে আমি আর কী করতে পারবো? ও আসবে না বলে আমি তো আর জোর করে আমার ভালোবাসা ডুবিয়ে দিতে পারবো না তাই না?’
সাইফের দিকে তাকিয়ে রইলো সিনথিয়া। সাইফ সিমিকে ফিরিয়ে আনতে যেমন মরিয়া হয়েছিল, আজ সিনথিয়াও যেন সাইফকে পেতে তেমনই মরিয়া। সে বলল, ‘দেখো সাইফ, বাস্তবতা বুঝতে শেখো। যে যাবার সে চলে গেছে। সিমি তোমাকে এখনো ভালোবাসলে ও তোমাকে ছেড়ে এতোদিন থাকতে পারতো না। তুমি না হয় বাধ্য হয়ে থাকছো, সিমি তো বাধ্য নয়। তাহলে ও থাকছে কী করে?’

সাইফ জবাব দিলো না। হয়তো সিমি তাকে ছাড়া আসলেই শান্তিতে আছে। সারাক্ষণ কাউকে জানাতে হচ্ছে না সে কী করছে, ঠিকমতো খাচ্ছে কি না, ঘুমোচ্ছে কি না। আসলে সিমি কেমন আছে, তা সিমিই জানে। সাইফ এ বিষয়ে আর কিছু আন্দাজ করতে পারে না।

সিনথিয়া বলতে থাকলো, ‘কে জানে হয়তো সিমি অলরেডি কোনো ফ্রেন্ড পেয়ে গেছে, যার সঙ্গে সে তার সবকিছু শেয়ার করছে। দেখা যাবে একসময় তার সঙ্গে সিমির রিলেশন হবে। সিমি হ্যাজ মুভড অন, সাইফ। তোমাকেও বাস্তবতা মেনে নিতে হবে।’
রিলেশনে মুভ অন কথাটা শুনলেই যেন অনেকটা গা জ্বলে উঠে সাইফের। কিন্তু আজ কিছু বললো না। হয়তো সত্যিই এগিয়ে গেছে সিমি, কিংবা দ্রুতই সাইফকে পেছনে ফেলে নিজের জীবন নিয়ে এগিয়ে যাবে। পারবে না কেবল সাইফ। অন্য কোনো মেয়ে হলে হয়তো পারতো। ইন ফ্যাক্ট, পেরেছিলও। কিন্তু সিমির ব্যাপার সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে সাইফ অসহায়। সে সিমিকে কোনোদিনই ভুলতে পারবে না।
সিনথিয়া বলে চলল, ‘সাইফ কতদিন অপেক্ষা করতে পারবে তুমি সিমির জন্য? আরও ৬ মাস? এক বছর? দুই বছর? তারপর তো কাউকে না কাউকে কাছে টানবেই ঠিক না? আমারই ভাগ্য খারাপ। আমি বেশি আগে চলে এসেছি তোমার কাছে।’

সাইফ স্থির কণ্ঠে বলল, ‘আমি আগেই বলেছি সিনথি, আমি সিমির জন্য সারাজীবনই অপেক্ষা করে থাকবো। ও যদি কোনোদিন আসে তো আসবে। সেটা দশ বছর হোক বা পনেরো বছরই হোক কিংবা তার বেশি হোক। সিমির জন্য অপেক্ষা করতে আমার কোনো কষ্ট নেই। আশাভঙ্গের কষ্ট সহ্য করার চেয়ে আশা করতে করতে মরে যাওয়াও আমার জন্য ভালো।’
‘আর যখন সিমির বিয়ে হয়ে যাবে?’ সাইফের দিকে সরাসরি তাকালো সিনথিয়া। সাইফ কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। তারপর ধীরেসুস্থে বললো, ‘ওর হাজব্যান্ডের সঙ্গে ও সুখী হোক আমি এটাই চাই। কিন্তু যদি বাই এনি চান্স ও সুখী না হয়, যদি কখনো ও আমার অভাব ফিল করে, ও তো আসতেও পারে। তাই না?’

সিনথিয়া যেন আকাশ থেকে পড়লো। এতক্ষণে বুঝলো সাইফের সঙ্গে তর্ক করা বৃথা। সে এতোদিন সাইফের কাছ থেকে সিমির সম্পর্কে সব শুনেছে কেবল তার নিজের কৌতুহলের জন্যই নয়, বরং সাইফকেও হালকা করার জন্য। যাতে কাউকে কিছু বলে সাইফ নিজের কষ্ট কিছুটা হালকা করতে পারে। কিন্তু এ যে এক অন্য সাইফকে দেখছে সে। যে কি না টোটালি আউট অফ মাইন্ড!

