আমিনুল ইসলাম সজীবের বাংলা ব্লগ

Entries from সেপ্টেম্বর 2008

অর্পিত [পর্ব ১]

সেপ্টেম্বর 30, 2008 · 5 টি মন্তব্য

অর্পিত গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক মস্তিষ্কের অবদানে রচিত একটি কল্পকাহিনী মাত্র। বাস্তবের কোনকিছুর সাথে মিল রেখে গল্পটি রচিত হয়নি। এরপরও পৃথিবীর হাজারও ঘটনা ও হাজারও চরিত্রের সাথে গল্পের চরিত্র বা ঘটনা মিলে যেতেই পারে। সেক্ষেত্রে ঘটনাটি কাকতালীয় ঘটনা বলেই বিবেচিত হবে। – লেখক

থ্রিল ও রোমান্সের সমন্বয়ে একটি গল্প, অর্পিত।

(আরও…)

বিভাগ: Story
Tagged: , , , , , , ,

একদিন, যায়যায়দিন

সেপ্টেম্বর 25, 2008 · 2 টি মন্তব্য

২০০৫ সালের দিকে সামহোয়্যার ইন ব্লগের সাথে পরিচিত হই। সেই থেকে আমার লেখালেখি যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে টের পাই তথ্য-প্রযুক্তি নিয়ে লেখালেখির আসক্তি আমার বেশি। তাই এই জাতীয় লেখাই বেশি লিখি। জীবনের প্রথম লেখা প্রকাশ হয় প্রথম আলোর কম্পিউটার প্রতিদিন পাতায়। পরপর তিনবার। এরপর অবশ্য আমি আর লেখা পাঠাইনি। অনেকদিন থেমে ছিলাম। ইদানীং আবার লেখালেখি শুরু করেছি। এই মাসের মাসিক সি নিউজ পত্রিকায় আমার তিনটা লেখা ছাপালো। তবে আমার সবসময়ই ইচ্ছা ছিল দৈনিক পত্রিকায় লেখা। দৈনিক পত্রিকা হিসেবে যায়যায়দিন আমার একটি প্রিয় পত্রিকা। এদের পৃষ্ঠা যেমন উন্নত, তেমনি লেখার স্টাইল ও প্রিন্টও অসাধারণ। এই তো কিছুদিন আগেও স্বপ্ন দেখতাম যায়যায়দিনে লেখার। আল্লাহ সেই স্বপ্ন পূরণের পথ করে দিলেন। যায়যায়দিনে পরীক্ষামূলক লেখা পাঠালাম। ধারণা করেছিলাম দৈনিক পত্রিকার ডিমান্ড অনেক বেশি থাকবে। আমার লেখা হয়তো তাদের পছন্দ হবে না। তাই ছাপানোর আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু গত শনিবারে আমার লেখা প্রকাশ হতে দেখে কিছুটা আশার মুখ দেখলাম। যায়যায়দিনে আরেকটি লেখা পাঠানোর পর আমাকে যায়যায়দিনের অফিসে যাবার জন্য বলা হলো। দিনটি ছিল গতকাল।

যায়যায়দিন পত্রিকা যেমন উন্নত, তাদের অফিসটাও সেরকম। কী একখান অফিস, দেখার মত। বিশাল এক বিল্ডিং। প্রথম দুইতলা পুরোটাই দানবীয় মেশিনে ভরপুর। অর্থাৎ প্রেস। তৃতীয় তলায় কম্পিউটার সেকশন। আমাকে সোজা তৃতীয় তলায় নিয়ে যাওয়া হলো। দেখলাম বিশাল এক হলরুমে অনেকগুলো কম্পিউটার। সবাই যার যার মত কাজ করে যাচ্ছে। হলের এক দিকে লন্ডন, বেইজিং, নিউ ইয়র্ক সহ প্রায় ১৪টার মত শহরের সময় প্রদর্শন করছে ১৪টি ঘড়ি। দারুণ লাগলো। আমাকে সোজা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের কম্পিউটারের দিকে নিয়ে যাওয়া হলো। সেখানে পরিচয় হলো এই বিভাগের বিভাগীয় সম্পাদকের সাথে। উনি খুব সহজভাবে আন্তরিকতার সাথে আমাকে গ্রহণ করলেন। কুশল বিনিময় ও পরিচয় পর্বের পর তিনি জিজ্ঞেস করলেন মোবাইল সম্বন্ধে আমি কতটুকু জানি। আমি বললাম, মোটামুটি। তখন তিনি বললেন, ম্যাকিনটশের উপর ভিত্তি করে নির্মিত অ্যাপলের আইফোন, উইন্ডোজভিত্তিক উইন্ডোজ মোবাইল, সিমবিয়ান, পাম ইত্যাদির নাম তো শুনেছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন সম্প্রতি গুগল তৈরি করেছে তাদের নিজস্ব একটি মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমের প্লাটফর্ম, নাম এন্ড্রয়েড। আপনাকে সেই বিষয়ে কিছু লিখতে হবে আমাদের আগামী সংখ্যার জন্য।

