এক হাতে ছুরি তোমার, অন্য হাত খালি!

হঠাৎই কুরবানীর ঈদের কথা মনে পড়ে গেল। কারণটা অবশ্য সহজ। সম্প্রতি উবুন্টু অপারেটিং সিস্টেমের নতুন সংস্করণ মুক্তি পেয়েছে। বছরে সাধারণত দু’বার সফটওয়্যারটির নতুন নতুন সংস্করণ মুক্তি পেয়ে থাকে। অনেকে বলেন, এই দু’বার উবুন্টুপ্রেমীদের মধ্যে ঈদের আনন্দের মতো আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। কেননা, তাদের প্রিয় উবুন্টুতে নতুন সব আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য যুক্ত হয়।

এখান থেকেই ঈদের কথা মনে পড়লো। সেইসঙ্গে মনে পড়লো কুরবানী ঈদের কথা।

কুরবানীর ঈদের একটি মজার স্মৃতি হলো, এবার যে গরু কুরবানী দেয়া হয়েছে সেটি গাবতলী গরুর হাট থেকে আমার বাসায় (মিরপুর ১) আমি নিয়ে এসেছি! (কানে কানে বলি, সঙ্গে গরুওয়ালাও ছিল!) কুরবানীর সিজনে রাস্তা দিয়ে গরুর সঙ্গে হাঁটার মজাই আসলে আলাদা! বছরের অন্য কোনো সময় গরুর সঙ্গ এতো বেশি ভালো লাগে না, যতোটা লাগে কুরবানীর সময়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত পরিবারের কর্তারাও গরুর সঙ্গে নিজেকে বেশ মানিয়ে নেন। কেউ কেউ গরুকে এমনভাবে সাজিয়ে ঘরে তোলেন, যেন সদ্য বিয়ে করে এনেছেন! হি: হি: হি:

তবে গরুর সঙ্গে এই হেঁটে আসার মধ্যে অন্যরকম একটা মজা আছে। প্রায় চল্লিশ মিনিটের রাস্তায় কমপক্ষে দু’শ মানুষকে গরুর দাম বলতে হলো। আমাদের গরুটার দাম খুব বেশি ছিল না। তবে সেই অনুপাতে বেশ স্বাস্থ্যবান ছিল। তাই সবাই দাম শুনে মন্তব্য করছিল যে গরু কিনে নাকি আমরা জিতেছি। ভালো, আমিও বেশ বিজেতার ভাব করে মহারাজ গরুর সঙ্গে হেঁটে বাড়ি ফিরলাম।

ঈদের দিন সকালে সবসময়ই গরুর নিরীহ ভাবভঙ্গি দেখে মায়া লাগে। অবলা জন্তুটাকে আল্লাহর নামে কুরবানী দেয়া হয় ঠিকই, কিন্তু ওর দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবলে এটা একটু কষ্টেরই। মুরুব্বীদের কাছে আগে শুনতাম গরু নাকি কুরবানী হওয়ার আগের রাতে স্বপ্নে দেখে এবং টের পেয়ে যায় যে সে কুরবানী হতে যাচ্ছে। অনেকেই নাকি ঈদের দিন সকালে গরুকে কাঁদতেও দেখেছেন। আমি গরুটাকে কাঁদতে না দেখলেও নিস্তব্ধ একটা ভাব লক্ষ্য করেছি, যেটা মন খারাপ করে দেয়।

যাই হোক, বেলা বাড়লো। একের পর এক গরু কুরবানী হতে থাকলো। সেদিন সবাই যেন গরু-ছাগলের শত্রু হয়ে গেল। আর এলাকার হিরো ছিলেন মাওলানা সাহেব ও মাদ্রাসার কিছু ছাত্র, যারা গরু-খাসি কুরবানী দিচ্ছিলো।

কুরবানীর দিন পাশের এক এলাকায় এক হুজুরকে দেখেছিলাম একটা গরু ও একটা খাসিকে একসঙ্গে শুইয়ে রেখেছেন। অর্থাৎ, একটার পরপরই আরেকটা জবাই করা হবে। ব্যাপারটা বেশ অদ্ভূত লেগেছিল। হুজুরের সেই মুহুর্তের অবস্থানকে স্পষ্টভাবে বলা যেতে পারে আমার পছন্দের একটি গানের কলিগুলো পাল্টে দিয়ে; এভাবেঃ

এক হাতে ছুরি তোমার; অন্য হাত খালি,
এক পাশে – গরু-উ-উ-উ একপাশে খাসী!
তোমার ছোট ছুরি বলো; কাটবে কি!!!!!

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s