গল্পঃ My Best Friend Simi (পর্ব ৯)

My Best friend simi

(পর্ব ৮)

১৯
পরদিন যথারীতি তুমুল বৃষ্টি। ভোর থেকেই বৃষ্টি শুরু হলো। সেই বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষণ নেই। বাসায় বসে সাইফ ভাবছে আর আধঘণ্টা বৃষ্টি হলে কলেজেই যাবে না। কিন্তু যেই সে ভাবলো, সঙ্গে সঙ্গেই যেন বৃষ্টি কমে এলো। তাই সাইফের কলেজে না যাওয়া আর হলো না। আবার বৃষ্টি নামার আগেই কলেজে পৌঁছানোর জন্য তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে পড়লো।

কলেজে আজ ছাত্র-ছাত্রী প্রায় নেই বললেই চলে। সবাই বৃষ্টিকে অজুহাত বানিয়ে ক্লাস ফাঁকি দিয়েছে। অবশ্য এমন দিনগুলোতে ক্লাস করে অভ্যাস আছে সাইফের। তাই ওর মন খারাপ হলো না। বরং অবাক হলো যখন দেখলো ক্লাসরুমে সাত-আটজন ছেলে ছাড়াও মেয়েদের মধ্যে সিনথিয়া বসে আছে। এই বৃষ্টির দিনে সিনথিয়া কলেজে আসবে ভাবতেই পারেনি সাইফ। অবশ্য ওর আসতে কি! নিজেদের গাড়ি আছে। গ্যারেজ থেকে গাড়িতে উঠবে, কলেজের সামনে এসে নামবে। বিত্তশালীদের অনেক সমস্যাই কোনো সমস্যা না।

‘যাক এলে তাহলে,’ সিনথিয়া বলল হেসে। ‘যা বৃষ্টি নেমেছিল, আমি তো ভাবছিলাম তুমি কেন, স্যাররাই আসতে পারবে না। অবশ্য ক’জন এসেছে কে জানে।’
সাইফ বলল, ‘আমিও ভাবছিলাম আসবো না। কিন্তু যেই ভাবা সেই কাজ হওয়ার আগেই বৃষ্টি থেমে গেল। তাই আসতে হলো।’
হাসলো সিনথিয়া। ‘কপাল খারাপ তোমার। অবশ্য ভালোই হয়েছে। তুমি না আসলে আমার বোরিং কাটতো সময়।’
সাইফ কিছু বলল না। কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্লাস শুরু হলো। স্যার এসে রোলকল করে গেলেন। যাবার সময় বলে গেলেন আজ দুই কি তিনটা ক্লাস পরে ছুটি হয়ে যাবে। তাই তারা যেন গোলমাল না করে।

অবশ্য এমনিতেও আজ কলেজে গোলমাল করার মতো কেউ নেই। যারা এসেছে তারা সবাই বসে বসে গল্প করতেই বেশি পছন্দ করে।

এমন সুবর্ণ সুযোগ মিস করার কোনো মানে হয় না – ভাবলো সিনথিয়া। সে সাইফের বরাবর পাশের বেঞ্চে এসে বসলো। জিজ্ঞেস করলো, ‘রাতে ঘুমিয়েছো কয়টায়?’
‘সাড়ে তিনটার দিকে। কেন?’
‘এমনি। সকালে উঠলে কয়টায়?’
‘চারটা।’

সিনথিয়া এমন ভাবে সাইফের দিকে তাকালো যেন খুবই বেরসিক কোনো কৌতুক করেছে সাইফ। কিন্তু সাইফের চোখেমুখে কোনো ভাবান্তর না দুষ্টুমির চিহ্ন না দেখে বুঝলো সত্যি কথাই বলছে। ‘মানে তুমি সারারাতে আধা ঘণ্টা ঘুমিয়েছো?’
‘হুম।’
সিনথিয়া আর কিছু বললো না। সাইফকে কিছু বলে লাভ নেই। ও ওর মতোই চলবে। তার চেয়ে সময় নষ্ট না করে সিমির গল্প শুনে ফেলাটাই ভালো হবে বলে মনে হলো তার। তাই সে সাইফকে জিজ্ঞেস করলো, ‘সিমির সাথে ব্রেকআপ হলো কেন?’

