<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	xmlns:georss="http://www.georss.org/georss" xmlns:geo="http://www.w3.org/2003/01/geo/wgs84_pos#" xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/"
	>

<channel>
	<title>দেয়ালিকা</title>
	<atom:link href="http://aisajib.wordpress.com/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://aisajib.wordpress.com</link>
	<description>সজীবের রাফ খাতা</description>
	<lastBuildDate>Mon, 23 Jan 2012 10:19:08 +0000</lastBuildDate>
	<language>bn</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
	<generator>http://wordpress.com/</generator>
<cloud domain='aisajib.wordpress.com' port='80' path='/?rsscloud=notify' registerProcedure='' protocol='http-post' />
<image>
		<url>http://s2.wp.com/i/buttonw-com.png</url>
		<title>দেয়ালিকা</title>
		<link>http://aisajib.wordpress.com</link>
	</image>
	<atom:link rel="search" type="application/opensearchdescription+xml" href="http://aisajib.wordpress.com/osd.xml" title="দেয়ালিকা" />
	<atom:link rel='hub' href='http://aisajib.wordpress.com/?pushpress=hub'/>
		<item>
		<title>মুভি দেখার আগে জেনে নিন রেটিং, বুঝে নিন কোন রেটিং কী বোঝায়</title>
		<link>http://aisajib.wordpress.com/2011/10/30/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%ad%e0%a6%bf-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%97%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%b0%e0%a7%87/</link>
		<comments>http://aisajib.wordpress.com/2011/10/30/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%ad%e0%a6%bf-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%97%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%b0%e0%a7%87/#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 30 Oct 2011 10:34:04 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Sajib</dc:creator>
				<category><![CDATA[Movies]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[মুভি]]></category>
		<category><![CDATA[রেটিং]]></category>
		<category><![CDATA[হলিউড]]></category>
		<category><![CDATA[bangladesh]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://aisajib.wordpress.com/?p=558</guid>
		<description><![CDATA[ইংরেজি মুভির ভক্ত মানুষের অভাব বোধ করি কোনো দেশেই নেই। একসময় ভাবতাম বাংলাদেশে বুঝি ইংরেজি মুভি তেমন একটা চলে না। বলা বাহুল্য, তখন আমি নিজেও ইংরেজি ছবির খুব একটা ভক্ত ছিলাম না। পরে নিজে ভক্ত হলাম এবং ইন্টারনেট ও ব্লগের &#8230; <a href="http://aisajib.wordpress.com/2011/10/30/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%ad%e0%a6%bf-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%97%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%b0%e0%a7%87/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=aisajib.wordpress.com&amp;blog=3913370&amp;post=558&amp;subd=aisajib&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>ইংরেজি মুভির ভক্ত মানুষের অভাব বোধ করি কোনো দেশেই নেই। একসময় ভাবতাম বাংলাদেশে বুঝি ইংরেজি মুভি তেমন একটা চলে না। বলা বাহুল্য, তখন আমি নিজেও ইংরেজি ছবির খুব একটা ভক্ত ছিলাম না। পরে নিজে ভক্ত হলাম এবং ইন্টারনেট ও ব্লগের কল্যাণে জানতে পারলাম বাংলাদেশে মুভি পাগলের অভাব নেই।</p>
<p>যারা নিয়মিত মুভি দেখেন তারা হয়তো ইতিমধ্যেই জানেন বড় পর্দায় মুক্তিপ্রাপ্ত প্রতিটি ছবিকেই এমপিএএ (Motion Pictures Association of America&#8217;s film-rating system) বিভিন্ন ধরনের রেটিং দিয়ে থাকে। এসব রেটিং-এর উপর ভিত্তি করে উন্নত রাষ্ট্রে থিয়েটারের টিকেট বিক্রি করা হয়। যেমন, একটি NC-17 মুভি দেখতে সতেরো বছরের কম বয়সী কাউকে থিয়েটারে ঢুকতেই দেবে না কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও মুভি রেটিংগুলো কাজে আসে যাতে দর্শকরা পরিবারের সাথে কোন কোন মুভিগুলো দেখা যাবে তা আগে থেকেই জানতে পারেন এবং রেটিং দেখে নিমিষেই ধারণা করে নিতে পারেন মুভিটিতে আপত্তিকর সামগ্রী আছে কি না।</p>
<p>যারা ইন্টারনেট থেকে মুভি ডাউনলোডের ক্ষেত্রে নিতান্তই নতুন, তাদের উপকার হবে আশা করে এই পোস্টে বিভিন্ন প্রকার রেটিং এবং এর অর্থ সহজভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছি। এছাড়াও কেবল রেটিং নয়, অন্য কী উপায়ে আপনি মুভিতে কী ধরনের দৃশ্য রয়েছে তা মূহুর্তের মধ্যেই জানতে পারবেন তাও আলোচনা করবো এই পোস্টে। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।</p>
<p><span id="more-558"></span></p>
<h2>এমপিএএ রেটিং</h2>
<p><img src="http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/0/05/RATED_G.svg/30px-RATED_G.svg.png" alt="" /><br />
<strong>জেনারেল অডিয়েন্স</strong><br />
১৯৬৮ থেকে এখনও কার্যকর।<br />
সব বয়সী মানুষের জন্য উপযোগী।<br />
এই রেটিং নিয়ে বলতে গেলে মাথায় যেটা আসে তা হলোঃ এই রেটিং-এর ছবি আজকাল খুব একটা বের হয় না। <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_09.gif" alt=";)" width="23" height="22" /></p>
<p><img src="http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/b/bc/RATED_PG.svg/54px-RATED_PG.svg.png" alt="" width="23" height="22" /><br />
<strong>প্যারেন্টাল গাইডেন্স</strong><br />
১৯৭৮ থেকে এখনও কার্যকর।<br />
কিছু কিছু বিষয় বাচ্চাদের জন্য উপযোগী নাও হতে পারে। এই রেটিং-এর ছবি ১২-১৩ বছর বয়সীদের নিয়ে নিশ্চিন্তে দেখতে পারেন। কেননা, যেসব সামগ্রী বিবেচনা করে বাচ্চাদের জন্য উপযোগী নাও হতে পারে বলা হয়, তার চেয়ে অনেক বেশিই অ্যাডভান্সড হয়ে থাকে এই বছরের বাচ্চারা। wink সাধারণত মারামারির দৃশ্য, গোলাগুলি ইত্যাদি স্বাভাবিক ভায়োলেন্সের কারণে এই রেটিং দেয়া হয়।</p>
<p><img src="http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/c/c0/RATED_PG-13.svg/95px-RATED_PG-13.svg.png" alt="" /><br />
<strong>প্যারেন্টাল গাইডেন্স ১৩</strong><br />
১৯৮৪ থেকে এখনও কার্যকর।<br />
১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য কিছু সামগ্রী অনুপযুক্ত থাকতে পারে।<br />
পিজি আর পিজি-১৩ এর মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই। তাই নতুন করে কিছু লেখারও প্রয়োজন মনে করছি না।</p>
<p><img src="http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/7/7e/RATED_R.svg/40px-RATED_R.svg.png" alt="" /><br />
<strong>রেস্ট্রিক্টেড</strong><br />
১৯৭০ থেকে এখনও কার্যকর।<br />
১৭ বছরের কম বয়সীদের থিয়েটারে প্রবেশের ক্ষেত্রে মা-বাবা অথবা বয়স্ক অভিভাবকের প্রয়োজন পড়বে।<br />
যেহেতু বাংলাদেশে থিয়েটারের ঝামেলা নেই, সেহেতু রেটেড আর এর সংজ্ঞা অন্যভাবে দেয়া যেতে পারে। একভাবে বলা যেতে পারে, এই রেটিং-এর ছবিগুলো দর্শকদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়। <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_09.gif" alt=";)" width="23" height="22" /> কেননা এতে নগ্নতা, সেক্সুয়ালিটি, গ্রাফিক ভায়োলেন্স ইত্যাদি মাঝামাঝি পর্যায়ে থাকে। তবে এ ধরনের ছবিগুলো পরিবারের সঙ্গে দেখতে বসা বোকামি। অবশ্য কেবল ভায়োলেন্সের জন্যও R রেটিং দেয়া হয়, সেক্ষেত্রে সবার সঙ্গেও দেখতে পারেন।</p>
<p>উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, Perfume: The Story of a Murderer মুভিটি রেস্ট্রিক্টেড রেটিং দেয়া হয়েছে Nudity-এর জন্য। আবার, Wrong Turn (I) মুভিটিও একই রেটিং দেয়া হয়েছে স্ট্রং ভায়োলেন্সের জন্য (কোনো নগ্নতা না থাকা সত্ত্বেও)।</p>
<p><img src="http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/5/50/Nc-17.svg/85px-Nc-17.svg.png" alt="" /><br />
<strong>No Children 17 or under admitted</strong><br />
১৯৯৬ থেকে এখনও কার্যকর।<br />
১৮ বছর বয়সী না হলে এই মুভি দেখাই উচিৎ না। <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_25.gif" alt=":P" width="23" height="22" /> অবশ্য উচিৎ-অনুচিৎ বলে লাভ নেই, এনসি-১৭ অনেকের জন্যই হটকেক। তবে রেটিং R এর মতোই কেবল গ্রাফিক নুডিটি বা সেক্সুয়ালিটির জন্য নয়, অনেক সময় কেবল অত্যধিক দৃশ্যমান ভায়োলেন্সের জন্যও এই রেটিং দেয়া হয়ে থাকে।</p>
<p>বলা বাহুল্য, আরেকটি রেটিং হচ্ছে UR যা দিয়ে আনরেটেড বোঝানো হয়। আনরেটেড মুভি দেখার ব্যাপারে সাবধান। কেননা, আপনি জানতে পারছেন না মুভির রেটিং কী। তবে একটি উপায় আছে মুভির কন্টেন্ট সম্বন্ধে ধারণা পাওয়ার, তা হলো IMDb.</p>
<p>ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজে সার্চ করে সংশ্লিষ্ট মুভির টাইটেলে যান। স্ক্রল ডাউন করে Motion Picture Rating (MPAA) প্যারায় যান। সেখানে সংক্ষেপে রেটিং ও তার কারণ লেখা থাকে। নিচে View content advisory লিংকে ক্লিক করলে অধিকাংশ ছবির ক্ষেত্রেই ছবিতে কতটি কী জাতীয় দৃশ্য রয়েছে তার বর্ণনা পেয়ে যাবেন। এখান থেকেও একটু সময় নিয়ে ও ইন্টারনেট সংযোগের সদ্ব্যবহার করে সহজেই জেনে নিতে পারবেন পছন্দের মুভিটি দেখতে হলে কী ধরনের প্রস্তুতি দরকার। <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_05.gif" alt=":D" width="23" height="22" /><img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_09.gif" alt=";)" width="23" height="22" /><img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_25.gif" alt=":P" width="23" height="22" /></p>
<p>আশা করছি অনেকেরই পোস্টটি কাজে আসবে। ভালো লাগলে অবশ্যই মন্তব্য রেখে যাবেন, ফেসবুক/টুইটারে শেয়ার করবেন এবং পরিচিত মানুষদের মধ্যে যাদের কাজে লাগবে মনে করেন তাদেরকে লিংকটা কষ্ট করে পাঠিয়ে দেবেন। আর ভুলত্রুটি চোখে পড়লে অবশ্যই রিপ্লাইয়ে জানাবেন। যতদ্রুত সম্ভব ঠিক করে দিতে চেষ্টা করবো। <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" alt=":)" width="23" height="22" /></p>
<p>তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া, ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেস (আইএমডিবি)।<br />
<em> অনেকে হয়তো বলবেন উইকিতে গেলেই তো এসব জানা যায়, এখানে পড়ে লাভ কী? অনেক কষ্ট করেও তাদের জন্য সন্তোষজনক উত্তর বের করতে পারলাম না।</em> <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_15.gif" alt=":(" width="23" height="22" /></p>
<br />Filed under: <a href='http://aisajib.wordpress.com/category/movies/'>Movies</a>  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/aisajib.wordpress.com/558/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/aisajib.wordpress.com/558/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/aisajib.wordpress.com/558/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/aisajib.wordpress.com/558/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/aisajib.wordpress.com/558/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/aisajib.wordpress.com/558/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/aisajib.wordpress.com/558/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/aisajib.wordpress.com/558/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/aisajib.wordpress.com/558/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/aisajib.wordpress.com/558/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/aisajib.wordpress.com/558/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/aisajib.wordpress.com/558/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/aisajib.wordpress.com/558/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/aisajib.wordpress.com/558/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=aisajib.wordpress.com&amp;blog=3913370&amp;post=558&amp;subd=aisajib&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://aisajib.wordpress.com/2011/10/30/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%ad%e0%a6%bf-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%97%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%b0%e0%a7%87/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>2</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/20133c756ec851e1d0dad22bd9dcfae8?s=96&#38;d=&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">Sajib</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/0/05/RATED_G.svg/30px-RATED_G.svg.png" medium="image" />

		<media:content url="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_09.gif" medium="image">
			<media:title type="html">;)</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/b/bc/RATED_PG.svg/54px-RATED_PG.svg.png" medium="image" />

		<media:content url="http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/c/c0/RATED_PG-13.svg/95px-RATED_PG-13.svg.png" medium="image" />

		<media:content url="http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/7/7e/RATED_R.svg/40px-RATED_R.svg.png" medium="image" />

		<media:content url="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_09.gif" medium="image">
			<media:title type="html">;)</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/5/50/Nc-17.svg/85px-Nc-17.svg.png" medium="image" />

		<media:content url="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_25.gif" medium="image">
			<media:title type="html">:P</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_05.gif" medium="image">
			<media:title type="html">:D</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_09.gif" medium="image">
			<media:title type="html">;)</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_25.gif" medium="image">
			<media:title type="html">:P</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" medium="image">
			<media:title type="html">:)</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_15.gif" medium="image">
			<media:title type="html">:(</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>গল্পঃ পৃথিবীর যত সুখ</title>
		<link>http://aisajib.wordpress.com/2011/10/18/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-%e0%a6%aa%e0%a7%83%e0%a6%a5%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%af%e0%a6%a4-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%96/</link>
		<comments>http://aisajib.wordpress.com/2011/10/18/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-%e0%a6%aa%e0%a7%83%e0%a6%a5%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%af%e0%a6%a4-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%96/#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 18 Oct 2011 14:36:45 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Sajib</dc:creator>
				<category><![CDATA[Story]]></category>
		<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[ছোট গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলা]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[ভালোবাসার গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[bangladesh]]></category>
		<category><![CDATA[Short Story]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://aisajib.wordpress.com/?p=552</guid>
		<description><![CDATA[‘অ্যাই, শুনছো? অ্যাই! ঘুম ভাঙছে না বুঝি?’ নীলার কানের কাছে প্রায় ফিসফিস করে পাঁচ মিনিট ধরে ডেকে যাচ্ছে অনিক। কিন্তু ভালোবাসা মাখা সেই ডাক যেন কানেই যাচ্ছে না নীলার। শরীরটা ভালো না তার। তাই হঠাৎ করে তাকে ডেকে তুলতে চাচ্ছে &#8230; <a href="http://aisajib.wordpress.com/2011/10/18/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-%e0%a6%aa%e0%a7%83%e0%a6%a5%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%af%e0%a6%a4-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%96/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=aisajib.wordpress.com&amp;blog=3913370&amp;post=552&amp;subd=aisajib&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><img class="aligncenter size-full wp-image-554" title="romantic-love-quotes" src="http://aisajib.files.wordpress.com/2011/10/romantic-love-quotes.jpg?w=500&#038;h=342" alt="" width="500" height="342" /></p>
<p>‘অ্যাই, শুনছো? অ্যাই! ঘুম ভাঙছে না বুঝি?’<br />
নীলার কানের কাছে প্রায় ফিসফিস করে পাঁচ মিনিট ধরে ডেকে যাচ্ছে অনিক। কিন্তু ভালোবাসা মাখা সেই ডাক যেন কানেই যাচ্ছে না নীলার। শরীরটা ভালো না তার। তাই হঠাৎ করে তাকে ডেকে তুলতে চাচ্ছে না অনিক। মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে আরেকবার ডাকায় আস্তে করে চোখ মেললো নীলা। অনিকের মুখে হাসি ফুটলো। প্রতিদিন সকালে নীলার ঘুম থেকে ওঠার দৃশ্যটা সে কখনোই মিস করে না। কেন যেন এই দৃশ্যের মাঝেও অনেক মানসিক শান্তি খুঁজে পায় সে।</p>
<p>‘আমাকে যে অফিসে যেতে হবে!’ বলল অনিক।<br />
‘ওহ! কয়টা বাজে?’<br />
‘প্রায় সাতটা।’<br />
‘ও।’</p>
<p>মনটা আবার খারাপ হয়ে গেল অনিকের। নীলা কিছুই বললো না। ওর শরীরটা আসলেই ভালো না। অন্যান্য দিন এমন সময় নীলা ব্যস্ত হয়ে দৌড়াদৌড়ি করে অনিকের জন্য নাস্তা রেডি করে। অনিকও যতোটা সম্ভব নীলাকে কাজে সাহায্য করে। কিন্তু আজ নীলার শরীর খারাপ বলে তাকে আর ডাকেনি অনিক। যাবার মূহুর্তে বলে যাওয়ার জন্যই ঘুমটা ভেঙ্গেছে নীলার।</p>
<p>‘আমার আজকে অফিসে যাওয়া একদমই উচিৎ নয়, কিন্তু আজ এমনই কিছু কাজ আছে যে না গিয়েও পারছি না,’ মন খারাপ করে কৈফিয়তের সুরে নীলার কানের কাছে বললো অনিক।<br />
নীলা তার দিকে না তাকিয়েই ক্ষীণ কণ্ঠে বললো, ‘সমস্যা নেই, তুমি যাও।’<br />
তার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো অনিক। আর দুই-এক মিনিট, তারপরই নীলা পুরোপুরি সজাগ হয়ে উঠবে। সেই দুই মিনিট সময় পার করলো সে নীলার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে।</p>
<p>‘শোনো, আমি নাস্তা তৈরি করে গেছি, তুমি ঠিক এক ঘণ্টা পর আটটায় বিছানা থেকে উঠবে। ফ্রিজে ব্রেড রাখা আছে। আমি জেলি দিয়ে রেখেছি, তুমি খেয়ে নিও। আর খাওয়া শেষে পুরো দুই গ্লাস পানি খাবে। পানি খেয়ে সোজা বিছানায় যাবে। কোনো কাজের বাহাদুরি দেখাতে হবে না, বুঝেছো?’ প্রায় যেন আদুরে ধমক দিলো অনিক।</p>
<p>তার এই আচরণের সঙ্গে পরিচিত নীলা। সে একটু হেসে বললো, ‘আচ্ছা ঠিক আছে।’ অনিক বলে চললো, ‘দুপুরের ভাতও আমি রান্না করে রেখেছি। তরকারি কাল রাতেরটাই আছে, আর রান্নার দরকার হবে না। আমি ফোন করে তোমাকে ডেকে দিবো যদি ঘুমিয়ে থাকো। দুপুরে কিন্তু অবশ্যই খেয়ে নিবে সোনা। তোমার শরীরটা ভালো না। না খেলে কিন্তু শরীর আরো খারাপ হবে।’</p>
<p><span id="more-552"></span></p>
<p>খাওয়া নিয়ে বরাবরই নীলার উপর জবরদস্তি করতে হয় অনিককে। আজ সে বাসায় থাকতে পারছে না, নীলার শরীরও খারাপ, তাই নীলাকে বুঝিয়ে বলছে অনিক যাতে মেয়েটা খাবার ফাঁকি না দেয় কোনোভাবেই।</p>
<p>‘আর শোনো, তোমার ঘুম না আসলে টিভির রিমোট তোমার কাছে রেখে গেলাম, টিভি দেখো। গান শুনতে ইচ্ছে করলে ল্যাপটপও রেখেছি খাটের পাশেই। স্পিকারে লাইন দেয়া আছে ল্যাপটপ থেকেই গান চালাতে পারো। তবে কম্পিউটারের সামনে বসে থাকবে না কিন্ত। তাহলে শরীর আরও খারাপ করতে পারে। আর কোনো কাজ করতে যাবে না। এমনকি খাওয়ার পর মাতব্বরি করে প্লেটটাও ধুয়ে রাখতে হবে না।’</p>