আমাকে ইংরেজীতে লেখা এন্ড্রয়েড সম্বন্ধে বিস্তারিত দুইটি পৃষ্ঠা দেয়া হলো। সেগুলো পড়ে সময় নিয়ে যায়যায়দিনের অফিসে বসেই এন্ড্রয়েড নিয়ে একটা লেখা লিখে ফেললাম। ভাগ্য ভালো তিনি লেখাটা পছন্দ করবেন। খুব সম্ভবত আগামী শনিবার যায়যায়দিনের “বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি” বিভাগে প্রকাশিত হবে লেখাটা। আশা করছি সবাই পড়বে।

পরে বিভাগীয় সম্পাদক সাহেবের সাথে কথা বললাম কিছুক্ষণ। বিভিন্ন বিষয়ে। তার মধ্যে মুখ্য ছিল কম্পিউটার নিয়ে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমার বাসায় তো পিসি বা ইন্টারনেট কোনটাই নেই। তো সপ্তাহে একদিন কি এখানে আসলে ইন্টারনেট কানেকশন সহ একটা কম্পিউটার পাওয়া যাবে? তিনি বললেন, একদিন নয়, সপ্তাহের সাতদিনই আপনি এখানে কাজ করতে পারবেন। কোন সমস্যা নেই। আমি আপনার জন্য কম্পিউটার ম্যানেজ করছি।

বাঁচলাম। কম্পিউটার না থাকাটা একটা বড় সমস্যা। এতে করে ওদের অফিসে গিয়ে ওদের কাজ করতে পারবো। অবশ্য অফিসটা বাসা থেকে অনেক দূরে। তবে সপ্তাহে এক দুইবার যাওয়া সম্ভব।

Outside of JaiJaiDin's office
যায়যায়দিন অফিসের মূল বিল্ডিং

তারপর আর কী। ইফতার করতে বলা হলো। ইফতার করলাম অফিসে। এই রমজানের প্রথম ইফতার যা বাইরে কোথাও করলাম। খুব ভালো লাগলো। জীবনের প্রথমবারের মত কোন গণমাধ্যমের অফিসে গেলাম। তাও আবার আমার পছন্দের একটি পত্রিকার অফিসেই। পরবর্তীতে হয়তো আরো অনেকবার যাব। কিন্তু প্রথমবারের মত অনুভূতি তো আর কখনোই হবে না। সব মিলিয়ে আমার যায়যায়দিন অফিসে একদিন খুব ভালো গেল। This will be one of the most memorable days in my life.

বিভাগ: Admin Told · Diary · IT · Memorable
Tagged: , , , , , ,

গুগল অফিস থেকে চিঠি

সেপ্টেম্বর 14, 2008 · Leave a Comment

খুব ছোট ছিলাম। প্রাইমারি শিক্ষার অনুপাতে ক্লাস ফাইভ কি সিক্সে। তখন থেকেই ইন্টারনেটের প্রতি অসাধারণ আগ্রহ আর উৎসাহটা টের পাই। বড় ভাইয়ার কাছে ইন্টারনেটে খুঁটিনাটি শিখেছিলাম।
প্রথম দিকে (এখনও) সাইবার ক্যাফে থেকেই কম্পিউটার ব্যবহার করতাম। তখন ব্রাউজার খুললেই গুগলের হোমপেজ ওপেন হত। তখন অবশ্য বুঝতাম না যে এটাও একটা ওয়েবসাইট। আর তখন আমি গুগলকে গুগলি বলে উচ্চারণ করতাম।

