২০১২ : ছবির সম্পূর্ণ কাহিনী

২০১২ সাল নিয়ে অনেক হৈ-চৈ হচ্ছে, এই ব্যাপারটি আশা করি অনেকেই জানেন। বিশেষ করে বহিঃর্বিশ্বের অধিবাসীরা ২০১২ সালে পৃথিবী ধ্বংসের বিষয়টি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।

তবে আমি শুরু থেকেই এইসব গুজবে কান দেয়া বন্ধ করে দিয়েছি। কারণ, ২০১২’র ডিসেম্বর মাসের মতো আরো অনেক “সম্ভাব্য শেষ দিন” (কোনো এক বছরের জুন মাসেও এরকম বলা হয়েছিল) আমরা পার করে এসেছি। সুতরাং, গুজবে কান দেয়ার কোনো মানে নেই।

২০১২ এর phenomenon টিকে আরো বেশি গাঢ় করে দিয়েছে হলিউডের মুভি “২০১২”; যা পরিচালনা করেছেন বিখ্যাত মুভি “দি ইনডিপেন্ডেন্স ডে” এর পরিচালক। ছবি হিসেবে বিচার করলে দারুণ একটি ছবি ২০১২। কাহিনীও সুন্দর। কিছু কিছু বিষয় অপরিষ্কার থাকলেও ওভারঅল ছবিটি ভালো লেগেছে। সাবটাইটেলে দেখা গেলে আরো ক্লিয়ার হতো। কিন্তু ছবিটি দু’টি ভাগে বিভক্ত থাকায় সাবটাইটেল কাজ করলো না ।

গতরাতে জিপি’র ১ জিবি লিমিটের তোয়াক্কা না করেই মোবাইল ভার্সনে ছবিটি ডাউনলোড করলাম। ডাউনলোডের পর আজ দেখবো ভেবেছিলাম, কিন্তু কাল রাতেই দেখা হয়ে গেল। ছবিটি দেখতে রেকমেন্ড করবো আমি। আর যারা দেখবেন না, তাদের জন্য এই পোস্ট।

ডিসক্লেইমারঃ ছবিটি দেখার ইচ্ছে থাকলে নিচের লেখাগুলো না পড়তে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। যদিও ছবির আনাচে কানাচে থাকা অসংখ্য ঘটনা বাদ দিয়ে মোটামুটি একটা সার-সংক্ষেপ লিখতে চেষ্টা করেছি আমি। আর কেউ যদি লেখাটি পড়ে ছবি দেখার সিদ্ধান্ত নাকচ করেন, তাহলে তাকে বলবো, আমি যতদূর লিখেছি, ছবি তারচেয়েও অনেক বেশি কিছু। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, ড্রামা, স্ক্রিনপ্লে ইত্যাদি সব মিলিয়ে দেখার মতো একটি ছবি ২০১২।

আবারো বলছি, অনেক ঘটনাই বাদ দেয়া হয়েছে এই পোস্টে। পড়লে মনে হতে পারে খুঁটিনাটি সব লিখেছি। আসলে তা নয়। সুতরাং, পড়ার আগে (রেকমেন্ডেড) অথবা পরে ছবিটি সময় করে দেখে নিন।

১৮০ মেগাবাইটের লো রেজুলেশনে ছবিটি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন
অথবা ৭০০ মেগাবাইটের মুভিটি ডাউনলোড করুন এখান থেকে

==============================================
২০০৯ সালে আমেরিকার একজন ভূতত্ত্ববিদ ভারতে তার এক বন্ধুর সঙ্গে কোনো এক কাজে দেখা করতে গেলে তার কাছ থেকে জানতে পারেন যে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচাইতে ভয়াবহ বিস্ফোরন বা ফ্লেয়ার হচ্ছে সূর্যে। আর এর ফলে যতোটা ধারণা করা হয়েছিল তার চেয়ে বহুগুণ দ্রুত বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানের জলাশয়, হ্রদ ইত্যাদি শুকিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি এতোটাই ভয়াবহ এবং সঙ্কটাপন্ন যে ভূতত্ত্ববিদ তাৎক্ষণিক হোয়াইট হাউজে যান এবং চিফ অফ স্টাফকে বিষয়টি অবগত করেন। চিফ অফ স্টাফ কার্ল প্রথমে গুরুত্ব না দিলেও রিপোর্টটি দেখার পর চমকে উঠেন। তিনি প্রতিবেদনটি নিয়ে তৎক্ষণাত প্রেসিডেন্টের কাছে যান।

ভূতত্ত্ববিদ আদরিয়ান প্রেসিডেন্টকে জানান যে, সূর্যের এই আকস্মিক বিস্ফোরণ পৃথিবীতে নানাধরনের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ হতে পারে।