<p>নীলা বললো, ‘আমাদের কি আর কাজের লোক আছে নাকি যে সে এসে ধুয়ে রাখবে?’<br />
‘কাজের লোক থাকা লাগবে না। আমিই এসে ধুয়ে রাখবো। তোমার শরীর খারাপ তুমি এগুলো ছোঁবেও না। ঠিক আছে?’<br />
মাথা নাড়লো নীলা। অনিক বলে চললো, ‘তোমার খরগোশগুলোকে খাবার দিয়ে রেখেছি। ওগুলো নিয়েও আপাতত চিন্তা করতে হবে না। কেউ এলে দরজা খোলার দরকার নেই। কেউ আসবে না আজ। পরিচিত কেউ আসলে দরজা না খুললে ফোনই করবে। ফোন রিসিভ করলেই বুঝতে পারবে। বেল শুনেই দরজার দিকে দৌড় দেবে না। বুঝেছো?’</p>
<p>এবারও মাথা নাড়লো নীলা। তার ঠোঁটের হাসিটা নজর এড়ালো না অনিকের। অনিক নীলার গালে ছোট্ট একটা চুমু খেয়ে বললো, ‘এবার তাহলে আমি যাই সোনামণি। তুমি কিন্তু ঠিক যেভাবে বলেছি সেভাবে থাকবে। কোনো কাজে হাত দেবে না। খুব সাবধানে থাকবে। ঠিক আছে?’</p>
<p>নীলার ঠোঁটটা নড়লো। কী বললো ঠিক শুনতে পেলো না অনিক। তার ঠোঁটের সামনে কান পেতে নীলাকে আবার জিজ্ঞেস করতেই নীলা বললো, ‘যাই না, বলো আসি।’</p>
<p>হাসলো অনিক। মেয়েটা সবসময়ই তার এই ভুলটা ধরে। ‘আচ্ছা জান আসি। এবার হয়েছে?’<br />
হাসিমুখেই এবার মাথা নাড়লো নীলা। অনিক তার কপালে একটা চুমু খেয়ে উঠে দাঁড়ালো। তার সত্যিই আজ মন সায় দিচ্ছে না নীলাকে এভাবে একা রেখে অফিসে যেতে। কিন্তু কিছু করার নেই, আজ তাকে যেতেই হবে। ভয়াবহ কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে আজকের অফিস এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।</p>
<p>শেষবারের মতো নীলার দিকে তাকিয়ে বিষণ্ন মনে বাসা থেকে বের হলো অনিক।</p>
<p>*</p>
<p>সকাল ৮টা।<br />
নীলার ফোনটা বাজছে। তিনবার রিং হওয়ার পর রিসিভ করলো নীলা।<br />
ওপাশ থেকে রাস্তার গাড়ি আর হর্নের শব্দ ভেসে এলো প্রথমেই। তারপর শোনা গেলো অনিকের গলা, ‘নীলা, উঠেছো সোনা?’<br />
‘উমম,’ স্পষ্ট করে কিছু বললো না নীলা। তবে অনিকের বুঝে নিতে অসুবিধা হলো না।<br />
‘শোনো জান, এক্ষুণি উঠে পড়ো। মুখ ধুয়ে ফ্রিজ থেকে ব্রেড খাও কয়েকটা। তারপর দু’গ্লাস পানি খাও। তারপর ওষুধটা খেয়ে নেও। আমি তোমার বালিশের নিচেই ওষুধের পাতাটা রেখে এসেছি।’<br />
‘আচ্ছা উঠছি,’ ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বলল নীলা।<br />
‘আচ্ছা উঠছি না সোনা, এক্ষুণি উঠো। ওষুধটা সময়মতো খেতে হবে না? উঠে পড়ো। আমি থাকলে তো আমিই খাইয়ে দিতাম। আমি নেই বলে কি একটু কষ্ট করে ওষুধটা খাবে না?’<br />
‘আচ্ছা যাচ্ছি।’</p>
<p>অনিকের খুশি হওয়াটাও যেন শুনতে পেলো নীলা। খুব ছোট্ট ছোট্ট ব্যাপারে অনিক খুব খুশি হয়। এগুলো নীলার ভালো লাগে, অবাকও লাগে। তবে ভালোই বোধহয় বেশি লাগে। তাই খুশি হওয়াটা বুঝতে পেরেই যেন শোয়া থেকে উঠলো নাস্তা করতে।</p>
<p>মুখ ধুয়ে ফ্রিজ খুলে ব্রেডগুলো দেখতে পেলো নীলা। হাতে নিয়ে আনমনেই হেসে উঠলো। পাউরুটিগুলোর উপর জেলি এতো মসৃণভাবে মাখিয়েছে অনিক যেন কোনো মেশিন দিয়ে লাগানো। অথচ নিজে খায় সময় যে কীভাবে জেলি লাগায় অনিক!</p>
<p>খাওয়ার সময় খুব একা লাগলো নীলার। প্রতিদিন সে আর অনিক একসঙ্গে নাস্তা করে। প্রতিদিনই অনিক একশো একটা বাহানা দেখিয়ে নিজের শেষ পিসটা নীলাকে খাইয়ে দেয়। ভাবটা দেখায় সে অনেক ভালোবাসে বলে নীলাকে এভাবে খাওয়ায়। কিন্তু নীলার মনে হয় অনিক খাওয়া ফাঁকি দেয়ার জন্যই এটা করে। অনেকবার প্রতিবাদ করেও কোনো লাভ হয়নি। ছেলেটা এতো আদর করে সাধে, না খেয়েও পারে না নীলা। অথচ অন্য কারো সাথে এতোটা মিশে কথা বলতে পারে না সে। যেন কেবল নীলার সাথেই সে এতো দুষ্টুমি করে, অন্য কারো সঙ্গেই পারে না।</p>
<p>ফোনের দিকে চোখ পড়তেই ভাবলো, কী ঝামেলার মধ্যে থেকে ফোন করেছে অনিক কে জানে। হয়তো বাসে ঝুলে দাঁড়িয়ে ছিলো। গাড়ি কেনার ইচ্ছে থাকলেও সামর্থ্য হয়নি। তাই আর দশজন মানুষের মতোই তাকে যাতায়াত করতে হয়। তা যে কী ভয়াবহ অবস্থা সেটা নীলার অজানা নয়। এতোকিছুর মাঝেও কীভাবে অনিক ফোন করলো, কে জানে!</p>
<p>*</p>
<p>দুপুর ১টা।<br />
এরই মাঝে আরও দু’বার ফোন করেছে অনিক। একবার নীলা ঘুমিয়ে ছিল। আরেকবার টিভি দেখছিল। কিন্তু ঠিক ১টায় অনিক ফোন করলো যখন নীলা রান্নাঘরে সিঙ্কের সামনে দাঁড়িয়ে ভাবছে প্লেটগুলো ধুয়ে ফেলবে কি না।</p>
<p>নীলার শরীরটা খারাপ লাগছিল বলে রাতে খাওয়ার পর প্লেটগুলো আর ধুয়ে রাখা হয়নি। নীলা না করলে অনিকই সাধারণত এসব কাজ করে ফেলে। কিন্তু নীলার শরীর রাতে আরও বেশি খারাপ ছিল বলে অনিক অন্য কাজ বাদ দিয়ে নীলার পাশেই বসে ছিল। কখন ঘুমিয়েছে জানে না, মাঝরাতে কেবল একবার ঘুম ভেঙ্গে নীলা দেখেছে অনিক নীলার একটা হাত জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে।</p>
<p>‘কী করছো নীলা?’<br />
‘কিছু না।’<br />
‘শুয়ে আছো?’<br />
‘না।’<br />
‘তাহলে কোথায়?’<br />
‘রান্নাঘরে।’<br />
‘খিদে পেয়েছে?’<br />
‘হ্যাঁ, আমি খেয়ে নিয়েছি। তুমি কিন্তু ভাত নরম করে ফেলেছো।’<br />
‘ওহ তাই নাকি? সরি! খেতে পেরেছো? নাকি বেশি নরম হয়ে গিয়েছিলো? আমিও যে কেন ভাত বসিয়ে ব্রেডে জেলি লাগাতে গিয়েছিলাম!’</p>
<p>অনিককে অপ্রস্তুত হতে দেখে হাসতে লাগলো নীলা। ‘আরে বোকা ভাত ঠিকই আছে। আমি মজা করছিলাম তোমার সাথে। কিচ্ছু বুঝে না। বুদ্ধু।’<br />
অনিকও লাজুক হাসি হাসলো। নীলাকে হাসতে শুনে তার খুবই ভালো লাগছে। মেয়েটার শরীরের অবস্থার উন্নতি ঘটেছে তাহলে।</p>
<p>*</p>
<p>দুপুরের পর থেকে আরও পাঁচবার ফোন দেয়ার পর ছয়বারের বেলায় নিজেই ঘরে এসে উপস্থিত হলো অনিক। দরজা খুলে দিলো নীলা। প্রথমেই তাকে জিজ্ঞেস করলো অনিক, ‘কেমন আছো? তোমার শরীরটা কেমন এখন?’ গায়ে হাত দিয়ে দেখলো জ্বর আছে কি না।<br />
নীলা বললো, ‘তুমি যা শুরু করেছো, রোগ এসে শান্তি পায় নাকি? চলে গেছে।’<br />
হাসলো অনিক। বলল, ‘ভালো হয়েছে। রোগ দুনিয়ার আর মানুষ পেলো না, না? আমার নীলামণিকেই ধরতে হবে? ঝেঁটিয়ে বিদায় করে দিবো রোগকে!’<br />
‘তুমি আমাকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে?’ প্রায় কাঁদো কাঁদো ভঙ্গিতে বললো নীলা।<br />
‘আরে না জান, তোমাকে কি আমি ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে পারি? রোগকে বিদায় করবো। তুমি তো আমার কাছেই থাকবে। তুমি আবার কই যাবে?’<br />
যেমনি হঠাৎ করে কাঁদার ভঙ্গি করেছিল, তেমনি হঠাৎ করেই হেসে নীলা বললো, ‘কোথাও না।’</p>
<p>নীলার এই ছেলেমানুষী অনিকের অনেক ভালো লাগে।</p>
<p>*</p>
<p>রাতে খাওয়ার পর।<br />
বিছানায় এসে শুয়ে পড়েছে নীলা। অনিক কিছুক্ষণ ল্যাপটপে কাজ করলো। নীলা শুতেই সে ল্যাপটপ রেখে নীলার দিকে মনোযোগ দিলো। জিজ্ঞেস করলো, ‘এখন তোমার শরীর কেমন? ভালো লাগছে?’<br />
‘হ্যাঁ, মনে হচ্ছে এখন আমি সুস্থ।’<br />
‘মনে হলেই চলবে না। ওষুধ দিয়েছে ডাক্তার, কোর্স শেষ করতে হবে।’<br />
‘অ্যাঁ, আমি ওষুধ খাবো না।’<br />
‘খাবে সোনা, হাঁ করো।’<br />
‘না করবো না।’<br />
‘না করলে কিন্তু আজ আমি নিচে ঘুমাবো।’<br />
‘আমিও নিচে ঘুমোবো।’<br />
‘জ্বী না, তুমি আমার সাথে শুতে পারবে না। আমি ছাদে গিয়ে ঘুমাবো।’<br />
‘আমিও তোমার সাথে ছাদে গিয়ে ঘুমাবো,’ খুশি খুশি গলায় বললো নীলা।<br />
‘ছাদে গেলে তোমাকে ভ’তে ধরবে।’<br />
‘ইশ, ধরবে না। ভ’ত ধরতে আসলে তুমি আছো না?’<br />
‘আমি কী করবো?’<br />
‘তুমি আমাকে ভ’ত থেকে বাঁচাবে,’ বলে অনিককে জড়িয়ে ধরলো নীলা।<br />
‘সেটাই তো করছি। নাও ওষুধটা খাও।’</p>
<p>হেরে গিয়ে চুপচাপ কিছুক্ষণ অনিকের দিকে তাকিয়ে রইলো নীলা। চুপচাপ ওষুধটা খেয়ে নিয়ে অনিকের বুকে মাথা রাখলো। ‘অনিক, তুমি আমাকে এতো ভালোবাসো কেন?’<br />
‘কারণ, তুমি শুধু আমার।’<br />
‘তুমি এতো চিন্তা করো কেন আমাকে নিয়ে?’<br />
‘তাহলে কাকে নিয়ে চিন্তা করবো? আমার তুমি ছাড়া আর কেউ তো নেই। যারা আছে, তারা তো আমাকে তোমার মতো করে বুঝে না।’<br />
‘হুম।’<br />
‘আর তোমার শরীর খারাপ। আমি তো অফিসে গিয়েছিই, কিন্তু মনটা সারাদিন পড়ে ছিল তোমার কাছে। কেবলই মনে হচ্ছিল কখন তোমাকে দেখবো।’ নীলার চুলে বিলি কাটতে শুরু করলো অনিক।</p>
<p>নীলা বললো, ‘আজ আমাদের বিয়ের কতোদিন হয়ে গেছে, তাই না?’<br />
‘হুম। অনেক বছর।’<br />
‘তুমি কি আজও আমাকে আমাদের সেই স্টুডেন্ট লাইফে যেমন ভালোবাসতে, তেমন ভালোবাসো অনিক?’<br />
‘তোমার কী মনে হয়?’<br />
জবাব দিলো না নীলা। সে জানে, অনিক তাকে খুব ভালোবাসে। বিয়ের এতোগুলো বছর পরও আজ তাদের কোনো সন্তান নেই। ভবিষ্যতেও না হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি। অবশ্য আর ভবিষ্যত কীসের। তাদের জীবনকালও প্রায় শেষই হয়ে আসছে। অনিক সবসময়ই বলে, তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি এই নীলা। কথাটা যে সত্যি তা নীলা জানে। হয়তো তার জীবনেরও শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি তার স্বামী, অনিক। কিন্তু সে কখনো এটা বলেনি। মেয়েরা কেন যেন মনের কথা চেপে রাখতেই বেশি পছন্দ করে।</p>
<p>নীলা জানে অনিক তাকে ভালোবাসে। তারা বিবাহিত দম্পতি। এতোগুলো বছর পর এখনো নীলার প্রায়ই মনে হয় যেন তারা সবে প্রেমে পড়েছে। যেমনটা ঠিক এখন তার মনে হচ্ছে। অনিকের মনের কথা শুনতেই যেন তার বুকে নিজের কান আরও চেপে ধরলো নীলা।</p>
<p>আর অনিক তখন ভাবলো নীলা ঘুমিয়ে পড়েছে। সে হেডফোন কানে লাগিয়ে তার প্রিয় গানগুলোর একটা শুনতে শুরু করলো। গানটা তার প্রিয়, কারণ কথাগুলো যেন ঠিক তার মন থেকে আসা। নীলার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে চোখ বন্ধ করে নিজের মনের কথাগুলো নিজেই শুনতে থাকলো অনিক।</p>
<p><em>পৃথিবীর যত সুখ, যত ভালোবাসা,</em><br />
<em> সবই যে তোমায় দেব, একটাই এই আশা,</em><br />
<em> তুমি ভুলে যেও না আমাকে,</em><br />
<em> আমি ভালোবাসি তোমাকে।</em></p>
<p><em>ভাবিনি কখনো, এ হৃদয়ে রাঙানো</em><br />
<em> ভালোবাসা নেবে তুমি,</em><br />
<em> দুয়ারে দাঁড়িয়ে, দু’বাহু বাড়িয়ে,</em><br />
<em>সুখেতে জড়াবো আমি।</em></p>
<p><em> সেই সুখেরই ভেলায়</em><br />
<em> ভেসে স্বপ্ন ডানা মেলব হেসে,</em><br />
<em> এক পলকে পৌঁছে যাব, </em><br />
<em>রুপকথারই দেশে।</em></p>
<p><em>তুমি ভুলে যেও না আমাকে</em><br />
<em> আমি ভালবাসি তোমাকে ।।</em></p>
<br />Filed under: <a href='http://aisajib.wordpress.com/category/story/'>Story</a>  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/aisajib.wordpress.com/552/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/aisajib.wordpress.com/552/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/aisajib.wordpress.com/552/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/aisajib.wordpress.com/552/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/aisajib.wordpress.com/552/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/aisajib.wordpress.com/552/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/aisajib.wordpress.com/552/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/aisajib.wordpress.com/552/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/aisajib.wordpress.com/552/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/aisajib.wordpress.com/552/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/aisajib.wordpress.com/552/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/aisajib.wordpress.com/552/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/aisajib.wordpress.com/552/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/aisajib.wordpress.com/552/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=aisajib.wordpress.com&amp;blog=3913370&amp;post=552&amp;subd=aisajib&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://aisajib.wordpress.com/2011/10/18/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-%e0%a6%aa%e0%a7%83%e0%a6%a5%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%af%e0%a6%a4-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%96/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>3</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/20133c756ec851e1d0dad22bd9dcfae8?s=96&#38;d=&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">Sajib</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://aisajib.files.wordpress.com/2011/10/romantic-love-quotes.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">romantic-love-quotes</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>আপনি কেন ভয় পান?</title>
		<link>http://aisajib.wordpress.com/2011/08/05/%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%ad%e0%a7%9f-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a8/</link>
		<comments>http://aisajib.wordpress.com/2011/08/05/%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%ad%e0%a7%9f-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a8/#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 05 Aug 2011 13:39:14 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Sajib</dc:creator>
				<category><![CDATA[Thoughts]]></category>
		<category><![CDATA[ঢাকা]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[ভূত]]></category>
		<category><![CDATA[ভূতুড়ে]]></category>
		<category><![CDATA[ভয়]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://aisajib.wordpress.com/?p=550</guid>
		<description><![CDATA[মূলঃ Why Do you fear? অনেক বিজ্ঞানী বা গবেষকই বিশ্বাস করেন সুপারন্যাচারাল বা অতিপ্রাকৃতিক বিষয়সমূহে। অন্যদিকে অনেক বিজ্ঞানী একে স্রেফ অবিশ্বাস করেন। এর কারণ হতে পারে এই যে, সুপারন্যাচারালের অস্তিত্বের প্রমাণগুলো চাক্ষুস নয়। দেখা যায়, এসব ঘটনা খুব অল্পসংখ্যক মানুষের &#8230; <a href="http://aisajib.wordpress.com/2011/08/05/%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%ad%e0%a7%9f-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a8/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=aisajib.wordpress.com&amp;blog=3913370&amp;post=550&amp;subd=aisajib&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><img class="aligncenter" src="http://aminulislam333.files.wordpress.com/2011/08/haunted_house.jpg?w=464&#038;h=423&#038;h=280" alt="ভূতুড়ে বাড়ি" width="464" height="280" /></p>
<p>মূলঃ <a href="http://aisjournal.com/2011/08/03/why-do-you-fear/" target="_blank">Why Do you fear?</a></p>
<p>অনেক বিজ্ঞানী বা গবেষকই বিশ্বাস করেন সুপারন্যাচারাল বা অতিপ্রাকৃতিক বিষয়সমূহে। অন্যদিকে অনেক বিজ্ঞানী একে স্রেফ অবিশ্বাস করেন। এর কারণ হতে পারে এই যে, সুপারন্যাচারালের অস্তিত্বের প্রমাণগুলো চাক্ষুস নয়। দেখা যায়, এসব ঘটনা খুব অল্পসংখ্যক মানুষের জীবনেই ঘটে। তবে আমার কথা হচ্ছে, ভৌতিক কিছু না ঘটলেও কিছু কিছু জায়গা কিন্তু আমাদের মনে ভীতির সৃষ্টি করে। যেমন গভীর রাতে কোনো ঝোপ-ঝাড়ে, জঙ্গলে, কিংবা বহু বছর ধরে পরিত্যক্ত কোনো বাড়িতে ঢুকতে গেলে স্বভাবতঃই আমরা ভয় পাবো। কিছু না ঘটলেও আমাদের মনে ভয়-ভীতি কাজ করবেই। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন?</p>
<p>আমি নিজেকে কখনো জিজ্ঞেস করিনি আমি কেন ভয় পাই। বরং &#8220;ভয়&#8221; নিয়ে চিন্তা করার সময় হঠাৎই জবাব পেয়ে গেছি কেন আমরা ভয় পাই। আমরা ভয় পাই এর আসল কারণ হচ্ছে আমাদের মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া হয়।<br />
<span id="more-550"></span><br />
আমার মতে, ভয় হচ্ছে ভাইরাসের মতো। এটি ছোঁয়াচে। খুব শক্তিশালী মনের অধিকারী না হলে যে কারো মধ্যেই যে কোনো স্থান (পুকুর, বাড়ি কিংবা কোনো আস্তানা) সম্পর্কে ভৌতিক কাহিনী শুনিয়ে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া সম্ভব। তাৎক্ষণিকভাবে তার মধ্যে ভীতি সঞ্চার হওয়ার কোনো প্রমাণ না পাওয়া গেলেও সেই ব্যক্তিটির মনের মধ্যে কোথাও না কোথাও ভয়টা লুকিয়ে থাকবেই, যেটা সময়মতো আক্রমণ করে মনকে কাবু করে দিবে; তথা ভয় ধরিয়ে দেবে।</p>
<p>উদাহরণ দিচ্ছি, ধরুন আমরা বেশিরভাগ মানুষই অন্ধকারকে ভয় পাই। পুরনো বাড়ি, কবরস্থান, বাঁশ-ঝাড় ইত্যাদি আমাদের অনেকের মনেই ভয়ের সৃষ্টি করে। প্রশ্ন হচ্ছে কেন? আমার মতে, এর কারণ আমরা ছোটবেলা থেকে এ পর্যন্ত অনেক ভাবে জেনে এসেছি যে এসব জায়গা ভূতের আস্তানা হয়। হতে পারে সেটা কোনো গল্প বা মুভি যা আমাদের মধ্যে ভয় নামক ভাইরাসটি ঢুকিয়ে দিয়েছে। ভেবে দেখুন, একটা মানুষ যদি ছোটবেলা থেকে কখনোই এ জাতীয় গল্প বা মুভি না দেখে, তাহলে কি সে একটা পরিত্যক্ত বাড়িতে রাতের অন্ধকারে যেতে ভয় পাবে? আমার মনে হয় না সে ভয় পাবে।</p>
<p>উইকিপিডিয়া ঘেঁটে দেখলাম ভয়ের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, People develop specific fears as a result of learning. অর্থাৎ, মানুষ ভয় পেতে শিখে। সাঁতার না জেনে পানিতে পড়লে পানি সম্পর্কে একটা ভয় সৃষ্টি হবেই। কিন্তু ভৌতিক বিষয়ে ভীতিটা একটু অন্যরকম। এটা কেবল গল্প বা ছবির মাধ্যমে জানলেই যথেষ্ট। নিজে ভূতের সামনে পড়া লাগে না। এভাবেই আমরা সাহিত্য বা সংস্কৃতির মাধ্যমে ভয় পেতে শিখে এসেছি।</p>
<p>অতএব, আপনি ভয় পান কারণ আপনি ভয় পেতে শিখেছেন। আপনি হয়তো নিজের ইচ্ছেয় শিখেন নি, কিন্তু আপনাকে বিভিন্ন গল্প ও ছবির মাধ্যমে শিখানো হয়েছে। আর এ জন্যই ভয় নামক অনুভূতিটি আপনার মধ্যে কাজ করে।</p>
<blockquote><p>অতিপ্রাকৃতিক ঘটনা সম্পর্কে আরও জানতে ডিসকভারির <a href="http://dsc.discovery.com/tv/haunting/haunting.html" target="_blank"><span style="font-family:solaimanlipi;font-size:small;">এ হন্টিং</span></a> দেখতে পারেন যেখানে বাস্তব ঘটনাকে রিকন্সট্রাকশন করে দেখানো হয়। ডিসকভারি বাংলায় সম্প্রচারিত হয় বলে অনেকেই দেখে ঘটনা বুঝতে পারবেন। তবে রাতে দেখা থেকে বিরত থাকবেন (যদিও প্রোগ্রামটি রাতেই দেখায়, পুনঃপ্রচার হয় দুপুরের দিকে)।</p></blockquote>
<p><em>যারা ভাবছেন হঠাৎ করে ভয়ের কারণ নিয়ে গবেষণা শুরু করলাম কেন, তারা পরবর্তী পোস্টের জন্য অপেক্ষায় থাকুন।</em></p>
<br />Filed under: <a href='http://aisajib.wordpress.com/category/thoughts/'>Thoughts</a>  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/aisajib.wordpress.com/550/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/aisajib.wordpress.com/550/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/aisajib.wordpress.com/550/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/aisajib.wordpress.com/550/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/aisajib.wordpress.com/550/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/aisajib.wordpress.com/550/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/aisajib.wordpress.com/550/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/aisajib.wordpress.com/550/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/aisajib.wordpress.com/550/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/aisajib.wordpress.com/550/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/aisajib.wordpress.com/550/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/aisajib.wordpress.com/550/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/aisajib.wordpress.com/550/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/aisajib.wordpress.com/550/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=aisajib.wordpress.com&amp;blog=3913370&amp;post=550&amp;subd=aisajib&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://aisajib.wordpress.com/2011/08/05/%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%ad%e0%a7%9f-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a8/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>2</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/20133c756ec851e1d0dad22bd9dcfae8?s=96&#38;d=&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">Sajib</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://aminulislam333.files.wordpress.com/2011/08/haunted_house.jpg?w=700&#38;h=423" medium="image">