কোনো ভূমিকা ছাড়া এর আগে সরাসরি সিমির ব্যাপারে প্রশ্ন সিনথিয়া তেমন একটা করেনি। তাই প্রথমে একটু অবাক লাগলো সাইফের। তবে সে কিছু না বলে বলতে শুরু করলো তার আর সিমির স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে যাবার গল্প।

‘সিমির আর আমার মধ্যে সম্পর্কটা এমনই ছিল যে আমাদের জীবনে অন্য কোনো ফ্রেন্ড বা কেউ বেশি কাছে আসলে আরেকজন হিংসায় জ্বলতাম। ব্যাপারটা আমার মধ্যেও ছিল, ওর মধ্যেও ছিল। আর এটাকে স্বাভাবিক বলেই মেনে নিয়েছিলাম। অবশ্য এটা কোনো সমস্যারও সৃষ্টি করেনি আমাদের মধ্যে। আমরা একজন আরেকজনকে মন দিয়ে ভালোবাসতাম। যতটা সম্ভব খেয়াল রাখতাম। মাঝে মাঝে দেখা করতাম। আর ওকে আমি একটু বেশিই ঝাড়ি দিতাম। কারণ ও সুযোগ পেলেই ওষুধ খাওয়া বা নাস্তা করা ফাঁকি দিতো। কেবল তাই না, আগেই বলেছি ও ততোটা কেয়ারফুলি চলাফেরা করতো না। রাস্তা পার হতে গেলে মনে হয় যেন পেছনে কেয়ামত শুরু হয়ে গেছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রাস্তার অন্যপাশে গিয়ে প্রাণ বাঁচাতে হবে!’

‘যাই হোক, আমাদের মাঝে সবই ঠিক ছিল। খুব অল্প কয়েকজনই আমাদের সম্পর্কের কথা জানতো। আমাদের প্ল্যান ছিল আমরা, বিশেষ করে আমি একটা ভালো অবস্থানে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ক্লোজ ফ্রেন্ডস ছাড়া আর কারো কাছে আমাদের সম্পর্কের কথা বলবো না। তাতে করে কেবল সমস্যাই তৈরি হবে। আর যেহেতু আমরা ভালো ফ্রেন্ড এটা সবাই জানতো, তাই আমাদের সেই সমস্যাগুলোও ছিল না যেগুলো সাধারণত প্রতিটা সম্পর্কেই ছেলেমেয়েকে ফেস করতে হয়। যেমন লুকিয়ে কথা বলা, লুকিয়ে দেখা করা ইত্যাদি।’

সিনথিয়া মাথা নাড়লো। আসলেই অনেক দিক দিয়ে ভাগ্য সিমি আর সাইফকে সাহায্য করেছে। এমন রিলেশন সচরাচর দেখা যায় না।

সাইফ বলতে থাকলো, ‘ছোটখাটো সমস্যা আমাদের মাঝে একেবারে যে হতো না তেমনটা না। মাঝে মাঝে ও ফোন করতে থাকতো আমি ধরতে পারতাম না। দেখা যেত বালিশের নিচে ফোন রেখে আম্মুর রুমে গিয়ে বসে আছি। এসে দেখি ওর অনেকগুলো মিসকল। তখন ও খুব রাগ করে থাকতো। কিন্তু তখন আমার নিজেরই এতো খারাপ লাগতো আর মন খারাপ হতো যে ওর রাগ ভাঙ্গানো যে দরকার সেটা খুব একটা মনে পড়তো না। আর এর মাধ্যমেই শুরু হলো একটা ভুল বোঝাবুঝি।’

‘কী রকম ভুল বোঝাবুঝি?’ সিনথিয়া জিজ্ঞেস করলো।
‘এই যেমন ধরো প্রত্যেকবার যখন এমন সমস্যা হতো, তখন আমার নিজেরই খারাপ লাগতো, অপরাধবোধটা অনেক বেশি লাগতো। যার কারণে আমি চুপ করে থাকতাম। আর আমার এই চুপ করে থাকাটাকেই কেয়ারলেস হিসেবে ধরে নিয়েছে সিমি। যার ফলে ওর মধ্যে আস্তে আস্তে এই ধারণাটা বদ্ধমূল হয়ে গেছে যে আমি ওকে পাত্তা দিচ্ছি না, ওর রাগ ভাঙ্গানোর প্রয়োজন মনে করছি না, কিংবা ওর রাগটাকে কিছু মনেই করছি না। বিশ্বাস করো সিনথি, আমি যদি ঘুণাক্ষরেও কোনোদিন টের পেতাম যে ওর মনে এই ধারণাটা দানা বাঁধছে, আমি সত্যিই এই ব্যাপারটায় খেয়াল করতাম। কিন্তু তখন আমার মধ্যে কমন সেন্সের চেয়ে অপরাধবোধই বেশি কাজ করতো। যে কারণে এই দূরত্বটা তৈরি হতে থাকলো।’