সিনথিয়া আর কথা বাড়ালো না। বুঝলো, ওর যাবার সময় হয়ে এসেছে। এখান থেকে চলে গেলে সাইফের সঙ্গে ওর হয়তো আর কোনোদিন কথা হবে না। সাইফের সঙ্গে নেটে যোগাযোগ নেই সিনথিয়ার। সিনথিয়া চেয়েছিল সাইফই ওর কাছে ওর ইমেইল বা আইডি জানতে চাইবে। কিন্তু সাইফ কখনো জানতে চায়নি, সিনথিয়াও রাগ করে দেয়নি। তাই ওদের যোগাযোগের হয়তো এখানেই ইতি।

সাইফকে প্রায় ফিসফিস করে বলল সিনথিয়া, ‘ঠিক আছে। আমি চলে যাচ্ছি। তুমি ভালো থেকো। আর যদি কখনো সিমি ফিরে আসে, তাহলে সেই সময়ের কথা ভেবে তোমাদের দু’জনের জন্য অগ্রিম শুভ কামনা রইলো।’
সাইফ মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইলো। দূরে ফুটবল খেলা জমে উঠেছে।

সিনথিয়া ঘুরে হাঁটতে শুরু করলো। আস্তে আস্তে সাইফ আর সিনথিয়ার দূরত্ব বাড়তে থাকলো। সেইসঙ্গে বাড়তে থাকলো আকাশের কালো মেঘ। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই যেন বৃষ্টি নামলো। খুশি হলো মাঠে খেলতে থাকা ছেলেগুলো। খুশি হলো সাইফ, খুশি হলো সিনথিয়া। তাদের চোখের পানিগুলো বৃষ্টির আড়ালে ঢাকা পড়বে বলে।

সিনথিয়া হাঁটছে। তার খুব মন খারাপ লাগছে। শেষবারের মতো পেছনে ফিরে তাকাতে খুব ইচ্ছে করছে। সেই ইচ্ছেটাকে জোর করে আটকে রেখেছে সে। মাটির দিকে তাকিয়ে আনমনেই বিড়বিড় করে বলে উঠলো, ‘আই লাভ ইউ, সাইফ।’

আর কিছুদূর পেছনে সাইফও বৃষ্টিতে ভিজছে। কোনোকিছুরই পরোয়া নেই এমনভাবে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকালো সাইফ। মনের অজান্তেই নাকি ইচ্ছে করেই সাইফের মুখ থেকেও বেরিয়ে এলো মনের কথা, ‘আই লাভ ইউ, সিমি।’

বৃষ্টির মাঝে তাদের চোখের পানিগুলোকে আলাদা করে চিনতে পারলো না কেউই। এভাবেই বুঝি প্রকৃতি মানুষের যার যার কষ্ট অন্যদের কাছ থেকে আড়াল করে রাখে।

৩০
চুপচাপ বসে রইলো ছেলেটি কিছুক্ষণ। কখন কাঁদতে শুরু করেছে সে নিজেও টের পায়নি। টেবিলে রাখা কাগজ ভিজে যাওয়ায় টের পেলো। কাঁদার সময় অজান্তেই চোখ বন্ধ হয়ে যায় তার। এতে চোখের পানিগুলো তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যায়। চোখের পানি তাড়াতাড়ি বের করে দিয়ে অবশ্য কষ্টগুলোকেও ঝেঁটিয়ে বিদায় করা যায় না। কিন্তু কিছুটা শান্ত থাকা যায়। মেঘ যেমন অনেক পানি জমলে বৃষ্টি ঝড়িয়ে নিজেকে হালকা করে নেয়, মানুষও যেন অনেকটা তেমনই।

টেবিলে ছড়িয়ে থাকা কাগজগুলোর প্রথম পৃষ্ঠাটা খুঁজে বের করলো সে। এবার খুব মনোযোগের সঙ্গে পুরোটা লেখা আবার পড়তে শুরু করলো। কলমটার কালি প্রায় শেষ হয়ে আসছে। আরেকটা কলম বের করে নিল। পুরোটা লেখা জুড়ে যতগুলো সাইফ আর সিমি লেখা আছে, সবগুলো একটা একটা করে কেটে নিজের নাম আর নিজের ভালোবাসার মানুষটার নাম বসালো সে। এতোদিন নামগুলো বদলে রেখেছিল, যেন কারো হাতে পড়লে হঠাৎ করে কেউ বুঝতে না পারে। এবার আসল নামগুলো বসিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লো সে। কখনো সিমির কথা পড়ে হাসলো। কখনো চোখের পানি শুকানোর জন্য পড়া থামিয়ে সময় নিল।