			<media:title type="html">ভূতুড়ে বাড়ি</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>গল্পঃ My Best Friend Simi (শেষ পর্ব)</title>
		<link>http://aisajib.wordpress.com/2011/07/27/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac/</link>
		<comments>http://aisajib.wordpress.com/2011/07/27/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 27 Jul 2011 17:56:57 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Sajib</dc:creator>
				<category><![CDATA[Story]]></category>
		<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[ধারাবাহিক গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলা]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[My Best Friend Simi]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://aisajib.wordpress.com/?p=541</guid>
		<description><![CDATA[(পর্ব ১২) শেষ পর্ব হওয়ায় এই পর্বের দৈর্ঘ্য স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বড়। একবারে শেষ করতে না পারলে অনুগ্রহপূর্বক খণ্ড খণ্ড করে তিনবারে পর্বটি পড়ুন। ধন্যবাদ। ২৮ আজ রাতটা যেন সাইফের আর কাটতেই চায় না। এমনিতে সাইফ অনেক কষ্টে অন্য কিছুতে &#8230; <a href="http://aisajib.wordpress.com/2011/07/27/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=aisajib.wordpress.com&amp;blog=3913370&amp;post=541&amp;subd=aisajib&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><img class="aligncenter size-full wp-image-474" title="mbfs" src="http://aisajib.files.wordpress.com/2011/06/mbfs.jpg?w=500&#038;h=706" alt="My Best friend simi" width="500" height="706" /></p>
<p>(<a title="গল্পঃ My Best Friend Simi (পর্ব ১২)" href="http://aisajib.wordpress.com/2011/07/24/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%a8/" target="_blank">পর্ব ১২</a>)</p>
<p><em>শেষ পর্ব হওয়ায় এই পর্বের দৈর্ঘ্য স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বড়। একবারে শেষ করতে না পারলে অনুগ্রহপূর্বক খণ্ড খণ্ড করে তিনবারে পর্বটি পড়ুন। ধন্যবাদ।</em></p>
<p>২৮<br />
আজ রাতটা যেন সাইফের আর কাটতেই চায় না।<br />
এমনিতে সাইফ অনেক কষ্টে অন্য কিছুতে মনোযোগ বসিয়ে রাত পার করে দেয়। কোনো রাতেই সে ঘুমায় না, কিংবা ঘুমাতে পারে না। কেবল ভোরের দিকে কিছুটা তন্দ্রামতো আসে। কিন্তু সেই সময়টুকু পর্যন্ত কোনোরকমে কাটিয়ে দেয় সাইফ। কখনো শুয়ে শুয়ে উপরে ঘূর্ণায়মান ফ্যানের দিকে তাকিয়ে থাকে। কখনো লাইট নিভিয়ে অন্ধকারেই চোখ খুলে বসে থাকে। কিন্তু যখন যেভাবেই থাকুক না কেন, ওর মন সব সময় কেবল একটা কথাই ভাবতে থাকে, সিমির কথা।</p>
<p>মাঝে মাঝে সাইফের অবাক লাগে। মনের কি বিরক্ত লাগে না? মানুষের মন আসলে সবচেয়ে রহস্যময় জিনিস। তার আশেপাশে কত ছেলেমেয়ে আছে যারা একের পর এক রিলেশনে গড়ছে আর ভাঙ্গছে। ওদের কাছে এটা যেন সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের মতো ঘটনা। সাইফ কেন সে রকম হতে পারলো না কে জানে। হয়তো কাউকে সত্যি সত্যি ভালোবাসলে এমন হওয়া যায় না। হয়তো এই ছেলেমেয়েগুলোও যেদিন কাউকে মন থেকে ভালোবাসবে, তখন সত্যিই সিরিয়াস হয়ে যাবে। তখন আর সম্পর্ক ভেঙ্গে গেলে এতো কেয়ারলেস থাকতে পারবে না।</p>
<p>মাঝে মাঝে সাইফের নিজেকে মনে হয় মানসিক রোগী। এটা ভাবতে তার খারাপ লাগে না। সে আসলে বিশ্বাসই করে যে সে মানসিক রোগী। নাহলে যে চলে গেছে তার স্মৃতি আঁকড়ে রাখবে কেন? তার চেয়ে বড় কথা, তার স্মৃতি আঁকড়ে থাকার মধ্যেই মানসিক আনন্দ খুঁজে পাবে কেন?</p>
<p>সাইফ হয়তো কোনোদিন সিমিকে বোঝাতেই পারেনি সিমি তার কাছে কতোটা মূল্যবান, কতোটা বেশি আপন। মানুষের সব রকম প্রতিক্রিয়া সাধারণত আপন মানুষের উপরই পড়ে এই সত্যটা হয়তো সিমি বুঝতে পারেনি বা মেনে নিতে পারেনি। সাইফের ব্যক্তিগত যেসব কষ্ট রয়েছে, সেসব কষ্ট সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলেই যে ও বেশ রূঢ় ব্যবহার করে ফেলত, আর সেটা যে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে ছিল, তা যেন সৃষ্টিকর্তা জেনেও ইচ্ছে করে সিমির কাছে গোপন করে গেছেন। সিমির সঙ্গে বলা প্রতিটি রুড কথার জন্য সাইফ নিজেকে কতোবার ধিক্কার দিয়েছে তা বুঝি সৃষ্টিকর্তা একাই উপভোগ করেছেন। কে জানে, হয়তো প্রথমদিন সিমির হাত ধরে সাইফ মনে মনে যে স্রষ্টার কাছে বলেছিল যে, এই সিমিকে সবসময় সুখী রাখাই হবে তার জীবনের অন্যতম একটা উদ্দেশ্য, তখন বুঝি সৃষ্টিকর্তা অট্টহাসি দিয়েছিলেন। তিনি নিশ্চয়ই হাসির ফাঁকে আপনমনে বলেছেন, ‘রাখিস সুখী! দেখবো কতোটা সুখী রাখতে পারিস! আগে তো নিজে সুখী থাকবি, নাকি!’</p>
<p><span id="more-541"></span></p>
<p>সাইফের জীবনে কখনোই সুখ ছিল না। হাসি-আনন্দ এসব ওর ভাগ্যে লেখা ছিল না কোনোদিনই। কিন্তু তবুও সাইফ জীবনের অল্প ক’টা দিন সুখী ছিল। সব অভাববোধ দূর হয়ে গিয়েছিল কেবল সিমিকে পাওয়ার কারণে। নিজের জীবনের অর্থ খুঁজে বেড়ানো সাইফ ভেবে নিয়েছিল, সিমি আমাকে ভালোবাসে, আমিও সিমিকে ভালোবাসি, সিমি সুখী থাকলে আমিও সুখী থাকি, অতএব আমার দায়িত্ব হবে সবসময় ওকে সুখী রাখা।</p>
<p>পরে অবশ্য সাইফের মনে হয়েছে, ওর ভাগ্যে তো সুখ লেখাই ছিল না। তাহলে সিমিকে সে পাবে কেন? যদিও সে তার চেষ্টার ত্রুটি করেনি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সব ভাগ্যেই লেখা ছিল। নইলে রিলেশন কতোবার ভাঙ্গে আবার জোড়া লাগে। এমনকি যেসব রিলেশন শেষ পর্যন্ত টিকে গেছে, সেগুলোও কয়েকবার কোনো না কোনো কারণে ভেঙ্গেছিল। কিন্তু সাইফের বেলায় এসেই সব পাল্টে গেল।</p>
<p>এটা ছিল সাইফের জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্ট। তাকে বেস্ট ফ্রেন্ড বলে দাবি করতো সিমি। সেই বেস্ট ফ্রেন্ড তার কাছে একটা সুযোগ পেলো না। সাইফ তাকে অনেক ভালোবাসতো। এমনকি সাইফ যতদূর বুঝতে পেরেছে সিমিও তাকে এখনো ভালোবাসে। কিন্তু ও আরেকবার কষ্ট পাওয়ার ভয়ে সাইফকে আর কাছে টানতে চায় না। সাইফ যতোই বলল, যতোই বুঝালো, সিমি কোনো কথাই শুনলো না। সাইফ যদি কোনোদিন সিমিকে এতটুকুই সুখী করতে পারে তাহলে সেই সময়টুকুর দোহাই দিয়ে ওর কাছে জীবনে মাত্র একবার সুযোগ চাইলো। সাইফ তাকে বলল সেদিন রাতে তার ভুল বুঝতে পারার কথা। সাইফ তাকে বলল যে এর আগের সমস্যার পর থেকে তো ও আর তেমন কিছুই করেনি, সব ঠিক করে নিয়েও কেন আবার ইচ্ছে করে ভেঙ্গে দেয়া? সিমির উত্তর ছিল, সাইফ আবারও আগের মতো হয়ে যেতে পারে। ওর এই ভুল ধারণা একটা সুন্দর স্বপ্নকে জ্বলে পুড়ে যাওয়ার ইন্ধন জোগালো। সাইফ অনেক অনুনয় বিনয় করলো। নিজের অজান্তেই কাঁদলো। সিমিকে ছাড়া সে কিছু ভাবতে পারে না। সে জীবনে অন্তত একবার সুযোগ চাইলো। কিন্তু প্রতিবারই তার হাতটা খালিই ফিরিয়ে দিলো সিমি।</p>
<p>অবশেষে সাইফ জানিয়ে দিলো, সে আজীবন সিমিকেই ভালোবাসবে। সিমি হয়তো কোনোদিন তার কাছে আর ফিরে আসবে না। না আসুক। সাইফ তাকে যতোটা গভীরভাবে ভালোবেসেছে, এতে সিমিকে ছাড়া অন্য কাউকে কাছে টানা তার পক্ষে অসম্ভব। কথায় বলে, সময় সব সারিয়ে দেয়। কিন্তু সাইফ নিজেকে চেনে, সময় সারালে ও সেটা বুঝতে পারতো। সিমিকে যে সময় ‘সারিয়ে’ দেবে না, সেটা সে ভালো করেই জানে। তাই সে সিদ্ধান্ত নিলো, সিমির সঙ্গে সে আর যোগাযোগ রাখবে না। বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার যন্ত্রণা অনেক গভীর। সে মনে প্রাণে ভালোবাসবে সিমিকে। সবসময় সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করবে সিমি যেন সুখে থাকে। আর যদি কোনোদিন সে ফিরে আসে, সেটা যতদিন পরেই হোক বা যে অবস্থাতেই হোক না কেন, সিমিকে নিজের বুকে টেনে নিবে সাইফ।</p>
<p>সাইফ আর সিমির এই অদৃশ্য বন্ধনের মধ্যে সিনথিয়াকে নিয়ে ভাবার কোনো অবকাশ রইলো না।</p>
<p>২৯<br />
সাইফ আজ কলেজে এসেছে ঠিকই, কিন্তু সাথে বইপত্র কিছুই আনেনি। একেবারে খালি হাতে এসেছে। ওর কলেজে আসার উদ্দেশ্যই সিনথিয়ার সঙ্গে কথা বলা। ফোনে জেনেছে, সিনথিয়ার আজই কলেজে শেষ দিন। যা জানানোর আজই জানাতে হবে সাইফকে। আর যা জানানোর তা সামনা-সামনি জানতে চায় সিনথিয়া।</p>
<p>কিন্তু সকাল থেকেই সাইফকে কলেজে অনুপস্থিত দেখে বেশ ভেঙ্গে পড়েছিল সিনথিয়া। এই অনুপস্থিতিকে ‘না’ ধরে নিল। অবশেষে কলেজ ছুটির কিছুক্ষণ আগে কোত্থেকে যেন এসে হাজির হলো সাইফ।</p>
<p>ক্লাসমেটরা কিছুক্ষণ ‘হাই, ক্লাসে আসোনি কেন, কী অবস্থা’ ইত্যাদি বলে তারপর চলে গেল যার যার বাসার দিকে। মাঠের পাশে তখন কেবল সাইফ আর সিনথিয়া। বরাবরের মতোই একটা দল তখন মাঠে ফুটবলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।</p>
<p>সিনথিয়ার নিশ্চুপ জিজ্ঞাসু দৃষ্টি সাইফের চোখ এড়ালো না। সাইফের একটু একটু খারাপ লাগছিল না এমনটা না। কিন্তু সে সিনথিয়ার সঙ্গে প্রতারণা করতে চায় না। আজ ভালোয় ভালোয় সব মেনে নিয়ে মাস তিনেক পরে সম্পর্ক ভেঙ্গে ফেলার চেয়ে যা হবার প্রথমবারই হয়ে যাওয়া ভালো মনে করে সাইফ। তাই সেও দূরে মাঠের অপর প্রান্তের দিকে তাকিয়ে বলে দিলো, ‘আমি সিমিকেই ভালোবাসি, সিনথি।’</p>
<p>দীর্ঘশ্বাস ফেলল সিনথিয়া। সেইসঙ্গে কিছুটা রাগও যেন ঝড়লো, ‘একটা মেয়ে, যে চলে গেছে, তাকে ধরে রাখার কী আছে আমাকে বোঝাও তো সাইফ?’<br />
‘বোঝাতে পারবো না। কিছু কিছু ব্যাপার বুঝতে হলে ঠিক ঐ ধরনের অবস্থায় থাকতে হয়। আর ঠিক আমার অবস্থায় তুমি কোনোদিনই আসতে পারবে না।’<br />
‘কেন পারবো না? আমার তো মনে হয় অলরেডি এসেই পড়েছি। কেবল আমাদের মাঝে খোলাখুলি সম্পর্কটা হয়নি। এতটুকুই তো, তাই না?’<br />
সাইফ কিছু বলল না। সিনথিয়া সমান তেজে বলে চলল, ‘সিমি কোনোদিনই তোমার লাইফে আর আসবে না। অন্তত আমার মনে হয় না ও আসবে।’<br />
‘না আসলে আমি আর কী করতে পারবো? ও আসবে না বলে আমি তো আর জোর করে আমার ভালোবাসা ডুবিয়ে দিতে পারবো না তাই না?’<br />
সাইফের দিকে তাকিয়ে রইলো সিনথিয়া। সাইফ সিমিকে ফিরিয়ে আনতে যেমন মরিয়া হয়েছিল, আজ সিনথিয়াও যেন সাইফকে পেতে তেমনই মরিয়া। সে বলল, ‘দেখো সাইফ, বাস্তবতা বুঝতে শেখো। যে যাবার সে চলে গেছে। সিমি তোমাকে এখনো ভালোবাসলে ও তোমাকে ছেড়ে এতোদিন থাকতে পারতো না। তুমি না হয় বাধ্য হয়ে থাকছো, সিমি তো বাধ্য নয়। তাহলে ও থাকছে কী করে?’</p>
<p>সাইফ জবাব দিলো না। হয়তো সিমি তাকে ছাড়া আসলেই শান্তিতে আছে। সারাক্ষণ কাউকে জানাতে হচ্ছে না সে কী করছে, ঠিকমতো খাচ্ছে কি না, ঘুমোচ্ছে কি না। আসলে সিমি কেমন আছে, তা সিমিই জানে। সাইফ এ বিষয়ে আর কিছু আন্দাজ করতে পারে না।</p>
<p>সিনথিয়া বলতে থাকলো, ‘কে জানে হয়তো সিমি অলরেডি কোনো ফ্রেন্ড পেয়ে গেছে, যার সঙ্গে সে তার সবকিছু শেয়ার করছে। দেখা যাবে একসময় তার সঙ্গে সিমির রিলেশন হবে। সিমি হ্যাজ মুভড অন, সাইফ। তোমাকেও বাস্তবতা মেনে নিতে হবে।’<br />
রিলেশনে মুভ অন কথাটা শুনলেই যেন অনেকটা গা জ্বলে উঠে সাইফের। কিন্তু আজ কিছু বললো না। হয়তো সত্যিই এগিয়ে গেছে সিমি, কিংবা দ্রুতই সাইফকে পেছনে ফেলে নিজের জীবন নিয়ে এগিয়ে যাবে। পারবে না কেবল সাইফ। অন্য কোনো মেয়ে হলে হয়তো পারতো। ইন ফ্যাক্ট, পেরেছিলও। কিন্তু সিমির ব্যাপার সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে সাইফ অসহায়। সে সিমিকে কোনোদিনই ভুলতে পারবে না।<br />
সিনথিয়া বলে চলল, ‘সাইফ কতদিন অপেক্ষা করতে পারবে তুমি সিমির জন্য? আরও ৬ মাস? এক বছর? দুই বছর? তারপর তো কাউকে না কাউকে কাছে টানবেই ঠিক না? আমারই ভাগ্য খারাপ। আমি বেশি আগে চলে এসেছি তোমার কাছে।’</p>
<p>সাইফ স্থির কণ্ঠে বলল, ‘আমি আগেই বলেছি সিনথি, আমি সিমির জন্য সারাজীবনই অপেক্ষা করে থাকবো। ও যদি কোনোদিন আসে তো আসবে। সেটা দশ বছর হোক বা পনেরো বছরই হোক কিংবা তার বেশি হোক। সিমির জন্য অপেক্ষা করতে আমার কোনো কষ্ট নেই। আশাভঙ্গের কষ্ট সহ্য করার চেয়ে আশা করতে করতে মরে যাওয়াও আমার জন্য ভালো।’<br />
‘আর যখন সিমির বিয়ে হয়ে যাবে?’ সাইফের দিকে সরাসরি তাকালো সিনথিয়া। সাইফ কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। তারপর ধীরেসুস্থে বললো, ‘ওর হাজব্যান্ডের সঙ্গে ও সুখী হোক আমি এটাই চাই। কিন্তু যদি বাই এনি চান্স ও সুখী না হয়, যদি কখনো ও আমার অভাব ফিল করে, ও তো আসতেও পারে। তাই না?’</p>
<p>সিনথিয়া যেন আকাশ থেকে পড়লো। এতক্ষণে বুঝলো সাইফের সঙ্গে তর্ক করা বৃথা। সে এতোদিন সাইফের কাছ থেকে সিমির সম্পর্কে সব শুনেছে কেবল তার নিজের কৌতুহলের জন্যই নয়, বরং সাইফকেও হালকা করার জন্য। যাতে কাউকে কিছু বলে সাইফ নিজের কষ্ট কিছুটা হালকা করতে পারে। কিন্তু এ যে এক অন্য সাইফকে দেখছে সে। যে কি না টোটালি আউট অফ মাইন্ড!</p>
<p>সিনথিয়া আর কথা বাড়ালো না। বুঝলো, ওর যাবার সময় হয়ে এসেছে। এখান থেকে চলে গেলে সাইফের সঙ্গে ওর হয়তো আর কোনোদিন কথা হবে না। সাইফের সঙ্গে নেটে যোগাযোগ নেই সিনথিয়ার। সিনথিয়া চেয়েছিল সাইফই ওর কাছে ওর ইমেইল বা আইডি জানতে চাইবে। কিন্তু সাইফ কখনো জানতে চায়নি, সিনথিয়াও রাগ করে দেয়নি। তাই ওদের যোগাযোগের হয়তো এখানেই ইতি।</p>
<p>সাইফকে প্রায় ফিসফিস করে বলল সিনথিয়া, ‘ঠিক আছে। আমি চলে যাচ্ছি। তুমি ভালো থেকো। আর যদি কখনো সিমি ফিরে আসে, তাহলে সেই সময়ের কথা ভেবে তোমাদের দু’জনের জন্য অগ্রিম শুভ কামনা রইলো।’<br />
সাইফ মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইলো। দূরে ফুটবল খেলা জমে উঠেছে।</p>
<p>সিনথিয়া ঘুরে হাঁটতে শুরু করলো। আস্তে আস্তে সাইফ আর সিনথিয়ার দূরত্ব বাড়তে থাকলো। সেইসঙ্গে বাড়তে থাকলো আকাশের কালো মেঘ। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই যেন বৃষ্টি নামলো। খুশি হলো মাঠে খেলতে থাকা ছেলেগুলো। খুশি হলো সাইফ, খুশি হলো সিনথিয়া। তাদের চোখের পানিগুলো বৃষ্টির আড়ালে ঢাকা পড়বে বলে।</p>
<p>সিনথিয়া হাঁটছে। তার খুব মন খারাপ লাগছে। শেষবারের মতো পেছনে ফিরে তাকাতে খুব ইচ্ছে করছে। সেই ইচ্ছেটাকে জোর করে আটকে রেখেছে সে। মাটির দিকে তাকিয়ে আনমনেই বিড়বিড় করে বলে উঠলো, ‘আই লাভ ইউ, সাইফ।’</p>
<p>আর কিছুদূর পেছনে সাইফও বৃষ্টিতে ভিজছে। কোনোকিছুরই পরোয়া নেই এমনভাবে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকালো সাইফ। মনের অজান্তেই নাকি ইচ্ছে করেই সাইফের মুখ থেকেও বেরিয়ে এলো মনের কথা, ‘আই লাভ ইউ, সিমি।’</p>
<p>বৃষ্টির মাঝে তাদের চোখের পানিগুলোকে আলাদা করে চিনতে পারলো না কেউই। এভাবেই বুঝি প্রকৃতি মানুষের যার যার কষ্ট অন্যদের কাছ থেকে আড়াল করে রাখে।</p>
<p>৩০<br />
চুপচাপ বসে রইলো ছেলেটি কিছুক্ষণ। কখন কাঁদতে শুরু করেছে সে নিজেও টের পায়নি। টেবিলে রাখা কাগজ ভিজে যাওয়ায় টের পেলো। কাঁদার সময় অজান্তেই চোখ বন্ধ হয়ে যায় তার। এতে চোখের পানিগুলো তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যায়। চোখের পানি তাড়াতাড়ি বের করে দিয়ে অবশ্য কষ্টগুলোকেও ঝেঁটিয়ে বিদায় করা যায় না। কিন্তু কিছুটা শান্ত থাকা যায়। মেঘ যেমন অনেক পানি জমলে বৃষ্টি ঝড়িয়ে নিজেকে হালকা করে নেয়, মানুষও যেন অনেকটা তেমনই।</p>
<p>টেবিলে ছড়িয়ে থাকা কাগজগুলোর প্রথম পৃষ্ঠাটা খুঁজে বের করলো সে। এবার খুব মনোযোগের সঙ্গে পুরোটা লেখা আবার পড়তে শুরু করলো। কলমটার কালি প্রায় শেষ হয়ে আসছে। আরেকটা কলম বের করে নিল। পুরোটা লেখা জুড়ে যতগুলো সাইফ আর সিমি লেখা আছে, সবগুলো একটা একটা করে কেটে নিজের নাম আর নিজের ভালোবাসার মানুষটার নাম বসালো সে। এতোদিন নামগুলো বদলে রেখেছিল, যেন কারো হাতে পড়লে হঠাৎ করে কেউ বুঝতে না পারে। এবার আসল নামগুলো বসিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লো সে। কখনো সিমির কথা পড়ে হাসলো। কখনো চোখের পানি শুকানোর জন্য পড়া থামিয়ে সময় নিল।</p>
<p>পুরোটা লেখা পড়া শেষ হওয়ার পর স্ট্যাপলার দিয়ে পিন আপ করলো সবগুলো। রাত এখন প্রায় সাড়ে তিনটা। রান্নাঘর থেকে ম্যাচের বাক্সটা এনে রাখতে ভুল করেনি ছেলেটা। কাগজগুলো তুলে ধরে এক কোণে আগুন ধরিয়ে দিলো সে। আগুন নিজের ইচ্ছেমতো গিলে খেলো সবগুলো কাগজ। পাশে রাখা বিনে সেটা ফেলল সে। পুরো কাগজটা পুড়ে কেবল স্ট্যাপলারের পিনটা অক্ষত রইলো। ছেলেটা আগে থেকে গুণে রাখেনি, তাহলে সে জানতো ঐ বিনে এমন আরও ছয়টা অক্ষত পিন রয়েছে।</p>
<p>কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইলো ছেলেটা। তার ভালোবাসার মেয়েটার অনেক কথাই মনে পড়ছে তার। সেসব কথা বলার মতো কেউ নেই তার। কারো সঙ্গে কোনোদিনই সে ভালোমতো মিশতে পারেনি। আর মেয়েদের সঙ্গে মেশার তো প্রশ্নই আসে না। আগে যাই মিশতো, এখন যতোটা সম্ভব এড়িয়ে চলে। কারণ, প্রত্যেকটা মেয়ে ওকে ওর ভালোবাসার মানুষটার কথা অনেক বেশি মনে করিয়ে দেয়। সে তাকে ভুলে থাকতে চায় এমনটা না, কিন্তু তবুও সে কষ্ট পেতে চায় না। সে কেবল এক বুক আশা আর ভালোবাসা নিয়ে অপেক্ষা করে।</p>
<p>কিন্তু মানুষকে কারো সঙ্গে মনের কথা ভাগাভাগি করে নিতেই হয়। ছেলেটি ভাগাভাগি করে নেয় নিজের সঙ্গে। আর এখানে সঙ্গী হিসেবে থাকে কলম আর একগুচ্ছ কাগজ। প্রতিবার কল্পনায় কাউকে বন্ধু হিসেবে ধরে নেয়, নিজের মতো করে সাজায় ঘটনাক্রম। এরপর তার ভালোবাসার মানুষ ও তার নিজের সুখময় স্মৃতি ও কষ্টময় ইতির কথাগুলো লিখতে থাকে। নিজের আনন্দ নিজেই তৈরি করে নেয়, আর কষ্ট তো সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে তার জন্য দেয়াই আছে।</p>
<p>আজ রাতে আর নতুন করে শুরু করতে ইচ্ছে করছে না। তাই কাগজগুলো গুছিয়ে রেখে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো ছেলেটা। ভাবতে থাকলো তার সুখী সময়গুলোর কথা। তার জীবনে সেই মেয়েটা আসার আগ পর্যন্ত নিজের জীবনে বড় কিছু হওয়ার প্রত্যাশা তার প্রায় ছিলই না। ও আসার পরই নিজেকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ও। প্রথম স্বপ্ন হয় মেয়েটার সঙ্গে সুখী সংসার গড়ে তোলা। তারপর নিজের পায়ে দাঁড়ানো। বড় কিছু একটা করার। আর ও চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এগুলোও নিয়ে গেছে।</p>
<p>হতাশাগ্রস্থ কোনো মানুষের জীবনে হয়তো একটা মেয়ে ও তার ভালোবাসাই জাগিয়ে তুলতে পারে। বোধহয় এ জন্য বলা হয়, প্রতিটা সফল মানুষের পেছনেই একজন মেয়ে থাকে। বাস্তবে প্রতিটা সফল মানুষের পেছনে না থাকলেও বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই এটা হয়। আর ও তেমনটাই আশা করেছিল। কিন্তু জীবন তাকে রেহাই দিল না।</p>
<p>শুয়ে শুয়ে ছেলেটা কল্পনা করলো একটা নিজস্ব দুনিয়া। ছোট্ট একটা ঘর। সামনে সুন্দর একটা বাগান। সেই বাগানে ফুটে রয়েছে নানান ফুল। তার ভালোবাসার মেয়েটা সেই বাগানে ফুলগুলো দেখছে আর ধীরপায়ে হাঁটছে। ছেলেটা তার পেছন পেছন হাঁটছে। মেয়েটার সঙ্গে দু’টো প্রজাপতিও উড়ছে। তাদের আসল আকর্ষণ ফুল হলেও ছেলেটার মনে হচ্ছে মেয়েটাই তাদের প্রধান আকর্ষণ। মেয়েটার বিছানার কোলবালিশের প্রতি ছেলেটার যেমন জেলাস, ঠিক তেমনি জেলাস হলো প্রজাপতি দু’টোর প্রতি। কিছুক্ষণ দৌড়ে প্রজাপতিগুলোতে যতটা সম্ভব দূর-দূর করে তাড়িয়ে দিয়ে এলো সে। তার এই পাগলামী আর ছেলেমানুষী দেখে মেয়েটা হাসতে থাকলো। এই একটা দৃশ্য দেখার জন্য ছেলেটা কতো কিছুই না করে।</p>
<p>বিভোর হয়ে সে তাকিয়ে থাকলো মেয়েটার হাসিমাখা মুখটার দিকে। স্বভাবমতো মেয়েটার গালে হাত রাখলো সে। মেয়েটাও যেন লজ্জায় হাসি ভেতরে নিয়ে গেল। এখন কেবল তার ঠোঁটগুলো হাসছে। এবার ছেলেটার মুখেও হাসি দেখা দিল। মেয়েটা নিজেই এগিয়ে এসে ছেলেটার বুকে মাথা রাখলো। যেন ছেলেটার মনের কথা মুখ দিয়ে বের হওয়া পর্যন্ত আর সহ্য হচ্ছে না, কান পেতে নিজেই মনের কথা শুনে নিবে। ছেলেটাও তার মাথায় হাত বুলাতে থাকলো।</p>
