একটি ভয়ঙ্কর ভুতের বাড়ির কথা (প্রথম পর্ব)

ভূতের বাড়ি বা হন্টেড হাউজের সংখ্যা পৃথিবীতে নেহায়েত কম নয়। আমার ধারণা, সভ্য পৃথিবী যেভাবে ভূত-প্রেতের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে চলে, সেখানে পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এতো এতো ভূতের বাড়ির অস্তিত্ব কিছুটা অবাক করার মতোই বটে। তবে বাস্তব কিছুটা ভিন্ন। হন্টেড হাউজ বা ভূতের বাড়ি কখনো কখনো লোককথায় গড়ে ওঠে, কখনো বা বাস্তবেই কোনো না কোনোকিছু অস্বাভাবিক থাকে। তবে তা কতখানি সত্য, তাও কেন যেন শক্ত দলিল-প্রমাণ দিয়ে দেখা যায় না।

আজকে একটা ভূতের বাড়ির কথা বলবো। মজার ব্যাপার হলো, ভূতের বাড়িটা স্থানীয়ভাবে বেশ নামকরা। আগে অনেককেই ভূতের বাড়ি ভূতের বাড়ি বলে ডাকতে শুনতাম। তবে এখন বিল্ডিংটাকে হাজীর বিল্ডিং নামেই বেশি শোনা যায়।

বিল্ডিংটার মালিক এক হাজী সাহেব। তার আসল নাম কী জানি না। আসলে জানার চেষ্টাও করিনি। এটি কোনো অনুসন্ধানীমূলক পোস্ট নয়। এটি কেবল লোকমুখে যেসব কথা প্রচলিত আছে সেসব নিয়েই একটি ‘জানানোমূলক পোস্ট’। :P:P

তো আমাদের আজকের এই ভূতের বাড়ির অবস্থান ঢাকার ব্যস্ততম (এবং ধূলাবালি এবং মার্কেটের দিক দিয়ে মোটামুটি শীর্ষস্থানে থাকা) এলাকা মিরপুর এক নম্বর। মিরপুর মাজার রোডের বুদ্ধিজীবি শহীদ মিনারের খানিকটা উত্তরে এই ভূতের বাড়ির অবস্থান। এই ভূতের বাড়ির ইতিহাস কিছুটা বোরিং টাইপের। কিন্তু যথেষ্ট ইন্টারেস্টিংও।

আমি ছোটবেলা থেকে এই বাড়িটি একদম খালি দেখে আসছি। তখন অবশ্য বাড়ির চেহারা এখনকার মতো রঙিন ছিল না। খসে পড়া চূনের রঙে ভর্তি ছিল পুরোটা বিল্ডিং। কাঁচগুলো সেই শুরু থেকেই একইভাবে ভাঙ্গা। জীবনে কাউকে এই বাড়ির দোতলা বা তিনতলায় উঠতে দেখিনি। জনমানুষের ছায়াও নেই এই বাড়িটিতে। এতো ব্যস্ততম রাস্তার ধারে এই বাড়ির বাউন্ডারির ভেতরটা যেন সেই কলিযুগ থেকেই খালি।

তবে একেবারে খালি বলার উপায় নেই। বাড়ির নিচতলায় দোকান রয়েছে। আমি ছোট থাকতে আম্মু নাকি মাঝে মাঝে হাজির বিল্ডিং-এর নিচ থেকে দুধ কিনে আনতো। তখন দুধ বিক্রি হতো। বছর দুই-এক আগে দেখলাম থাই-এর দোকান দিয়েছে। কিন্তু দোকানটা কোনো এক অজ্ঞাত কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ ব্যবসা বেশ ভালোই যাচ্ছিল দেখা গেছে। তারপরও কেন দোকান বন্ধ হয়ে গেল, এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার যেন কেউ নেই।

অদ্ভূত এই বাড়ি। এই বাড়ির নিচে যতদিন দোকান ছিল ততদিনই বাড়িটিতে মানুষের আনাগোনা ছিল। কিন্তু বাকি সময়টা এই বাড়ি নিরব-নিস্তব্ধ। এখন সারাদিনই এক অবস্থা। বছরের পর বছর ধরে এই বাড়িতে কেউ রাত কাটায় না। রাত কাটানোর অযোগ্য একটি বাড়ি এটি, লোকমুখে এমনটাই শোনা যায়।

কিন্তু তবুও এই বাড়ির কিছু অদ্ভূত কিংবা ভয়াবহ ঘটনা রয়েছে।

না, এই বাড়ি থেকে কখনো কোনো মানুষ হারিয়ে যায়নি, কেউ খুন হয়নি, কাউকে অদৃশ্য ‘কিছু’ বা ‘কেউ’ আছড় করেনি বা কারো মস্তিষ্ক বিগড়েও যায়নি। তাহলে কী হয়েছিল এই বাড়িতে?

বাকিটা পরের পর্বে। :|:| (পরের পর্বের জন্য নিজে কিছু ছবি তুলবো বিল্ডিংটার বিভিন্ন এসপেক্টে। ভূতে যেন না ধরে দোয়া করবেন। :|

(সিরিজটি উৎসর্গ করা হলো সামুর ব্লগার ভূত-কে, যাকে দেখে খোদ ভূতই ভয় পেয়ে যায় (আউটলুক সংক্রান্ত বিষয় )।

12 responses

  1. Vai apni ki oikhanei thaken??
    Asholei . . Vut tut thakte paray. .jaiyen na. Er cheye movie SAW1-7
    porjonto dekhte paren.
    Ami samute account khulsi but comment korte parina. . .
    Apne jodi kono puran ekta accoun amare den ami khusi homu.
    Amar email id
    md.khocon@yahoo.com

  2. হুমম৷ আপনার লেখাটা পড়ে ভালো লাগল৷
    মজার ব্যাপার হচ্ছে আমাদের এখানেও “স্বপ্ন নীড়” নামে একটি বাড়ি আছে৷
    আজ পর্যন্ত এখানে কাউকে বেশিদিন থাকতে দেখিনি৷ যে এই বাড়িতে আসে সেই দুই তিন সপ্তাহ পর বাড়ি ছেড়ে চলে যায়৷কিছুদিন আগে এই বাড়িটাকে ভাড়া নিয়ে একটি স্কুল খোলা হয়েছিল কিন্তু তাও বন্ধ হয়ে গেছে৷ এখন এই বাড়িটাতে কেউ থাকেনা৷

    • মজার ব্যাপার হলো, এই ধরনের বাড়ি প্রতিটি দেশেই আছে কোথাও না কোথাও।

  3. Pingback: একটি ভয়ঙ্কর ভূতের বাড়ির কথা (দ্বিতীয় পর্ব) | আমিনুল ইসলাম সজীবের বাংলা ব্লগ

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s