আমিনুল ইসলাম সজীবের বাংলা ব্লগ

Entries from মার্চ 2009

একটি গুলি..একজন পুলিশকে বাঁচানোর চেষ্টা..এবং তারপর..মৃত্যু!

মার্চ 6, 2009 · Leave a Comment

চারিদিকে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ। মানুষের দিগ্বিদিক ছোটাছুটি। এরই মাঝে ছুটে এসে একুশ বছরের এক ছাত্রের হাঁপাতে থাকা। হঠাৎই পাশে হাতে গুলি খেয়ে পুলিশের একজন কর্মকর্তা মাটিতে লুটিয়ে পড়া। পুলিশের লোকটিকে বাঁচাতে সেই ছাত্রের দৌড়ে যাওয়া। সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি গুলির শব্দ। তারপর পুলিশকে বাঁচাতে যাওয়া সেই ছাত্রেরও মাটিতে লুটিয়ে পড়া। বার দুয়েক “আরাফাত আরাফাত” নাম উচ্চারণ করা। এবং তারপর…মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া।

না, যেকোন যুদ্ধের সিনেমার চেয়ে ভয়াবহ হলেও ঘটনাটি একটি বাস্তব সত্য। গত বুধবার বিডিআরের তথাকথিত বিদ্রোহে অসংখ্য সেনা কর্মকর্তার পাশাপাশি নিহত হয় তিনজন সিভিলিয়ান। তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন পিপলস ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের বিবিএ’র ছাত্র খন্দকার তারেক আজিজ (ডাকনাম সজীব)। একুশ বছর বয়সী এই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর সচিত্র প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে দেশের প্রায় সবক’টি স্যাটেলাইট চ্যানেলে। কাকতালীয়ভাবে তারেক আজিজ সজীবের বড় বোন আমার বড় বোনের খুব কাছের বান্ধবী। তাই মর্মান্তিক মৃত্যুর দুঃসংবাদটা আমাদেরকেই প্রথম পেতে হয়েছিল।

তারেক আজিজ (সজীব) মা-বাবার দ্বিতীয় সন্তান। তার বড় বোন পায়েলের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট ভাই শুভ। বয়স আট কি নয় বছর। ঢাকার টোলারবাগে একটি ফ্ল্যাটে সপরিবারে থাকতো সজীব। খুব উচ্ছল, প্রাণবন্ত একটি ছেলে ছিলো সে। প্রচুর কথা বলতো। খুব হাসাতে পারতো সবাইকে। এছাড়াও খুব মিশুক প্রকৃতির ছিলো। সবাইকে খুব সহজেই আপন করে নেয়ার ক্ষমতা ছিলো ওর। আমি অবশ্য সজীব ভাইয়াকে দেখিনি। আমি শুধু পায়েল আপু আর শুভকেই চিনতাম। দুঃসংবাদটি শোনার পর দেরি না করে আমি, আমার বোন আর দুলাভাই রওনা হলাম সজীব ভাইয়াদের বাসায়। রাত প্রায় এগারোটার দিকে পৌঁছলাম টোলারবাগস্থ ফ্ল্যাটে। সেখানে ছিল এক করুণ পরিস্থিতি। কেউ কল্পনাও করতে পারেনি গতকালের প্রাণচঞ্চল যুবক আজ লাশ হয়ে পড়ে থাকবে ঢাকা মেডিকেলের মর্গে। অথচ কল্পনাকেও হার মানিয়ে ঠিকই নিষ্ঠুর বাস্তবতা সজীবকে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের গুলিতে নিহত করে মা-বাবার সান্নিধ্য থেকে অনেক দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