<p>কিন্তু কল্পনার দুনিয়া থেকে বের হয়ে বাস্তবে আসতেই দেখা গেল, ছেলেটার এ আনন্দ বাস্তবে আসলে এক বেদনা। কান্না থামানোর চেষ্টা না করেই সে আপন মনে বলে উঠলো, ‘আমি তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি। তুমি সারাজীবনই আমার একমাত্র পরী হয়ে থাকবে। শুধু একটাই অনুরোধ তোমার প্রতি, যতদিন পরেই হোক, যে অবস্থায়ই হোক, তুমি আমার কাছে ফিরে এসো। আমি সবসময় অপেক্ষা করে থাকবো একবুক ভালোবাসা জিইয়ে রেখে। এ ভালোবাসা কোনোদিন মরবে না। এ ভালোবাসা কোনোদিন তোমাকে আর কাঁদাবে না। কোনোদিন কষ্ট দেবে না। এ ভালোবাসা কেবল তোমাকে সুখীই করবে।’</p>
<p>It’s been so long<br />
That I haven’t seen your face<br />
I’m trynna be strong<br />
But the strength I have is washing away<br />
Won’t be long before I get you by my side<br />
And just hold you, tease you, squeeze you tell you<br />
What’s been on my mind</p>
<p>I wanna make up right now na na<br />
I wanna make up right now na na<br />
Wish we never broke up right na na na<br />
We need to link up right na na na</p>
<p>Girl I know mistake were made between us too<br />
And we showed our eyes that night even said somethings weren’t true<br />
Why’d you go and haven’t seen my girl since then<br />
Why can it be the way it was<br />
Cause you are my homie, lover, and friend</p>
<p>I wanna make up right now na na<br />
I wanna make up right now na na<br />
Wish we never broke up right na na na<br />
We need to link up right na na na.</p>
<span style="text-align:center; display: block;"><a href="http://aisajib.wordpress.com/2011/07/27/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac/"><img src="http://img.youtube.com/vi/Kz-DiFe6bwM/2.jpg" alt="" /></a></span>
<p>I can’t lie<br />
I miss you much<br />
Watching everyday that goes by<br />
I miss you much<br />
Tell I get you back I m gonna cry<br />
I miss you much<br />
Cause you are the apple of my eye<br />
Girls I miss you much<br />
I miss you much<br />
I can’t lie<br />
I miss you much<br />
Watching everyday that goes by<br />
I miss you much<br />
Tell I get you back I m gonna cry<br />
I miss you much<br />
Cause you are the apple of my eye<br />
I miss you much<br />
I miss you much</p>
<p>I wanna make up right now na na<br />
I wanna make up right now na na<br />
Wish we never broke up right na na na<br />
We need to link up right na na na</p>
<p>[সমাপ্ত..........?]</p>
<p>(<a href="http://nontenda.free.fr/MUSIC/-%20Akon%20-%20Right%20Now%20(Na%20Na%20Na).mp3.MP3" target="_blank">গানটি এমপিথ্রি ডাউনলোড লিংক</a>)</p>
<br />Filed under: <a href='http://aisajib.wordpress.com/category/story/'>Story</a>  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/aisajib.wordpress.com/541/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/aisajib.wordpress.com/541/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/aisajib.wordpress.com/541/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/aisajib.wordpress.com/541/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/aisajib.wordpress.com/541/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/aisajib.wordpress.com/541/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/aisajib.wordpress.com/541/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/aisajib.wordpress.com/541/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/aisajib.wordpress.com/541/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/aisajib.wordpress.com/541/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/aisajib.wordpress.com/541/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/aisajib.wordpress.com/541/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/aisajib.wordpress.com/541/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/aisajib.wordpress.com/541/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=aisajib.wordpress.com&amp;blog=3913370&amp;post=541&amp;subd=aisajib&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://aisajib.wordpress.com/2011/07/27/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/20133c756ec851e1d0dad22bd9dcfae8?s=96&#38;d=&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">Sajib</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://aisajib.files.wordpress.com/2011/06/mbfs.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">mbfs</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>গল্পঃ My Best Friend Simi (পর্ব ১২)</title>
		<link>http://aisajib.wordpress.com/2011/07/24/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%a8/</link>
		<comments>http://aisajib.wordpress.com/2011/07/24/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%a8/#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 23 Jul 2011 19:10:27 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Sajib</dc:creator>
				<category><![CDATA[Story]]></category>
		<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলা]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://aisajib.wordpress.com/?p=538</guid>
		<description><![CDATA[(পর্ব ১১) ২৫ আজও কলেজ প্রায় ফাঁকা। সকাল থেকে এক নাগাড়ে বৃষ্টি হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই আসতে পারেনি। সেই সুযোগে যাদের বাসা কাছেই তারাও ফাঁকি দিতে মিস করেনি। কিন্তু সাইফ আজ ঠিকই এসেছে। সে অনেক ভালো ছাত্র তাই বলে নয়, &#8230; <a href="http://aisajib.wordpress.com/2011/07/24/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%a8/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=aisajib.wordpress.com&amp;blog=3913370&amp;post=538&amp;subd=aisajib&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><img class="aligncenter size-full wp-image-474" title="mbfs" src="http://aisajib.files.wordpress.com/2011/06/mbfs.jpg?w=500&#038;h=706" alt="My Best friend simi" width="500" height="706" /></p>
<p>(পর্ব ১১)</p>
<p>২৫<br />
আজও কলেজ প্রায় ফাঁকা। সকাল থেকে এক নাগাড়ে বৃষ্টি হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই আসতে পারেনি। সেই সুযোগে যাদের বাসা কাছেই তারাও ফাঁকি দিতে মিস করেনি। কিন্তু সাইফ আজ ঠিকই এসেছে। সে অনেক ভালো ছাত্র তাই বলে নয়, সে যখন বেরিয়েছে তখন বৃষ্টি থেমেছিল। তাই ইচ্ছে থাকলেও কলেজে যাওয়া বাদ দিতে পারেনি।</p>
<p>কলেজে এসে দেখে তার ক্লাসরুমে মাত্র দশজন আছে। তাদের মধ্যে অনিকও ছিল। অনিক ছেলেটা বেশ প্রাণচঞ্চল। শারমিন নামের একটা মেয়ের সঙ্গে ওর রিলেশন আছে আজ প্রায় তিন বছরেরও বেশি হয়েছে। এতো দীর্ঘ সময় রিলেশন ধরে রাখা কঠিন। ওদের মাঝে অনেকবার ব্রেকআপ হওয়ার কথা শুনেছে সাইফ। কিন্তু প্রতিবারই সব ঠিক করে নেয় অনিক। ব্যক্তিগতভাবে অনিক খুব ফাস্ট। কথা দিয়ে মানুষকে ভোলাতে তার এক মিনিট সময়ও লাগে না। বিশেষ করে মার্কেটিং-এর কাজে ওকে লাগালে ও বেশ ভালো করতে পারবে বলে সাইফের বিশ্বাস। এসব মানুষই হয়তো রিলেশন টিকিয়ে রাখতে পারে। রিলেশন টিকিয়ে রাখতে কেবল ভালোবাসা আর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশই যথেষ্ট না। ভুলিয়ে-ভালিয়েও রাখতে হয়, যেটাকে শুদ্ধ বাংলায় পটানো বলে!</p>
<p><span id="more-538"></span></p>
<p>আনমনেই হাসলো সাইফ। মাঝের দিকে একটা বেঞ্চে গিয়ে বসলো। ওকে দেখেই অনিক আসলো। পাশে এসে বসে বলল, ‘তোমার কী হয়েছে বলো তো?’<br />
‘কই কী হয়েছে?’<br />
‘আমি যতদূর ধারণা করেছিলাম সিনথিয়ার সঙ্গে রিলেশন আছে বা হবে। কিন্তু তোমাদের ব্যাপারটা আমি ঠিক বুঝতেসি না। একটু বলো তো ঘটনা কী?’<br />
‘ঘটনা কিছুই না। সিনথিয়ার সঙ্গে আমার কোনো রিলেশন নেই, হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। কারণ, আমি আরেকটা মেয়েকে পছন্দ করি। যদিও সেই মেয়েটা আমাকে আর পছন্দ করে না।’<br />
অন্য দিকে তাকিয়ে মাথা ঝাঁকালো অনিক, ‘হুম, আর পছন্দ করে না। মানে একসময় করতো। কী হয়েছিল?’<br />
‘সে অনেক কথা।’<br />
‘শর্টকাট বলো।’<br />
‘শর্টকাটে বলা যাবে না। কারণ, কী হয়েছিল তা আমি নিজেও জানি না। হয়তো দুই ধরনের লাইফস্টাইল থেকে আসা, দুই ধরনের পরিবার থেকে আসা দুইটা মানুষের মধ্যে স্থায়ীভাবে মিল কখনোই হয় না।’</p>
<p>অনিক বেশ চালাক ছেলে। ও সবটা না বুঝলেও এতটুকু কথা থেকেই অনেক কিছু বুঝে নিল। বলল, ‘দোস্ত, যা গেছে তো গেছে। এটা নিয়ে এতো মন খারাপের কী আছে? আমাদের সবার লাইফেই এমন হয়। গেট ইউজড টু ইট। তোমার লাইফেও দেখবে আরও অনেক মেয়ে আসবে, যাবে। ইভেন এখনই দেখো সিনথিয়া তোমার লাইফের অনেক কাছাকাছিই আছে। আমার তো পুরো বিশ্বাস তুমি সিনথিয়াকে সুন্দর দেখে একটা সময়ে প্রোপোজ করলে ও একবাক্যে রাজি হয়ে যাবে।’<br />
সাইফ কেবল মাথা নাড়লো। সিনথিয়ার প্রোপোজ করার কথাটা বললো না অনিককে। ‘হয়তো আসবে, কিন্তু আমি আর কাউকে আপন করে নিবো না, কিংবা নিতে পারবো না।’<br />
‘না পারার কী আছে?’<br />
‘তুমি বুঝবে না। আর তোমাকে বোঝানো সম্ভবও নয়। এই পুরো ব্যাপারটাই একটু ভিন্ন। তাই বাদ দেও।’<br />
অনিক বুঝলো আর কিছু বলে লাভ হবে না। সে কেবল সাইফের কাঁধ চাপড়ে দিয়ে বলল, ‘থিংক অ্যাবাউট সিনথিয়া। ও বেশ ভালো একটা মেয়ে।’</p>
<p>একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল সাইফ। অনিক উঠে সামনের দিকে চলে গেল। সাইফ তাকালো বাইরের দিকে। সিনথিয়াকে দেখতে পেলো। ছাতা বন্ধ করতে করতে বারান্দা দিয়ে দরজার দিকে এগোচ্ছে।</p>
<p>সিনথিয়া এসে সাইফের দিকে তাকিয়ে একবার হাত নাড়লো কেবল। আর কিছু বললো না। সাইফের একটু মনে হলো ওর কোনো কারণে মন খারাপ। কিন্তু এটা নিয়ে মাথা ঘামালো না বেশি। ক্লাস শুরু হচ্ছে, ক্লাসে মন দেয়ার চেষ্টা করলো।</p>
<p>২৬<br />
টিফিনে ক্যান্টিন থেকে দু’বোতল কোক নিয়ে বারান্দার সেই বেঞ্চে বসলো সাইফ আর সিনথিয়া। উপস্থিতি কম তাই কোলাহলও নেই। বৃষ্টি থামার পর থেকেই কী একটা পাখি যেন উপর থেকে এক নাগাড়ে ডেকে চলেছে। সাইফ অনেকক্ষণ ধরেই পাখিটাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। আর সিনথিয়া খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে কী বলে সাইফের সঙ্গে কথা বলা শুরু করবে।</p>
<p>‘সিমির কথা তোমার অনেক মনে পড়ে তাই না?’ অবশেষে বলল সিনথিয়া।<br />
‘ওর কথা আমার মনে পড়ে না, মনেই থাকে সবসময়,’ অনেকটা দায়সারা ভঙ্গিতে জবাব দিলো সাইফ।<br />
‘ও তোমাকে কেন ছেড়ে গেল? আই মিন, সমস্যা তো হয়ই। এটা সহ্য না করার মতো রিলেশন তো তোমাদেরটা ছিল না।’<br />
‘জানি না। ওর আর আমার ব্যাকগ্রাউন্ড হচ্ছে অনেকটা সাদা আর কালোর মতো। একটা থেকে আরেকটার পার্থক্য এতোটাই উজ্জ্বল আর ব্যতিক্রম।’<br />
‘ব্যাকগ্রাউন্ড?’ সিনথিয়ার প্রশ্ন।<br />
‘ওর কাছে মাঝে মাঝে অনেক কথা শুনতাম ওর ছোটবেলা সম্পর্কে। ওর ফ্যামিলিতেও প্রবলেম ছিল। কিন্তু ও যথেষ্ট ভালোও ছিল। যেমন ধরো ওর এমন স্মৃতি আছে যে ও অনেক ঘুরে বেড়িয়েছে। দেশের বাইরে বেরিয়েছে। একটা সময় ছিল যখন ও আশেপাশের বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে রাতদুপুরে ছাদে খোলা আকাশের নিচে বসে তারা দেখেছে। মজা করেছে। এমনকি কোথাও না গেলেও ওর আত্মীয়রা বাসায় আসলে গল্প করেছে, বাসার মানুষদের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছে। এগুলোর সবই একটা মানুষের লাইফে খুব সাধারণ কিছু ব্যাপার।’</p>
<p>সিনথিয়া চুপ করে রইলো। এগুলোর মধ্যে অনেক স্মৃতি তার জীবনেও আছে।<br />
সাইফ বলতে থাকলো, ‘কিন্তু যখন আমার মতো কোনো ছেলের সঙ্গে তুলনা করবে, তখন এই সাধারণ ব্যাপারগুলোই হয়ে উঠবে যেন স্বর্গীয় আনন্দ। বন্ধুদের সঙ্গে ছাদে রাতে থাকার আনন্দ কী জিনিস আমি জানি না। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানো কাকে বলে আমি জানি না। বাসায় আত্মীয়-স্বজনেরা আসবে, অনেক বন্ধু-বান্ধব থাকবে, মজা করবো, বাইরে যাবো, এসব কী জিনিস আমি জানি না। সবচেয়ে মজার ব্যাপার কী জানো? কোনোদিন জানবোও না। হয়তো একদিন আয় করবো অনেক। জীবনে উন্নতি আসবে। কিন্তু সেই বয়সটা তো আর আসবে না। ছোটবেলার এসব স্মৃতি যাদের আছে তাদের যেমন সারাজীবনই থাকবে, যাদের নেই তাদের তেমনি সারাজীবনই শূন্যই থাকবে।’</p>
<p>সিনথিয়া তখনও চুপ করে রইলো। সে নিজেও কখনো বিষয়গুলো এভাবে ভাবেনি। প্রথমবারের মতো নিজের জীবনকে নিয়ে নিজেকে সুখী মনে হলো তার। তার চেয়েও খারাপ অবস্থায়ও তো মানুষ থাকে।</p>
<p>‘সিমি আমার লাইফে আসার পর এর সবই আমি ভুলে গেছিলাম। আমার মনে হয়েছিল, জীবনে এসব হয়তো যে কোনো বড়লোকের সন্তানই পায়, কিন্তু লাইফে একজন সিমি সবার ভাগ্যে জোটে না। এই চিন্তাটা নিজে নিজেই আমার দুঃখ ভুলিয়ে দিয়েছিল। আমি সিমিকে এতোটাই ভালোবেসেছি যে আমি সারাজীবন ওকে এমনভাবেই আগলে রাখতাম যে কোন শীতকালে যদি দমকা হাওয়া আসে ওকে কাঁপিয়ে দিতে, তাহলে ওর আগে সেই হাওয়া আমার গায়ে লাগাতাম।’</p>
<p>সিনথিয়া তখনও চুপ। তবে ওর কেন যেন কান্না পাচ্ছে। ছবি দেখে মানুষ যেমন অনেক আবেগপ্রবণ হয়ে উঠে, সাইফের মুখে ওর নিজের কথাগুলো শুনে সিনথিয়ার যেন অনেকটা তেমনই অনুভূতি হচ্ছে।</p>
<p>সাইফ উঠে দাঁড়ালো। টিফিন টাইম প্রায় শেষ। সিনথিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আমি সিমিকে আজও অনেক অনেক ভালোবাসি, সিনথি। দে সে, টাইম হিলস এভরিথিং। বাট দে ডিডন’ট হ্যাভ এ লাইফ লাইক মাইন।’</p>
<p>কথাটা যেন গায়ে বিঁধলো সিনথিয়ার। ওর মনে হলো, ওকে যে সাইফ অ্যাক্সেপ্ট করছে না এটাই বুঝিয়ে দিয়ে গেল আরেকবার।</p>
<p>২৭<br />
ছুটির পর সাইফকে নিচে গিয়ে দাঁড়াতে বলল সিনথিয়া। সিনথিয়া বইপত্র গোছগাছ করে ধীরেসুস্থে নিচে নেমে এলো। কীভাবে কী বলবে বোধহয় তাই মনে মনে ঠিক করে নিল। সাইফের পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে বলল, ‘গতকাল আব্বু একটা কথা জানালো।’<br />
‘কী কথা?’<br />
‘আমি আর আব্বু আগামী সপ্তাহে আমেরিকা যাচ্ছি।’<br />
‘হুম। কোনো কাজে? নাকি এমনি ঘুরতে?’<br />
‘একেবারে।’<br />
‘সরি?’ সাইফ যেন বুঝতে পারলো না।<br />
‘আব্বু চায় আমি বাইরে লেখাপড়া করি। বাংলাদেশের এডুকেশন সিস্টেম আমার তো নাই আব্বুরও পছন্দ নয়। আমার তো অনেকদিন ধরেই ইচ্ছে ছিল যে বাংলাদেশ ছাড়বো। তুমিও তো বলতে বাংলাদেশ ছাড়তে পারলে ছাড়াই উচিৎ। এখন আব্বু ঠিক করেছে আমি আর আব্বু আমেরিকা চলে যাবো। আম্মু আর আপু হয়তো পরে আসবে।’</p>
<p>সাইফ মাথা ঝাঁকালো। কী বলবে বুঝতে পারছে না।<br />
সিনথিয়া বলল, ‘তবে আমার কাছে অপশন আছে এটা ক্যানসেল করার। আই মিন, আমি যদি যেতে না চাই আমাকে জোর করা হবে না। পছন্দ আমার। আমি সবসময় বিদেশে লেখাপড়া করতে চাইলেও এই প্রথম আমার দেশ ছাড়তে ইচ্ছে করছে না। কেন জানো সাইফ?’<br />
‘কেন?’ সাইফ জিজ্ঞেস করলো।<br />
‘কারণ, আমি তোমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি,’ অনেকটা যেন সকালের কথা ভুলে গেছে এমনভাবে বলল সিনথিয়া। ‘যদি তোমাকে পাওয়ার বিন্দুমাত্র আশা থাকে, আমি থেকে যাবো। আর যদি কোনোদিনই না পাই, তাহলে আমি চলে যাবো। তোমাকে আর বিরক্ত করবো না।’</p>
<p>সাইফ চুপ করে রইলো। এমন একটা ঝামেলায় পড়বে ভাবতে পারেনি।<br />
সিনথিয়া বলল, ‘তুমি চিন্তা করে তাড়াতাড়ি আমাকে জানাও। তোমার ডিসিশনের উপরে আমার ফিউচার, সাইফ। আর আরেকটা কথা কি জানো? আই স্টিল লাভ ইউ।’</p>
<p>সিনথিয়া আর দাঁড়ালো না। কনফিউজড হয়ে যাওয়া সাইফকে পেছনে রেখে হেঁটে গেট দিয়ে বের হয়ে গেল সিনথিয়া। একবার পেছন ফিরে তাকালোও না।</p>
<p>আর এদিকে সাইফ তখন নতুন দোটানায়। বন্ধু হিসেবে সিনথিয়া সত্যিই ভালো। ওকে হারালে একটু খারাপ আর একাকী লাগবেই। কিন্তু তাই বলে ওকে নিজের লাইফে টানতেও পারছে না সে। সিমির জায়গা সে আর কাউকে দেবে না। হয়তো সিমি তার জায়গায় দ্রুতই অন্য কাউকে দিয়ে দেবে। কিন্তু তার ভালোবাসা ছিল অনেক বেশি গাঢ়, সে সিমির জায়গা আর কাউকে দেবে না।</p>
<p>কিন্তু তবুও তার মনে কনফিউশন রয়েই যায়।</p>
<p>(চলবে)</p>
<br />Filed under: <a href='http://aisajib.wordpress.com/category/story/'>Story</a>  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/aisajib.wordpress.com/538/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/aisajib.wordpress.com/538/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/aisajib.wordpress.com/538/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/aisajib.wordpress.com/538/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/aisajib.wordpress.com/538/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/aisajib.wordpress.com/538/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/aisajib.wordpress.com/538/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/aisajib.wordpress.com/538/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/aisajib.wordpress.com/538/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/aisajib.wordpress.com/538/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/aisajib.wordpress.com/538/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/aisajib.wordpress.com/538/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/aisajib.wordpress.com/538/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/aisajib.wordpress.com/538/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=aisajib.wordpress.com&amp;blog=3913370&amp;post=538&amp;subd=aisajib&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://aisajib.wordpress.com/2011/07/24/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%a8/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>3</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/20133c756ec851e1d0dad22bd9dcfae8?s=96&#38;d=&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">Sajib</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://aisajib.files.wordpress.com/2011/06/mbfs.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">mbfs</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>গল্পঃ My Best Friend Simi (পর্ব ১১)</title>
		<link>http://aisajib.wordpress.com/2011/07/19/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%a7/</link>
		<comments>http://aisajib.wordpress.com/2011/07/19/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%a7/#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 19 Jul 2011 15:16:06 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Sajib</dc:creator>
				<category><![CDATA[Story]]></category>
		<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[ধারাবাহিক গল্প]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://aisajib.wordpress.com/?p=528</guid>
		<description><![CDATA[(পর্ব ১০) ২৩ সকাল থেকে ঝড়ো হাওয়াসহ তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে। তবে আজ সাইফের কলেজ না যাওয়ার ছুতো বের করার সুযোগ নেই। কেননা, আজ শুক্রবার। বৃষ্টি হোক বা রোদ উঠুক, আজ সে বাসায়ই থাকবে। সকাল থেকে বৃষ্টি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সে শোয়া &#8230; <a href="http://aisajib.wordpress.com/2011/07/19/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%a7/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=aisajib.wordpress.com&amp;blog=3913370&amp;post=528&amp;subd=aisajib&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><img class="aligncenter size-full wp-image-474" title="mbfs" src="http://aisajib.files.wordpress.com/2011/06/mbfs.jpg?w=500&#038;h=706" alt="My Best friend simi" width="500" height="706" /></p>