বাইরে তখন আবারো বৃষ্টি নেমেছে। ততোটা ভারি বর্ষণ নয়, কিন্তু আকাশ ধোঁয়ার মতো কালো হয়ে আছে। সাইফ জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। তার চোখের কোণের অশ্রু সিনথিয়ার নজর এড়ালো না। এখানে বসে থাকার চেয়ে বারান্দায় চলে যাওয়া ভালো মনে হলো সিনথিয়ার কাছে। তাই সে উঠে সাইফকে বলল, ‘বারান্দায় চলো। বারান্দায় শুনবো।’

সাইফ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে উঠে সিনথিয়াকে অনুসরণ করলো।

২০
আকাশটা কালো হয়ে আছে। দেখলে যে কেউ হয়তো বলবে, আকাশটার আজ মন খারাপ। থেকে থেকেই বৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে। সামনের বিশাল মাঠে পানি জমে গেছে সকাল থেকে ভারি বৃষ্টিতে। সেই পানিতে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ার দৃশ্য দেখে যে কেউ তার স্বপ্নগুলো মনে মনে কল্পনা করতে ভালোবাসবে। কিন্তু যাদের স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে, তাদের জন্য বুঝি এ দৃশ্য আরো মন খারাপ করে দেয়।

সিনথিয়া বলল, ‘তারপর কী হলো?’
সাইফ বলতে থাকলো, ‘এভাবে ওর মধ্যে একটা ধারণা সৃষ্টি হতে থাকলো যে আমি ওকে আগের মতো আর পাত্তা দেই না, ভালোবাসি না। সত্যি কথাই বলবো, ও আমাকে অনেকবারই বলেছে যে এভাবে চলতে পারে না। আমি নিজেও ও যতোবার বুঝিয়েছে ততোবারই বুঝেছি। ভেবেছি এখন থেকে সব ঠিকঠাক রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। কারণ সত্যি বলছি, ও আমার জীবনে না থাকলে আমার যে কী অবস্থা হবে তা আমি আজ নতুন বুঝছি না, আমি আগে থেকেই ধারণা করতে পারতাম ও আমার সাথে না থাকলে আমার কষ্ট কতোটা কঠিন হবে। পার্থক্য এতটুকুই, আগে আন্দাজ করতে পারতাম, আর এখন ভোগ করি।’

সিনথিয়া চুপ করে থাকলো। তার কাছে এখন চুপ করে অপেক্ষা করা ছাড়া করার বা বলার কিছু নেই।

কিছুক্ষণ পর সাইফ আবার বলতে শুরু করলো, ‘একদিন আমাদের সমস্যাটা অনেক বেড়ে গেল যখন ওর এক ফ্রেন্ড ওকে পরপর তিনদিন এসএমএস দিলো।’
‘কী এসএমএস?’
‘আহামরি কিছু না। এই যেমন গুড মর্নিং, ওয়েক আপ ইত্যাদি।’
‘ছেলে ফ্রেন্ড ছিল?’ সিনথিয়ার প্রশ্ন।
‘হ্যাঁ, কিন্তু সেখানে আমার সমস্যা নয়। আমার সমস্যা হলো একটা ফ্রেন্ড হঠাৎই পরপর তিনদিন মেসেজ দেয়া শুরু করে দিলো কেন? যেন হঠাৎই সিমির নজরে পড়তে চাচ্ছে, কিংবা সিমিকে তার নজরে পড়েছে হঠাৎ। এজন্য তার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে। কিন্তু আমি যখন জিজ্ঞেস করলাম, সিমি বলল এটা কিছু না। সেটা নাকি খুবই স্বাভাবিক ছিল।’