সজীব ভাইয়ার মা বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন। ছেলের রক্তাক্ত চেহারা টেলিভিশনের পর্দায় দেখে বারবার চিৎকার করে উঠছিলেন। বিডিআরের একটি গুলি তারেক আজিজ সজীবের মাথার একপাশে লেগে মাথা ভেদ করে অন্যপাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ফলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। তার মৃতদেহ কয়েকজনে মিলে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য বারবার প্রদর্শিত হয় চ্যানেল আইসহ বেশকিছু চ্যানেলে, যা দেখে বারবার কেঁদে উঠছিলেন সজীব ভাইয়ার মা। অন্যদিকে সজীবের বাবা অনেক শক্ত। নিজেকে সামলাতে পেরেছিলেন তিনি। কারণ তিনি জানতেন, পরদিন (বৃহস্পতিবার) তাকে অনেক কাজ করতে হবে। ঢাকা মেডিকেলের মর্গ থেকে পোস্ট মর্টেম করানোর পর লাশ আনতে হবে। তারপর আবার তাকে তাদের দেশের বাড়ি নিয়ে যেতে হবে। ভেঙে পড়লে চলবে না। তবে তার চোখও সময় সময় ভেজা দেখা যাচ্ছিলো। টেলিভিশনের পর্দায় ছোট ভাইয়ের ছবি দেখে বড় বোন পায়েল আপুও চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলো না। বড় আদরের ভাই ছিলো ওর।
আর ছোট ভাই শুভ। ওর কান্না থামানো মুশকিল হয়ে পড়েছিল। সজীব ভাইয়ের রক্তাক্ত মৃতদেহ টিভিতে দেখার পর তার সে কি প্রশ্ন! “বিডিআররা আমার ভাইকেই কেন মারলো? বিডিআররা আমার ভাইয়ার কাছে টাকা চাইতো, তাহলেই তো টাকা দিয়ে দিতো। কী দোষ করেছিলো আমার ভাইয়া? গুলি মাথায়ই লাগলো কেন? পায়ে বা হাতেও তো লাগতে পারতো? বিডিআর গুলি কেন করলো? আমি বিডিআরকে ছাড়বো না!” এরকম শত শত জবাব না জানা প্রশ্ন করে যাচ্ছিল শুভ একনাগাড়ে। এভাবে একসময় জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়লো শুভ।
ঘরের অন্যান্য সদস্যদেরও একই অবস্থা। কেউ কথা বলছিলো না, কেউ পাথরের মতো চুপচাপ বসেছিলো। কেউ বা আবার স্মৃতিচারণ করছিলো সজীবের বেঁচে থাকার সময়কার স্মৃতিময় কথা। সজীবের খুব কাছের বন্ধু আরাফাত, যার নাম গুলি খাওয়ার পরপর মুখে এনেছিল সজীব। সে বললো, দুপুর আড়াইটার দিকে অচেনা এক নাম্বার থেকে ফোন রিসিভ করে সে। অপরিচিত একজন লোক জানায়, পুলিশের লোককে বাঁচাতে গিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তারেক আজিজ। প্রথমে আমি বিশ্বাস করতে পারিনি তিনি সত্যি কথা বলছেন। পরে অবশ্য ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করে পোস্ট মর্টেমের জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠিয়ে দেয়।

রাতে থমথমে এক পরিস্থিতি বিরাজ করছিল সজীবের ঘরে। কারো চোখে ঘুম নেই। কেউ বিশ্বাস করতে পারছিলো না সজীব আর নেই। আর কোনোদিন কথা বলে সারা ঘর মাথায় তুলবে না সজীব। সজীবের বাবা জানায়, কিছুদিন আগেও নাকি সজীব বলছিলো, “আমাকে ঘরেই সবাই শুধু অভদ্র অভদ্র বলে ডাকে। বাইরে সবাই আমাকে ভালো জানে। দেখে নিয়ো, আমি এমন কোন ভালো কাজ করবো, যাতে সব টিভি চ্যানেলে আমাকে ফলাও করে দেখানো হয়।” তখন তো আর সে ভাবতেও পারেনি, টিভি চ্যানেলে তাকে দেখানো হবে ঠিকই, তবে জীবিত সজীবকে নয়, নিহত ও রক্তাক্ত সজীবের লাশকে।
রাতে জোরাজুরি করে শুতে যেতে বলল বাসার সবাই। সজীব ভাইয়ার খাটেই আমি শুয়েছিলাম। পাশে ছিলো শুভ ও তার বাবা। উল্লেখ্য, আমার ডাকনামও সজীব। তখন আঙ্কেল বলে উঠলেন, কাল এই বিছানায় শুয়েছিল সজীব। আজও এই বিছানায় সজীব শুয়ে আছে। কিন্তু আমার সজীব আর নেই!

রাত তিনটায় বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন সজীব ভাইয়ার বড় বোন পায়েল আপুও বারান্দায় গেলো। বললো, গতকালও এই সময় সজীব পাশের ঘরে ঘোরাঘুরি করছিল। আমার আগে ও কোনদিন শুয়ে পড়তো না। অথচ আজ ও আমার আগেই শুয়ে আছে। মর্গে।

পায়েল আপুকে সান্তুনা দেবার ভাষা আমার জানা ছিলো না।

[এতো এতো উচ্চপদস্থ সেনাকর্মকর্তার মৃত্যুর আড়ালে হারিয়ে গেছে তিনজন সাধারণ মানুষের করুণ মৃত্যুর কথা। আমরা যদি স্বাভাবিকভাবে বিচার করি, তাহলে দেখবো, উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তার আগে তাদের প্রত্যেকেরই একটা পরিচয় আছে। সেটা হলো এই যে, তারা মানুষ। একইভাবে নিরাপরাধ তিনজন বেসামরিক ব্যক্তিও মানুষই ছিলেন। সাধারণ রিক্সাওয়ালা বা সজীবের মতো তরুণদের বেঁচে থাকার অধিকার সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। কিন্তু তাদের কথা বলার কেউ নেই। মূলত এজন্যই এই পোস্টটি লিখি আমি।]