<p>(<a title="গল্পঃ My Best Friend Simi (পর্ব ১০)" href="http://aisajib.wordpress.com/2011/07/16/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%a6/" target="_blank">পর্ব ১০</a>)</p>
<p>২৩<br />
সকাল থেকে ঝড়ো হাওয়াসহ তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে। তবে আজ সাইফের কলেজ না যাওয়ার ছুতো বের করার সুযোগ নেই। কেননা, আজ শুক্রবার। বৃষ্টি হোক বা রোদ উঠুক, আজ সে বাসায়ই থাকবে। সকাল থেকে বৃষ্টি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সে শোয়া থেকে উঠেনি। প্রতিদিনের মতোই সেদিনও তেমন একটা ঘুম হয়নি রাতে। তাই সকালে একটু ঘুমানোর চেষ্টা করলো সাইফ। কিন্তু তার ঘুম আসলো না।</p>
<p>সিনথিয়ার কথা ভাবলো সাইফ। সিনথিয়া তাকে প্রোপোজ করেছিল। সে বেশ অবাক হয়েছিল সেদিন। এভাবে তাকে ভালোবেসে বসবে সিনথিয়া, সাইফ সেটা ভাবেনি। সিনথিয়াকে মুখের উপর না বলে দেয়ার কথাও মনে করলো সে। হয়তো তাকে আরেকটু বুঝিয়ে বলা উচিৎ ছিল। মেয়েটা নিশ্চয়ই অনেক কষ্ট পেয়েছে। কিন্তু তা নিয়ে আর বেশি মন খারাপ করলো না সাইফ। সিনথিয়া এখন ওর জীবন সম্পর্কে যথেষ্টই জানে। এরপরও যদি পুরনো ভালোবাসা ধরে রাখে, তাহলে সাইফের এখানে কী-ই বা করার আছে?</p>
<p>সিমির কথা মনে পড়লো সাইফের। এ অবশ্য নতুন কিছু নয়। প্রতিদিন সারাক্ষণই সিমির কথা মনে পড়ে ওর। সিমি এই মুহুর্তে কী করছে, কেমন আছে জানার জন্য সাইফের মন খুব ছটফট করে। এক রকম দাঁত চেপে রেখে নিজের কষ্টটা নিজেই চাপা দিয়ে রাখে সে। যতোই চেষ্টা করে না কেন অন্য কিছু ভাবার, তার মনে কেবল একটাই জিনিস ঘুরেফিরে আসে, সিমির স্মৃতি।</p>
<p>আজ সিমির হাত ধরে হাঁটছে সাইফ। অনেকদিন পর সিমির হাত ধরেছে ও। সিমির হাত ধরায় যে কতো আনন্দ তা কোনোদিনই সাইফের অনুভূতি এড়িয়ে যায়নি। কিন্তু আজ যেন এই আনন্দ অসীম হয়ে উঠেছে। সিমি ইতস্তত ভঙ্গিতে হাঁটছে ওর সঙ্গে। সাইফ তাকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করছে, তারা দু&#8217;জন আবার আগের মতো হয়ে উঠতে পারে।<br />
&#8216;না সাইফ,&#8217; সিমি বলল, &#8216;আমার মনে হয় না।&#8217;<br />
সাইফ তাকে আশ্বস্ত করলো, &#8216;তুমি কষ্ট পেয়েছো, এ জন্য তোমার মন মানতে চায় না সিমি। বিশ্বাস করো, একটু চেষ্টায়ই আমরা আগের মতো হতে পারবো।&#8217;<br />
সিমি চুপ করে রইল। সাইফ বলল, &#8216;মানুষ হয়তো নিজেকে বদলাতে পারে না। আমাদের তো কারোরই কাউকে বদলানোর দরকার নেই। মাঝখানে এতোদিন আমাদের মাঝে যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে কেবল সেটা ঠিক হলেই আমরা আবার ঠিক হয়ে যাবো। আর ভুল বোঝাবুঝিটা তো আর এখন নেই, তাই না?&#8217;</p>
<p>সিমি তবুও চুপ করে রইল। তার মনে হয়তো ভয় হচ্ছে আবারও কষ্ট পাওয়ার। কিন্তু সাইফের মনে হচ্ছে সিমি ওর এতো অনুরোধ কখনোই ফেলতে পারবে না। সিমি ওকে ভালোবাসে। সাইফের এই দৃঢ় বিশ্বাস থেকেই সে সিমিকে বারবার কাছে টানতে চাইছে। সে সিমিকে অনেক অনেক ভালোবাসে। সিমিকে ছাড়া ও অনেক বেশি একা হয়ে যায়। কিছুতেই তাকে ছাড়া ভালো থাকতে পারবে না সাইফ।</p>
<p>সিমিকে দেখে সাইফের মনে হচ্ছে সিমি আরেকবার কাছে আসতে চাইছে। সাইফ সিমির কাঁধে হালকা করে একটা চুমু খেলো। সিমির শরীরটা যেন কেঁপে উঠলো। সাইফ মনে মনে হাসলো। সিমি সেই প্রথমদিন থেকেই সাইফের প্রতিটা স্পর্শ অনেক বেশি ফিল করে। এমনকি শেষবারও সাইফ ওর কাঁধে আদর করার পর সিমি কেঁপে উঠেছিল। সাইফের ব্যাপারটা খুবই সুইট মনে হয়। আজ এতোগুলো দিন পর সিমির সেই কেঁপে উঠা দেখে সাইফের মনে হলো যেন শত-সহস্র বছর পর আকাশে বিশাল চাঁদ উঠেছে। সাইফ কিছু বলল না। এ যে শুধুই অনুভব করার জন্য।</p>
<p><span id="more-528"></span>সিমিও একসময় নিজেকে সাইফের দিকে ঠেলে দিলো। তাদের দু&#8217;জনের সেই পুরনো হাঁটার রীতি যেন ফিরে এলো। সিমি হাঁটছে, কিন্তু সাইফের দিকে যেন ঠিক ঝুঁকে আছে। সাইফের দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারায় সাইফকে নিচু হতে বলল সাইফ। সাইফ নিচু হলো। সেও তার কাঁধে সিমির সেই ভালোবাসা ভরা আদর অনুভব করলো, যা থেকে সে যেন অনন্তকাল ধরে বঞ্চিত ছিল।</p>
<p>সাইফের পৃথিবী কেমন যেন রঙিন হয়ে উঠলো। চোখ ঝাপসা হয়ে উঠলো। একটু পরেই বুঝতে পারলো এই ঝাপসা হওয়া চোখের পানির কারণে নয়। কেন যেন তার আশপাশের সবকিছু ঘোলা হয়ে উঠছে। সিমির ভালোবাসায় তার শরীর যেন কাঁপতে শুরু করেছে।<br />
কিছু বুঝে উঠার আগেই একসময় সব সাদা হয়ে গেল।<br />
তারপর সব কালো।<br />
আর তারপর, চোখের সামনে ভেসে উঠলো তার বিছানার নীল চাদর।</p>
<p>স্বপ্নের রেশটা কাটতে অনেক সময় লাগলো সাইফের। তার শরীর এখনো শিরশির করছে। মনে হচ্ছে যেন সিমি সত্যিই তাকে ছুঁয়ে দিয়ে গেছে। চোখের কোণ দিয়ে গড়িয়ে পড়া পানিতে বালিশ তখনো ভিজে আছে। সেদিকে চেয়ে সাইফ ভাবলো, একসময় তার চোখের পানির অনেক দাম ছিল সিমির কাছে। ওর মন ভালো করার জন্য যে কোনো কিছুই করতে পারতো সিমি। আর আজ তার কষ্টের কোনো মূল্যই নেই সিমির কাছে। কতো নিষ্ঠুর হয়ে গেছে ও।</p>
<p>কিন্তু আসলে কে বেশি নিষ্ঠুর? সিমি? নাকি সৃষ্টিকর্তা? প্রশ্নটার উত্তর খুবই কঠিন।</p>
<p>২৪<br />
পরদিন থেকে সাইফের আর কোনো খোঁজ নেই। টানা চারদিন ক্লাসে না আসার পর বেশ উদ্বিগ্ন হয়েই সাইফকে ফোন করলো সিনথিয়া। জানা গেল, তার বাসায় সমস্যা। পারিবারিক সমস্যা। সিনথিয়ার সাথে বিস্তারিত শেয়ার করতে চায়নি সাইফ। সিনথিয়া সেটা বুঝতে পেরেই আর বাড়িয়ে জিজ্ঞেস করেনি। তবে বাসায় সমস্যা যেটাই হোক, সেটা যে বেশ গুরুতর সমস্যা, তা সাইফের কণ্ঠ শুনেই বুঝতে পেরেছে সিনথিয়া।</p>
<p>তারও কিছুদিন পর সাইফ ক্লাসে আসলো। কী হয়েছিল জিজ্ঞেস করতেই বাসার সমস্যা বলে এড়িয়ে গেল। স্যারদের বোঝানো কঠিন হলো না। কিন্তু সিনথিয়ার বিস্তারিত জানতে খুবই ইচ্ছে হচ্ছিল। কেউ নিজে থেকে না বললে বড়জোর দু-একবার জিজ্ঞেস করা যায়, জোরাজুরি তো আর করা যায় না। তাই বাসার সমস্যাটা রহস্যই রয়ে গেল সিনথিয়ার কাছে।</p>
<p>&#8216;তারচেয়ে বরং সিমির গল্পটা শুনে নেই,&#8217; ভাবলো সিনথিয়া।</p>
<p>কলেজ ছুটির পর সাইফের সঙ্গে নিচে এসে নামলো সিনথিয়া। ছেলেদের একটা দল ইতিমধ্যেই খেলতে চলে গেছে। তারা দু&#8217;জন আবারও সেই ফেলে রাখা বেঞ্চগুলোর একটায় বসলো। আজ আবহাওয়াটা খুবই সুন্দর। কোনো বৃষ্টি নেই, কিন্তু আকাশ খুব মেঘলা আর অনেক বাতাস। এমন দিনে মোটামুটি সবারই বুঝি মেজাজ ফুরফুরে থাকে। কলেজের বাংলা স্যারও আজ ক্লাসে মজা করেছেন, যা দেখে সবাই বেশ অবাকই হয়েছে। কিন্তু সাইফ? সে যেন আবহাওয়া আর ফিল করে না।</p>
<p>সাইফকে ডেকে নিয়ে নিচে এনে বসানোর কারণটা জানে সাইফ। তাই সিনথিয়ার জিজ্ঞেস করার জন্য আর অপেক্ষা করলো না। বলতে শুরু করলো, &#8216;সিমির সঙ্গে সব ঠিকঠাক হয়ে যাবার পর আমাদের সবকিছু ভালোই চলছিল। এরমধ্যে একদিন জানলাম ও ঢাকার বাইরে যাবে। কী একটা কাজে যেন বাসার অন্যদের সাথে তাকে দু-তিনদিনের জন্য ঢাকার বাইরে যেতে হবে। দু-তিনদিন বড় কিছু না। কিন্তু আমার তাতেই মন খারাপ লাগছিল। মনে হচ্ছিল এই দু&#8217;দিন সারাদিন ও নেটে থাকবে না, কথা বলতে পারবে না। তাই মন খারাপ করে ওর সঙ্গে কথা বলছিলাম। এমন সময় ওর স্যার আসলো বাসায় পড়াতে। ও পড়তে চলে গেল তাড়াহুড়ো করে। আর আমি মন খারাপ করে বসে রইলাম ওর পড়া শেষ করে ফিরে আসার।&#8217;</p>
<p>&#8216;প্রায় দুই কি আড়াই ঘণ্টা পর নেটে ওর একটা পোস্ট দেখলাম। অর্থাৎ, ও বেশ লম্বা সময় ধরে নেটে বসে আছে কিন্তু মেসেঞ্জারে সাইন ইন করেনি। তাই আমিও কথা বলতে পারিনি। বিশ্বাস করো সিনথি, এটা দেখে আমি যেন আকাশ থেকে পড়েছিলাম। অনেক বড় একটা ধাক্কা খেয়েছি তখন। সিমি জানতো যে আমার মন খারাপ কারণ ও পরদিন চলে যাচ্ছে। ঐ সময় ওর সঙ্গে কথা বলার জন্য আমি কতোটা ব্যাকুল ছিলাম সেটা ও জানতো। তারপরও ও কীভাবে পারলো কথা না বলে থাকতে? ওর কিছু লেখার ছিল, সেটা কি পরে লিখলেই হতো না?&#8217;</p>
<p>&#8216;আমি দেখলাম লেখাটা এমন যে ওর মন খারাপ। আমি সঙ্গে সঙ্গে ফোন করলাম। ও নেটে কেন আসলো না এই প্রশ্ন না করে ওকে বারবার প্রশ্ন করতে থাকলাম কী হয়েছে জানার জন্য। স্পষ্ট বুঝতে পারছিলাম ওর মন খারাপ। কিন্তু ও কিছুতেই বললো না যে কী হয়েছে। একটানা কিছু না কিছু না বলে গেল। তখন আমার প্রচণ্ড রাগ লাগলো। তখন বললাম, ওর কি এতটুকুও গায়ে লাগলো না যে আমি ওর জন্য বসে আছি? ওর কি এতটুকু খারাপ লাগলো না যে আমি কথা বলার জন্য অধৈর্য্য হয়ে আছি? কিংবা ওর যদি এমন কিছু হয়েই থাকে যার কারণে ওর মন খারাপ, তাহলে সেটা আমাকে বললেই তো পারে। আমি তো ফোন করেই ওকে কিছু বলিনি। প্রথমেই জানতে চেয়েছি কী হয়েছে। কিন্তু ও কিছুতেই বলল না। ঐ মূহুর্তে আমার মানসিক অবস্থাটা আন্দাজ করতে পারো সিনথি?&#8217;</p>
<p>&#8216;এরপর কী হলো?&#8217; সিনথিয়ার প্রশ্ন।<br />
&#8216;এরপর আমি ফোন কেটে দিলাম। রাগ আর ক্ষোভে খুব খারাপ লাগছিল। কিন্তু সিমি আর ফোন করলো না। পরদিন দুপুর পর্যন্ত ওর কোনো খবর নেই। কিছুক্ষণের জন্য ওকে নেটে দেখলাম কিন্তু ও কোনো কথা বললো না। তারপর আমি ফোন বন্ধ করে দিলাম। কে যেন ফোন করেছিল আমাকে। কিন্তু তখন আমার মন এতোই খারাপ ছিল যে আমি টানা ফোন বন্ধ করে রেখে দিয়েছিলাম। কারো সঙ্গেই কথা বলার মতো মন-মানসিকতা ছিল না আমার। ফোন যখন খুললাম ও তখন সম্ভবত ঢাকায় ফিরে এসেছে।&#8217;</p>
<p>&#8216;এরপর ওর সঙ্গে কয়েকদিন রাগারাগি করেই অল্প কথাবার্তা হয়েছে। ও সেদিন কী হয়েছিল তা তো বলেইনি, একবার মুখ দিয়ে সরি কথাটাও বলেনি। যেন সেখানে ওর কোনো দোষই ছিল না। বিশেষ করে এর আগের সমস্যাগুলোর পর এমন একটা ঘটনা আমি আশা করিনি। আর সেখানে আমি এখনো নিজের কোনো দোষ দেখতে পাইনি। আমার জায়গায় অন্য কেউ হলেও হয়তো এ কাজই করতো।&#8217;</p>
<p>&#8216;হুম।&#8217;<br />
&#8216;তারপর ও একদিন সাফ জানিয়ে দিলো ও আর আমার সাথে থাকছে না। আমি বেশ অবাক হলাম। সিমি এই কথা বলতে পারে না। বিশেষ করে আমি নিজের ভুলগুলো বুঝে নেয়ার পর, ও নিজের ভুলগুলো বুঝে নেয়ার পর দু&#8217;জনে মিলে সব ঠিক করার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর ও এই কথা বলতে পারে না। কারণ, আমি সেদিন রাতে সারারাত ভেবেছিলাম। যেদিন ও বলল আমাদের আরেকবার ভাবা উচিৎ। আমি নিজেকে ওকে ছাড়া কল্পনা করেছি। নিজের ভুলগুলো দেখেছি। নিজের কাছেই প্রতিজ্ঞা করেছি আর ওকে বিন্দুমাত্র কষ্ট না দেয়ার। আর তারপর আমি আর কোনো ভুল করিওনি। অন্তত আমার তাই বিশ্বাস। তারপরও সিমি আমাকে ছেড়ে যাবে কোন যুক্তিতে?&#8217;</p>
<p>&#8216;সিমি সোজা জানিয়ে দিলো, যুক্তি দেখাতে গেলে সারাদিনই যুক্তি দেখানো যাবে। তাই তার এক কথা, সে আমার সঙ্গে আর থাকবে না। আমি একরকম হতবাক হয়ে গেলাম। সিমিকে আমি সবসময়ই অনেক অনেক ভালোবাসতাম। কোনো কারণ নিয়ে ওর সঙ্গে ঝগড়া হলেও ঐ সময়টায়ও কখনো ওর প্রতি ঘৃণা বা এমন কিছু জন্ম নেয়নি। ওকে আমি অনেক ভালোবেসেছি। আর জানোই তো ওর জন্য আমার একটা অ্যাটেম্পট বাদ দিয়েছি আমি। আমার ইচ্ছে ছিল ওর খেয়াল রাখা, ওর যত্ন নেয়া, ওকে হাসিখুশি রাখা। আমি হয়তো তা পেরেছিও। কিন্তু একটা মানুষকে কি ১০০ ভাগ সময় হাসিখুশি রাখা যায়?&#8217;</p>
<p>মাথা নাড়লো সিনথিয়া। &#8216;সেটা তো সম্ভব নয়। ঝগড়া-সমস্যা এসব হবেই। এসব না থাকলেই বরং সেই সম্পর্কটাকে অস্বাভাবিক বা আর্টিফিশিয়াল বলতে হবে।&#8217;<br />
&#8216;সেটাই। ততটুকু ঝগড়া বা রাগারাগি ও মেনে নিতে পারবে না এটা আমি অন্তত আশা করিনি। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। ওকে বুঝিয়েছি। একটা মানুষের পক্ষে যতভাবে বলা সম্ভব বলেছি। বলেছি আমি কি ওকে এক মূহুর্তের জন্যও সুখী করিনি? তাহলে ঐ এক মূহুর্তের বিনিময়ে ও আমাকে একবার বিশ্বাস করুক, আমাকে একবার সুযোগ দিক।&#8217;<br />
&#8216;বিশ্বাস করুক মানে কী?&#8217; সিনথিয়ার প্রশ্ন।<br />
&#8216;সিমির মধ্যে এই বিশ্বাস জন্মে গেছে যে আমরা আর সুখী হতে পারবো না। আমরা এক হলেই ও আবার কষ্ট পাবে। আমি যতোই ওকে বলি ও আমাকে বিশ্বাস করে না। তুমিই বলো, আমি কি সম্পর্কের জীবনে মাত্র একবার সুযোগ পেতে পারি না? এভাবে আমাদের ব্রেকআপ এই প্রথম। মানুষের কতবার ব্রেকআপ হয়। মানুষ মানুষকে সুযোগ দেয়। আমি কী এমন পাপ করেছি যে আমি সিমির মতো ভালো একটা ফ্রেন্ডের কাছে, যাকে এতোটা ভালেবেসেছি তার কাছ থেকে জীবনে একবার সুযোগ পাবো না এটাই আমি বুঝতে পারি না।&#8217;</p>
<p>সিনথিয়া চুপ করে রইল। সাইফ বলল, ‌&#8217;ব্রেকআপটা যদি এমন কোনো সময় হতো যখন আমি বড় কোনো সমস্যা করেছি তাও আমি সান্তনা দিতে পারতাম নিজেকে। কিন্তু আমি তো সব ঠিক করে নিয়েছিলাম। ও-ই তো কেন যেন এমন একটা কাণ্ড করলো। তারপরও কি এই আজীবনের শাস্তিটা আমারই প্রাপ্য ছিল?&#8217;</p>
<p>&#8216;সিমি বলে ও আমাকে এখনো ভালোবাসে। কিন্তু আমার কাছে কখনো আসবে না। আমার কষ্ট এখানেই যে ও একটা ভুল ধারণাকে প্রাধান্য দিয়ে আমাদের সাজানো স্বপ্নগুলোকে নিজের হাতে ধ্বংস করে দিলো।&#8217;</p>
<p>সাইফ কাঁদছে না। অন্তত ওর কণ্ঠ শুনে সেটা মনে হচ্ছে না। কিন্তু ওর চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়া পানি সিনথিয়ার নজর এড়ালো না। সে চুপচাপ বসে রইল। তার এখন কী বলা উচিৎ সে জানে না।</p>
<p>সাইফ একবুক কষ্ট নিয়ে বলল, &#8216;ঠিক এক বছর আগে সিমিকে যেই কষ্টের সময় আমি সঙ্গ দিয়েছিলাম, ইন্সপায়ার করে ওর মন ভালো রাখতে চেষ্টা করেছিলাম, যার জন্য স্বেচ্ছামৃত্যুকে বাদ দিয়ে জীবনকে বেছে নিয়েছিলাম, সেই সিমিই আজ আমাকে তার সেই কষ্টটাই উপহার দিলো। এই ছিল আমাদের বন্ধুত্বের উপহার। এই ছিল গভীর ভালোবাসার পাওনা।&#8217;</p>
<p>সাইফকে সান্তনা দেয়ার কোনো ভাষা সিনথিয়ার আজ নেই।</p>
<p>(চলবে)</p>
<br />Filed under: <a href='http://aisajib.wordpress.com/category/story/'>Story</a>  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/aisajib.wordpress.com/528/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/aisajib.wordpress.com/528/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/aisajib.wordpress.com/528/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/aisajib.wordpress.com/528/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/aisajib.wordpress.com/528/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/aisajib.wordpress.com/528/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/aisajib.wordpress.com/528/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/aisajib.wordpress.com/528/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/aisajib.wordpress.com/528/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/aisajib.wordpress.com/528/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/aisajib.wordpress.com/528/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/aisajib.wordpress.com/528/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/aisajib.wordpress.com/528/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/aisajib.wordpress.com/528/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=aisajib.wordpress.com&amp;blog=3913370&amp;post=528&amp;subd=aisajib&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://aisajib.wordpress.com/2011/07/19/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%a7/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>1</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/20133c756ec851e1d0dad22bd9dcfae8?s=96&#38;d=&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">Sajib</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://aisajib.files.wordpress.com/2011/06/mbfs.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">mbfs</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>গল্পঃ My Best Friend Simi (পর্ব ১০)</title>
		<link>http://aisajib.wordpress.com/2011/07/16/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%a6/</link>
		<comments>http://aisajib.wordpress.com/2011/07/16/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%a6/#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 16 Jul 2011 17:02:59 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Sajib</dc:creator>
				<category><![CDATA[Story]]></category>
		<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[ধারাবাহিক গল্প]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://aisajib.wordpress.com/?p=523</guid>
		<description><![CDATA[(পর্ব ৯) ২১ কলেজ ছুটি হয়ে গেছে। নির্ধারিত সময়ের ঘণ্টাখানেক আগেই ছুটি হয়ে যাওয়ায় অনেকেই কলেজের মাঠে ঘোরাফেরা করছে। উপস্থিতিও কম, স্যাররাও কিছু বলছেন না তাই বেশ চুটিয়ে মজা করছে সবাই। আর একটু দূরে কলেজ বিল্ডিং-এর বারান্দায় রাখা বেঞ্চে বসে &#8230; <a href="http://aisajib.wordpress.com/2011/07/16/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%a6/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=aisajib.wordpress.com&amp;blog=3913370&amp;post=523&amp;subd=aisajib&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><img class="aligncenter size-full wp-image-474" title="mbfs" src="http://aisajib.files.wordpress.com/2011/06/mbfs.jpg?w=500&#038;h=706" alt="My Best friend simi" width="500" height="706" /></p>
<p>(<a title="গল্পঃ My Best Friend Simi (পর্ব ৯)" href="http://aisajib.wordpress.com/2011/07/15/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%af/" target="_blank">পর্ব ৯</a>)</p>
<p>২১<br />
কলেজ ছুটি হয়ে গেছে। নির্ধারিত সময়ের ঘণ্টাখানেক আগেই ছুটি হয়ে যাওয়ায় অনেকেই কলেজের মাঠে ঘোরাফেরা করছে। উপস্থিতিও কম, স্যাররাও কিছু বলছেন না তাই বেশ চুটিয়ে মজা করছে সবাই। আর একটু দূরে কলেজ বিল্ডিং-এর বারান্দায় রাখা বেঞ্চে বসে তাদের মজা করার দিকে তাকিয়ে আছে সাইফ। পাশে তার সিনথিয়া। সিনথিয়া ঠিক করেছে এখনই বাসায় যাবে না। এই ছেলেগুলো যতক্ষণ আছে ততক্ষণ থাকবে। সাইফের কথা শুনবে।</p>
<p>আকাশ তখন মেঘাচ্ছন্ন। বৃষ্টি আবারো নামবে নামবে করছে। সিনথিয়া সাইফকে বলল, ‘আবহাওয়াটা কেমন না? আনপ্রেডিক্টেবল।’<br />
‘হুম,’ আনমনে জবাব দিলো সাইফ। ‘এমন আবহাওয়া অনেক পুরনো স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।’<br />
‘কী রকম? সিমির কথা?’<br />
‘হ্যাঁ। ও আমার জীবনে তুলনামূলকভাবে খুব ছোট্ট একটা সময়ের জন্য ছিল। কিন্তু এই সময়েই সে আমার মধ্যে তার একটা রাজ্য তৈরি করে দিয়ে গেছে। সেই রাজ্যে নেই এমন প্রায় কিছুই নেই।’<br />
‘তাই? কী রকম বলো তো শুনি,’ সিনথিয়ার কণ্ঠে আগ্রহ।<br />
‘এই যেমন ধরো আবহাওয়ার কথা। এমন কোনো আবহাওয়া নেই যখন আমি ওর সঙ্গে ছিলাম না। এই যে এখন যেই আবহাওয়া, এই আবহাওয়ায় আমি ওর সঙ্গে ঘুরেছি। খুব বেশি সময় না, তবে ঘুরেছি। বিভিন্ন জায়গায় বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থেকেছি। ওর বৃষ্টিতে ভেজা খুবই পছন্দ ছিল। কিন্তু ঠাণ্ডা লেগে যাবে এই ভয়ে আমি আমার ব্যাগ ওর মাথার উপরে ধরতাম। সঙ্গে সঙ্গে ওর মনটা খারাপ হয়ে যেত। ব্যাগটা সরালেই ফিরে আসতো দীপ্তিময় হাসি। আমি দেখে খুব মজা পেতাম। ও রীতিমতো কাকুতি-মিনতি করতো ভেজার জন্য। অবশ্য তেমন কাকভেজা আমরা মাত্র একবার ভিজেছি।’</p>
<p><span id="more-523"></span></p>
<p>সিনথিয়া জিজ্ঞেস করলো, ‘আর?’<br />
‘আর ধরো বৃষ্টি হচ্ছে এমন আবহাওয়া। এমন আবহাওয়ায় ওর সঙ্গে অনেক কথা বলেছি। বৃষ্টি শুরু হলেই ওর কথা মনে পড়তো। ওকে ফোন করতাম বা ও আমাকে ফোন করতো। বৃষ্টির সময়গুলোতে আমরা দু’জনেই খুব আবেগঘন হয়ে যেতাম। যেন ছাদের নিচে বসেও বৃষ্টি আমাদের দু’জনের হৃদয় ছুঁয়ে যেত। সেই মুহুর্তগুলো আমি আজও খুব ফিল করি।’<br />
‘হুম।’<br />
‘তারপর মনে করো প্রখর রোদের কথা, যেটা বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। আমার রোদ ভীষণ অপছন্দ। রোদ উঠেছে দেখলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু এখন রোদ আমার মেজাজ খারাপ করে না। এখন রোদ আমাকে মনে করায় অনেক সুখের সব স্মৃতি।’<br />
