[দৈনিক প্যাঁচাল – ৩] ইভটিজিং-এর দায় থেকে বেঁচে যাওয়ার রোমাঞ্চকর ঘটনা!

শুরু হওয়ার প্রায় এক বছর দৈর্ঘ্যের সমান এক মাস দশদিন পর অবশেষে এসএসসি পরীক্ষাটা শেষ হলো। এবার বাকি আছে প্র্যাকটিক্যাল। কমার্সের ছাত্র হওয়ায় ব্যবহারিকের ঝামেলাও কম। মাত্র একটা বিষয়ে ব্যবহারিক। আমার চতুর্থ বিষয় কম্পিউটার। সুতরাং, বুঝতেই পারছেন এটার ব্যবহারিক আমার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ আর কঠিন। :-B :-B

যাই হোক, প্র্যাকটিক্যালের খাতা রেডি করা হলো। বাকি রইলো মৌখিক। মৌখিক ছাড়াও নাকি ব্যবহারিকে আবার কী প্রশ্নের উত্তর লিখতে হয়। আজকে কথাটা শুনে আমি টাশকিত। আমি জানতাম না যে ব্যবহারিক পরীক্ষায় আবার লিখিত অংশ থাকে। অনেককে জিজ্ঞেস করলাম, কেউ সঠিক করে বলতে পারলো না। অবশেষে স্যার কর্তৃক ঘোষণা আসলো রোববার সকাল দশটার দিকে কম্পিউটারের ছাত্ররা স্কুলে গিয়ে প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার জন্য সাজেশন নিয়ে আসবে।

কথামতো আজ সকালে গেলাম, কিন্তু বাসা থেকে বের হতে হতেই তখন এগারোটা বাজে। ;) স্কুলে গেলাম। তখন মেয়েদের শিফটের ক্লাস চলছিল। অফিস রুমে কাউকে পেলাম না। শিক্ষক মিলনায়তনে কয়েকটা বোতল আর খালি চেয়ার ছাড়া আর কিছু নেই (ওহ লম্বা টেবিলটার কথা তো বলাই হয়নি! :#) )। এদিক-ওদিক খুঁজে কোথাও পেলাম না। সেই স্যারের আবার ফোন নাম্বারও নেই। অনেক খুঁজে আমার মতোই প্র্যাকটিক্যালের প্রশ্ন নিতে আসা আরেক ছাত্র পেলাম। সেও স্যারকে খুঁজছে। স্যারকে ডানের বিল্ডিংয়ে গেলে পাওয়া যাবে নাকি বামের বিল্ডিংয়ে, এই নিয়ে যখন আমরা দু’জন কপাল কুঁচকে বিচলিত সময় কাটাচ্ছি, তখন সাদা পোশাকে ডিবি এসে ঝাড়ি নিল। X( সাদা পোশাক হলে কী হবে, হাতে ওয়্যারলেস নিয়ে ঘুরলে যে কেউ বুঝবে ব্যাটা হয় বাসের সুপারভাইজর নয় পুলিশের লোক। :P তো আমরা অনেক কষ্টে তাকে বুঝাতে সমর্থ হলাম যে আমাদের উদ্দেশ্য ইভটিজিং নয়। তারপর তিনি কোনো যুক্তি ছাড়াই আমাদেরকে চলে যেতে বললেন। X( মেজাজ খারাপ করে আমরা স্কুল থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে আসলাম।

কিছুক্ষণ পর যখন আমরা প্রায় ৮-১০জন জড়ো হয়েছি, তখন আমরা আবার স্কুলে গেলাম। তখন ঐ বদ ডিবিটাকে দেখলাম না কোথাও। X( স্যারেরও খবর নেই। হঠাৎই লক্ষ্য করলাম স্যার একটা রুমে বসে আছে। আমরা গিয়ে ধরলাম। স্যার বলে ছুটির পর আসতে। তখন বাজে সাড়ে এগারোটা। ছুটি বারোটায়। এতক্ষণ কোথায় দাঁড়িয়ে থাকবো? X((X((