উল্লেখ্য, পোস্টটি প্রথমে সা.ইন ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল

বিভাগ: Memorable · Miscellaneous · Talk of the Time
Tagged: , , , , ,

The Mistake [প্রথম পর্ব]

মার্চ 6, 2009 · Leave a Comment

[ক্রাইম, সাইন্স ফিকশন এবং রোমান্সের সমন্বয়ে রচিত ধারাবাহিক গল্প]
ডিসক্লেইমারঃ এই গল্পে ব্যবহৃত সমস্ত স্থান, চরিত্র ও কাহিনী কাল্পনিক মস্তিষ্কের অবদানমাত্র। কারো চরিত্র কিংবা কোন ঘটনার সাথে মিলে গেলে তা কাকতালীয় ঘটনামাত্র। এর জন্য লেখক দায়ী নন।

প্রথম পর্ব

ট্রীনেট গ্রামের সবচাইতে বড় হাইওয়ে, ওয়ে সিক্স জিরো ফাইভ। ফোর গিয়ারে ছুটছে সালমান খানের গাড়িটা। এই রাস্তার একমাত্র বাসষ্ট্যান্ড বি-সিক্সে এসে পৌঁছলো সে। ব্রেক করে দাঁড়িয়ে গেল তার গাড়ি। গাড়ি থেকে নেমে এসে পাশের একটি সিগারেটের দোকানে ঢুকে বললো, “বেনসন অ্যান্ড হেজেস।” এটি বাসের একমাত্র দোকান কাম রেঁস্তোরা। সালমান ভিতরে ঢুকে খাবারের অর্ডার দিলো। খেয়েদেয়ে বিশ্রাম নিতে লাগলো সে যথারীতি টেবিলে বসেই। এই ফাঁকে আরেকটা সিগারেট ধরিয়ে নিতে ভুললো না।
রেঁস্তোরাটা ছোটখাট। বাসষ্ট্যান্ডের ছাউনির নিচে দাঁড়ানো অপেক্ষমান যাত্রীদেরকে ভিতর থেকেই দেখা যাচ্ছে। এখন সময় সকাল আটটা একান্ন মিনিট। সকল যাত্রী সকাল নয়টার বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। ট্রীনেট এক্সপ্রেস নামক বিশাল এক বাস সার্ভিস। বি-সিক্স হচ্ছে ওটার ছয় নম্বর স্ট্যান্ডিং ষ্টেশন। মোট বারোটা ষ্টেশন পার হয়ে তারপর ওটা শহরের দিকে যায়। এই বাস সার্ভিসের প্রথম বাসটি রাস্তায় নামে সকাল সাতটায়। বারোটা ষ্টেশন পার করে গ্রাম ছাড়তে ছাড়তে এগারোটা বেজে যায়। তারপর ট্রীনেটের সবচাইতে কাছের শহর পেকিনোতে পৌঁছে দুই ঘন্টা পর।
সালমান খান। ট্রীনেটের বাসিন্দা। ভার্সিটি পাশ বেকার। হি থিঙ্কস হি ডাজন’ট নিড টু ডু এনিথিং। বড়লোক বাবা। এমনিতেই জীবন চলে যাবে। আজ শুক্রবার। সালমানের ট্যুর ডে। প্রতি শুক্রবার সালমান পুরো ট্রীনেট গ্রাম এলাকা ঘুরে বেড়ায়। তারই ধারাবাহিকতায় আজও সে বেরিয়েছে।