‘কী স্মৃতি?’ সিনথিয়ার প্রশ্ন।<br />
‘আমি আর সিমি যতটুকু সময় বাইরে ঘুরেছি, তার নাইনটি পার্সেন্টই ছিল তপ্ত রোদের মধ্যে। এতো রোদ আগে আমার খুব অসহ্য লাগতো। কিন্তু বিশ্বাস করবে না, সিমি সাথে থাকলে রোদ যত কড়াই হোক না কেন, আমার যেন গায়েই লাগতো না। দরদর করে ঘামতাম। সিমিও খুব ঘামতো। আমরা হাঁটার সময় হাত ধরে হাঁটতাম। রিকশায় বসলে ওর কাঁধে হাত দিয়ে আমার দিকে টেনে রাখতাম। বাসেও এভাবে আমার দিকে ঝুঁকে থাকতো সিমি। যার কারণে আমরা দু’জনের ঘামে নিজেরা একাকার হয়ে যেতাম। একদিন সিমি প্রায় এক ঘণ্টা টানা আমার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়েছে বাসে। এতো গরমে ঘামতে ঘামতে কীভাবে ঘুমালো ঠিক বুঝিনি। কিন্তু আমার খুব ভালো লেগেছিল। ওকে জড়িয়ে রেখেছিলাম, আর বারবারই ওর মুখের দিকে তাকাচ্ছিলাম। খুব ভালো লাগছিল আমার সিমিটার দিকে তাকাতে।’</p>
<p>হাসলো সিনথিয়া। ব্যাপারটা তার কাছে ছেলেমানুষীও মনে হচ্ছে, আবার খুব সুইটও মনে হচ্ছে।<br />
সাইফ বলে চলল, ‘ওর কপাল বা নাক যখন খুব ঘেমে যেত, তখন ও কী করতো জানো?’<br />
‘কী?’<br />
‘আমার কাঁধে সেটা মুছতো। মুছে আবার আমার দিকে বাচ্চা মানুষের মতো একটা ভাব করে তাকিয়ে থাকতো। ওর সেই দৃষ্টিটা আমার এতো ভালো লাগতো; বোঝাতে পারবো না। আবার আমি ঘামলে আমার কপাল বা ঘাড় থেকে ঘাম নিয়ে ওর জামায় মুছতো। বলতো, আমার চিহ্ন নাকি রেখে দিচ্ছে ওর কাপড়ে। যাতে বাসায় গিয়েও আমাকে দেখতে পারে। আমার খুব হাসি আসতো। ভালোও লাগতো, ওর এতো সুন্দর ভালোবাসা দেখে নিজেকে সবচেয়ে সুখী আর ভাগ্যবান মনে হতো।’<br />
সিনথিয়া চুপ করে রইলো। তবে ওর মুখটা হাসি হাসি ভাব করে রেখেছে। এগুলো শুনতে সত্যিই ওর ভালো লাগছে। কিছুক্ষণের জন্য যেন নিজের না পাওয়াগুলো ও ভুলে গেছে।</p>
<p>২২<br />
‘সিমিকে আমি অনেক ভালোবাসি। ওর আর আমার মধ্যে একটা মিল ছিল এই যে, আমরা কেন যেন একজন আরেকজনকে বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ড ভাবতে পারতাম না। শব্দগুলো কেন যেন এই যুগের সাময়িক সঙ্গীর প্রতিশব্দ বলে মনে হতো। মনে হতো, বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ড হলেই একদিন সে চলে যাবে। তাই আমরা একজন আরেকজনকে অনেক আপন বলেই ভাবতাম। আর সেভাবেই ফিল করতাম দু’জন দু’জনের জন্য।’<br />
‘কী রকম আপন?’ বুঝেও না বোঝার ভান করে জিজ্ঞেস করলো সিনথিয়া। তার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসি দেখতে পেলো সাইফ। সাইফও একটু হেসে বললো, ‘এই তো&#8230;লাইক..হাজব্যান্ড-ওয়াইফ।’</p>
<p>সিনথিয়া হাসতে শুরু করলো। সাইফের কথা শুনে নয়, সাইফকে লজ্জা পেতে দেখে। এই প্রথম সে সাইফকে লজ্জা পেতে দেখলো। ছেলেটার মাঝে সবরকম অনুভূতিই আছে। ইচ্ছে করে ও সব যেন চেপে রেখে দেয়।<br />
সাইফ বলতে থাকলো, ‘আমি নানা কারণে খুব চুপচাপ অবস্থায় বড় হয়েছি। ছোটবেলা থেকেই একদম চুপচাপ ও ঠাণ্ডা স্বভাবের ছিলাম। বড় হতে হতে পারিবারিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে সেই চুপচাপ ভাবটাও আমার সঙ্গে সঙ্গেই বড় হয়েছে। আমি কথা বলায় কখনো পটু ছিলাম না। কারো সঙ্গে মিশতে পারতাম না। কিছু ক্লাসমেট ছিল বটে, যাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতাম। কিন্তু প্রতিটা মানুষেরই কিছু একান্ত কথা থাকে যেগুলো সে হয়তো কোনো বেস্ট ফ্রেন্ড বা ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে শেয়ার করে। আমার ক্ষেত্রে সিমিই হয়ে উঠেছিল সেই বেস্ট ফ্রেন্ড। আর আমাদের সম্পর্কের সবচেয়ে ভালো দিক ছিল এই যে, শেষ পর্যন্ত আমরা দু’জনই দু’জনের বেস্ট ফ্রেন্ডই ছিলাম।’</p>
<p>একটু থামলো সাইফ। তারপর আস্তে আস্তে বলল, ‘জানি না কেন এখন ও আমাকে এভাবে দূরে ঠেলে দিলো।’<br />
সিনথিয়া ভাবতে লাগলো কীভাবে প্রসঙ্গ ঘুরানো যায়। এমন দিনে সিমির সঙ্গে কীভাবে ব্রেকআপ হলো সেই মন খারাপ করা কথা শুনতে সিনথিয়ার আর ইচ্ছে করছে না। সে তাড়াতাড়ি জিজ্ঞেস করলো, ‘সিমির আর কী কী কথা তোমার অনেক মনে পড়ে?’<br />
সাইফ বলল, ‘অনেক কিছুই মনে পড়ে। ওর সঙ্গে আমার এতো বেশি স্মৃতি জড়িয়ে গেছে যে, ২৪ ঘণ্টার ২৪ ঘণ্টাই ওর স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তবে ইদানীং একটা স্মরণীয় মূহুর্তের কথা খুব বেশি মনে পড়ে।’<br />
‘কী সেটা?’<br />
‘আমার পায়েল খুব পছন্দ। কেন জানি না, কিন্তু পায়েল আমার ভালো লাগে। শব্দ করতে হবে এমন কোনো কথা নেই,  পায়েল হলেই চলবে। আর এই কথাটা সিমি জানতো। তাই ও একদিন কোত্থেকে যেন একটা পায়েল জোগাড় করে রেখে দিল। আমি কী একটা কারণে যেন ওর বাসায় গেলাম, তখন ও পায়েলটা বের করে আনলো। আমাকে বলল পরিয়ে দিতে।’<br />
‘তাই?’<br />
‘হ্যাঁ, ঐ সময়টা খুব রোমান্টিকতায় ভরা ছিল। আর সিমির ছিল চরম লজ্জা। আমাকে পরিয়ে দিতে বলে নিজেই লজ্জায় যেন নেই হয়ে গেল।’<br />
‘তারপর কি তুমি পরিয়ে দিলে?’<br />
‘হ্যাঁ, ও খাটে বসেছিল। আমি চেয়ার থেকে উঠে ওর সামনে মাটিতে বসলাম। ও তখন পারলে পা খাটের নিচে ঢুকিয়ে বসে থাকে। আমি প্রায় জোরাজুরি করেই ওর পা আমার হাঁটুর উপরে রাখলাম। তারপর পায়েলটা পরিয়ে দিলাম তাড়াহুড়ো করে।’<br />
‘তাড়াহুড়ো করে কেন?’<br />
‘কারণ কেউ দেখে ফেলার ভয় ছিল। তবে তাড়াহুড়োর ফলও খারাপ ছিল। পায়েলটা উল্টো করে পরিয়ে ফেলেছিলাম। অবশ্য আমার দোষ না, আমি তো আর জানি না মেয়েদের এসব কীভাবে পরতে হয়।’</p>
<p>সিনথিয়া হাসতে থাকলো। ‘আহারে! বেচারি সিমির নিশ্চয়ই মন খারাপ হয়েছিল?’<br />
‘একটুও না। ও নিজে আবার ঠিক করে নিয়েছিল। মন খারাপ হয়েছিল আমার। আমিই পরাতে গিয়ে উল্টো করে ফেলেছিলাম।’<br />
‘তারপর থেকে ও নিশ্চয়ই পায়েল পরতো সবসময়?’<br />
‘হ্যাঁ। আর ও নাকি কেবলই পায়েলটা দেখতো আর মনে মনে ভাবতো, আমি অনেক আদর করে ওকে এটা পরিয়ে দিয়েছি। আমার অবশ্য একটা দুঃখ ছিল যে, পায়েলটা আমি কিনে দিতে পারিনি। তখন হাতে একদমই টাকা ছিল না।’<br />
‘হুম।’ সিনথিয়া তখন মাঠের দিকে তাকিয়ে আছে। কিছুটা যেন আনমনেই বলল, ‘তুমি সিমিকে অনেক আদর করতে তাই না?’</p>
<p>কথাটার জবাব না দিয়ে সিনথিয়ার দিকে তাকালো সাইফ। আর তখনই যেন সিনথিয়া বুঝতে পারলো, কথাটা অন্য অর্থও দাঁড়াতে পারে। সে বলল, ‘আই মিন, ওকে অনেক জড়িয়ে ধরে রাখা, সারাক্ষণ হাত ধরে রাখা, কাছে থাকলে হাত ধরে রাখা, এইসব।’<br />
সাইফ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সেও তার দৃষ্টি অনেক দূরে ফেলে বলল, ‘হ্যাঁ, ও আমার কাছে খুবই প্রিয় একটা মানুষ। ওকে আমার পরীর মতো মনে হয়। সাধারণ কোনো পরী না, কেবল আমার জন্য পাঠানো পরী। যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমার সব অনুভূতি, যার একটু হাসির মধ্যে ছিল আমার অসীম আনন্দ, যার একটু স্পর্শের মধ্যে ছিল আমার অনেক প্রাপ্তি। আর সবচেয়ে ভালো লাগতো এটা যে ওর হাত ধরলে, ওর কাঁধে হাত রাখলে আমার এইসব সাধারণ স্পর্শগুলোও ও এতো বেশি ফিল করতো, দেখেই বোঝা যেত যে এগুলো যেন ওর মন ভরিয়ে দিচ্ছে। ওর চোখেই দেখতে পেতাম আমার প্রতি ওর ভালোবাসা।’</p>
<p>সিনথিয়া চুপ করে রইলো। এখন কী বলা উচিৎ যে ঠিক ভেবে পাচ্ছে না। তাই দু’জনেই যেন চুপ করে রইল। তখন বাইরে আবারও ঝুম বৃষ্টি নেমেছে। ছেলেগুলো চলে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, কিন্তু বৃষ্টি দেখে লোভ সামলাতে পারলো না। কোত্থেকে যেন একটা ফুটবলও জোগাড় হয়ে গেল। শুরু হয়ে গেল বৃষ্টিতে ফুটবল খেলা।</p>
<p>আর একটু দূরে বসে কলেজ বারান্দার বেঞ্চে সাইফ আর সিনথিয়া বসে চুপচাপ তাকিয়ে খেলা দেখছে। যেন এক জোড়া চড়ুই গাছের ডালে বসে আছে। পার্থক্য এতটুকুই, তাদের কারোরই খেলায় মন নেই। যে কেউ দেখলে ভাববে কতো রোমান্টিক একটা মূহুর্ত। কিন্তু এখানেই যেন প্রকৃতির রহস্যময়তা খেলা করে। এই পরিবেশে দু’জন একসঙ্গে বসে আছে ঠিকই, কিন্তু দু’জনের মনেই রয়েছে নিজস্ব কষ্ট। একান্তই নিজস্ব কিছু না পাওয়ার বেদনা।</p>
<p>(<a title="গল্পঃ My Best Friend Simi (পর্ব ১১)" href="http://aisajib.wordpress.com/2011/07/19/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%a7/" target="_blank">পর্ব ১১</a>)</p>
<br />Filed under: <a href='http://aisajib.wordpress.com/category/story/'>Story</a>  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/aisajib.wordpress.com/523/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/aisajib.wordpress.com/523/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/aisajib.wordpress.com/523/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/aisajib.wordpress.com/523/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/aisajib.wordpress.com/523/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/aisajib.wordpress.com/523/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/aisajib.wordpress.com/523/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/aisajib.wordpress.com/523/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/aisajib.wordpress.com/523/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/aisajib.wordpress.com/523/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/aisajib.wordpress.com/523/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/aisajib.wordpress.com/523/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/aisajib.wordpress.com/523/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/aisajib.wordpress.com/523/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=aisajib.wordpress.com&amp;blog=3913370&amp;post=523&amp;subd=aisajib&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://aisajib.wordpress.com/2011/07/16/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%a6/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>3</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/20133c756ec851e1d0dad22bd9dcfae8?s=96&#38;d=&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">Sajib</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://aisajib.files.wordpress.com/2011/06/mbfs.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">mbfs</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>গল্পঃ My Best Friend Simi (পর্ব ৯)</title>
		<link>http://aisajib.wordpress.com/2011/07/15/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%af/</link>
		<comments>http://aisajib.wordpress.com/2011/07/15/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%af/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 14 Jul 2011 18:05:06 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Sajib</dc:creator>
				<category><![CDATA[Story]]></category>
		<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[ধারাবাহিক গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://aisajib.wordpress.com/?p=514</guid>
		<description><![CDATA[(পর্ব ৮) ১৯ পরদিন যথারীতি তুমুল বৃষ্টি। ভোর থেকেই বৃষ্টি শুরু হলো। সেই বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষণ নেই। বাসায় বসে সাইফ ভাবছে আর আধঘণ্টা বৃষ্টি হলে কলেজেই যাবে না। কিন্তু যেই সে ভাবলো, সঙ্গে সঙ্গেই যেন বৃষ্টি কমে এলো। তাই &#8230; <a href="http://aisajib.wordpress.com/2011/07/15/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%af/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=aisajib.wordpress.com&amp;blog=3913370&amp;post=514&amp;subd=aisajib&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><img class="aligncenter size-full wp-image-474" title="mbfs" src="http://aisajib.files.wordpress.com/2011/06/mbfs.jpg?w=500&#038;h=706" alt="My Best friend simi" width="500" height="706" /></p>
<p>(<a title="গল্পঃ My Best Friend Simi (পর্ব ৮)" href="http://aisajib.wordpress.com/2011/07/10/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ae/" target="_blank">পর্ব ৮</a>)</p>
<p>১৯<br />
পরদিন যথারীতি তুমুল বৃষ্টি। ভোর থেকেই বৃষ্টি শুরু হলো। সেই বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষণ নেই। বাসায় বসে সাইফ ভাবছে আর আধঘণ্টা বৃষ্টি হলে কলেজেই যাবে না। কিন্তু যেই সে ভাবলো, সঙ্গে সঙ্গেই যেন বৃষ্টি কমে এলো। তাই সাইফের কলেজে না যাওয়া আর হলো না। আবার বৃষ্টি নামার আগেই কলেজে পৌঁছানোর জন্য তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে পড়লো।</p>
<p>কলেজে আজ ছাত্র-ছাত্রী প্রায় নেই বললেই চলে। সবাই বৃষ্টিকে অজুহাত বানিয়ে ক্লাস ফাঁকি দিয়েছে। অবশ্য এমন দিনগুলোতে ক্লাস করে অভ্যাস আছে সাইফের। তাই ওর মন খারাপ হলো না। বরং অবাক হলো যখন দেখলো ক্লাসরুমে সাত-আটজন ছেলে ছাড়াও মেয়েদের মধ্যে সিনথিয়া বসে আছে। এই বৃষ্টির দিনে সিনথিয়া কলেজে আসবে ভাবতেই পারেনি সাইফ। অবশ্য ওর আসতে কি! নিজেদের গাড়ি আছে। গ্যারেজ থেকে গাড়িতে উঠবে, কলেজের সামনে এসে নামবে। বিত্তশালীদের অনেক সমস্যাই কোনো সমস্যা না।</p>
<p><span id="more-514"></span>‘যাক এলে তাহলে,’ সিনথিয়া বলল হেসে। ‘যা বৃষ্টি নেমেছিল, আমি তো ভাবছিলাম তুমি কেন, স্যাররাই আসতে পারবে না। অবশ্য ক’জন এসেছে কে জানে।’<br />
সাইফ বলল, ‘আমিও ভাবছিলাম আসবো না। কিন্তু যেই ভাবা সেই কাজ হওয়ার আগেই বৃষ্টি থেমে গেল। তাই আসতে হলো।’<br />
হাসলো সিনথিয়া। ‘কপাল খারাপ তোমার। অবশ্য ভালোই হয়েছে। তুমি না আসলে আমার বোরিং কাটতো সময়।’<br />
সাইফ কিছু বলল না। কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্লাস শুরু হলো। স্যার এসে রোলকল করে গেলেন। যাবার সময় বলে গেলেন আজ দুই কি তিনটা ক্লাস পরে ছুটি হয়ে যাবে। তাই তারা যেন গোলমাল না করে।</p>
<p>অবশ্য এমনিতেও আজ কলেজে গোলমাল করার মতো কেউ নেই। যারা এসেছে তারা সবাই বসে বসে গল্প করতেই বেশি পছন্দ করে।</p>
<p>এমন সুবর্ণ সুযোগ মিস করার কোনো মানে হয় না &#8211; ভাবলো সিনথিয়া। সে সাইফের বরাবর পাশের বেঞ্চে এসে বসলো। জিজ্ঞেস করলো, ‘রাতে ঘুমিয়েছো কয়টায়?’<br />
‘সাড়ে তিনটার দিকে। কেন?’<br />
‘এমনি। সকালে উঠলে কয়টায়?’<br />
‘চারটা।’</p>
<p>সিনথিয়া এমন ভাবে সাইফের দিকে তাকালো যেন খুবই বেরসিক কোনো কৌতুক করেছে সাইফ। কিন্তু সাইফের চোখেমুখে কোনো ভাবান্তর না দুষ্টুমির চিহ্ন না দেখে বুঝলো সত্যি কথাই বলছে। ‘মানে তুমি সারারাতে আধা ঘণ্টা ঘুমিয়েছো?’<br />
‘হুম।’<br />
সিনথিয়া আর কিছু বললো না। সাইফকে কিছু বলে লাভ নেই। ও ওর মতোই চলবে। তার চেয়ে সময় নষ্ট না করে সিমির গল্প শুনে ফেলাটাই ভালো হবে বলে মনে হলো তার। তাই সে সাইফকে জিজ্ঞেস করলো, ‘সিমির সাথে ব্রেকআপ হলো কেন?’</p>
<p>কোনো ভূমিকা ছাড়া এর আগে সরাসরি সিমির ব্যাপারে প্রশ্ন সিনথিয়া তেমন একটা করেনি। তাই প্রথমে একটু অবাক লাগলো সাইফের। তবে সে কিছু না বলে বলতে শুরু করলো তার আর সিমির স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে যাবার গল্প।</p>
<p>‘সিমির আর আমার মধ্যে সম্পর্কটা এমনই ছিল যে আমাদের জীবনে অন্য কোনো ফ্রেন্ড বা কেউ বেশি কাছে আসলে আরেকজন হিংসায় জ্বলতাম। ব্যাপারটা আমার মধ্যেও ছিল, ওর মধ্যেও ছিল। আর এটাকে স্বাভাবিক বলেই মেনে নিয়েছিলাম। অবশ্য এটা কোনো সমস্যারও সৃষ্টি করেনি আমাদের মধ্যে। আমরা একজন আরেকজনকে মন দিয়ে ভালোবাসতাম। যতটা সম্ভব খেয়াল রাখতাম। মাঝে মাঝে দেখা করতাম। আর ওকে আমি একটু বেশিই ঝাড়ি দিতাম। কারণ ও সুযোগ পেলেই ওষুধ খাওয়া বা নাস্তা করা ফাঁকি দিতো। কেবল তাই না, আগেই বলেছি ও ততোটা কেয়ারফুলি চলাফেরা করতো না। রাস্তা পার হতে গেলে মনে হয় যেন পেছনে কেয়ামত শুরু হয়ে গেছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রাস্তার অন্যপাশে গিয়ে প্রাণ বাঁচাতে হবে!’</p>
<p>‘যাই হোক, আমাদের মাঝে সবই ঠিক ছিল। খুব অল্প কয়েকজনই আমাদের সম্পর্কের কথা জানতো। আমাদের প্ল্যান ছিল আমরা, বিশেষ করে আমি একটা ভালো অবস্থানে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ক্লোজ ফ্রেন্ডস ছাড়া আর কারো কাছে আমাদের সম্পর্কের কথা বলবো না। তাতে করে কেবল সমস্যাই তৈরি হবে। আর যেহেতু আমরা ভালো ফ্রেন্ড এটা সবাই জানতো, তাই আমাদের সেই সমস্যাগুলোও ছিল না যেগুলো সাধারণত প্রতিটা সম্পর্কেই ছেলেমেয়েকে ফেস করতে হয়। যেমন লুকিয়ে কথা বলা, লুকিয়ে দেখা করা ইত্যাদি।’</p>
<p>সিনথিয়া মাথা নাড়লো। আসলেই অনেক দিক দিয়ে ভাগ্য সিমি আর সাইফকে সাহায্য করেছে। এমন রিলেশন সচরাচর দেখা যায় না।</p>
<p>সাইফ বলতে থাকলো, ‘ছোটখাটো সমস্যা আমাদের মাঝে একেবারে যে হতো না তেমনটা না। মাঝে মাঝে ও ফোন করতে থাকতো আমি ধরতে পারতাম না। দেখা যেত বালিশের নিচে ফোন রেখে আম্মুর রুমে গিয়ে বসে আছি। এসে দেখি ওর অনেকগুলো মিসকল। তখন ও খুব রাগ করে থাকতো। কিন্তু তখন আমার নিজেরই এতো খারাপ লাগতো আর মন খারাপ হতো যে ওর রাগ ভাঙ্গানো যে দরকার সেটা খুব একটা মনে পড়তো না। আর এর মাধ্যমেই শুরু হলো একটা ভুল বোঝাবুঝি।’</p>
<p>‘কী রকম ভুল বোঝাবুঝি?’ সিনথিয়া জিজ্ঞেস করলো।<br />
‘এই যেমন ধরো প্রত্যেকবার যখন এমন সমস্যা হতো, তখন আমার নিজেরই খারাপ লাগতো, অপরাধবোধটা অনেক বেশি লাগতো। যার কারণে আমি চুপ করে থাকতাম। আর আমার এই চুপ করে থাকাটাকেই কেয়ারলেস হিসেবে ধরে নিয়েছে সিমি। যার ফলে ওর মধ্যে আস্তে আস্তে এই ধারণাটা বদ্ধমূল হয়ে গেছে যে আমি ওকে পাত্তা দিচ্ছি না, ওর রাগ ভাঙ্গানোর প্রয়োজন মনে করছি না, কিংবা ওর রাগটাকে কিছু মনেই করছি না। বিশ্বাস করো সিনথি, আমি যদি ঘুণাক্ষরেও কোনোদিন টের পেতাম যে ওর মনে এই ধারণাটা দানা বাঁধছে, আমি সত্যিই এই ব্যাপারটায় খেয়াল করতাম। কিন্তু তখন আমার মধ্যে কমন সেন্সের চেয়ে অপরাধবোধই বেশি কাজ করতো। যে কারণে এই দূরত্বটা তৈরি হতে থাকলো।’</p>
<p>বাইরে তখন আবারো বৃষ্টি নেমেছে। ততোটা ভারি বর্ষণ নয়, কিন্তু আকাশ ধোঁয়ার মতো কালো হয়ে আছে। সাইফ জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। তার চোখের কোণের অশ্রু সিনথিয়ার নজর এড়ালো না। এখানে বসে থাকার চেয়ে বারান্দায় চলে যাওয়া ভালো মনে হলো সিনথিয়ার কাছে। তাই সে উঠে সাইফকে বলল, ‘বারান্দায় চলো। বারান্দায় শুনবো।’</p>
<p>সাইফ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে উঠে সিনথিয়াকে অনুসরণ করলো।</p>
<p>২০<br />
আকাশটা কালো হয়ে আছে। দেখলে যে কেউ হয়তো বলবে, আকাশটার আজ মন খারাপ। থেকে থেকেই বৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে। সামনের বিশাল মাঠে পানি জমে গেছে সকাল থেকে ভারি বৃষ্টিতে। সেই পানিতে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ার দৃশ্য দেখে যে কেউ তার স্বপ্নগুলো মনে মনে কল্পনা করতে ভালোবাসবে। কিন্তু যাদের স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে, তাদের জন্য বুঝি এ দৃশ্য আরো মন খারাপ করে দেয়।</p>
<p>সিনথিয়া বলল, ‘তারপর কী হলো?’<br />
সাইফ বলতে থাকলো, ‘এভাবে ওর মধ্যে একটা ধারণা সৃষ্টি হতে থাকলো যে আমি ওকে আগের মতো আর পাত্তা দেই না, ভালোবাসি না। সত্যি কথাই বলবো, ও আমাকে অনেকবারই বলেছে যে এভাবে চলতে পারে না। আমি নিজেও ও যতোবার বুঝিয়েছে ততোবারই বুঝেছি। ভেবেছি এখন থেকে সব ঠিকঠাক রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। কারণ সত্যি বলছি, ও আমার জীবনে না থাকলে আমার যে কী অবস্থা হবে তা আমি আজ নতুন বুঝছি না, আমি আগে থেকেই ধারণা করতে পারতাম ও আমার সাথে না থাকলে আমার কষ্ট কতোটা কঠিন হবে। পার্থক্য এতটুকুই, আগে আন্দাজ করতে পারতাম, আর এখন ভোগ করি।’</p>
<p>সিনথিয়া চুপ করে থাকলো। তার কাছে এখন চুপ করে অপেক্ষা করা ছাড়া করার বা বলার কিছু নেই।</p>
<p>কিছুক্ষণ পর সাইফ আবার বলতে শুরু করলো, ‘একদিন আমাদের সমস্যাটা অনেক বেড়ে গেল যখন ওর এক ফ্রেন্ড ওকে পরপর তিনদিন এসএমএস দিলো।’<br />
‘কী এসএমএস?’<br />
‘আহামরি কিছু না। এই যেমন গুড মর্নিং, ওয়েক আপ ইত্যাদি।’<br />
‘ছেলে ফ্রেন্ড ছিল?’ সিনথিয়ার প্রশ্ন।<br />
