গল্পঃ My Best Friend Simi (পর্ব ৭)

My Best friend simi

(পর্ব ৬)

১৫
রেস্টুরেন্টে পৌঁছে দেখলো মাত্র খুলেছে রেস্টুরেন্টটা। এখনো ভেতরটা গোছগাছ করাও হয়নি। রেস্টুরেন্টটা চালাচ্ছে অল্পবয়সী এক ছেলে। সিনথিয়াকে দেখেই সে সিনথিয়ার খোঁজ খবর নিলো। কলেজ পালিয়ে এসেছে সেটা দেখেই বুঝেছে তাই এ নিয়ে আর কিছু জিজ্ঞেস করলো না। ওদেরকে বসতে বলল। খাবার দিতে আরও কমপক্ষে এক ঘণ্টা লাগবে বলে জানালো। সিনথিয়াও জানিয়ে দিলো ওদের সময় দুপুর পর্যন্ত অফুরন্ত!

সিনথিয়া তার ব্যাগ পাশের চেয়ারে রেখে আরাম করে বসলো। বসেই সাইফকে তাগাদা দিতে শুরু করলো সিমির কথা শুরু করতে। সাইফের খানিকটা অবাকই লাগলো। অন্য কেউ হলে অবাক হতো না। ভালোবাসার সত্যি গল্প শোনার আগ্রহ অনেকেরই থাকে। কিন্তু সিনথিয়ার ক্ষেত্রে তো ব্যাপারটা ভিন্ন। তবুও সে বলতে শুরু করলো।

‘সিমি একদিন জানালো ও আর ওর বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে রিলেশন রাখবে না। ব্যাপারটা শুনে আমি খুব একটা অবাক হইনি। কারণ মাত্র ২ মাসে আমি ওকে বহুবার এমন একশ’ ভাগ সিরিয়াস ডিসিশন নিতে দেখেছি। প্রতিবারই আমার মনে হয়েছে এবার ও আর সুযোগ দেবে না। কারণ, প্রতিবারই ওর এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার পেছনে কারণ থাকে। সেবার জানলাম ওর বয়ফ্রেন্ড তার একটা ফ্রেন্ডকে দিয়ে সিমিকে কথা শুনিয়েছে। অর্থাৎ, তৃতীয়পক্ষের একটা মানুষকে হর-হামেশাই ওর বয়ফ্রেন্ড ওদের মাঝে ইন্টারফেয়ার করতে দিতো। কেবল তাই না, সে সিমিকে রীতিমতো বকাঝকাও করতো। এসব শুনে আমার অবাকই লাগতো, রাগও হতো। কিন্তু কখনো জোর দিয়ে বলতাম না যে রিলেশন ব্রেক আপ করে ফেল। কারণ, আমিও একটা ছেলে। স্বাভাবিকভাবেই একটা মেয়েকে এই বিষয়ে জোর করলে ব্যাপারটা অন্য রূপ নেয়।’

সিনথিয়া মাথা দোলালো।

‘প্রায় দশ-বারোবার সুযোগ দেয়ার পর সেবারই ছিল সিমির শেষ সিদ্ধান্ত। ও ঠিক করলো, আর যত যাই হোক, ও কখনোই ওর বয়ফ্রেন্ডের কাছে ফিরে যাবে না। আমি প্রথম দিকে কিছু বলিনি। পরে অবশ্য কয়েকবার ওকে বলেছি ওর বয়ফ্রেন্ডের বিষয়টা ভেবে দেখতে। কারণ, ব্যক্তিগতভাবে আমি যে কোনো রিলেশন ভেঙ্গে যাওয়া দেখতে পছন্দ করি না। এমনকি চিনি না জানি না এমন মানুষের ক্ষেত্রেও সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার কথা শুনলে আমার মন খারাপ হয়ে যায়। কারণ, একটা সম্পর্কে শুধু দু’টো মানুষ নয়, তাদের হাজার হাজার স্বপ্ন লুকিয়ে থাকে। এই একটা জিনিস যে কোনো কঠিন মনের মানুষকেও শিশুর মতো অনুভূতি দিতে পারে। তাই আমি কয়েকবার ওকে বলেছিলাম আর একবার হয়তো ভেবে দেখতে পারে। কিন্তু ও তার সিদ্ধান্তে অটল ছিল। আমারও ওর এতো কষ্ট পাওয়া দেখতে ভালো লাগতো না। তাই আমিও তেমন কিছু বললাম না। ওর জীবন, সিদ্ধান্তও ওর।’