এরপর ২০১০ সালের জি-৮ সামিট দেখানো হয়। সামিটে বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান ও বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রীদের বিষয়টি জানানো হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় মানবজাতিকে টিকিয়ে রাখার জন্য কিছু একটা করতেই হবে। সেখান থেকেই গোপন একটি প্রজেক্ট হাতে নেয়া হয়। প্রজেক্টটি হচ্ছে হিমালয়ের আশেপাশেই গোপন একটি স্থানে বিশালাকৃতির কিছু জাহাজ তৈরি করা। জাহাজগুলো নামকরণ করা হয় “আর্ক”। এই জাহাজ যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে টিকে থাকার উপযোগী করে তৈরি করা হয় এবং এতে যাত্রা করার জন্য ৪০ লক্ষ মানুষকে নির্বাচিত করা হয়। সর্বোচ্চ গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে এসব জাহাজে চড়ার টিকেটগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই সংরক্ষিত করা হয় বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপ্রধানসহ সরকারি বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য। এছাড়াও বিভিন্ন খাতে পারদর্শী যেমন বিজ্ঞানী কিছু ব্যক্তিদেরও এই জাহাজের জন্য নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচিত ব্যক্তিদের ছাড়াও প্রাইভেট সেক্টরে টিকেট বিক্রি করা শুরু যার মূল্য জনপ্রতি ১শ’ কোটি ডলার।

এরপর কাহিনী শুরু হয় ২০১২ সালে। লস অ্যাঞ্জেলেসের লেখক জ্যাকসনকে দিয়ে কাহিনীর মূল অংশ শুরু হয়। জ্যাকসন একজন রাশিয়ান শতকোটিপতির (বিলিয়নেয়ার) লিমুজিন গাড়ির ড্রাইভার হিসেবে পার্ট-টাইম চাকরি করেন। জ্যাকসনের সাবেক স্ত্রী কেট তাদের ছেলেমেয়ে এবং বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে থাকেন। বয়ফ্রেন্ডের নাম গর্ডন সিলবারমেন যিনি পেশায় প্লাস্টিক সার্জন এবং অপেশাদার ও আনাড়ি পাইলট।

জ্যাকসন তার ছেলেমেয়েকে নিয়ে ইয়েলোস্টোনে ক্যাম্পিং করতে যান। ক্যাম্পিং গ্রাউন্ডে পুকুর বা জলাশয়ের কথা বলেন জ্যাকসন, কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখা যায় তা পুরোপুরি শুকিয়ে গেছে বললেই চলে। জ্যাকসন ও তার ছেলেমেয়ে সেখানে থাকা অবস্থায়ই ইউএস আর্মির একটি দল সেখানে পৌঁছে এবং তাদের নিয়ে আর্মি ক্যাম্পে যায়। সেখানে জ্যাকসনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। জ্যাকসনের সঙ্গে সেখানে সেই ভূতত্ত্ববিদের সঙ্গে দেখা হয়। জ্যাকসন জিজ্ঞেস করেন ন্যাশনাল পার্কের কথা। উত্তরে আর্মির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশেষ কোনো কারণে সেখানকার ভূমি অস্থিতিশীল (আনস্ট্যাবল) হয়ে পড়েছে।

আর্মি জ্যাকসন ও তার ছেলেমেয়েদের ন্যাশনাল পার্কে পৌঁছে দেন। সেখান থেকে ফিরে যাবার সময় অদ্ভূত পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তি তার কাছে জানতে চান আর্মি এই পুকুর শুকিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে কী বলেছেন। জ্যাকসন বলেন, ভূমি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ার কারণে এমনটা হয়েছে। তখন ঐ ব্যক্তি আবারো জিজ্ঞেস করেন, আর্মি “অস্থিতিশীল” কথাটা বলেছে নাকি। জ্যাকসন হ্যাঁ-সূচক উত্তর করলে তিনি অট্টহাসিতে ফেটে পড়েন। জ্যাকসন হয়তো তাকে পাগল ভেবেই সেখান থেকে চলে যান।

সেদিন রাতে সেই ময়লা পোশাক পড়া লোকটির সঙ্গে জ্যাকসনের আবার পরিচয় হয়। তখন তিনি জানতে পারেন যে, এই লোকের নাম চার্লি ফ্রস্ট যিনি একজন রেডিও হোস্ট (আর জে  )। পার্কের মধ্য থেকেই তিনি তার শো ব্রডকাস্ট করেন। তার ছোট্ট গাড়ির মধ্যে গিয়ে জ্যাকসন জানতে পারেন ২০১২ সালে বিশ্বের ধ্বংস হওয়ার কথা সত্য। তিনি দাবি করেন মার্কিন সরকারের সিক্রেট আর্ক প্রজেক্টের ব্যাপারে তিনি সব জানেন এবং কোথায় এই আর্ক নির্মাণ করা হচ্ছে এর একটি ম্যাপও রয়েছে তার কাছে। জ্যাকসন তার কথা বিশ্বাস করেন না এবং সেখান থেকে চলে আসেন।