‘হ্যাঁ, কিন্তু সেখানে আমার সমস্যা নয়। আমার সমস্যা হলো একটা ফ্রেন্ড হঠাৎই পরপর তিনদিন মেসেজ দেয়া শুরু করে দিলো কেন? যেন হঠাৎই সিমির নজরে পড়তে চাচ্ছে, কিংবা সিমিকে তার নজরে পড়েছে হঠাৎ। এজন্য তার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে। কিন্তু আমি যখন জিজ্ঞেস করলাম, সিমি বলল এটা কিছু না। সেটা নাকি খুবই স্বাভাবিক ছিল।’</p>
<p>সিনথিয়া চুপ করে রইলো। সাইফ বলতে থাকলো, ‘সিমির ছেলে বন্ধু থাকতেই পারে; আছেও। সে এসএমএস দিলে সেটাও কোনো মহা সমস্যা নয়। কিন্তু তাই বলে হঠাৎ করে পরপর তিনদিন মেসেজ দেয়া শুরু করে দিলো? এরপর আমার রাগ আরও বাড়লো যখন জানলাম ও সিমির সঙ্গে পরপর দুইদিন দেখাও করেছে।’<br />
‘কীভাবে?’ সিনথিয়া জিজ্ঞেস করলো।<br />
‘প্রথমদিন কী যেন একটা নোট নিবে বলে ওকে বাইরে ডেকে নিয়ে গেল। আমি জানতাম সেটা। তখন কোনো সমস্যা মনে হয়নি। পরদিন আবার ওর বাসার সামনে গিয়ে ওকে ফোন করে বলল বারান্দায় আসতে। বারান্দায় গেল সিমি, ওর সঙ্গে ছেলেটার দেখা হলো দূর থেকে। আর ঠিক ঐ তিনদিনই সকালে ওকে মেসেজ দিয়েছিল ও।’</p>
<p>সিনথিয়া চিন্তায় পড়ে গেল। ওর কাছেও খুব একটা মানানসই মনে হচ্ছে না ব্যাপারটা। সাইফ বলল, ‘সত্যি কথা বলতে কি, এরপর থেকে কয়েকদিন ঐ ছেলেটা কোনো মেসেজ পাঠায়নি বা দেখা করতে চায়নি। অবশ্য সিমি পড়তে গেলে এমনিতেই দেখা হতো। কিন্তু টানা তিনদিন এভাবে মেসেজ দেয়া, দেখা করা, এমন হলে আমার ধারণা যে কোনো ছেলেরই বেমানান লাগবে এবং খুব খারাপ লাগবে।’</p>
<p>‘লাগাটাই স্বাভাবিক।’<br />
‘আমাদের সমস্যাটা আরও বড় আকার ধারণ করে সেখানেই। ব্যাপারটা তিনদিন ঘটলেও এর রেশ ছিল প্রায় এক সপ্তাহ। আমি ওকে যতোই বুঝাতে চেষ্টা করলাম যে ব্যাপারটা স্বাভাবিক না, ও ততোই জেদ করলো যে এটা কিছুই না। বিলিভ মি, সিমি নিজেই একদিন বলেছিল যে দ্বিতীয়দিন বারান্দায় ডেকে দেখা করাটা একটু অন্যরকম মনে হওয়ার মতো। কিন্তু তিন-চারদিন পর সিমি নিজের কথাটাও ভুলে গেল। ও বলতে শুরু করলো ব্যাপারটা কিছুই না।’</p>
<p>‘তখন আমি কিছুতেই ব্যাপারটা মেনে নিতে পারছিলাম না। আমি সিমিকে সন্দেহ করছিলাম এমনও না। কিন্তু ছেলেটার অ্যাপ্রোচ আমার ভালো লাগেনি তাই ওর সঙ্গে তর্ক করছিলাম। আমি স্বীকার করছি, ব্যাপারটা নিয়ে হয়তো আমি তর্ক একটু বেশিই করেছি। হয়তো আমার ব্যাপারটা ইগনোর করা উচিৎ ছিল। এখন এটা মনে হচ্ছে কারণ, সিমি এখন যুক্তি দেখাচ্ছে, আগে আমাদের ঝগড়া হতো একদিন কি দুইদিন, আর এখন ঝগড়া হয় এক সপ্তাহ। আর এটা বাড়বেই।’</p>
<p>সিনথিয়া চুপ করে রইলো। ভুল বোঝাবুঝিটা সে বুঝতে পারছে।</p>
<p>‘তুমিই বলো সিনথি, তর্ক-ঝগড়া হবেই। এটা এড়ানোর কোনো উপায় নেই। এটা মেনে নিয়েই রিলেশনে থাকতে হয়। তুমি কারো কাছ থেকে কেবল ভালো আশা করতে পারো না। তার ভালো দিকের সঙ্গে খারাপ দিকও কিছুটা থাকবেই। আমি স্বীকার করবো, যে সিমির কাছে আমি বলার মতো কোনো খারাপ দিকই পাইনি। আগেই বলেছি, ও ছিল অন্যরকম একটা মেয়ে। কিন্তু আমি ঐ সময়ে তর্ক না করেই বা কীভাবে থাকতাম বলো? যদি ইগনোর করতামও, আমার মনে কি একটা সন্দেহ দানা বাঁধতো না? আমার কি একটা অস্বস্তি থেকে যেতো না যে অন্য একটা ছেলে ওর কাছে আসতে চাচ্ছে কি না? আমি বিশ্বাস করি সিমি আমার সাথে প্রতারণা করতো না। কিন্তু যতই বিশ্বাস থাকুক না কেন, এমন সময়ে কি শান্ত থাকা যায়?’</p>
<p>মাথা নাড়লো সিনথিয়া। সাইফ বলতে থাকলো, ‘এই ঘটনার পর দুই-তিনদিন আমাদের কোনো কথা হলো না। তারপর সিমি জানালো, আমাদের দু’জনেরই আরেকবার ভেবে দেখা উচিৎ রিলেশনটা রাখা যাবে কি না। ও আমাকে ভাবার জন্য একদিন সময় দিলো। নিজেও একদিন সময় নিলো। কিন্তু ও একদিন অপেক্ষা করতে পারেনি। সেদিন রাতেই, মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই ও আমাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করলো আমি কী ঠিক করেছি। আমি বললাম, আমি তাকে ছাড়া থাকতে পারবো না। তাই আমি চেষ্টা করবো বদলাতে।’</p>
<p>‘সিমি বলল, মানুষ নিজেকে বদলাতে পারে না। কিন্তু সিমি এটা লক্ষ্য করলো না যে আমি নিজেকে বদলাচ্ছি না। আমাদের সম্পর্কের প্রথম দিকের বেশ লম্বা একটা সময় আমাদের খুবই ভালো কেটেছে। তখন সেটা কে ছিলো? আমি না? তাহলে আমার নিজেকে বদলানোর তো প্রশ্ন আসছে না।’</p>
<p>সিনথিয়া জিজ্ঞেস করলো, ‘তারপর সিমি কী বলল?’<br />
‘সেদিন রাতে আর তেমন কথা হয়নি। পরদিন সকালে সিমি ফোন করে বলল, আমাদের যেভাবে চলছে সেভাবে সে থাকতে পারবে না। আবার সম্পর্ক ভেঙ্গে দিয়েও সে থাকতে পারছে না। এখন সে কী করবে? আমার খুব খারাপ লেগেছিল, আবার ভালোও লেগেছিল যে ও আমাকে এতো ভালোবাসে দেখে। আমি বললাম, ঠিক আছে, আমরা দু’জন আবারো চেষ্টা করি আগের মতো হয়ে যেতে। যেহেতু আমরা এমন ছিলাম, অবশ্যই আমরা চেষ্টা করলে আগের মতো হতে পারবো। ও সঙ্গে সঙ্গে রাজি হলো। আমিও জোর করে মন থেকে ঐ ছেলে আর তার মেসেজের কথা দূর করলাম।’</p>
<p>‘কিন্তু তবুও আমাদের সম্পর্কটা টিকলো না!’ সাইফের গলা পরিবর্তিত হতে শুনে ঝট করে সাইফের দিকে তাকালো সিনথিয়া। কান্না ঠেকানোর প্রাণপণ চেষ্টাটা ওর নজর এড়ালো না। বাইরে তখন তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে। সেই বৃষ্টির ফোঁটার দিকে তাকিয়ে সিনথিয়া আপনমনে ভাবলো, কিছু কিছু মানুষ এতো বেশি ভালোবাসে কী করে? আর যারা এতো বেশি ভালোবাসে, তাদেরই কষ্ট পেতে হয় কেন?</p>
<p>সিনথিয়া অপেক্ষা করতে থাকলো ঘটনার শেষটা শোনার জন্য।</p>
<p>(<a title="গল্পঃ My Best Friend Simi (পর্ব ১০)" href="http://aisajib.wordpress.com/2011/07/16/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%a6/" target="_blank">পর্ব ১০</a>)</p>
<br />Filed under: <a href='http://aisajib.wordpress.com/category/story/'>Story</a>  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/aisajib.wordpress.com/514/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/aisajib.wordpress.com/514/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/aisajib.wordpress.com/514/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/aisajib.wordpress.com/514/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/aisajib.wordpress.com/514/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/aisajib.wordpress.com/514/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/aisajib.wordpress.com/514/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/aisajib.wordpress.com/514/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/aisajib.wordpress.com/514/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/aisajib.wordpress.com/514/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/aisajib.wordpress.com/514/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/aisajib.wordpress.com/514/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/aisajib.wordpress.com/514/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/aisajib.wordpress.com/514/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=aisajib.wordpress.com&amp;blog=3913370&amp;post=514&amp;subd=aisajib&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://aisajib.wordpress.com/2011/07/15/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%af/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>3</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/20133c756ec851e1d0dad22bd9dcfae8?s=96&#38;d=&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">Sajib</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://aisajib.files.wordpress.com/2011/06/mbfs.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">mbfs</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>গল্পঃ My Best Friend Simi (পর্ব ৮)</title>
		<link>http://aisajib.wordpress.com/2011/07/10/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ae/</link>
		<comments>http://aisajib.wordpress.com/2011/07/10/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ae/#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 10 Jul 2011 17:33:39 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Sajib</dc:creator>
				<category><![CDATA[Story]]></category>
		<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[ধারাবাহিক গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলা]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://aisajib.wordpress.com/?p=506</guid>
		<description><![CDATA[(পর্ব ৭) ১৭ দুপুরের পর আবার বৃষ্টি নেমেছে। দুপুরের দিকে বৃষ্টি যা-ই একটু থেমেছিল, সেই ক্ষতিটা পুষিয়ে নিতেই যেন আকাশ ভেঙ্গে ঢল নেমেছে। একটানা এতো লম্বা সময় এভাবে বৃষ্টি হতে খুব কমই দেখা যায়। সাইফ তার জানালা দিয়ে বৃষ্টির ফোঁটার &#8230; <a href="http://aisajib.wordpress.com/2011/07/10/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ae/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=aisajib.wordpress.com&amp;blog=3913370&amp;post=506&amp;subd=aisajib&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><img class="aligncenter size-full wp-image-474" title="mbfs" src="http://aisajib.files.wordpress.com/2011/06/mbfs.jpg?w=500&#038;h=706" alt="My Best friend simi" width="500" height="706" /></p>
<p>(<a title="গল্পঃ My Best Friend Simi (পর্ব ৭)" href="http://aisajib.wordpress.com/2011/07/07/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ad/" target="_blank">পর্ব ৭</a>)</p>
<p>১৭<br />
দুপুরের পর আবার বৃষ্টি নেমেছে। দুপুরের দিকে বৃষ্টি যা-ই একটু থেমেছিল, সেই ক্ষতিটা পুষিয়ে নিতেই যেন আকাশ ভেঙ্গে ঢল নেমেছে। একটানা এতো লম্বা সময় এভাবে বৃষ্টি হতে খুব কমই দেখা যায়। সাইফ তার জানালা দিয়ে বৃষ্টির ফোঁটার মাটিতে পড়া দেখছে। পানি জমে আছে তার জানালার সামনে। সেই জমে থাকা পানির উপর অনবরত বৃষ্টির ধারা পড়ছে। সব মিলিয়ে যেন ছোট্ট একটা লেক তৈরি হয়েছে ওর জানালার সামনেই।</p>
<p>অন্য কোনো সময় হলে হয়তো দৃশ্যটা খুব উপভোগ করতে পারতো সাইফ। কিন্তু এখন আর সে কিছুই উপভোগ করে না। উপভোগ করতে হলেও অনুভূতি থাকতে হয়। আজ তার মধ্য থেকে অনুভূতিগুলো পালিয়ে গেছে। সে এখন চাইলেও কিছু অনুভব করতে পারে না। কেবল একটাই তার অনুভ’তি রয়েছে, তা হলো সিমির অভাব।</p>
<p>তুমুল বৃষ্টির শব্দে কখন থেকে সাইফের ফোন বাজছে সে খেয়ালও করেনি। যখন দেখলো ততক্ষণে দশবার মিসকল হয়ে গেছে। সিনথিয়া ফোন করেছিল। সাইফ আবার ফোন করবে ভাবছে এমন সময় সিনথিয়া আবার ফোন করলো। ফোন ধরলো সাইফ।</p>
<p><span id="more-506"></span></p>
<p>‘হ্যালো!’<br />
‘কী ব্যাপার সাইফ? তুমি কোথায় ছিলে? ফোন ধরছিলে না কেন?’ সিনথিয়া উদ্বিগ্ন কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো।<br />
‘আমি আসলে শুনতে পাইনি। বৃষ্টি হচ্ছিল তো খুব, টেরই পাইনি কখন থেকে ফোনটা বাজছে। সরি।’<br />
‘ওহ, ইট’স ওকে,’ সিনথিয়ার চেপে রাখা শ্বাস ফেলার শব্দ শুনতে পেলো সাইফ, ‘আর আমি ভাবছি কী না জানি কী হলো। তারপর বলো, কী খবর?’<br />
‘এই তো, আছি। বৃষ্টি দেখছি।’<br />
‘বৃষ্টিতে ভিজেছো?’<br />
‘নাহ, আজ ভিজতে ইচ্ছে করছে না। তাছাড়া আমি বৃষ্টি এড়িয়েই চলি।’ মিথ্যেটা সুন্দর করে বলে দিলো সাইফ।<br />
‘হুমম, আমি আজ ভিজেছি অনেকক্ষণ। ছাদে গিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টার মতো ভিজেছি। এতো জোরে বৃষ্টি হচ্ছে শেষে গায়ে যেন কাঁটা বিঁধছিল। তাই বাধ্য হয়ে চলে আসতে হয়েছে। নইলে আরো অনেকক্ষণ ভিজতাম।’<br />
‘হুম।’<br />
‘দুপুরে খেয়েছো?’<br />
সাইফ প্রশ্নটার জবাব দিলো না। উল্টো প্রশ্ন করলো, ‘আংকেল কিছু বলেননি?’<br />
‘কী ব্যাপারে?’<br />
‘এই যে তোমার সঙ্গে আমাকে দেখলো?’<br />
‘আরে ধুর! ওটা আব্বুর আর মনেও নেই। তুমি চিন্তা করো না। আব্বু এসব নিয়ে এতো ঘাঁটায় না।’<br />
‘হুম।’<br />
‘তুমি তো বললে না খেয়েছো কি না। আমি তো গল্প শুনবো।’ নাছোড়বান্দার মতো আবারও জিজ্ঞেস করলো সিনথিয়া।<br />
‘আমার খিদে লাগেনি। রেস্টুরেন্টে যে খেয়েছিলাম ওটাই এখনো পেটে রয়ে গেছে।’<br />
‘হুম। আমার অবশ্য খিদে লেগেছে আবার। খেয়ে নিয়েছি একটু আগে।’<br />
‘হুম।’</p>
<p>সিনথিয়া বুঝতে পারলো সাইফের মন খারাপ। এই সময় ওকে আবার সিমির কথা জিজ্ঞেস করে মন আরও খারাপ করাতে ইচ্ছে করলো না। তাই ও অন্য বিষয়ে কথা বলতে থাকলো। সাইফও মন খারাপ নিয়েই সিনথিয়ার সঙ্গে কথা বললো। কিন্তু ওর মন কিছুতেই এই কথাবার্তায় থাকছিলো না। ওর কেবলই মনে পড়ছিল সিমির কথা। ওরা একসঙ্গে থাকার সময়, অর্থাৎ ওদের সম্পর্ক থাকার সময় সিমিকে ও কিছুতেই বাসার বাইরে বৃষ্টিতে ভিজতে দিতো না। একদিন সে সিমিকে ভিজে কাঁপতে দেখেছে। সেটাই তার চোখে ভাসে। সে সাফ বলে দিয়েছিল, কোনো জায়গা থেকে বাসায় ফেরার সময় ভিজলে অসুবিধা নেই, কারণ বাসায় ফিরেই কাপড় বদলে ফেলতে পারবে। কিন্তু কোথাও যাওয়ার সময় কিছুতেই যেন বৃষ্টিতে না ভিজে। ভিজলে সাইফ অনেক রাগ করতো। আর সেই রাগটা বুঝতোও সিমি।</p>
<p>আজ সিমি কী করছে, কেমন আছে, সাইফ জানে না। সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার পরও ও চেষ্টা করেছিল সিমির খোঁজ-খবর অন্তত রাখতে। কিন্তু সিমি আগের মতো ওর সঙ্গে আর কিছুই শেয়ার করেনি। সাইফের একাকীত্বকেও সিমি কোনো পাত্তা দেয়নি। তাই বাধ্য হয়েই সাইফ কষ্টটা মেনে নিয়েছে। কাউকে ভালোবাসলেই তাকে পাওয়া যায় না। কিন্তু না পাওয়া গেলেও মন খুলে ভালোবাসা যায়। সাইফকে হয়তো বাকি সময়টা এভাবেই সিমিকে ভালোবাসতে হবে। তার সঙ্গী এখন কেবল সিমির স্মৃতি।</p>
<p>১৮<br />
সেদিন রাতে সিনথিয়া ফোন করলো। অসময়ে সিনথিয়ার ফোন দেখে সাইফ বেশ অবাক হলো। ফোন রিসিভ করে অবাক হয়ে সে বলল, ‘হ্যালো, সিনথি?’<br />
‘হ্যাঁ, সাইফ, ডিস্টার্ব করছি না তো?’<br />
‘না বলো, তুমি এই সময়ে?’<br />
‘কথা বলতে ইচ্ছে করছিল তাই ফোন করলাম। তোমার বাসায় সমস্যা হবে না তো?’<br />
‘আমার কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু তোমার সমস্যা হবে না? রাতে ফোনে কথা বলছো?’<br />
‘না আমার সমস্যা হবে না। আজ আমার বড় আপু বাসায় নেই, তার রুমটা দখল করেছি। তাই আজ কথা বলা নিরাপদ।’<br />
‘আপু কোথায় গেছে?’<br />
‘আপু ঢাকার বাইরে গেছে বেড়াতে। সঙ্গে তার কয়েকজন বান্ধবীও গেছে।’<br />
‘হুম। তারপর কী খবর?’<br />
‘এই তো। তুমি কী করছিলে?’<br />
‘পড়া রেডি করলাম। এখন পিসিতে বসতাম।’<br />
‘কাজ আছে নাকি? তাহলে আমি রাখবো?’<br />
‘না কোনো কাজ নেই। প্রতিদিন কম্পিউটারে বসা আমার অভ্যাস। সেটাই। জরুরি কিছু না।’<br />
‘হুম।’</p>
<p>এরপর সিনথিয়া আর সাইফ দু’জনই কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। দু’জনেই অপরজনের কথা বলার অপেক্ষা করছে, কিন্তু নিজে বুঝতে পারছে না কী বলা যায়। অবশেষে সিনথিয়াই নীরবতা ভাঙলো। ‘সিমির ব্যাপারে কি এখন বলবে?’<br />
সাইফ এবার জিজ্ঞেস করলো, ‘ওর ব্যাপারে শুনতে তোমার এতো আগ্রহ কেন বলতো?’<br />
সিনথিয়া যেন একটু থমকে গেল। কিছুটা তোতলাতে তোতলাতে বলল, ‘না মানে এমনি। তোমার কথা থেকে যতটুকু বুঝেছি, মনে হয়েছে তোমাদের খুব ভালো একটা সম্পর্ক ছিল। সেটা কীভাবে ভাঙলো, কেনই বা ভাঙলো, এটা জানার আগ্রহই একটু বেশি। আর কিছু না।’</p>
<p>‘তবে তোমার এ ব্যাপারে কথা বলতে ইচ্ছে না করলে না বললেও চলবে,’ তাড়াতাড়ি এটাও বলে নিল সিনথিয়া।</p>
<p>সাইফ বলল, ‘না ঠিক আছে। তোমার শুনতে ইচ্ছে হচ্ছে, আমার বলতে আপত্তি নেই।’</p>
<p>তারপর আবারো নীরবতা।</p>
<p>তবে এবার নীরবতা ভাঙলো সাইফই। ‘সিমির সঙ্গে ওর বয়ফ্রেন্ডের ব্রেকআপ-এর পর যথারীতি আমাদের ফ্রেন্ডশিপ থাকলো। আমরা একজন আরেকজনের সঙ্গে কথা বলতাম। সময় কাটাতাম। দেখা করতাম; যদিও সেটা একেবারেই মাঝে মাঝে। তো এভাবে আমরা একে অপরের আরো কাছে চলে আসলাম।’</p>
<p>‘একটা পর্যায়ে ওর সঙ্গে আমার কথা বলার আর কোনো বাঁধও রইলো না। আমরা দুনিয়ার যত বিষয় আছে সব নিয়ে কথা বলতাম। ওর সঙ্গে টিটকারি দিতাম। আর প্রচুর দুষ্টামি করতাম। এভাবে দুষ্টামি করতে করতেই আমাদের দিন পার হতো।’</p>
<p>‘কী রকম দুষ্টামি?’ সিনথিয়া জিজ্ঞেস করলো।<br />
সাইফ সেটার উত্তর না দিয়ে হাসলো। সিনথিয়া বুঝতে পারলো সাইফ বলতে চাচ্ছে না। ‘আচ্ছা ঠিক আছে তারপর বলো।’<br />
‘তারপর একদিন ও ভাবলো, আমরা দু’জন যেসব দুষ্টামি করতাম, এগুলো যদি সত্যি হতো, তাহলে ভালো হতো। একসময় ও আমাকে জানালো এটা। তখন আমার নিজেকে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয়নি। ও খুবই ভালো একটা মেয়ে। বিশেষ করে একটা সম্পর্কে ও যতোটা অনেস্ট থাকে, আমি নিজেই দেখেছি, এমন একটা মেয়েকে পাওয়া নিতান্তই ভাগ্যের ব্যাপার। আমি নিজের জন্য ওকে নিয়ে কখনোই ভাবিনি। কারণ, নিজেকে এতোটা লাকি ভাবতে পারিনি আমি। সেই ও-ই যখন নিজে থেকেই বলে সম্পর্কের কথা, তখন নিজের কানকে বিশ্বাস করাও কঠিন হয়ে যায়।’</p>
<p>‘এরপর আর কি। আমাদের সম্পর্ক তৈরি হয় খুবই নাটকীয়ভাবে। ও একদিন এক জায়গায় বেড়াতে যায়। সেখান থেকে ফেরার সময় রাতে মেসেজের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো আমাদের মাঝে খুব ইনটিমেটলি কথা হয়। প্রথম ‘ভালোবাসি’ কথাটা ওর মুখ থেকে শুনি।’</p>
<p>‘আমাদের সম্পর্ক এগিয়ে চলে। ওকে পেয়ে আমার মনে হয় অবিশ্বাস্য কিন্তু অতি আকাঙ্ক্ষিত কোনো কিছু পেয়ে গেছি। নিজের জীবনকে নিয়ে, নিজেকে নিয়ে এর আগে কোনোদিনই আমি এতোটা সুখী হতে পারিনি যতোটা ওকে পাওয়ার পর হয়েছিলাম। আমার জীবনের কষ্টের শেষ ছিল না। নানা কারণে, নানা সমস্যায় এতটুকু জীবন তখনো জর্জরিত ছিল। কিন্তু কেবল সিমির উপস্থিতি, সিমির ভালোবাসাই আমার হাসিখুশি থাকার প্রেরণা ছিল। হাজারটা কষ্টের মাঝে আমি সুখ খুঁজে নিয়েছি সিমির কথা ভেবে। যে কোনো কষ্ট, বিপদ উপেক্ষা করেছি কেবল ভবিষ্যতে আমি আর ও একসঙ্গে থাকবো ভেবে। আসলে সিনথি, আমার পক্ষে কোনোভাবেই বলা সম্ভব নয় ওকে পেয়ে আমি কতোটা সুখী হয়েছি, ওকে কী পরিমাণ ভালোবেসেছি, আর ওরও কতো ভালোবাসা আমি পেয়েছি।’</p>
<p>‘আমি বুঝতে পারছি সাইফ,’ সান্তনা দেয়ার জন্য বলল সিনথিয়া। কিন্তু সে জানে, প্রিয় কেউ যখন দূরে চলে যায়, সেই কষ্টে কোনো সান্তনাই কাজে লাগে না।</p>
<p>সাইফ বলতে থাকলো, ‘আমার সবচেয়ে ভালো লাগতো ওর খোঁজ-খবর রাখতে, ওর টেক কেয়ার করতে। ও মেয়েটা ছিল বেশ খামখেয়ালী। শরীর খারাপ হলে ডাক্তার ওষুধ দিলে কীভাবে সেই ওষুধ ফাঁকি দেবে সারাক্ষণ এই কুটনামি করতো। আর ভাত খেতো এক প্লেটের চারভাগের একভাগ। শুধু তাই না, রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় তিলের সমান পাথর বা ইটের টুকরোর সঙ্গে পা লেগে বারবারই পড়ে যেতে নিতো।’</p>
<p>সিনথিয়া হাসলো। তার কল্পনায় একটু একটু করে সিমি ভেসে উঠছে। সে বলল, ‘আর তুমি নিশ্চয়ই তাকে খুব বকতে?’</p>
<p>‘তা অবশ্য বকতাম। এক বেলা ওষুধ না খেলে আমি তিন বেলা কিছু খেতাম না। আর কোনো ভাবে দেখা হলে তো কথাই নেই। দোকান থেকে ওষুধ কিনে চেপে ধরে ওষুধ খাইয়ে দিতাম। আর রাস্তায় হাঁটার সময় পিচ্চি মেয়ের মতো ধরে রাখতাম। তারপরও খালি হোঁচট খেতো।’ সাইফ থামলো। তার সেই সুখময় পুরনো দিনগুলোর কথা খুব বেশি মনে পড়ছে।</p>
<p>সিনথিয়া অপেক্ষা করছে।</p>
<p>সাইফ আবার বলতে শুরু করলো, ‘আমার খুবই ভালো লাগতো ওর খেয়াল রাখতে। ওকে পিচ্চি বাবুর মতোই ট্রিট করতাম অনেকটা। একইসঙ্গে ওর মতেরও মূল্য দেয়ার চেষ্টা করতাম। আমার কিছু করতে ইচ্ছে না করলেও ওর খুশির জন্য চেষ্টা করতাম করতে। ওকে খুব বেশিই ভালোবাসতাম আমি। এতোটাই বেশি যে, ওর জন্য আমি সবই করতে পারতাম। মাঝে মাঝে না বুঝে ওকে কষ্টও দিয়ে ফেলতাম। কিন্তু তার জন্য পরে আমি নিজেই বেশি কষ্ট পেতাম।’</p>
<p>‘আর তারপর একদিনের ঘটনায় আমার এতো স্বপ্ন, এতো আশা ভালোবাসা নিয়ে তিলে তিলে গড়া স্বপ্নীল ভবিষ্যত ভেঙ্গে গুড়িয়ে গেল। ও চরমতম নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিয়ে আমাকে ছেড়ে দূরে চলে গেল। আর আসলো না। হয়তো আসবেও না। কিন্তু ওর এই নিষ্ঠুরতায় ছিন্নভিন্ন হয়েও যে ওকে ঘৃণা করতে পারি না। ওকে ভুলতে পারি না। ওর প্রতি রাগ জন্মাতে পারি না। আমি কী করবো সিনথি? আমার সব আশা এভাবেই ভেঙ্গে যাওয়ার দরকার ছিল?’</p>