খুব শীঘ্রি বিষয়টা ধরতে পারলাম। টেবিলের ইংরেজী বানান আর গুগলের ইংরেজী বানানে সুন্দর একটা মিল আছে। টেবিলের উচ্চারণ যদি টেবলি না হয়ে টেবিল হয়, তাহলে গুগলের উচ্চারণও গুগলি না হয়ে গুগল-ই হবে। এইভাবে ভুলটার সংশোধন করলাম।

ছোটবেলা থেকেই ওয়েবসাইট তৈরীর প্রতি প্রচন্ড নেশা ছিল। এ পর্যন্ত কয়টা পঙ্গু ওয়েবসাইট বানিয়েছি তার কোন ঠিক ঠিকানা নেই। তবে শেষ পর্যন্ত গুগলপেজ আর ওয়ার্ডপ্রেস এবং ব্লগস্পটকে আঁকড়ে ধরেছি। তারা এখনো আমার সাথেই আছে। গুগলের খুব কম সার্ভিসই আছে যেগুলো আমি ব্যবহার করিনি। একসময় গুগল গ্রুপস নিয়ে প্রচুর সময় ও অর্থ ব্যয় করেছি। একসময় বুঝলাম ওটা আমার জন্য না। তারপর গ্রুপস ছেড়ে হাই ফাইভ ইত্যাদিতে আগ্রহ দেখালাম। কিছুদিন ভালই গেল। তবে আমার বুঝতে দেরি হলো না যে ওগুলো মানুষের মূল্যবান সময়টাকে পিটিয়ে হত্যা করা ছাড়া আর কিছুই না। উপলব্ধি করলাম ওটাও আমার কাজে আসবে না। সেই থেকে সোশ্যাল নেটওয়ার্ক নামের শব্দটাকে আমি অপছন্দ করি। অবশ্য ফেসবুক ব্যবহার করছি। তবে সেটার পিছনে খুব একটা সময় ব্যয় করিনা।

বড় ভাইয়া ওয়েবসাইট বানাতে এক্সপার্ট। ওনার সাটে দেখতাম গুগল বস্ বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন। দেখে খুবই ভাল লাগত। কারণ সময়ের সাথে সাথে আমিও বুঝতে পেরেছি যে, গুগলের লোগো যতই হাস্যকর হোকনা কেন, গুগলকে ছাড়া ইন্টারনেট একপ্রকার অচল হয়ে পড়বে। ঠিক তাই, ইন্টারনেটের প্রসারে গুগলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। যাই হোক, আমি ছোটখাট ওয়েবসাইট বানাতাম। একসময় সব ছেড়ে বাংলা ব্লগে ঢুকলাম। ভালই যাচ্ছিল। এখনও ভালই যাচ্ছে। তবে আমার চিন্তাধারার পরিধি একটু বড়ই ছিল। তাই ইংরেজীতে ব্লগি শুরু করলাম এখানে (http://aminulislam333.wordpress.com & http://aisaijb.blogspot.com)। ইংরেজী ব্লগিংটাকে আমি ইংরেজী চর্চার অন্যতম একটি স্থান হিসেবে ধরে নিয়েছিলাম।

যাই হোক, কথা বলছিলাম জনপ্রিয় গুগলের অন্যতম সার্ভিস গুগল এডসেন্স নিয়ে। আজকাল কমবেশী সবাই এ সম্বন্ধে জানেন। আমি যখনই জানতে পারলাম যে ব্লগসাইটেও এডসেন্স ব্যবহার করা যায়, বিন্দুমাত্র দেরি না করে সাইন আপ করলাম। চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে গুগল আমার রেজিষ্ট্রেশন গ্রহণ করে একটিভ করে দিল। আর আমিও মহানন্দে বিজ্ঞাপন শো করতে থাকলাম। খুব বেশিদিন হয়নি গুগল এডসেন্স ব্যবহার করছি। অথচ গুগল এডসেন্স সম্পর্কে জানতাম আরো তিন চার বছর আগেই। (এতদিনে মাথার কিছুটা উন্নতি হয়েছে তো, তাই মাতব্বরিও বেড়েছে।)