আঊহ্! চিৎকার করে উঠলো সালমান। আনমনা হয়ে বাস কাউন্টারে দাঁড়িয়ে থাকা এক সুন্দরী মেয়ের দিকে তাকিয়ে ছিল সে। আর এদিকে হাতে ধরে রাখা সিগারেটের আগুন এসে তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুলের মাঝে এসে লেগে গেছে। কুদৃষ্টির ফল!
ওয়েটার ছুটে এলো। “কি হয়েছে স্যার?” জিজ্ঞেস করলো ওয়েটার। খেঁকিয়ে উঠলো সালমান, “কি আবার হবে! তোমাদের সিগারেটগুলো সব নকল। তাড়াতাড়ি পুড়ে যায়!” অর্থহীন কথা। তবে ওয়েটার কিছু না বলে আঙ্গুলের দিকে লক্ষ্য করে স্যাভলন অ্যান্টিস্যাপটিক ক্রিম নিয়ে এলো।
পোড়া স্থানে মলম লাগিয়ে উঠে যাবার সময় অসাবধানতাবশতঃ সালমানের চশমার গ্লাসে খানিকটা মলম লেগে গেল। আর যায় কোথায়, এমনিতেই সালমানের মেজাজ খারাপ ছিল। এই ঘটনায় মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে উঠলো। সে ওয়েটারের গালে ঠাস করে একটা চড় মেরে বসলো। আর মুখে বকাবকি করতে লাগলো।
পাঁচ মিনিট পর রেঁস্তোরা থেকে বের হয়ে এলো সালমান। এমনিতে সে এতো বদমেজাজী না। তবে আজকের ব্যাপারটা ভিন্ন। আজ একই ঘটনা তিনবার ঘটেছে। সিগারেটের আগুন হাতে লেগে যাওয়া। যা আর কখনোই হয়নি। এই দুর্ঘটনার কারণও একই।
তিন নম্বর ষ্টেশনের হোটেলে বসে এক সুন্দরী মেয়ে তাঁর দৃষ্টি কাড়ে। সিগারেট হাতে আনমনা হয়ে তাকিয়ে থাকায় ওর হাতে আগুন লেগে যায়। চার নম্বর ষ্টেশন ও পাঁচ নম্বর ষ্টেশনে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। এতে সালমান হতবাক।
বাস আসলো। সালমান রেঁস্তোরা থেকে বের হয়ে সোজা তার গাড়ির দিকে রওনা হলো। এমন সময় তাঁর চোখে পড়লো সেই রহস্যময় মেয়েটি। “মেয়েরা নাকি ছেলেদের মনে আগুন লাগায়। আর এই একজন লাগিয়েছে হাতে। তাও তিন তিনবার। এক্সটারনাল অ্যাকশন!” তিক্ত হাসি হাসলো সালমান।

বাস চলে গেল। সালমান খালি কাউন্টার পেরোনোর সময় হঠাৎ রিঙ হবার শব্দে থমকে দাঁড়ালো। আশেপাশে কেউ নেই। খালি ষ্টেশনে রিঙ বাজছে। নিশ্চিত কেউ ভুল করে মোবাইল ফেলে গেছে। সালমান খুঁজে বের করলো কালো রঙের অ্যান্টেনাসহ একটি হ্যান্ডসেট। তবে তাতে ফোনকারীর নম্বর প্রদর্শিত হচ্ছে না। যাই হোক, সালমান রিসিভ করলো।
-হ্যালো।
=হ্যালো সালমান বলছেন?
অবাক হয়ে গেল সালমান। তাকেই চাচ্ছে যে! কিন্তু ফোন তো তার না। যাই হোক, সে কথা চালিয়ে গেল।
-কে বলছেন?
=স্যার, আমি জিরো জিরো সেভেন বলছি। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার মালগুলোকে পাচার করতে রাজি হবার জন্য। তবে স্যার, একটু সমস্যা হয়ে গেছে। আমি আপনাকে এক কোটি টাকা দিতে পারছি না। আমার সর্বোচ্চ সাধ্যানুযায়ী আমি ষাট লাখ টাকা জোগাড়ে সক্ষম হয়েছি। এর বেশি আমার পক্ষে…
-দেখুন আমি…বলতে গেল সালমান।
=স্যার প্লীজ, আমার কথা শুনুন। আমার পক্ষে এক কোটি টাকা দেয়া কোনক্রমেই সম্ভব নয়। আমি….
-দেখুন আপনি যাকে চাচ্ছেন আমি সেই সালমান…..
=হ্যালো, আপনি কি সালমান নন?
-হ্যাঁ আমি সালমান। কিন্তু….
=কিন্তু এতো কম টাকা নিতে রাজি নন এই তো? স্যার প্লীজ। আপনি আমাকে হতাশ করবেন না।
সালমান চুপ করে থাকলো। কি বলবে বুঝতে পারছে না। অপ্রস্তুত।
তার এই চুপ করে থাকাকে অপরপ্রান্ত হ্যাঁ-বোধক ধরে নিয়ে বলা শুরু করলো কীভাবে কোথায় টাকা পাওয়া যাবে। আর সালমান চুপ করে শুনে গেল।