<p>সিনথিয়া কী বলবে খুঁজে পেলো না। ওর এখন নিজেরই কষ্ট হচ্ছে। সাইফের মনটা মোটামুটি ভালোই ছিল। এখন এই রাতে ফোন করে সাইফের কষ্টটা জাগিয়ে তোলার জন্য নিজেরই অনুশোচনা হচ্ছে। তাই সিনথিয়া আজ রাতে আর তেমন কিছু জিজ্ঞেস করলো না। ঠিক করলো, পরদিন কলেজে গিয়ে জানবে। কী এমন ঘটনা এক জোড়া সুন্দর স্বপ্নকে ছিন্নভিন্ন করে দিল?</p>
<p>(<a href="http://aisajib.wordpress.com/2011/07/15/%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%83-my-best-friend-simi-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A7%AF/" target="_blank">পর্ব ৯</a>)</p>
<br />Filed under: <a href='http://aisajib.wordpress.com/category/story/'>Story</a>  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/aisajib.wordpress.com/506/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/aisajib.wordpress.com/506/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/aisajib.wordpress.com/506/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/aisajib.wordpress.com/506/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/aisajib.wordpress.com/506/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/aisajib.wordpress.com/506/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/aisajib.wordpress.com/506/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/aisajib.wordpress.com/506/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/aisajib.wordpress.com/506/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/aisajib.wordpress.com/506/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/aisajib.wordpress.com/506/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/aisajib.wordpress.com/506/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/aisajib.wordpress.com/506/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/aisajib.wordpress.com/506/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=aisajib.wordpress.com&amp;blog=3913370&amp;post=506&amp;subd=aisajib&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://aisajib.wordpress.com/2011/07/10/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ae/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>2</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/20133c756ec851e1d0dad22bd9dcfae8?s=96&#38;d=&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">Sajib</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://aisajib.files.wordpress.com/2011/06/mbfs.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">mbfs</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>গল্পঃ My Best Friend Simi (পর্ব ৭)</title>
		<link>http://aisajib.wordpress.com/2011/07/07/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ad/</link>
		<comments>http://aisajib.wordpress.com/2011/07/07/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ad/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 07 Jul 2011 15:29:33 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Sajib</dc:creator>
				<category><![CDATA[Story]]></category>
		<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[ধারাবাহিক গল্প]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://aisajib.wordpress.com/?p=500</guid>
		<description><![CDATA[(পর্ব ৬) ১৫ রেস্টুরেন্টে পৌঁছে দেখলো মাত্র খুলেছে রেস্টুরেন্টটা। এখনো ভেতরটা গোছগাছ করাও হয়নি। রেস্টুরেন্টটা চালাচ্ছে অল্পবয়সী এক ছেলে। সিনথিয়াকে দেখেই সে সিনথিয়ার খোঁজ খবর নিলো। কলেজ পালিয়ে এসেছে সেটা দেখেই বুঝেছে তাই এ নিয়ে আর কিছু জিজ্ঞেস করলো না। &#8230; <a href="http://aisajib.wordpress.com/2011/07/07/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ad/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=aisajib.wordpress.com&amp;blog=3913370&amp;post=500&amp;subd=aisajib&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><img class="aligncenter size-full wp-image-474" title="mbfs" src="http://aisajib.files.wordpress.com/2011/06/mbfs.jpg?w=500&#038;h=706" alt="My Best friend simi" width="500" height="706" /></p>
<p>(<a title="গল্পঃ My Best Friend Simi (পর্ব ৬)" href="http://aisajib.wordpress.com/2011/07/06/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ac/" target="_blank">পর্ব ৬</a>)</p>
<p>১৫<br />
রেস্টুরেন্টে পৌঁছে দেখলো মাত্র খুলেছে রেস্টুরেন্টটা। এখনো ভেতরটা গোছগাছ করাও হয়নি। রেস্টুরেন্টটা চালাচ্ছে অল্পবয়সী এক ছেলে। সিনথিয়াকে দেখেই সে সিনথিয়ার খোঁজ খবর নিলো। কলেজ পালিয়ে এসেছে সেটা দেখেই বুঝেছে তাই এ নিয়ে আর কিছু জিজ্ঞেস করলো না। ওদেরকে বসতে বলল। খাবার দিতে আরও কমপক্ষে এক ঘণ্টা লাগবে বলে জানালো। সিনথিয়াও জানিয়ে দিলো ওদের সময় দুপুর পর্যন্ত অফুরন্ত!</p>
<p>সিনথিয়া তার ব্যাগ পাশের চেয়ারে রেখে আরাম করে বসলো। বসেই সাইফকে তাগাদা দিতে শুরু করলো সিমির কথা শুরু করতে। সাইফের খানিকটা অবাকই লাগলো। অন্য কেউ হলে অবাক হতো না। ভালোবাসার সত্যি গল্প শোনার আগ্রহ অনেকেরই থাকে। কিন্তু সিনথিয়ার ক্ষেত্রে তো ব্যাপারটা ভিন্ন। তবুও সে বলতে শুরু করলো।</p>
<p>‘সিমি একদিন জানালো ও আর ওর বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে রিলেশন রাখবে না। ব্যাপারটা শুনে আমি খুব একটা অবাক হইনি। কারণ মাত্র ২ মাসে আমি ওকে বহুবার এমন একশ’ ভাগ সিরিয়াস ডিসিশন নিতে দেখেছি। প্রতিবারই আমার মনে হয়েছে এবার ও আর সুযোগ দেবে না। কারণ, প্রতিবারই ওর এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার পেছনে কারণ থাকে। সেবার জানলাম ওর বয়ফ্রেন্ড তার একটা ফ্রেন্ডকে দিয়ে সিমিকে কথা শুনিয়েছে। অর্থাৎ, তৃতীয়পক্ষের একটা মানুষকে হর-হামেশাই ওর বয়ফ্রেন্ড ওদের মাঝে ইন্টারফেয়ার করতে দিতো। কেবল তাই না, সে সিমিকে রীতিমতো বকাঝকাও করতো। এসব শুনে আমার অবাকই লাগতো, রাগও হতো। কিন্তু কখনো জোর দিয়ে বলতাম না যে রিলেশন ব্রেক আপ করে ফেল। কারণ, আমিও একটা ছেলে। স্বাভাবিকভাবেই একটা মেয়েকে এই বিষয়ে জোর করলে ব্যাপারটা অন্য রূপ নেয়।’</p>
<p>সিনথিয়া মাথা দোলালো।</p>
<p>‘প্রায় দশ-বারোবার সুযোগ দেয়ার পর সেবারই ছিল সিমির শেষ সিদ্ধান্ত। ও ঠিক করলো, আর যত যাই হোক, ও কখনোই ওর বয়ফ্রেন্ডের কাছে ফিরে যাবে না। আমি প্রথম দিকে কিছু বলিনি। পরে অবশ্য কয়েকবার ওকে বলেছি ওর বয়ফ্রেন্ডের বিষয়টা ভেবে দেখতে। কারণ, ব্যক্তিগতভাবে আমি যে কোনো রিলেশন ভেঙ্গে যাওয়া দেখতে পছন্দ করি না। এমনকি চিনি না জানি না এমন মানুষের ক্ষেত্রেও সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার কথা শুনলে আমার মন খারাপ হয়ে যায়। কারণ, একটা সম্পর্কে শুধু দু’টো মানুষ নয়, তাদের হাজার হাজার স্বপ্ন লুকিয়ে থাকে। এই একটা জিনিস যে কোনো কঠিন মনের মানুষকেও শিশুর মতো অনুভূতি দিতে পারে। তাই আমি কয়েকবার ওকে বলেছিলাম আর একবার হয়তো ভেবে দেখতে পারে। কিন্তু ও তার সিদ্ধান্তে অটল ছিল। আমারও ওর এতো কষ্ট পাওয়া দেখতে ভালো লাগতো না। তাই আমিও তেমন কিছু বললাম না। ওর জীবন, সিদ্ধান্তও ওর।’</p>
<p><span id="more-500"></span></p>
<p>‘কিন্তু পুরোপুরি ব্রেকআপের পর মানসিকভাবে সিমিও অনেক ভেঙ্গে পড়েছিল। ওর মধ্যে এই ধারণাটা পাকাপোক্তভাবে জায়গা করে নিয়েছিল যে ওর জীবনটা শেষ হয়ে গেছে।’<br />
সিনথিয়া অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, ‘আশ্চর্য! একটা রিলেশন ব্রেকআপ হলে জীবন শেষ হওয়ার কী আছে?’<br />
সাইফ কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে তারপর বলল, ‘সিমির সাথে ওর ফিজিক্যাল রিলেশন ছিল।’<br />
‘ওহ!’<br />
‘আর এজন্যই ও খুব ভেঙ্গে পড়েছিল।’<br />
‘বুঝতে পারছি।’<br />
‘তখন আমি ওকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলাম যে আজকের যুগে এটা এমন বড় কোনো ব্যাপার না। এমনটা হতেই পারে যেহেতু ওর সঙ্গে একটা সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ও তবু মানতে চাইতো না। ও ভাবতো ওর জীবনটা ওখানেই শেষ। আমি ওকে সবসময়ই বলে এসেছি যে দেখ, কেউ যদি তোকে ভবিষ্যতে সত্যি সত্যি ভালোবাসে, সে তোর অতীত নিয়ে ঘাঁটাবে না। ভালোবাসা মানুষের অতীত দেখে না, কেবল ভবিষ্যত নিয়ে স্বপ্ন বুনে। কিন্তু সিমির মনে কোনো ধারণা গেঁথে গেলে সেটা ছাড়ানো প্রায় অসম্ভব। তবুও আমি ওকে সঙ্গ দিলাম। ওকে ইন্সপায়ার করে চললাম।’</p>
<p>সিনথিয়া মাথা দোলালো, ‘তারপর?’<br />
‘এর মধ্যে আরেকটা ঘটনা হয়েছিল। কিছু সমস্যার কারণে আমি বেশ সিরিয়াস একটা ডিসিশন নিয়েছিলাম।’<br />
‘কী ডিসিশন?’<br />
সাইফ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো। তার দৃষ্টি টেবিলের দিকে। ধীরে ধীরে সে বলল, ‘বলতে পারো আত্মহত্যা করার একটা চেষ্টা।’<br />
সিনথিয়া অবাক হয়ে গেল। বলল, ‘বলো কী? কেন? কী হয়েছিল?’<br />
‘নতুন কিছু না। আমি নিজেও যথেস্ট স্ট্রেসের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি। ব্যাপারটা ছিল পারিবারিক। কাকতালীয়ভাবে আমাদের দু’জনেরই পারিবারিক সমস্যা থাকলেও আমাদের সমস্যাটা বেশি ছিল। কারণ, সব সমস্যার উপর কাটা ঘায়ে নুনের ছিটার মতো আমাদের ছিল প্রবল আর্থিক টানাপোড়েন। সব মিলিয়ে খুবই খারাপ অবস্থার মধ্যে আমি দিন কাটিয়েছি যেটা বাইরের কাউকে এমন কি তোমাকেও বলে বোঝানো সম্ভব নয়। কিন্তু তবুও আমি ভালো থাকতাম। এর কারণ এই নয় যে সিমি আমাকে ইন্সপায়ার করতো। হ্যাঁ, আমি স্বীকার করবো যে সিমিও আমাকে অনেক উৎসাহ যুগিয়েছে। কিন্তু ঠিক ঐ সময়টায় আমিই সিমিকে বেশি উৎসাহ যুগিয়েছি, মন ভালো করার চেষ্টা করেছি। কারণ, ও একটা রিলেশনশিপের সমস্যায় ছিল। আর আমার মতে একটা রিলেশনশিপের সমস্যা অন্য যে কোনো সমস্যার চেয়ে প্রবলভাবে মনের উপর প্রভাব ফেলে।’</p>
<p>সিনথিয়া বলল, ‘হুম, তা সত্যি।’<br />
‘তবে একটা কথা কি জানো, ওকে এই ইন্সপায়ার করেই আমি অনেক আনন্দ পেতাম। ভেবে দেখো, একটা মেয়ে, যে আমার খুব ভালো ফ্রেন্ড, তাকে উৎসাহ যোগানোর মতো আমি ছাড়া কেউ নেই, যে আমার উপর ভরসা করে, একমাত্র আমিই যার মন ভালো করতে পারি, যে আমার সঙ্গে সব শেয়ার করতে পারে, এই অনুভূতির সঙ্গে পৃথিবীর আর কোনোকিছুর তুলনা হয় না।’<br />
‘হুম।’<br />
‘কিন্তু তবুও একবার আমি নিতান্তই বেপরোয়া হয়ে গেছিলাম। বেশ কিছু জিনিসপত্র জোগাড়ও করে ফেলেছিলাম সুইসাইডের জন্য। সেগুলো আজও সিমিকেও জানাইনি। আসলে সাহস পাইনি। আমরা একজন আরেকজনকে শাসনও করতাম সেভাবেই। তাই বলতে পারো ভয়েই সিমিকে আজও বলতে পারিনি সেদিন আমি কী জোগাড় করেছিলাম,’ সাইফ হাসলো।<br />
‘আমাকে বলা যাবে?’ উৎসাহের সঙ্গে জিজ্ঞেস করলো সিনথিয়া। কিন্তু তাকে হতাশ করে দিয়ে মাথা নাড়লো সাইফ।</p>
<p>‘সময়টা ছিল কুরবানীর ঈদের সময়। ও বাসায় যেতে বলেছিল। আমি গেলাম। তখনও সিমির বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ওর ব্রেকআপ হয়নি। আমি সেদিন সন্ধ্যায় ওকে সব খুলে বলেছিলাম। ওকে খুব শান্তভাবে বলেছিলাম আমার সিদ্ধান্তের কথা। কিন্তু আমার কথা শেষ করে ওর দিকে তাকাতেই বুকটা যেন ধ্বক করে উঠেছিল। ও চুল দিয়ে যতোই ঢাকার চেষ্টা করুক ওর চোখের পানি আমার নজর এড়ায়নি। সত্যি বলছি, আমি রীতিমতো অবাক হয়েছিলাম। সিমি কাঁদছে কেন?’</p>
<p>‘সিমি সেদিন আমাকে কিছু কথা বলেছিল। কথাগুলো আমিই ওকে বলেছিলাম, সে আমাকে কথাগুলো মনে করিয়ে দিচ্ছিল।’<br />
সিনথিয়া জিজ্ঞেস করলো, ‘কী কথা?’<br />
সাইফ সিনথিয়ার উৎসাহ দেখে বলতে শুরু করল, ‘তেমন কিছু না। আমি মজা করে বলতাম ওদের বিয়ের পর ওর যখন ছেলেমেয়ে হবে তখন আমি খুব রসিয়ে রসিয়ে ওদের দু’জনের প্রেম কাহিনী ওর বাচ্চাদের শোনাবো। আর বলতাম প্রায়ই আমি গিয়ে ওর বাচ্চা নিয়ে চলে আসবো। শুধু বাবুর খিদে পেলে বাবুকে নিয়ে খাইয়ে আবার নিয়ে আসবো।’</p>
<p>সিনথিয়ার মুখটা হাসি হাসি হয়ে গেল। সে কথাগুলো শুনে ও কল্পনা করে খুব মজা পাচ্ছে। যেন অত্যন্ত আন্তরিক দু’জন বন্ধুর গল্প শুনছে।</p>
<p>সাইফ বলল, ‘সিমি সেদিন বলেছিল যে, ও আমার এই সব কথা কল্পনা করেছে। ও মনে মনে ভেবেছে যে একদিন ওদের বিয়ে হবে আর আমি ওদের বাসায় গিয়ে এইসব শয়তানী করবো। আজ আমার এই সিদ্ধান্ত শুনে সে খুবই ভেঙ্গে পড়েছে।’</p>
<p>‘আমি সিমিকে এর আগে একবার কাঁদতে শুনেছি। বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ঝগড়া করে আমার সাথে কাঁদছিল। আমি কোনোরকমে শান্ত করেছিলাম। কিন্তু আজ জীবনের প্রথম ওর মুখে কান্না দেখতে পেলাম, যেই মুখে আমি কেবল হাসি দেখতেই পছন্দ করি। তারচেয়েও বড় কথা, এই কান্না ছিল আমার জন্য। আমার বিশ্বাস করতেও কষ্ট হচ্ছিল যে আমি মরে গেলে কেউ আমাকে “কাঁদার মতো” মিস করবে।’</p>
<p>সাইফ চুপ করলো। রেস্টুরেন্টের জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছে বাইরে তখন বৃষ্টি হচ্ছে। টুপটাপ বৃষ্টি নয়, একেবারে প্রবল বর্ষণ। সিনথিয়াও অধীর আগ্রহে সাইফের দিকে তাকিয়ে আছে ওর কথা শোনার জন্য।</p>
<p>সাইফ একটু পর বলতে শুরু করলো, ‘বিশ্বাস করবে না সিনথি, আমি কতোটা কষ্ট বুকে নিয়ে সেদিনের সব পরিকল্পনা বাতিল করেছি শুধু সিমির জন্য। ও আমার জাস্ট একটা ফ্রেন্ড ছিল। কিন্তু এতোই মূল্যবান যার জন্য আমি একশো’টা কষ্ট মাথায় নিয়ে বেঁচে থাকতে পারি। বিশ্বাস করো, ঐদিন যদি আমি ওর বাসায় না যেতাম বা ও আমাকে না ঠেকাতো, আজ আমি এখানে থাকতাম না। আজ আমি হতাম মৃত পচা-গলা এক লাশ।’</p>
<p>সিনথিয়া মাথা নিচু করে বসে রইলো। ওর এই ধরনের কথা শুনতে গা শিরশির করে।</p>
<p>‘যাই হোক, ওর জন্যই আমি বেঁচে রইলাম। পরে যখন ওর ব্রেকআপ হয়ে গেল, তখন আমি ওকে দিনরাত কেবল বুঝাতাম আর মন ভালো রাখার জন্য লড়াই করতাম। আমার এই দায়িত্বটা খুবই ভালো লাগতো। আরো বেশি ভালো লাগতে কারণ আমি ওকে বুঝালে, ওর মন ভালো করার চেষ্টা করলে ও সেটাকে খুব অ্যাপ্রেশিয়েট করতো। খুব খুশি হতো। আমাদের সেই দিনগুলো অনেক সুন্দর ছিল।’</p>
<p>সাইফের স্বপ্নীল চোখগুলো ছলছল করে উঠতে দেখে সিনথিয়া চোখ ফিরিয়ে নিলো। ও কেন যেন সাইফকে কাঁদতে দেখলে নিজেও ঠিক থাকতে পারে না।</p>
<p>রেস্টুরেন্টে বসে আর তেমন কথা হলো না। দুপুর হয়ে আসছিল তাই ওরা রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে কলেজের পথ ধরলো।</p>
<p>১৬<br />
কলেজের সামনে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই ছুটি হলো। ওদের ক্লাসের কয়েকটা ছেলেমেয়ে ওদের একসঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে দূর থেকেই হাসলো। কলেজে একটা কানাঘুষা চলছিল যে সাইফ আর সিনথিয়ার মাঝে রিলেশন আছে বা হবে। আজ বুঝি সেটা পূর্ণতা পেল।</p>
<p>এমন সময় হঠাৎই যেন সামনে মধ্যবয়সী একটা লোক উদয় হলো। সাইফ পরিস্কার দেখলো হঠাৎ লোকটাকে দেখে সিনথিয়া একটু হতচকিয়ে উঠল। কিন্তু সামলে নিয়ে বলে উঠল, ‘আব্বু তুমি এখানে? তোমার না অফিসে যাবার কথা ছিল?’<br />
লোকটা হেসে জবাব দিল, ‘আজ যাইনি। ভাবলাম তোকে নিয়ে যাই এসে।’<br />
সাইফ আর সিনথিয়া একইসঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিল। তাই সিনথিয়ার এখন উচিৎ সাইফকে তার বাবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া। নইলে ব্যাপারটা খারাপ দেখাবে। এই ভেবে সে তার বাবাকে বলল, ‘আব্বু এটা হচ্ছে সাইফ। আমার ভালো ফ্রেন্ড। আমরা একই ক্লাসে পড়ি।’</p>
<p>সাইফ সিনথিয়ার বাবাকে সালাম দিলো। লোকটা মাথা নেড়ে হ্যান্ডশেক করলো সাইফের সঙ্গে। সাধারণত মেয়েরা বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ধরা পড়লে ফ্রেন্ড হিসেবেই পরিচয় দিয়ে থাকে। আর তখন বাবা বা মা সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকায়। সাইফ সিনথিয়ার বাবার চোখেও সেই সন্দেহের দৃষ্টি দেখতে পেল এক মুহুর্তের জন্য। কিন্তু পরক্ষণেই তিনি হেসে সাইফের সঙ্গে কথা বললেন।</p>
<p>দু-চারটা কথা বলার পর সিনথিয়ার বাবা সিনথিয়াকে বললেন, ‘ঠিক আছে তুই দাঁড়া আমি পার্কিং লট থেকে গাড়ি বের করে আনছি।’<br />
‘ওকে আব্বু।’</p>
<p>তিনি বলে যেতেই সিনথিয়া বলল, ‘আমার আব্বুকে কেমন দেখলে? তিনি কিন্তু কিচ্ছু মনে করেননি আমি একটা ছেলের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছি বলে।’<br />
সাইফ বলল, ‘আমি কিন্তু তার চোখে কিছুক্ষণের জন্য সন্দেহটা টের পেয়েছি।’<br />
সিনথিয়া হাসলো, ‘ওটা কারণ আছে। তুমি সালাম দিয়ে ভালো করেছ। আমি বেঁচে গেছি। সালাম না দিলেই বরং আমি বিপদে পড়তাম।’<br />
সাইফ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, ‘কেন? তোমার আব্বুর সামনে এসে কেউ তার উপর শান্তি বর্ষণের দোয়া না করলে তিনি রাগ করেন বুঝি?’<br />
সিনথিয়া হা হা করে হেসে বলল, ‘আরে না! আমি স্কুলে থাকতে একবার আমার একটা ফ্রেন্ড মানে ক্লাসমেটের সঙ্গে আব্বুর দেখা হয়েছিল। ও ছিল একটু মানে ওভারস্মার্ট টাইপের। কিংবা বলতে পারো ইয়ো ইয়ো টাইপ ছেলে। তো আমি আব্বুর সঙ্গে ওর পরিচয় করিয়ে দেয়ার পর ও কী বলেছিল জানো?’<br />
‘কী?’<br />
সিনথিয়া আবার হাসতে শুরু করলো। কিছুক্ষণ হেসে তারপর বলল, ‘আব্বুকে ও সালাম তো দিলোই না, বরং সে ভাব নিয়ে বলল, ইয়ো ম্যান, হোয়াট’স আপ?’ সিনথিয়া আবারও হাসতে লাগলো। ‌<br />
সাইফও এই কথা শুনে আর হাসি চাপতে পারলো না। সিনথিয়ার সঙ্গে ও হাসতে শুরু করলো। কিন্তু ও হাসতে শুরু করতেই সিনথিয়া ওর দিকে তাকিয়ে রইলো।</p>
<p>সাইফকে এভাবে প্রাণখুলে হাসতে ও আগে কোনোদিন দেখেনি।</p>
<p>(<a title="গল্পঃ My Best Friend Simi (পর্ব ৮)" href="http://aisajib.wordpress.com/2011/07/10/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ae/" target="_blank">পর্ব ৮</a>)</p>
<br />Filed under: <a href='http://aisajib.wordpress.com/category/story/'>Story</a>  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/aisajib.wordpress.com/500/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/aisajib.wordpress.com/500/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/aisajib.wordpress.com/500/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/aisajib.wordpress.com/500/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/aisajib.wordpress.com/500/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/aisajib.wordpress.com/500/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/aisajib.wordpress.com/500/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/aisajib.wordpress.com/500/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/aisajib.wordpress.com/500/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/aisajib.wordpress.com/500/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/aisajib.wordpress.com/500/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/aisajib.wordpress.com/500/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/aisajib.wordpress.com/500/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/aisajib.wordpress.com/500/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=aisajib.wordpress.com&amp;blog=3913370&amp;post=500&amp;subd=aisajib&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://aisajib.wordpress.com/2011/07/07/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-my-best-friend-simi-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ad/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>3</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/20133c756ec851e1d0dad22bd9dcfae8?s=96&#38;d=&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">Sajib</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://aisajib.files.wordpress.com/2011/06/mbfs.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">mbfs</media:title>
		</media:content>
	</item>
	</channel>
</rss>