‘কিন্তু পুরোপুরি ব্রেকআপের পর মানসিকভাবে সিমিও অনেক ভেঙ্গে পড়েছিল। ওর মধ্যে এই ধারণাটা পাকাপোক্তভাবে জায়গা করে নিয়েছিল যে ওর জীবনটা শেষ হয়ে গেছে।’
সিনথিয়া অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, ‘আশ্চর্য! একটা রিলেশন ব্রেকআপ হলে জীবন শেষ হওয়ার কী আছে?’

‘তখন আমি ওকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলাম যে আজকের যুগে এটা এমন বড় কোনো ব্যাপার না। এমনটা হতেই পারে যেহেতু ওর সঙ্গে একটা সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ও তবু মানতে চাইতো না। ও ভাবতো ওর জীবনটা ওখানেই শেষ। আমি ওকে সবসময়ই বলে এসেছি যে দেখ, কেউ যদি তোকে ভবিষ্যতে সত্যি সত্যি ভালোবাসে, সে তোর অতীত নিয়ে ঘাঁটাবে না। ভালোবাসা মানুষের অতীত দেখে না, কেবল ভবিষ্যত নিয়ে স্বপ্ন বুনে। কিন্তু সিমির মনে কোনো ধারণা গেঁথে গেলে সেটা ছাড়ানো প্রায় অসম্ভব। তবুও আমি ওকে সঙ্গ দিলাম। ওকে ইন্সপায়ার করে চললাম।’

সিনথিয়া মাথা দোলালো, ‘তারপর?’
‘এর মধ্যে আরেকটা ঘটনা হয়েছিল। কিছু সমস্যার কারণে আমি বেশ সিরিয়াস একটা ডিসিশন নিয়েছিলাম।’
‘কী ডিসিশন?’
সাইফ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো। তার দৃষ্টি টেবিলের দিকে। ধীরে ধীরে সে বলল, ‘বলতে পারো আত্মহত্যা করার একটা চেষ্টা।’
সিনথিয়া অবাক হয়ে গেল। বলল, ‘বলো কী? কেন? কী হয়েছিল?’
‘নতুন কিছু না। আমি নিজেও যথেস্ট স্ট্রেসের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি। ব্যাপারটা ছিল পারিবারিক। কাকতালীয়ভাবে আমাদের দু’জনেরই পারিবারিক সমস্যা থাকলেও আমাদের সমস্যাটা বেশি ছিল। কারণ, সব সমস্যার উপর কাটা ঘায়ে নুনের ছিটার মতো আমাদের ছিল প্রবল আর্থিক টানাপোড়েন। সব মিলিয়ে খুবই খারাপ অবস্থার মধ্যে আমি দিন কাটিয়েছি যেটা বাইরের কাউকে এমন কি তোমাকেও বলে বোঝানো সম্ভব নয়। কিন্তু তবুও আমি ভালো থাকতাম। এর কারণ এই নয় যে সিমি আমাকে ইন্সপায়ার করতো। হ্যাঁ, আমি স্বীকার করবো যে সিমিও আমাকে অনেক উৎসাহ যুগিয়েছে। কিন্তু ঠিক ঐ সময়টায় আমিই সিমিকে বেশি উৎসাহ যুগিয়েছি, মন ভালো করার চেষ্টা করেছি। কারণ, ও একটা রিলেশনশিপের সমস্যায় ছিল। আর আমার মতে একটা রিলেশনশিপের সমস্যা অন্য যে কোনো সমস্যার চেয়ে প্রবলভাবে মনের উপর প্রভাব ফেলে।’

