ব্লগিং করে জিতলাম ডিজিটাল ক্যামেরা : কিছু প্রশ্ন এবং একটি শিক্ষণীয় ঘটনা

প্রথমেই একটা গোপন কথা বলে দেই। কিছুদিন আগে আমার ল্যাপটপ কেনা নিয়ে লেখা পোস্টটি হয়তো অনেকেই লক্ষ্য করেছেন। যারা নানা রকম পরামর্শ ও তথ্য দিয়ে পোস্ট দিয়েছেন তাদের জানাই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। এবারে গোপন কথাটা জানাই।

গত আগস্ট মাসে প্রযুক্তি বিষয়ক ম্যাগাজিন টেকনোলজি টুডে কর্তৃক প্রকাশিত নতুন ব্লগ সাইট টেকনোলজি টুডে ব্লগে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় এক মাসের সেরা পোস্ট লেখককে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দেয়া হয়। মোট ১৬টি পুরস্কারের মধ্যে প্রথম পুরস্কার হচ্ছে একটি নেটবুক। দ্বিতীয় পুরস্কার ডিজিটাল ক্যামেরা। তৃতীয় পুরস্কার আইপড। তো আমি এমনিতেই লেখালেখি করে থাকি। উপরন্তু একটা ল্যাপটপের খুব অভাব বোধ করছিলাম। দুয়ে দুয়ে চার মিলিয়ে লেখা শুরু করলাম। পুরস্কারই একমাত্র টার্গেট ছিল, এটা বলবো না। কারণ, টেক টুডে কর্তৃপক্ষের নজরে আসারও শখ ছিল। যদি তাদের ম্যাগাজিনে কিছু লেখা-টেখা দেয়া যায়। ;) আর পুরস্কারের আশাটা ছিল স্পিরিট।

যাই হোক, টানা একমাস অনেক লেখা পোস্ট করলাম। পরে কর্তৃপক্ষ মেয়াদ আরও একমাস বাড়িয়ে দিলো। তখন টিকে থাকা আমার জন্য বেশ কঠিন হয়ে যায় কারণ আমার এসএসসি সামনে ছিল। যাই হোক, তবুও প্রতিদিন সময় বের করে পোস্ট লিখতে থাকলাম। একসময় মেয়াদ শেষ হলো, এবং একমাস পর জানুয়ারির প্রথম দিন রেজাল্ট আসলো।

যদিও আমি প্রথম পুরস্কার আশা করছিলাম, রেজাল্টে দেখা গেল আমি দ্বিতীয়। প্রথম হলেন নাদিয়া নামের একজন ব্লগার। তিনি আমার চেয়ে অনেক কম পোস্ট করেছেন এবং তার পোস্টগুলো কেবল বিজ্ঞানকেন্দ্রীক ছিল যেখানে আমারগুলো ছিল প্রযুক্তি, কম্পিউটার, টিপস অ্যান্ড ট্রিকস। যাই হোক, পুরস্কার বিতরণের দিনও (২১শে মার্চ) তারা বলল যে আমি প্রথম হয়েছিলাম, কিন্তু আমার আর নাদিয়া আপুর মার্কস সমান থাকায় আমাকে দ্বিতীয় অবস্থানে নেয়া হয়েছে। কেন নেয়া হয়েছে বা আমার ফল্টটা যদিও স্পষ্ট করে বলা হয়নি। যাই হোক, পুরস্কার পেয়েছি এটাই বড় কথা।

পুরস্কার হিসেবে পেলাম স্যামসাং এসটি৬০ ডিজিটাল ক্যামেরা। কালো রঙের ছোট ক্যামেরাটি পছন্দই হলো। ;)

শিক্ষণীয় ঘটনা
প্রথম পুরস্কার না পাওয়ায় স্বভাবতই মন খুব খারাপ হয়েছিল। কারণ ততোদিনে ল্যাপটপ নিয়ে অনেক স্বপ্নও দেখে ফেলেছিলাম। :(( ততোদিনে ল্যাপটপ কেবল প্রয়োজনীয়ই নয় অনেক শখেরও একটা বিষয় হয়ে গেছিল। নিউ ইয়ার রেজুলেশনেও ছিল একটা ল্যাপটপ ও একটা ক্যামেরা। তো চিন্তা করলাম ক্যামেরা তো একটা পাওয়া গেল, এখন ল্যাপটপ কোনোভাবে না হলেই নয়। এতোদিন ধরে স্বপ্ন দেখছিলাম তাই উঠেপড়ে লাগলাম ল্যাপটপের পেছনে। X( একজন ক্লায়েন্ট আছে যার জন্য আর্টিকেল লিখি মাঝেমাঝে। তাকে জানিয়ে প্রচুর পরিশ্রম করলাম তিন-চার সপ্তাহ।