পুরোটা লেখা পড়া শেষ হওয়ার পর স্ট্যাপলার দিয়ে পিন আপ করলো সবগুলো। রাত এখন প্রায় সাড়ে তিনটা। রান্নাঘর থেকে ম্যাচের বাক্সটা এনে রাখতে ভুল করেনি ছেলেটা। কাগজগুলো তুলে ধরে এক কোণে আগুন ধরিয়ে দিলো সে। আগুন নিজের ইচ্ছেমতো গিলে খেলো সবগুলো কাগজ। পাশে রাখা বিনে সেটা ফেলল সে। পুরো কাগজটা পুড়ে কেবল স্ট্যাপলারের পিনটা অক্ষত রইলো। ছেলেটা আগে থেকে গুণে রাখেনি, তাহলে সে জানতো ঐ বিনে এমন আরও ছয়টা অক্ষত পিন রয়েছে।

কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইলো ছেলেটা। তার ভালোবাসার মেয়েটার অনেক কথাই মনে পড়ছে তার। সেসব কথা বলার মতো কেউ নেই তার। কারো সঙ্গে কোনোদিনই সে ভালোমতো মিশতে পারেনি। আর মেয়েদের সঙ্গে মেশার তো প্রশ্নই আসে না। আগে যাই মিশতো, এখন যতোটা সম্ভব এড়িয়ে চলে। কারণ, প্রত্যেকটা মেয়ে ওকে ওর ভালোবাসার মানুষটার কথা অনেক বেশি মনে করিয়ে দেয়। সে তাকে ভুলে থাকতে চায় এমনটা না, কিন্তু তবুও সে কষ্ট পেতে চায় না। সে কেবল এক বুক আশা আর ভালোবাসা নিয়ে অপেক্ষা করে।

কিন্তু মানুষকে কারো সঙ্গে মনের কথা ভাগাভাগি করে নিতেই হয়। ছেলেটি ভাগাভাগি করে নেয় নিজের সঙ্গে। আর এখানে সঙ্গী হিসেবে থাকে কলম আর একগুচ্ছ কাগজ। প্রতিবার কল্পনায় কাউকে বন্ধু হিসেবে ধরে নেয়, নিজের মতো করে সাজায় ঘটনাক্রম। এরপর তার ভালোবাসার মানুষ ও তার নিজের সুখময় স্মৃতি ও কষ্টময় ইতির কথাগুলো লিখতে থাকে। নিজের আনন্দ নিজেই তৈরি করে নেয়, আর কষ্ট তো সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে তার জন্য দেয়াই আছে।

আজ রাতে আর নতুন করে শুরু করতে ইচ্ছে করছে না। তাই কাগজগুলো গুছিয়ে রেখে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো ছেলেটা। ভাবতে থাকলো তার সুখী সময়গুলোর কথা। তার জীবনে সেই মেয়েটা আসার আগ পর্যন্ত নিজের জীবনে বড় কিছু হওয়ার প্রত্যাশা তার প্রায় ছিলই না। ও আসার পরই নিজেকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ও। প্রথম স্বপ্ন হয় মেয়েটার সঙ্গে সুখী সংসার গড়ে তোলা। তারপর নিজের পায়ে দাঁড়ানো। বড় কিছু একটা করার। আর ও চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এগুলোও নিয়ে গেছে।

হতাশাগ্রস্থ কোনো মানুষের জীবনে হয়তো একটা মেয়ে ও তার ভালোবাসাই জাগিয়ে তুলতে পারে। বোধহয় এ জন্য বলা হয়, প্রতিটা সফল মানুষের পেছনেই একজন মেয়ে থাকে। বাস্তবে প্রতিটা সফল মানুষের পেছনে না থাকলেও বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই এটা হয়। আর ও তেমনটাই আশা করেছিল। কিন্তু জীবন তাকে রেহাই দিল না।