নিয়মমাফিক একাউন্ট দশ ডলার পেরুলে ট্যাক্স ইনফরমেশন চাইল মহোদয় গুগল। দিলাম। ইমেইলের মাধ্যমে গুগল জানাল,
“আপনার পোস্টাল ঠিকানায় (বাসায়) একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে যা আপনার পিন কোড বহন করছে। আমরা আশা করছি আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যেই এটা আপনার কাছে পৌঁছে যাবে। অনুগ্রহ করে পৌঁছা মাত্রই আপনার পিন প্রয়োগ করে পেমেন্ট রিলিজ করবেন। ধন্যবাদ।”

ত্রিভূজ ভাইয়ার একটি পোস্টে পড়েছিলাম যে, এই কার্ডটা সহজে হাতে আসেনা। আমাদের পোস্ট অফিসের গুণধর ও কাজের প্রতি অতিশয় যত্নশীলতার (!) কারণে তা পোস্ট অফিসেই পড়ে থাকে। সেক্ষেত্রে অনেক ঝক্কি-ঝামেলা পোহাবার পর পেমেন্ট রিলিজ করা হয়ে থাকে। তবুও আশায় বুক বেঁধে রইলাম। তিন সপ্তাহ শেষ হবে ২০ তারিখে।

আশ্চর্যজনকভাবে, ১৮ তারিখে পিওন চিঠি নিয়ে হাজির! আমার মা তো অবাক। এমনিতে ইন্টারনেট সম্পন্ধে ততটা জ্ঞান রাখেননা, তবে গুগল যে বিশাল একটি কোম্পানী, তা আমাদের দুই ভাইয়ের কাছ থেকে বহুবারই শুনেছেন। সেই গুগল থেকে প্রেরিত চিঠি যা আমেরিকা থেকে এসেছে, গ্রহণ করতে মায়ের কেমন লাগবে সেটা বর্ণনা করতে যাওয়াটা বোকামী। (বর্ণনা করা যায় না।)

যাই হোক, আমিও খুবই উত্তেজিত (এক্সাইটেড) ছিলাম। গুগলের অফিস থেকে স্ট্যান্ডার্ড মেইল। যদিও খুব সাধারণ ব্যাপার। তবে পনেরো বছর বয়সে আনন্দ করার জন্য এটি একটি যথেষ্ট খোরাক।

——–
তবে একটি প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে। গুগল চেক পাঠালে, সেই চেক কিভাবে ভাঙ্গাবো? কেউ জানলে অনুগ্রহ করে বিস্তারিত জানাবেন।

[মূল প্রকাশ]

বিভাগ: Diary · Memorable
Tagged: , , , , , ,

কোয়াবের প্রতিঃ সাইবার ক্যাফের কম্পিউটারগুলোকে ইউনিকোড সাপোর্টেড করুন

সেপ্টেম্বর 14, 2008 · Leave a Comment

সময়ের সাথে সাথে পাল্টে যায় সবকিছু। বিশেষ করে একটি রাষ্ট্রের জন্য সময় অনেক কিছুই পাল্টে দেয়। তেমনিভাবে বাংলাদেশও কালের পরিক্রমায় আজ অনেক বদলেছে। বাংলাদেশেও প্রবেশ করতে শুরু করেছে তথ্য-প্রযুক্তির উন্নত সব প্রযুক্তি। বাংলাদেশেও এখন আছে লক্ষ লক্ষ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। আছেন ব্লগার, ওয়েব ডেভেলপার ও প্রোগ্রাম। বিশ্ববিখ্যাত ভিডিও শেয়ারিং ওয়েবসাইট ইউটিউবের প্রতিষ্ঠাতা তিন তরুণের মধ্যেই তো একজন আছে বাংলাদেশী। যা বাংলাদেশের জন্য সত্যিই গর্বের বিষয়।