সিনথিয়া বলল, ‘হুম, তা সত্যি।’
‘তবে একটা কথা কি জানো, ওকে এই ইন্সপায়ার করেই আমি অনেক আনন্দ পেতাম। ভেবে দেখো, একটা মেয়ে, যে আমার খুব ভালো ফ্রেন্ড, তাকে উৎসাহ যোগানোর মতো আমি ছাড়া কেউ নেই, যে আমার উপর ভরসা করে, একমাত্র আমিই যার মন ভালো করতে পারি, যে আমার সঙ্গে সব শেয়ার করতে পারে, এই অনুভূতির সঙ্গে পৃথিবীর আর কোনোকিছুর তুলনা হয় না।’
‘হুম।’
‘কিন্তু তবুও একবার আমি নিতান্তই বেপরোয়া হয়ে গেছিলাম। বেশ কিছু জিনিসপত্র জোগাড়ও করে ফেলেছিলাম সুইসাইডের জন্য। সেগুলো আজও সিমিকেও জানাইনি। আসলে সাহস পাইনি। আমরা একজন আরেকজনকে শাসনও করতাম সেভাবেই। তাই বলতে পারো ভয়েই সিমিকে আজও বলতে পারিনি সেদিন আমি কী জোগাড় করেছিলাম,’ সাইফ হাসলো।
‘আমাকে বলা যাবে?’ উৎসাহের সঙ্গে জিজ্ঞেস করলো সিনথিয়া। কিন্তু তাকে হতাশ করে দিয়ে মাথা নাড়লো সাইফ।

‘সময়টা ছিল কুরবানীর ঈদের সময়। ও বাসায় যেতে বলেছিল। আমি গেলাম। তখনও সিমির বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ওর ব্রেকআপ হয়নি। আমি সেদিন সন্ধ্যায় ওকে সব খুলে বলেছিলাম। ওকে খুব শান্তভাবে বলেছিলাম আমার সিদ্ধান্তের কথা। কিন্তু আমার কথা শেষ করে ওর দিকে তাকাতেই বুকটা যেন ধ্বক করে উঠেছিল। ও চুল দিয়ে যতোই ঢাকার চেষ্টা করুক ওর চোখের পানি আমার নজর এড়ায়নি। সত্যি বলছি, আমি রীতিমতো অবাক হয়েছিলাম। সিমি কাঁদছে কেন?’

‘সিমি সেদিন আমাকে কিছু কথা বলেছিল। কথাগুলো আমিই ওকে বলেছিলাম, সে আমাকে কথাগুলো মনে করিয়ে দিচ্ছিল।’
সিনথিয়া জিজ্ঞেস করলো, ‘কী কথা?’
সাইফ সিনথিয়ার উৎসাহ দেখে বলতে শুরু করল, ‘তেমন কিছু না। আমি মজা করে বলতাম ওদের বিয়ের পর ওর যখন ছেলেমেয়ে হবে তখন আমি খুব রসিয়ে রসিয়ে ওদের দু’জনের প্রেম কাহিনী ওর বাচ্চাদের শোনাবো। আর বলতাম প্রায়ই আমি গিয়ে ওর বাচ্চা নিয়ে চলে আসবো। শুধু বাবুর খিদে পেলে বাবুকে নিয়ে খাইয়ে আবার নিয়ে আসবো।’

সিনথিয়ার মুখটা হাসি হাসি হয়ে গেল। সে কথাগুলো শুনে ও কল্পনা করে খুব মজা পাচ্ছে। যেন অত্যন্ত আন্তরিক দু’জন বন্ধুর গল্প শুনছে।

সাইফ বলল, ‘সিমি সেদিন বলেছিল যে, ও আমার এই সব কথা কল্পনা করেছে। ও মনে মনে ভেবেছে যে একদিন ওদের বিয়ে হবে আর আমি ওদের বাসায় গিয়ে এইসব শয়তানী করবো। আজ আমার এই সিদ্ধান্ত শুনে সে খুবই ভেঙ্গে পড়েছে।’