এরই মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়াসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয় ভয়াবহ ভূমিকম্প। জ্যাকসন বিশ্বাস করতে শুরু করেন ২০১২’র ব্যাপারটি সত্য। তার বিশ্বাস দৃঢ় হয় যখন রাশিয়ান সেই বিলিয়নেয়ারের ছেলে একটি প্লেনে উঠার সময় তাকে বলে, প্লেনে উঠে আমরা বেঁচে যাবো। আর নিচে থেকে তোমরা মারা যাবে। তাই তিনি সাথে সাথে একটি প্লেন ভাড়া করেন তার পরিবারকে সেখান থেকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিতে। তিনি বাড়ি ফিরতে ফিরতেই ধ্বংসলীলা শুরু হয়ে যায়। প্রবল শক্তিশালী ভূমিকম্পে বাড়িঘর সব তছনছ হতে শুরু করে। জ্যাকসন কোনোরকমে কেট, দুই ছেলেমেয়ে এবং গর্ডনকে নিয়ে লিমুজিনে উঠে বেপরোয়া গাড়ি চালাতে থাকে। ফ্লাইওভার ভেঙ্গে, গাড়ি একটির উপর আরেকটি পড়ে, রাস্তাঘাট খণ্ড খণ্ড হয়ে যেতে থাকে। এসবকে উপেক্ষা করে প্রাণ নিয়ে গাড়ি চালিয়ে সেই রানওয়েতে আসেন জ্যাকসন। কিন্তু সেখানে এসে দেখেন তার ভাড়া করে রেখে যাওয়া প্লেন ঠিকই আছে, কিন্তু মারা গেছেন প্লেনের পাইলট।


লস অ্যাঞ্জেলেসের ধ্বংসলীলা

গর্ডন পেশাদার পাইলট না হলেও তাকেই পাইলটের সিটে বসতে হয়। আকাশচুম্বী সব দালান-কোঠা একটি আরেকটির উপর আছড়ে পড়তে থাকে। এসবের মধ্য দিয়ে গর্ডন আনাড়ি হলেও অসাধারণ দক্ষতায় প্লেন চালিয়ে নিরাপদ জায়গায় সরে আসে। নিরাপদ জায়গা বলতে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর। ততক্ষণে পুরো লস অ্যাঞ্জেলেস মাটি থেকে উপড়ে গিয়ে সমুদ্রের বুকে বিলীন হওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।

জ্যাকসন তারপর প্লেন নিয়ে পৌঁছেন সেই রেডিও হোস্ট চার্লি ফ্রস্টের কাছে। সেখানে ল্যান্ড করে তার ক্যারাভ্যানে গিয়ে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়না, কিন্তু তার কণ্ঠ ঠিকই শোনা যায়। জ্যাকসন বুঝতে পারেন চার্লি আশেপাশেই আছে। তাকে অবশেষে খুঁজে পাওয়া যায় পাহাড়ের চূড়ায়। জিজ্ঞেস করতে জানা যায় তিনি সেখানে মৃত্যুর জন্য দাঁড়িয়ে আছেন। অনেকটা পাগলাটে মনে হয় তাকে সেই দৃশ্যে। উল্লেখ্য, চার্লি আগে থেকেই জানতেন যেখানটায় তিনি দাঁড়িয়ে আছেন, যে কোনো সময় সে জায়গাটা এক বিশাল আগ্নেয়গিরিতে রূপান্তরিত হবে। এসব জেনেও চার্লি সেখানে থেকে যান কারণ তিনি সেখানকার সর্বশেষ পরিস্থিতি রেডিওতে ব্রডকাস্ট করতে থাকেন। জ্যাকসন প্রজেক্ট আর্ক-এর সেই গোপন ম্যাপ কোথায় আছে তা জেনে নিয়ে সেখান থেকে প্লেনের উদ্দেশ্যে পা বাড়ান।


চার্লি মারা যান সে দৃশ্যে। মৃত্যুর পূর্বমূহুর্ত পর্যন্ত চলতে থাকে তার ব্রডকাস্টিং। তার কণ্ঠস্বর ও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক মিলে এক অন্যরকম দৃশ্যের অবতারণা হয় ছবিতে।

কিন্তু আবারো ভাগ্য তাকে আক্রমণ করতে শুরু করে। গাড়িতে উঠামাত্রই শুরু হয়ে যায় অগ্নিবৃষ্টি। পুরো এলাকা মাটি ফুঁড়ে বের হতে থাকে লাভা। তীব্র বেগে মাটি ভেদ করে বের হয়ে তা আশেপাশেই পড়তে শুরু করে। এক কথায়, শুরু হয় আগুনের বৃষ্টি। প্রায় মরতে মরতে সে যাত্রায় বেঁচে যান জ্যাকসন ও তার মেয়ে। প্রাণ হাতে নিয়ে ছোট প্লেনটায় ওঠেন তারা।