পুরো ত্রিশ সেকেন্ড থ’ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার পর সালমান গাড়ীর দিকে এগিয়ে গেল। হাতের মোবাইলটা খুলে সিমটা নিয়ে নিল। ঠিক করলো, টাকাটা হাতিয়ে নেবে। তার বাবা তাকে যথেষ্ট টাকা দেন কিন্তু তার আবার হিসাবও নেন। তাই বাড়তি খরচ সম্ভব হয় না। ফাও ষাট লাখ টাকা পেলে…ঊফ্…আর ভাবতে পারলো না সালমান। সে প্রফুল্ল মনে গাড়ীর দিকে এগিয়ে চললো। সে নিশ্চিত, আর কিছুদিনের মধ্যেই সে ষাট লাখ টাকার মালিক হতে যাচ্ছে।

ফুডস জোন, হাইওয়ে নাইনটি এইট, পেকিনো।
মঙ্গলবার রাত আটটা ত্রিশ মিনিট। জিরো জিরো সেভেনের রোডম্যাপ অনুযায়ী আর ত্রিশ মিনিট পরই সামনে অবস্থিত একটি হাতীর ভাষ্কর্যের নীচে পাওয়া যাবে নীল রঙের ব্যাগ ভর্তি ষাট লাখ টাকা।
সে গাড়িতে বসে রইলো। গাড়ি রাস্তার পাশে পার্ক করা। একটি বিশেষ কারণে জনসাধারণ সবাই বাসায় চলে যাওয়ায় হাইওয়ে সাড়ে আটটায়ই খালি। চারিদিক নীরব। সালমানের মনে হচ্ছে সে একটা অপরাধ করতে যাচ্ছে। আর তাই এই নীরবতাকে তার ভয় হচ্ছে। তার মনে হচ্ছে রাস্তার দুই পাশের বিশালাকার গাছগুলো যেন অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে তাকে লক্ষ্য করছে। সে মনে মনে খুব ভয় পেল। সব অপরাধীই কি অপরাধ করার আগ মুহুর্তে এমন ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে? প্রশ্নটা সালমানের মনে আসলো।

নির্দিষ্ট সময়ের পনেরো মিনিট আগেই তর সইতে না পেরে সালমান উঠে ভাষ্কর্যের দিকে নিঃশব্দে এগিয়ে গেল। একটি বিশেষ অ্যাঙ্গেলে তাকাতেই চোখে পড়লো নীল রঙের ব্যাগটি। সালমান চারিদিকে তাকালো। কাউকে দেখা যাচ্ছে না।
ব্যাগটা নিয়ে গাড়ীতে উঠে ব্যাগটা খুলে দেখলো সালমান শত শত পাঁচশো টাকার বান্ডিল। কিছুক্ষণ সে কোন কথা বলতে পারলো না। চুপচাপ বড় বড় চোখে তাকিয়ে রইলো টাকাভর্তি ব্যাগটার দিকে। একসময় নিজের অজান্তেই হাসতে শুরু করলো সে। সেই হাসিটা ক্রমেই অট্টহাসিতে পরিণত হলো। সে ভুলে গেল যে সে একটি অপরাধ করছে। সে ভুলে গেল যে সে একটি নীরব রাস্তায় একা। আর তাই সে টের পেল না যে, স্পেশাল পুলিশ অ্যান্ড সিআইডি স্কোয়াডের শত শত গাড়ি ঘিরে ফেলেছে তাকে, নিঃশব্দে।

[চলবে]
অনুগ্রহ করে পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।

বিভাগ: Story
Tagged: , , , , , ,

অর্পিত [শেষ পর্ব]

মার্চ 6, 2009 · Leave a Comment

পূর্ববর্তী পর্ব
১.
চরম মুহুর্তে আছি আমি। প্রমাদ গুণছি। নকশীর কম্পনের মাত্রা আর কয়েক সেকেণ্ডের মধ্যে না কমলে আমার মৃত্যু অবধারিত। আতঙ্কিত চোখে তাকিয়ে আছি নকশীর গলার দিকে। অনবরত কেঁপেই চলেছে মালার মাথা দু’টো। খুব খারাপ লাগছে। কোন রকমে মালাটা লাগানো হলে নকশী সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হতে পারতো। তা না হয়ে..।

শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় অপেক্ষা করছি কখন মালাটা নকশীর গলা থেকে পড়ে যাবে আর ও ভ্যাম্পায়ারের হিংস্রতায় আমার দিকে তেড়ে আসবে। কিন্তু বিধাতা বোধহয় আমাকে আরো কিছুদিন নকশীর সংস্পর্শে রাখতে চাইলেন। হঠাৎই লক্ষ্য করলাম নকশীর চেহারার ভাবমূর্তি কেমন যেন পাল্টে গেল। হঠাৎই যেন ও দুর্বল হয়ে পড়লো। গলা থেকে মালাটা মাটিতে পড়ে গেল সেই মুহুর্তে। আমার একটা হৃদস্পন্দন মিস হয়ে গেল। অপেক্ষা করলাম নকশীর তেড়ে আসা দেহটার জন্য। মানসিকভাবে তৈরি হলাম মৃত্যুর জন্য।