শুয়ে শুয়ে ছেলেটা কল্পনা করলো একটা নিজস্ব দুনিয়া। ছোট্ট একটা ঘর। সামনে সুন্দর একটা বাগান। সেই বাগানে ফুটে রয়েছে নানান ফুল। তার ভালোবাসার মেয়েটা সেই বাগানে ফুলগুলো দেখছে আর ধীরপায়ে হাঁটছে। ছেলেটা তার পেছন পেছন হাঁটছে। মেয়েটার সঙ্গে দু’টো প্রজাপতিও উড়ছে। তাদের আসল আকর্ষণ ফুল হলেও ছেলেটার মনে হচ্ছে মেয়েটাই তাদের প্রধান আকর্ষণ। মেয়েটার বিছানার কোলবালিশের প্রতি ছেলেটার যেমন জেলাস, ঠিক তেমনি জেলাস হলো প্রজাপতি দু’টোর প্রতি। কিছুক্ষণ দৌড়ে প্রজাপতিগুলোতে যতটা সম্ভব দূর-দূর করে তাড়িয়ে দিয়ে এলো সে। তার এই পাগলামী আর ছেলেমানুষী দেখে মেয়েটা হাসতে থাকলো। এই একটা দৃশ্য দেখার জন্য ছেলেটা কতো কিছুই না করে।

বিভোর হয়ে সে তাকিয়ে থাকলো মেয়েটার হাসিমাখা মুখটার দিকে। স্বভাবমতো মেয়েটার গালে হাত রাখলো সে। মেয়েটাও যেন লজ্জায় হাসি ভেতরে নিয়ে গেল। এখন কেবল তার ঠোঁটগুলো হাসছে। এবার ছেলেটার মুখেও হাসি দেখা দিল। মেয়েটা নিজেই এগিয়ে এসে ছেলেটার বুকে মাথা রাখলো। যেন ছেলেটার মনের কথা মুখ দিয়ে বের হওয়া পর্যন্ত আর সহ্য হচ্ছে না, কান পেতে নিজেই মনের কথা শুনে নিবে। ছেলেটাও তার মাথায় হাত বুলাতে থাকলো।

কিন্তু কল্পনার দুনিয়া থেকে বের হয়ে বাস্তবে আসতেই দেখা গেল, ছেলেটার এ আনন্দ বাস্তবে আসলে এক বেদনা। কান্না থামানোর চেষ্টা না করেই সে আপন মনে বলে উঠলো, ‘আমি তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি। তুমি সারাজীবনই আমার একমাত্র পরী হয়ে থাকবে। শুধু একটাই অনুরোধ তোমার প্রতি, যতদিন পরেই হোক, যে অবস্থায়ই হোক, তুমি আমার কাছে ফিরে এসো। আমি সবসময় অপেক্ষা করে থাকবো একবুক ভালোবাসা জিইয়ে রেখে। এ ভালোবাসা কোনোদিন মরবে না। এ ভালোবাসা কোনোদিন তোমাকে আর কাঁদাবে না। কোনোদিন কষ্ট দেবে না। এ ভালোবাসা কেবল তোমাকে সুখীই করবে।’

It’s been so long
That I haven’t seen your face
I’m trynna be strong
But the strength I have is washing away
Won’t be long before I get you by my side
And just hold you, tease you, squeeze you tell you
What’s been on my mind

I wanna make up right now na na
I wanna make up right now na na
Wish we never broke up right na na na
We need to link up right na na na

Girl I know mistake were made between us too
And we showed our eyes that night even said somethings weren’t true
Why’d you go and haven’t seen my girl since then
Why can it be the way it was
Cause you are my homie, lover, and friend

I wanna make up right now na na
I wanna make up right now na na
Wish we never broke up right na na na
We need to link up right na na na.

I can’t lie
I miss you much
Watching everyday that goes by
I miss you much
Tell I get you back I m gonna cry
I miss you much
Cause you are the apple of my eye
Girls I miss you much
I miss you much
I can’t lie
I miss you much
Watching everyday that goes by
I miss you much
Tell I get you back I m gonna cry
I miss you much
Cause you are the apple of my eye
I miss you much
I miss you much

I wanna make up right now na na
I wanna make up right now na na
Wish we never broke up right na na na
We need to link up right na na na

[সমাপ্ত……….?]

(গানটি এমপিথ্রি ডাউনলোড লিংক)

2 responses

  1. Pingback: গল্পঃ My Best Friend Simi (পর্ব ১২) | দেয়ালিকা

  2. Good site! I truly love how it is easy on my eyes and the data are well written. I’m wondering how I could be notified when a new post has been made. I have subscribed to your RSS feed which must do the trick! Have a great day! February 26, 2013

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s