অগ্নিবৃষ্টি থেকে গা বাঁচিয়ে প্লেনের দিকে ছুটছেন জ্যাকসন; সঙ্গে তার মেয়ে

ম্যাপ থেকে জ্যাকসন জানতে পারেন যে তাদের গন্তব্যস্থল হচ্ছে চায়না। কিন্তু ছোট্ট প্লেনটি নিয়ে চীনে যাওয়া সম্ভব হবে না বিধায় তারা ল্যান্ড করেন লাস ভেগাসে। লাস ভেগাসে জ্যাকসনের সঙ্গে দেখা হয় তার রাশিয়ান মনিব ইউরি, তার ছেলে, গার্লফ্রেন্ড তামারা এবং পাইলট সাশা। সেখান থেকে তারা একটি বিশাল এয়ারক্রাফটে করে চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এয়ার ক্রাফটের পেছনে থাকে সারি সারি নতুন গাড়ি। তারা টেক-অফ করতে করতেই লাস ভেগাস ধ্বংস হয়ে যায়।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট আর্কে না গিয়ে থেকে যান ওয়াশিংটন ডিসিতে। তার মেয়ে লরা, ভূতত্ত্ববিদ আদরিয়ান এবং অন্যান্যরা আর্কে পৌঁছে যান। প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটন ডিসির মনুমেন্টটি ভেঙ্গে পড়ার সময় ঠিক সেখানেই উপস্থিত থাকেন। কিন্তু ভাগ্যজোরে তিনি মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যান। কিন্তু খুব বেশিক্ষণ বাঁচতে পারেন না তিনি। প্রলয়ঙ্কারী এক সুনামি সঙ্গে করে নিয়ে আসে ইউএসএস জন এফ কেনেডি (যা সমুদ্রের বুকে এয়ারপোর্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়)। পানি এবং এই সাগরযান ক্র্যাশ করে হোয়াইট হাউজে। মারা যান ইউএস প্রেসিডেন্ট।

এদিকে সাশা এবং জ্যাকসন অবতরণ করেন চীনে। কিন্তু ক্র্যাশ ল্যান্ডিংয়ের কারণে সাশা অবতরণের পরপরই মারা যান বিস্ফোরনের কারণে। প্লেনের মধ্যেই মারা পড়েন তিনি। এমন সময় চায়নিজ পিপল’স লিবারেশন আর্মির হেলিকপ্টার নামে সেখানে। টিকেট থাকার কারণে তাদের হেলিকপ্টারে তুলে নেয় আর্মি। আর জ্যাকসন, তামারা, কেট এবং তার ছেলেমেয়েরা পড়ে থাকে বরফের রাজত্বে। অবশ্য এক বৌদ্ধ তাদের সাহায্য করে এবং গোপন পথে আর্কে পৌঁছে দেয়। আর্কে গিয়ে তামারা দেখতে পায় তার বয়ফ্রেন্ড তথা ইউরি এবং তার ছেলেরা আটকে আছে অন্যান্য মানুষের ভিড়ে। টিকেট থাকার পরও তাদের ঢুকতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট।

ছবির কাহিনীর অন্যতম অংশ শুরু হয় এখানেই। ভূতত্ত্ববিদ ও ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট তর্ক শুরু করেন। তর্কের বিষয়বস্তু হলো বাইরে অপেক্ষমান সাধারণ মানুষকে জাহাজে তুলে নেয়া হবে কি না। এমন সময় সংকেত আসে ভয়াবহ এক সুনামির। সুনামির ধাক্কা থেকে রক্ষা পেতে হলে সময়মতো জাহাজ ছাড়তে হবে। এদিকে বাইরে থাকা সাধারণ মানুষকে তুলে নেয়া হবে কি না সেই প্রশ্নে এখনো দ্বিধান্বিত জাহাজের অপারেটররা। সময় কমছে। প্রতি সেকেন্ডের ধ্বনি মৃত্যুকে কাছে টেনে নিয়ে আসছে। এদিকে শেষমুহুর্তে জাহাজের হাইড্রলিক চেম্বারে দেখা দেয় ত্রুটি। এই ত্রুটি সারাতে না পারলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই জাহাজ ধাক্কা খাবে হিমালয়ের বুকে।

অবশেষে নাটকীয়ভাবে বেঁচে যায় আর্কের যাত্রীরা। কয়েকমাস সাগরের বুকে থাকার পর আকাশ পরিষ্কার দেখতে পান বিজ্ঞানীরা। ভূমির দিকে যাত্রা শুরু করে আর্ক। শুরু হয় নতুন বছরের গণনা; ০০০১ সাল।



One response

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s