কিন্তু না। নকশী আমার দিকে তেড়ে এলো না। বরং মাটিতে ধপাস করে পড়ে গেল। প্রবল বাতাসের চেয়ে ওর নিঃশ্বাসের শব্দ আরো জোরালো হয়ে আমার কানে আসছে। বিষয়টা বুঝতেই আনন্দে মনটা নেচে উঠলো। এত আনন্দ আমি কখনো উপভোগ করিনি।

মালাটার কার্যকারিতা ফলে এসেছে। নকশীর ভ্যাম্পায়ারত্ব ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে গোফরান হুজুরের সেই কালো গুটির মালা। বিষয়টা বুঝতে পেরে আর দেরি করলাম না। দৌড়ে গেলাম নকশীর দিকে। ওর বিধ্বস্ত দেহটার কাছে গিয়ে বসলাম। ওকে জোরে জোরে ডাকলাম কয়েকবার। ক্লান্ত আধবোজা চোখে আমার দিকে তাকালো নকশী। আমি আমার কোলে ওর মাথাটা রেখে ওকে শুইয়ে রাখলাম। একবার নিচে নিয়ে যাবার চেষ্টা করলাম কিন্তু ও এতটাই দুর্বল যে উঠতেই পারলো না। আধবোজা চোখেই আমার দিকে কৃতজ্ঞ দৃষ্টিতে ক্ষীণ স্বরে নকশীর ধন্যবাদটা প্রচন্ড বাতাসের শো শো শব্দের মাঝেও আমার কানে ঠিকই পৌঁছালো।

বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম নকশীর দুর্বলতাটা কাটিয়ে উঠতে। যখন ও একটু শক্তি ফিরে পেলো। তখন ওকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করলাম। একটু চেষ্টা করে দাঁড়াতে সক্ষম হলো ও। কিন্তু হাঁটতে না পারায় রেলিঙয়ে ভল করে দাঁড়ালো। আমার দিকে তাকিয়ে বললো, অবশেষে তুমি আমাকে বাঁচিয়েছো।
আমি কিছু বলার মতো খুঁজে পেলাম না। ওর দিকে নিশ্চুপ তাকিয়ে রইলাম। মনে পড়লো মালাটা পড়ানোর আগের মুহুর্তের কথা। আশা করলাম নকশীর ঐসব কথা এখন আর মনে নেই। কিন্তু ওর ঠিকই মনে ছিল। ও আমার একদম কাছে এসে দাঁড়ালো। বলল, আমাকে ভয়াবহ সেই জীবন থেকে বাঁচানোর জন্য ধন্যবাদ।
আমি এবারো কিছু বলতে পারলাম না। বুঝতে পারছি নকশী এরপর কোন বিষয়টা তুলবে।
ও ঠিক সেই বিষয়টাই তুললো।
“আমি তোমার কাছ থেকে কোন সাড়া পাইনি।”
আর চুপ করে থাকতে পারলাম না। আগের বার ও যেমন করেছিল, এবার আমিও ঠিক তেমনই করলাম। এক ঝটকায় ওকে বাহুর মধ্যে এনে ওর প্রাণবন্ত ঠোঁটদুটোর সঙ্গে আমার ঠোঁট মিলালাম। আর ঠিক তখনই ঝড়টা এলো। আকাশ থেকে শুরু হলো প্রবল বর্ষণ। একটু আগে এই ঝড়টাকে খুব ভয় পাচ্ছিলাম। কিন্তু এখন কেয়ার করি না। যত খুশি ঝড় হোক। আই ডোন্ট কেয়ার।

২.
সেদিন রাতে আন্টি আমাকে বারবার ধন্যবাদ দিলেন। আমি যতবারই তাকে ধন্যবাদ দিতে না করলাম, ততবারই তিনি ধন্যবাদ দিলেন। তার মেয়েকে সৃষ্টিকর্তা আমার মাধ্যমে ভ্যাম্পায়ার সত্ত্বার কবল থেকে বাঁচিয়েছেন। ধন্যবাদ দিতে হয় তো স্রষ্টাকে দিন। আমি তো মাধ্যমমাত্র। কিন্তু কে শোনে কার কথা।
রাতে খাবারের টেবিলে। আজ বহুদিন পর নকশীদের বাসায় ফিরে এসেছে আগের সেই আমেজ। নকশী হয়ে উঠেছে আগের মত প্রাণবন্ত। কিন্তু আগের চেয়ে আরো অনেক বেশি সুন্দরী। অনেকদিন পর শিহাব ভাইয়া, আন্টির সঙ্গে মন খুলে কথা বললো নকশী। ওর মনটা এখন আগের মত চঞ্চল।