বাংলাদেশ থেকে গত কয়েক বছরে প্রকাশিত হয়েছে হাজার হাজার ওয়েবসাইট। এর একেকটি একেক উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি। একেকটি একেক ডিজাইনের। এর মধ্যে গত পাঁচ ছয় বছরের মধ্যেই ইউনিকোডের মাধ্যমে মাতৃভাষা ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলায় ওয়েবসাইট তৈরির কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম যখন একটি বাংলা ওয়েবসাইট প্রকাশিত হয়, তখন তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয় বাঙ্গালীদের মাঝে। প্রিয়তম ভাষা বাংলাকে কম্পিউটারের পর্দায় না শুধু, বরং তথ্যসমুদ্র ইন্টারনেটেও দেখতে পেয়ে বাঙ্গালীর সে কি আনন্দ। আসলে আনন্দ পাবার মতই বিষয়। তথ্য-প্রযুক্তির এই উন্নত যুগে বাংলা ভাষায় ওয়েবসাইট না থাকাটাই বরং আশ্চর্যজনক হতো। বিশ্বের ইতিহাসা বাংলা একটি গৌরবগাঁথা ভাষা। বাংলার আছে রক্তভেজা ইতিহাস, আছে কোটি কোটি মানুষের প্রাণ। এই ভাষার সমৃদ্ধিতে আমরা কাজ করবো না তো কারা করবে।

বাংলা ইউনিকোডে তৈরি করা সম্ভব এবং সহজ এটি বুঝার পরই বাংলাদেশে একের পর এক তৈরি হতে থাকে ইউনিকোডভিত্তিক সম্পূর্ণ বাংলা ভাষার ওয়েবসাইট। এরই ধারাবাহিকতায় প্রকাশিত হয় সামহোয়্যার ইন ব্লগ, বিজ্ঞানী ডট কম, টেকটিউনসের মত প্রযুক্তিবিষয়ক ও সামাজিক বিষয়ক ওয়েবসাইট। প্রত্যেকটি সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্করণ প্রকাশিত হয়। বের হয় বিবর্তনের মত সাহিত্য পত্রিকাও। আজও এসব সাইট চলমান। শুধু চলমান বললে ভুল হবে, বরং জনপ্রিয়। ইন্টারনেটে মাতৃভাষায় পড়তে ও লিখতে কে না পছন্দ করে।

মূল বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন সাইবার ক্যাফে থেকে। বাংলাদেশে তথ্য-প্রযুক্তি বা বিশেষ করে ইন্টারনেটের প্রসারে সাইবার ক্যাফে একটি অতি-গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সাইবার ক্যাফে না থাকলে বহু মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুযোগই পেতেন না। কারণ একটি কম্পিউটার ক্রয় করা ও মাসে মাসে ইন্টারনেট খরচ দেয়ার সাধ্য ক’জনেরই বা আছে। তাই সাইবার ক্যাফে বাংলাদেশে ইন্টারনেট প্রযুক্তি উন্নয়নের একটি অন্যতম সহায়ক। তবে বর্তমানে সামহোয়্যার ইন, বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার অনলাইন সংস্করণসহ ইত্যাদি অসংখ্য ওয়েবসাইট ইউনিকোডে তৈরি হয়েছে এবং ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে বাংলা ফন্ট না থাকলে এই সমস্ত সাইট দেখা যাচ্ছে না। যদিও কিছু কিছু ওয়েবসাইট ইওটি ফন্ট ডাউনলোড করার মাধ্যমে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারে দেখার সুবিধা দিচ্ছে, তবুও উন্মুক্ত জ্ঞানকোষ বাংলা উইকিপিডিয়ার মত অসংখ্য ওয়েবসাইটই দেখা যাচ্ছে না। এসমস্ত সাইট হারাচ্ছে প্রচুর সংখ্যক ভিজিটর শুধু এই কারণে যে, তারা যেই কম্পিউটার ব্যবহার করছেন, সেই কম্পিউটার ইউনিকোড সাপোর্ট করে না। বাংলার ব্যবস্থা না থাকায় আরো নানামুখী সমস্যা হচ্ছে। বাংলা প্রিন্টের সুবিধার্থে অনেকেই কম্পিউটারে বিজয় বাংলা সফটওয়্যার ইন্সটল করে রাখেন (তাও অনেক অল্পসংখ্যক। পুরো মিরপুর এক নম্বর ঘুরে মাত্র দু’টো ক্যাফেতে বাংলা প্রিন্টিংয়ের সুবিধা আছে) কিন্তু বিজয় ফন্ট দিয়ে তো আর ইউনিকোডের কাজ হয় না। তাই ব্যবহারকারীরা পারেন না প্রিয় মাতৃভাষায় তৈরিকৃত অসংখ্য ওয়েবসাইট ভিজিট করে পড়তে বা লিখতে।