সিনথিয়া চুপ করে রইলো। সাইফ বলতে থাকলো, ‘সিমির ছেলে বন্ধু থাকতেই পারে; আছেও। সে এসএমএস দিলে সেটাও কোনো মহা সমস্যা নয়। কিন্তু তাই বলে হঠাৎ করে পরপর তিনদিন মেসেজ দেয়া শুরু করে দিলো? এরপর আমার রাগ আরও বাড়লো যখন জানলাম ও সিমির সঙ্গে পরপর দুইদিন দেখাও করেছে।’
‘কীভাবে?’ সিনথিয়া জিজ্ঞেস করলো।
‘প্রথমদিন কী যেন একটা নোট নিবে বলে ওকে বাইরে ডেকে নিয়ে গেল। আমি জানতাম সেটা। তখন কোনো সমস্যা মনে হয়নি। পরদিন আবার ওর বাসার সামনে গিয়ে ওকে ফোন করে বলল বারান্দায় আসতে। বারান্দায় গেল সিমি, ওর সঙ্গে ছেলেটার দেখা হলো দূর থেকে। আর ঠিক ঐ তিনদিনই সকালে ওকে মেসেজ দিয়েছিল ও।’

সিনথিয়া চিন্তায় পড়ে গেল। ওর কাছেও খুব একটা মানানসই মনে হচ্ছে না ব্যাপারটা। সাইফ বলল, ‘সত্যি কথা বলতে কি, এরপর থেকে কয়েকদিন ঐ ছেলেটা কোনো মেসেজ পাঠায়নি বা দেখা করতে চায়নি। অবশ্য সিমি পড়তে গেলে এমনিতেই দেখা হতো। কিন্তু টানা তিনদিন এভাবে মেসেজ দেয়া, দেখা করা, এমন হলে আমার ধারণা যে কোনো ছেলেরই বেমানান লাগবে এবং খুব খারাপ লাগবে।’

‘লাগাটাই স্বাভাবিক।’
‘আমাদের সমস্যাটা আরও বড় আকার ধারণ করে সেখানেই। ব্যাপারটা তিনদিন ঘটলেও এর রেশ ছিল প্রায় এক সপ্তাহ। আমি ওকে যতোই বুঝাতে চেষ্টা করলাম যে ব্যাপারটা স্বাভাবিক না, ও ততোই জেদ করলো যে এটা কিছুই না। বিলিভ মি, সিমি নিজেই একদিন বলেছিল যে দ্বিতীয়দিন বারান্দায় ডেকে দেখা করাটা একটু অন্যরকম মনে হওয়ার মতো। কিন্তু তিন-চারদিন পর সিমি নিজের কথাটাও ভুলে গেল। ও বলতে শুরু করলো ব্যাপারটা কিছুই না।’

‘তখন আমি কিছুতেই ব্যাপারটা মেনে নিতে পারছিলাম না। আমি সিমিকে সন্দেহ করছিলাম এমনও না। কিন্তু ছেলেটার অ্যাপ্রোচ আমার ভালো লাগেনি তাই ওর সঙ্গে তর্ক করছিলাম। আমি স্বীকার করছি, ব্যাপারটা নিয়ে হয়তো আমি তর্ক একটু বেশিই করেছি। হয়তো আমার ব্যাপারটা ইগনোর করা উচিৎ ছিল। এখন এটা মনে হচ্ছে কারণ, সিমি এখন যুক্তি দেখাচ্ছে, আগে আমাদের ঝগড়া হতো একদিন কি দুইদিন, আর এখন ঝগড়া হয় এক সপ্তাহ। আর এটা বাড়বেই।’

সিনথিয়া চুপ করে রইলো। ভুল বোঝাবুঝিটা সে বুঝতে পারছে।

‘তুমিই বলো সিনথি, তর্ক-ঝগড়া হবেই। এটা এড়ানোর কোনো উপায় নেই। এটা মেনে নিয়েই রিলেশনে থাকতে হয়। তুমি কারো কাছ থেকে কেবল ভালো আশা করতে পারো না। তার ভালো দিকের সঙ্গে খারাপ দিকও কিছুটা থাকবেই। আমি স্বীকার করবো, যে সিমির কাছে আমি বলার মতো কোনো খারাপ দিকই পাইনি। আগেই বলেছি, ও ছিল অন্যরকম একটা মেয়ে। কিন্তু আমি ঐ সময়ে তর্ক না করেই বা কীভাবে থাকতাম বলো? যদি ইগনোর করতামও, আমার মনে কি একটা সন্দেহ দানা বাঁধতো না? আমার কি একটা অস্বস্তি থেকে যেতো না যে অন্য একটা ছেলে ওর কাছে আসতে চাচ্ছে কি না? আমি বিশ্বাস করি সিমি আমার সাথে প্রতারণা করতো না। কিন্তু যতই বিশ্বাস থাকুক না কেন, এমন সময়ে কি শান্ত থাকা যায়?’

