একটি ভয়ঙ্কর ভূতের বাড়ির কথা (দ্বিতীয় পর্ব)

প্রথম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন

বাইরে অনেক বাতাস। স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক ঠাণ্ডা। গ্রীষ্মের এই অত্যধিক ঠাণ্ডা বাতাসের দু’টো অর্থ হতে পারে। এক, ঝড়-বৃষ্টি আসছে, অথবা দুই, ঝড়-বৃষ্টি হয়ে গেছে। আজকের ক্ষেত্রে বৃষ্টি হয়ে গেছে। তাই বাইরে অনেক ঠাণ্ডা বাতাস। ড্রয়িংরুমের পর্দাটা থেকে থেকেই কেঁপে উঠছে। আকাশে ছোট্ট একটা চাঁদ। ফ্যাকাসে রঙের চাঁদটার পাশ কেটে যাচ্ছে অসংখ্য খণ্ড খণ্ড মেঘ।

ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে বসে এসব দেখা যায় না। এই দৃশ্য চোখে পড়লো যখন রাত ১১.৪৫ মিনিটে বাড়ির মেইন গেইট লাগানোর জন্য বের হলাম। বাসার চারপাশে সব বিল্ডিং। এসবের মাঝেও প্রকৃতির অশুভ ও অপূর্ব এই দৃশ্য চোখে পড়া যেন ভাগ্যেরই ব্যাপার। গেইটটা খোলা ছিল। আমাদের বাসা দক্ষিণমুখী। আর বাসার সামনেই গলির রাস্তা। তাই খোলা জায়গা দিয়ে গেইটে প্রচুর বাতাস আসে। সেই বাতাসে গেইট যেন আপনা-আপনিই নড়ে উঠছিল। গেইট লাগানোর ঠিক পূর্ব-মূহুর্তে চোখে পড়লো আজকের পোস্টের মূল বিষয়, হাজীর বিল্ডিং।

উপরের ঘটনা ও ছবি দু’দিন আগের। বিভিন্ন কারণে এই দু’দিন পোস্টটি লেখা সম্ভব হয়নি। এজন্য সবার কাছে প্রথমেই ক্ষমাপ্রার্থী। এবারে আসুন জেনে নিই কী ঘটেছিল শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকার মধ্যে নিতান্ত বেমানানভাবে জেঁকে বসা এই ভূতের বাড়িতে।

আগেই বলেছি, লোকমুখে শোনা যায় এই বাড়িতে কেউ রাতে থাকতে পারে না। স্পষ্ট কারণ কারো কাছেই জানা না গেলেও সবাই এতটুকুই জানে যে এই বাড়িতে রাতে থাকা সম্ভব নয়। তবে সম্ভব নয় বলে সবাই কিন্তু দমে যায়নি। নিতান্ত জোর করেই বেশ কয়েকবার মানুষ থাকতে চেয়েছিল এই বাড়িতে। কিন্তু তারা কেউই দু’রাত টিকতে পারেনি।

প্রথম ঘটনাটা ১৯৮৮ সালের। আমার জন্মের আগের ঘটনা। আম্মুর মুখে শোনা ঘটনা। তখন মিরপুরে প্রবল বন্যা। আমাদের বাসায়ও হাঁটু পানি। তার উপর ছিল সাপের অত্যাচার। তাই বাসাবাড়ি ছেড়েই দূরে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। বলা বাহুল্য, এতো বছর আগে মিরপুরের মাজার রোডে তেমন কোনো দালানকোঠা ছিল না। তবে হাজীর বিল্ডিং তখন ঠিকই ছিল। তিন তলা বলে অনেকেই এতে থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বরাবরের মতোই বাধা দেন বাড়ির মালিক।

কিন্তু বাধা না মেনেই একরকম জোর করে কিছু মানুষ বাড়ির দোতলায় উঠেছিল। বন্যায় মানুষের জীবন যায়! আর সে আছে তার বাড়িতে থাকতে দিবে না এই তালে! তখন নিতান্ত মানবিকতার খাতিরেই হোক বা চাপাচাপিতেই হোক, থাকতে দিতে রাজী হয় মালিক।

কিন্তু সেবার কেউই থাকতে পারেনি। পরদিনই জিনিসপত্র গুছিয়ে এলাকা ছাড়ে জোর করে থাকতে চাওয়া সেসব মানুষগুলো। কারণ স্পষ্টভাবে জানা না গেলেও এইটুকু জানা গেছে যে, রাতে অদ্ভূত সব শব্দ হয় এবং একটি সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে বাড়িময়। ভয় পেয়ে লাইট জ্বালিয়ে ঘুমানোর চেষ্টাও সফল হয়নি। মাঝরাতে বিকট শব্দে ফেটে গিয়েছে বৈদ্যুতিক বাল্বের কাঁচ….।

পোস্ট অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে। সঙ্গত কারণেই অনেক বড় পোস্ট পড়ার ধৈর্য্য রাখেন না অনেকে। তাই আজকের মতো এতটুকুই। আরেকটি ঘটনা রয়েছে এই বাড়ি নিয়ে। আরেক দল মানুষ জোর করে ভাড়া নিয়েছিল এই বাড়ির দোতলার একটি রুম। তারও আগে হাজী নিজেই তার পরিবারসমেত এই বাড়িতে থাকতেন বলে শোনা যায়। সেসব সত্য ঘটনা থাকছে পরের পর্বে।

আর হ্যাঁ, এই পর্বের মতো তৃতীয় পর্ব আসতে এতো দেরি হবে না। কথা দিচ্ছি। 🙂

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s