‘আমি সিমিকে এর আগে একবার কাঁদতে শুনেছি। বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ঝগড়া করে আমার সাথে কাঁদছিল। আমি কোনোরকমে শান্ত করেছিলাম। কিন্তু আজ জীবনের প্রথম ওর মুখে কান্না দেখতে পেলাম, যেই মুখে আমি কেবল হাসি দেখতেই পছন্দ করি। তারচেয়েও বড় কথা, এই কান্না ছিল আমার জন্য। আমার বিশ্বাস করতেও কষ্ট হচ্ছিল যে আমি মরে গেলে কেউ আমাকে “কাঁদার মতো” মিস করবে।’

সাইফ চুপ করলো। রেস্টুরেন্টের জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছে বাইরে তখন বৃষ্টি হচ্ছে। টুপটাপ বৃষ্টি নয়, একেবারে প্রবল বর্ষণ। সিনথিয়াও অধীর আগ্রহে সাইফের দিকে তাকিয়ে আছে ওর কথা শোনার জন্য।

সাইফ একটু পর বলতে শুরু করলো, ‘বিশ্বাস করবে না সিনথি, আমি কতোটা কষ্ট বুকে নিয়ে সেদিনের সব পরিকল্পনা বাতিল করেছি শুধু সিমির জন্য। ও আমার জাস্ট একটা ফ্রেন্ড ছিল। কিন্তু এতোই মূল্যবান যার জন্য আমি একশো’টা কষ্ট মাথায় নিয়ে বেঁচে থাকতে পারি। বিশ্বাস করো, ঐদিন যদি আমি ওর বাসায় না যেতাম বা ও আমাকে না ঠেকাতো, আজ আমি এখানে থাকতাম না। আজ আমি হতাম মৃত পচা-গলা এক লাশ।’

সিনথিয়া মাথা নিচু করে বসে রইলো। ওর এই ধরনের কথা শুনতে গা শিরশির করে।

‘যাই হোক, ওর জন্যই আমি বেঁচে রইলাম। পরে যখন ওর ব্রেকআপ হয়ে গেল, তখন আমি ওকে দিনরাত কেবল বুঝাতাম আর মন ভালো রাখার জন্য লড়াই করতাম। আমার এই দায়িত্বটা খুবই ভালো লাগতো। আরো বেশি ভালো লাগতে কারণ আমি ওকে বুঝালে, ওর মন ভালো করার চেষ্টা করলে ও সেটাকে খুব অ্যাপ্রেশিয়েট করতো। খুব খুশি হতো। আমাদের সেই দিনগুলো অনেক সুন্দর ছিল।’

সাইফের স্বপ্নীল চোখগুলো ছলছল করে উঠতে দেখে সিনথিয়া চোখ ফিরিয়ে নিলো। ও কেন যেন সাইফকে কাঁদতে দেখলে নিজেও ঠিক থাকতে পারে না।

রেস্টুরেন্টে বসে আর তেমন কথা হলো না। দুপুর হয়ে আসছিল তাই ওরা রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে কলেজের পথ ধরলো।

১৬
কলেজের সামনে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই ছুটি হলো। ওদের ক্লাসের কয়েকটা ছেলেমেয়ে ওদের একসঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে দূর থেকেই হাসলো। কলেজে একটা কানাঘুষা চলছিল যে সাইফ আর সিনথিয়ার মাঝে রিলেশন আছে বা হবে। আজ বুঝি সেটা পূর্ণতা পেল।

এমন সময় হঠাৎই যেন সামনে মধ্যবয়সী একটা লোক উদয় হলো। সাইফ পরিস্কার দেখলো হঠাৎ লোকটাকে দেখে সিনথিয়া একটু হতচকিয়ে উঠল। কিন্তু সামলে নিয়ে বলে উঠল, ‘আব্বু তুমি এখানে? তোমার না অফিসে যাবার কথা ছিল?’
লোকটা হেসে জবাব দিল, ‘আজ যাইনি। ভাবলাম তোকে নিয়ে যাই এসে।’
সাইফ আর সিনথিয়া একইসঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিল। তাই সিনথিয়ার এখন উচিৎ সাইফকে তার বাবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া। নইলে ব্যাপারটা খারাপ দেখাবে। এই ভেবে সে তার বাবাকে বলল, ‘আব্বু এটা হচ্ছে সাইফ। আমার ভালো ফ্রেন্ড। আমরা একই ক্লাসে পড়ি।’