মাথা নাড়লো সিনথিয়া। সাইফ বলতে থাকলো, ‘এই ঘটনার পর দুই-তিনদিন আমাদের কোনো কথা হলো না। তারপর সিমি জানালো, আমাদের দু’জনেরই আরেকবার ভেবে দেখা উচিৎ রিলেশনটা রাখা যাবে কি না। ও আমাকে ভাবার জন্য একদিন সময় দিলো। নিজেও একদিন সময় নিলো। কিন্তু ও একদিন অপেক্ষা করতে পারেনি। সেদিন রাতেই, মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই ও আমাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করলো আমি কী ঠিক করেছি। আমি বললাম, আমি তাকে ছাড়া থাকতে পারবো না। তাই আমি চেষ্টা করবো বদলাতে।’

‘সিমি বলল, মানুষ নিজেকে বদলাতে পারে না। কিন্তু সিমি এটা লক্ষ্য করলো না যে আমি নিজেকে বদলাচ্ছি না। আমাদের সম্পর্কের প্রথম দিকের বেশ লম্বা একটা সময় আমাদের খুবই ভালো কেটেছে। তখন সেটা কে ছিলো? আমি না? তাহলে আমার নিজেকে বদলানোর তো প্রশ্ন আসছে না।’

সিনথিয়া জিজ্ঞেস করলো, ‘তারপর সিমি কী বলল?’
‘সেদিন রাতে আর তেমন কথা হয়নি। পরদিন সকালে সিমি ফোন করে বলল, আমাদের যেভাবে চলছে সেভাবে সে থাকতে পারবে না। আবার সম্পর্ক ভেঙ্গে দিয়েও সে থাকতে পারছে না। এখন সে কী করবে? আমার খুব খারাপ লেগেছিল, আবার ভালোও লেগেছিল যে ও আমাকে এতো ভালোবাসে দেখে। আমি বললাম, ঠিক আছে, আমরা দু’জন আবারো চেষ্টা করি আগের মতো হয়ে যেতে। যেহেতু আমরা এমন ছিলাম, অবশ্যই আমরা চেষ্টা করলে আগের মতো হতে পারবো। ও সঙ্গে সঙ্গে রাজি হলো। আমিও জোর করে মন থেকে ঐ ছেলে আর তার মেসেজের কথা দূর করলাম।’

‘কিন্তু তবুও আমাদের সম্পর্কটা টিকলো না!’ সাইফের গলা পরিবর্তিত হতে শুনে ঝট করে সাইফের দিকে তাকালো সিনথিয়া। কান্না ঠেকানোর প্রাণপণ চেষ্টাটা ওর নজর এড়ালো না। বাইরে তখন তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে। সেই বৃষ্টির ফোঁটার দিকে তাকিয়ে সিনথিয়া আপনমনে ভাবলো, কিছু কিছু মানুষ এতো বেশি ভালোবাসে কী করে? আর যারা এতো বেশি ভালোবাসে, তাদেরই কষ্ট পেতে হয় কেন?

সিনথিয়া অপেক্ষা করতে থাকলো ঘটনার শেষটা শোনার জন্য।

(পর্ব ১০)

3 responses

  1. Pingback: গল্পঃ My Best Friend Simi (পর্ব ৮) | আমিনুল ইসলাম সজীবের বাংলা ব্লগ

  2. Pingback: গল্পঃ My Best Friend Simi (পর্ব ৮) | আমিনুল ইসলাম সজীবের বাংলা ব্লগ

  3. Pingback: গল্পঃ My Best Friend Simi (পর্ব ১০) | আমিনুল ইসলাম সজীবের বাংলা ব্লগ

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s