তাও আমরা দাঁড়ালাম। ততক্ষণে আরও তিনজন ডিবির লোক আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গেল। আমাদের সাথে আবার ত্যাঁদড় মার্কা একটা ছেলে ছিল। সে ডিবির উত্তরও বেশ ঝাড়ি মেরেই দিল।

এই ছেলে, দাঁড়াও। তোমার বাসা কোথায়?
জায়গার নাম বলল।
এখানে কী করো?
স্যারের কাছে আসছি। (ঝাঁজ নিয়ে)
এই স্কুলে পড়ো? কোন ক্লাসে?
এবার এসএসসি দিয়েছি। প্র্যাকটিক্যালের জন্য স্যারের সাথে দেখা করতে এসেছি।
(আরেকজনের প্রতি ইশারা করে) তুমি?
আমিও। আমরা সবাই একই কাজে এখানে।

তারপর ডিবি মশাই চলে গেলেন। বুঝলাম সব ডিবিই বদ হয় না। :P আরও বুঝলাম মেয়েরা দেখি টাইট সিকিউরিটির মধ্যে থাকে। :-*:-* এর মধ্যে আবার ইভটিজিং সম্ভব হয় কীভাবে?

পুনশ্চঃ গত বছর ক্লাস এইটের একটা ছেলেকে আমাদের স্কুল থেকে ইভটিজিং-এর দায়ে বহিস্কার করা হয়েছে। তবে আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে নিশ্চিত হয়েছি যে, ছেলেটা মেয়েটার দিকে তাকায়ওনি। ছেলেদের ক্লাস শুরু ১২.৩০ মিনিট আর মেয়েরা বের হতে হতে ১২.১৫ মিনিট বেজে যায়। ছেলেরা তখন স্কুলের কোণায় জটলা বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকে। ঐ ছেলেও তখন ওখানে দাঁড়িয়ে ছিল। মেয়েটার সাথে ওর পরিচয় ছিল কিন্তু সেটা কোনো সম্পর্কের পর্যায়ে ছিল না। আর এর আগে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবেই সে টিচারদের কাছে বিচার দিয়েছে যে ছেলে তাকে উত্যক্ত করেছে। আর টিচাররাও খুশিমনে টিসি দিয়ে সরকারের সুনজরে আসার চেষ্টা করেছে সে তাদের স্কুলে নিয়ম-কানুন বেশ কড়া।

তবে পরে ছেলেটা টিসি ক্যান্সেল করে স্কুলে থাকতে পেরেছিল কি না তা জানতে পারিনি।

একদিন ক্লাসে একজন টিচার বলেছিলেন, যুগটা মেয়েদের হয়ে যাচ্ছে। দেশের নেতৃত্ব মেয়ের হাতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীও মেয়ে, পররাষ্ট্র মন্ত্রীও মেয়ে। তাই মেয়েদেরই এখন যুগ। একটা মেয়ে যদি এসে মিথ্যা কথা বলে একটা ছেলেকে ফাঁসিয়ে দেয়, সবাই মেয়েটার কথাই বিশ্বাস করবে। ছেলেটাকে কেউ বিশ্বাস করবে না। এটাই দেশের বর্তমান চল। অতএব, মেয়েদের থেকে সাবধান।

টিচারটা আমাদের অনেকের ফেভারিট ছিল। আমাদের স্কুল জীবন শেষ, কিন্তু তার কথা ও তার অসংখ্য উপদেশের কথা আমার সবসময় মনে থাকবে।

2 responses

  1. ভাই আর বলিয়েন না! একদিন স্কুল থেকে আসার সময় কয়েকটা বড় আপু আমাকে টিচ করেছিল এটার জন্য আমি কিন্তু “আ্যডাম টিচিং” এর বিচার পাই নাই।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s