সাইফ সিনথিয়ার বাবাকে সালাম দিলো। লোকটা মাথা নেড়ে হ্যান্ডশেক করলো সাইফের সঙ্গে। সাধারণত মেয়েরা বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ধরা পড়লে ফ্রেন্ড হিসেবেই পরিচয় দিয়ে থাকে। আর তখন বাবা বা মা সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকায়। সাইফ সিনথিয়ার বাবার চোখেও সেই সন্দেহের দৃষ্টি দেখতে পেল এক মুহুর্তের জন্য। কিন্তু পরক্ষণেই তিনি হেসে সাইফের সঙ্গে কথা বললেন।

দু-চারটা কথা বলার পর সিনথিয়ার বাবা সিনথিয়াকে বললেন, ‘ঠিক আছে তুই দাঁড়া আমি পার্কিং লট থেকে গাড়ি বের করে আনছি।’
‘ওকে আব্বু।’

তিনি বলে যেতেই সিনথিয়া বলল, ‘আমার আব্বুকে কেমন দেখলে? তিনি কিন্তু কিচ্ছু মনে করেননি আমি একটা ছেলের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছি বলে।’
সাইফ বলল, ‘আমি কিন্তু তার চোখে কিছুক্ষণের জন্য সন্দেহটা টের পেয়েছি।’
সিনথিয়া হাসলো, ‘ওটা কারণ আছে। তুমি সালাম দিয়ে ভালো করেছ। আমি বেঁচে গেছি। সালাম না দিলেই বরং আমি বিপদে পড়তাম।’
সাইফ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, ‘কেন? তোমার আব্বুর সামনে এসে কেউ তার উপর শান্তি বর্ষণের দোয়া না করলে তিনি রাগ করেন বুঝি?’
সিনথিয়া হা হা করে হেসে বলল, ‘আরে না! আমি স্কুলে থাকতে একবার আমার একটা ফ্রেন্ড মানে ক্লাসমেটের সঙ্গে আব্বুর দেখা হয়েছিল। ও ছিল একটু মানে ওভারস্মার্ট টাইপের। কিংবা বলতে পারো ইয়ো ইয়ো টাইপ ছেলে। তো আমি আব্বুর সঙ্গে ওর পরিচয় করিয়ে দেয়ার পর ও কী বলেছিল জানো?’
‘কী?’
সিনথিয়া আবার হাসতে শুরু করলো। কিছুক্ষণ হেসে তারপর বলল, ‘আব্বুকে ও সালাম তো দিলোই না, বরং সে ভাব নিয়ে বলল, ইয়ো ম্যান, হোয়াট’স আপ?’ সিনথিয়া আবারও হাসতে লাগলো। ‌
সাইফও এই কথা শুনে আর হাসি চাপতে পারলো না। সিনথিয়ার সঙ্গে ও হাসতে শুরু করলো। কিন্তু ও হাসতে শুরু করতেই সিনথিয়া ওর দিকে তাকিয়ে রইলো।

সাইফকে এভাবে প্রাণখুলে হাসতে ও আগে কোনোদিন দেখেনি।

(পর্ব ৮)

3 responses

  1. Pingback: গল্পঃ My Best Friend Simi (পর্ব ৬) | আমিনুল ইসলাম সজীবের বাংলা ব্লগ

  2. Pingback: গল্পঃ My Best Friend Simi (পর্ব ৮) | আমিনুল ইসলাম সজীবের বাংলা ব্লগ

  3. Pingback: গল্পঃ My Best Friend Simi (পর্ব ৮) | আমিনুল ইসলাম সজীবের বাংলা ব্লগ

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s