রাতে খাবারের পর নকশীর বাসা থেকে চলে আসলাম। অনেকদিন পর আজ রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারব। রাতে ঘুম ভাল হল।

এভাবে দিন কাটতে থাকলো আমাদের। আমি আবার ফিরে গেলাম আমার সাধারণ স্বাভাবিক জীবনে। আগের মত। শুধু আমার জীবনের সঙ্গে যুক্ত হলো নতুন এক অধ্যায়, নতুন এক জীবন, নকশী।

৩.
আমাদের এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড হৈ চৈ চলছে। মাত্র ছয়দিনের ব্যবধানে চারজন লোক মারা গেছেন। তাদের মৃত্যুগুলো অস্বাভাবিক। সবারই ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং সবারই মৃত্যু হয়েছে গভীর রাতের কোন এক সময়। পুলিশ বা ডিটেকটিভ ফোর্স কেউ-ই ঘটনার কোন কূল কিনারা করতে পারছে না। জোঁকের মত সংবাদকর্মীরা পুরো এলাকা চষে বেড়াচ্ছে সূত্রের খোঁজে আর প্রতিনিয়ত তারা পুলিশের বড় অফিসারদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছে। কেউ কিছু বুঝতে পারছে না।
কিন্তু আমি ঠিকই বুঝতে পারছি। আঘাতগুলো ভ্যাম্পায়ারের। কিন্তু নিশ্চিত হতে পারছি না। শহরের মধ্যে ভ্যাম্পায়ার আসবে কোত্থেকে? নকশীর কথা মনে হলো একবার। কিন্তু নাহ। ওর বাসা অনেক দূরে। আর তাছাড়া ও সম্পূর্ণ সুস্থ বলেই আমার বিশ্বাস। আবার ভাবলাম নকশীর মত আমাদের এলাকায় বসবাসরত অন্য কেউ নয় তো, যে নকশীর মত একই ঘটনার শিকার। কিন্তু না, বড় বেশি কাকতালীয় হয়ে যাচ্ছে। পুলিশের মত আমিও ভেবে কোন কূল কিনারা করতে পারলাম না। শেষে ভ্যাম্পায়ারের আশঙ্কাটা বাদ দিলাম। আর দশজনের মত ভাবতে শুরু করলাম শহরে আশ্চর্যজনক কোন প্রাণী হানা দিচ্ছে। গভীর রাতে কোন জংলা থেকে উঠে আসে এই প্রাণী। রাতে মানুষের উপর হামলা করে। সকাল হবার আগেই আবার লুকিয়ে পড়ে লোকচক্ষুর অন্তরালে। পুলিশের ধারণা এটা। হাস্যকর বটে, তবে এ ছাড়া আর কিছু ভাবার নেই।

নকশীর সঙ্গে পরেরবার যখন দেখা হলো। তখন ওকে আমি বিষয়টা খুলে বললাম। ও চিন্তিত হয়ে পড়লো। যতটা না বিষয়টা নিয়ে, তারচেয়ে বেশি আমাকে নিয়ে। বলল, তোমরা ঐ এলাকা ছেড়ে চলে আসো। ওখানে আর থাকার দরকার নেই। কখন কি হয়ে যায়। কিন্তু আমি বললাম, এটা সম্ভব না। কোনভাবেই যখন আমাকে রাজি করাতে পারলো না। তখন নকশী বলল, ঠিক আছে। থাকলে থাকো। কিন্তু প্লিজ রাতে বের হয়ো না। খুব বিপজ্জনক এলাকা ওটা। অতি জরুরি কাজ পড়লেও রাতে ভুলেও যেন না বের হও।
আমি বললাম, আচ্ছা।
ও জিজ্ঞেস করল: আর খবর কী?
আর কোন খবর নেই। এ বিষয়টাই ভাবিয়ে তুলেছে আমাকে। কী হতে পারে? কিছু আন্দাজ করতে পারো?
নাহ। আন্দাজ করতে পারছি না কী হতে পারে সেটা। তবে কোন প্রাণী নয়, এটা আমার ধারণা। পুলিশ একটা কিছু বলে বাঁচতে চাইছে। মূল ঘটনা অন্যকিছু্।
একমত হলাম। তারপর ও আর আমি পাশাপাশি হাঁটতে লাগলাম। আমি একমুহুর্তের জন্যও বিষয়টা মাথা থেকে বাদ দিতে পারছি না। নকশী আমার মনকে অন্যদিকে সরানোর জন্য বলল: তুমি এত চিন্তা করছ কেন? চিন্তা করছই যখন, বাসা ছেড়ে অন্যদিকে চলে যাও।
আমি বললাম, নিজেকে নিয়ে ভাবছি না। ভাবছি কী হতে পারে সেটা।
ধ্যাৎ! বাদ দাও ওটা। কিছুক্ষণ চুপ করে রইল নকশী। তারপর আমার দিকে সরাসরি তাকাল।
তোমার ঠোঁটগুলো শুকিয়ে আছে কেন? কিছু খাওনি নাকি?
আমি আমার ঠোঁটে হাত দিলাম। খেয়েছি তো।
তাহলে ঠোঁট শুকনো কেন? দাঁড়াও, আমি ভিজিয়ে দিচ্ছি। এই বলে নকশী সোজা আমার একেবারে কাছে এসে দাঁড়ালো। আমার ঠোঁটে গভীরভাবে একটা চুমু খেলো। আমি কিছু বললাম না। ও সত্যিই আমার ঠোঁটদ্বয় ভিজিয়েছে!