অবশেষে পরিশ্রমের ফল আসলো ২৮,০০০ টাকা। নেটবুক কেনার জন্য যথেষ্ট। তখনই ক্লায়েন্ট জানতে চাইলো কী জন্য এতো কাজ করলাম হঠাৎ করে। আমি কারণ বলার পরই তিনি জানতে চাইলেন নোটবুকের দাম কত এবং সে অনুযায়ী কিছু অগ্রিম টাকা পাঠালেন। :)

বহু গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আসুস কিনলাম ডিজিটাল এক্সপো থেকে। এটা নিয়ে পরে একটা পোস্ট করবো। (আগ্রহীরা অনুসরণ করুন :D;) )

এখন দেখুন এই ক্যামেরায় সকালে তোলা একটা ছবি /:) /:)

কিছু প্রশ্ন
ক্যামেরার কথা শুনে কিছু ক্যামেরা বিশেষজ্ঞ অলরেডি এখানে চলে এসেছেন। :D তাদের প্রতি কিছু প্রশ্নঃ

– ক্যামেরা এসডি কার্ড আপটু ২ জিবি সাপোর্ট করে। কাল দোকানে গিয়ে শুনি এসডি কার্ডের দাম ২ জিবিরটা ছয়শ’ টাকা। :-/ আমি পাচশ’ নিয়ে গিয়েছিলাম তাই আর কেনা হয়নি। বাসায় এসে একটা কাজ করলাম। এসডির কেসে মাইক্রোএসডি কার্ড ঢুকিয়ে সেটা ফরম্যাট করে ক্যামেরায় ঢুকালাম। দেখি কাজ করে। B-) এখন কথা হচ্ছে, এটা কি সমস্যা হবে কোনো?

– এভাবে কি ২ জিবির উপরে কার্ড ঢোকালে কাজ করবে? :P

– বেশি ছবি তুললে কি ক্যামেরা নষ্ট হয়ে যাবে? :((

– স্মার্ট ফিচারে দিলে লেন্স নিজে নিজেই সাবজেক্ট বুঝে সেটিংস ঠিক করে নেয়। কিন্তু এভাবে দেখলাম লেন্স অতিরিক্ত নাড়াচাড়া করে (জুম ইন জুম আউট)। তাই ভাবছি স্মার্ট অন রাখলে সমস্যা হবে নাকি। (যদিও ফ্যাক্টরি সেটিংস হিসেবে সমস্যা হওয়ার কথা না।)

– ক্যামেরার যত্ন-আত্তি নিয়ে কিছু টিপস? :)

কে কী শিখলেন বলুন। :D

প্রথম প্রকাশঃ Click This Link

3 responses

  1. প্রশ্নগুলির নম্বর দিলে সুন্দর হতো। যাই হোক, আমার মনে হয়না adapter -এ micro sd কার্ড দিয়ে ইউজ করলে কোন সমস্যা হবে। আমার একটা ক্যামেরার ম্যানুয়ালে লেখাছিলো upto 2gb। কিন্তু সাহস করে 4gb কিনে ঢুকিয়ে দেখি দিব্যি কাজ হয়েছে এবং ফুল মেমেরি ছবি/ভিডিও করেছে। বেশী ছবি তুলা বলতে কতোটা বেশী বোঝাচ্ছো বুঝতে পারছিনা। প্রতিদিন মিনিমাম ২০টা বা ৫০টা? 🙂 আমি প্রায় ২০-৫০ টা তুলতাম। আমার সাথে সব সময় ক্যামেরা থাকতো। আর প্রয়োজনে ফ্লাস দিতে হতো। হঠাৎ ফ্লাসটা ফাট্‌ করে ফেটে গেলে একটা ছবি তুলতে গিয়েই। সম্ভবত ওভার লোড হয়ে বেশী হিট হয়ে গিয়েছিলো বারবার ফ্লাস দিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে। smart zoom এ সমস্যা হতেও পারে বলে আমার মনে হয়। তবে কি ভাইয়া, আমার দেখা মতে এখনকার হোম ইউজারদে জন্য যে ডিজিটাল ক্যামেরাগুলি আছে সেগুলি খুব কম সময়েই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমারটা, আমার বন্ধুদেরটা, আমার কলিগদেরটা, সবারই একই অবস্থা।

    টিপস: ক্যামেরার পুরো ম্যানুয়াল বইটা অবশ্যই পড়বে। অনেক কিছু জানতে পারবে।

    • ধন্যবাদ আপনাকে। প্রতিদিন দুই-তিনটার বেশি ছবি তুলি না। 😉 তবে মাঝে মাঝে বাইরে গেলে সেটা আলাদা হিসাব।

      ক্যামেরা নষ্ট হয়ে গেলে কী আর করব। ভাগ্য। 😦

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s