৪.
একটা রিকশা নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। রিকশা চলছে ধীর গতিতে। আমি ভাবছি নকশীর কথা। ও খুব চিন্তিত হয়ে পড়েছে। বাসায় গিয়ে ওকে ফোন করে টেনশন করতে নিষেধ করতে হবে। অবশ্য তাতে কোন লাভ হবে না। তবুও, ও বেশি দুশ্চিন্তা করলে ওর শরীর খারাপ হয়ে যায়। এমনিতেই ভ্যাম্পায়ারের এক বিশাল ধকল গেছে ওর উপর দিয়ে। বাসার সামনে রিকশা থেকে নেমে পড়লাম। ভাড়া দিয়ে রিকশা বিদায় করে বাসার বারান্দায় উঠে দেখলাম দরজা খোলা। নতুন একজোড়া জুতা দেখলাম বারান্দায়। মেহমান আছে বোধহয় ঘরে। আমি ঘরে ঢুকতে যাবো, এমন সময় কানে আসলো আম্মুর কিছু কথা। যা আমার হৃদস্পন্দনকে আবারো থামিয়ে দেবার জন্য যথেষ্ট ছিল।

আম্মু আগত মেহমানকে বলছে: সুমন বেশ কয়েকদিন ধরে রাতে কোথায় যেন যায়। যাবার সময় আমি প্রত্যেকদিনই টের পাই। অনেকটা ঘোরের মধ্যে থাকে ও। গভীর রাতে বের হয়, আর যখন ফিরে আসে, তখন ওর শ্বাস প্রশ্বাস থাকে ঘন। কেমন যেন উদভ্রান্ত। বলেন ভাবী, আমাদের এলাকার অবস্থা এমনিতেই খারাপ। তার উপর যদি কেউ টের পেয়ে যায় সুমন রাতে বাইরে যায়, তাহলে সবার সন্দেহ সুমনের উপর পড়বে না?

আর শুনতে পারলাম না। মাথাটা কেমন যেন মুহুর্তের মধ্যেই শূন্য হয়ে গেল। ভ্যাম্পায়ার যাকে একবার আঘাত করবে, সেও ভ্যাম্পায়ার হয়ে যাবে। এই সত্যিটা টের পেলাম। বুঝতে পারলাম নকশীর ভ্যাম্পায়ার সত্ত্বা কেন আমাকে কখনো আক্রমণ করেনি। একই সঙ্গে অনুভব করলাম এই ভয়ঙ্কর সত্যিটা:

নকশীকে বাঁচানোর দায়িত্ব কাঁধ থেকে নেমে যাবার পরই নকশীর ভ্যাম্পায়ারত্বের ভয়ঙ্কর দায়িত্বটা আমার উপর অর্পিত হয়েছে।

[সমাপ্ত]
সবার কাছে পুরো গল্প নিয়ে মতামত আহবান করছি। গল্পটি উৎসর্গ করা হলো আফরোজা মিলি (আমার প্রিয় বড় বোন) কে – যে সর্বদা ভুতের ভয়ে কম্পমান।

লেখকের সঙ্গে যোগযোগ করতে পারেন গল্প সংক্রান্ত মতামত বা অনুভূতি জানাতেঃ 01911911122, 017154052
ইয়াহু: aminulislam333
MSN: aminulislam333@live.com

ধন্যবাদ।

বিভাগ: Story
Tagged: , , , , ,