সাইবার ক্যাফে মালিকদের একটি নিয়ন্ত্রণকারী কমিটি বা বোর্ড আছে যাকে আমরা Cyber Cafe Owners’ Association Bangladesh (CCOAB) নামে চিনি। আমি মনে করি ঐ বোর্ড যদি দেশের সব সাইবার ক্যাফে মালিকদেরকে নিজেদের সবক’টি কম্পিউটারে ইউনিকোড সেটিংস ইন্সটল করানোর পদক্ষেপ নেন, তাহলে দেশের কোন ক্যাফেতেই আর এ সমস্যা থাকবে না। তাই আমি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি কোয়াবের যথাযথ কমিটির, অনুগ্রহ করে এ ব্যাপারে অচিরেই কোন একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। আমরা আমাদের মাতৃভাষা বাংলাদেশকে অনেক ভালবাসি। আমাদের দেশের কম্পিউটারেই আমাদের ভাষা প্রদর্শন হবে না এর চাইতে লজ্জার ব্যাপার আর কী হতে পারে। আমাদের মধ্যে দেশপ্রেম আছে। কিন্তু আমাদেরকে সেই দেশপ্রেমের নজির দেখাতে হবে। নইলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুরন্ত আশা কবিতার মতই আমরা বাঙ্গালী চিরকালই পিছে পড়ে থাকব। বিশ্বের বুকে একটি সম্মানজনক স্থান আমরা নিজেরা বানিয়ে নিতে পারব না। যেই রাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে সেই রাষ্ট্রের প্রতি ভালবাসা নেই, সেই রাষ্ট্র কীভাবে উন্নত হবে? আমরা সবাই জানি বাংলা ভাষাকে পাবার জন্য সালাম, রফিক, শফিকের মত লক্ষ লক্ষ তাজা প্রাণের ত্যাগের কথা, আমরা জানি আমাদের পিছনের ইতিহাস। আমাদেরকে সেভাবেই চলতে হবে। যেন বিশ্বের যেকোন হাইওয়েতে যে কেউ আমাদের দেখলেই বাঙ্গালী বলে সম্মান করে।

বিভাগ: IT · Talk of the Time
Tagged: , , , , ,

ফেসবুকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ্লিকেশন

সেপ্টেম্বর 14, 2008 · Leave a Comment

ফেসবুকে অ্যাপ্লিকেশনের ছড়াছড়ি। সবাই-ই কমবেশি অ্যাপ্লিকেশনের সাথে সংযুক্ত। কেউ কেউ অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করেন, কেউ বা আবার এর সুবিধা ভোগ করেন। তবে এই হাজার হাজার অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে কয়টি অ্যাপ্লিকেশনই বা আছে সত্যিকারর্থে গুরুত্বপূর্ণ বা প্রয়োজনীয়?

উত্তরটা দেয়া কঠিন। কারণ কারো পক্ষে এই হাজার হাজার অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে তারপর বোঝা সম্ভব না যে কোনটা আসলে ভাল আর কোনটা অকাজের। প্রথম কথা হচ্ছে ধৈর্য্যই হবে না এতগুলো অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করার। তবে যত যাই হোক, সব ভাল’র মধ্যেই যেমন খারাপ মিশ্রিত থাকে, তেমনি আজেবাজে অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যেও কিছু কিছু অ্যাপ্লিকেশন থাকে সত্যিই খুব কাজের। আজ আমি আপনাদের তেমনই একটি অ্যাপ্লিকেশনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেব।

ওয়ার্ল্ড টুডে
ওয়ার্ল্ড টুডে নামের এই অ্যাপ্লিকেশনটি সংবাদভিত্তিক। ওয়ার্ল্ড টুডে অ্যাপ্লিকেশনের ডেভেলপার বা এর সাথে সংশ্লিষ্ট কেউ সংবাদ পরিবেশন করছে না। বরং বিশ্বখ্যাত সংবাদ সংস্থা তথা বিবিসি, রয়টার্স, সিএনএন ইত্যাদি’র সংবাদ শিরোনাম রাখা হয়েছে এই অ্যাপ্লিকেশনে।


স্ক্রীনশট

এছাড়াও বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডট কমের ফিডও আছে এই অ্যাপ্লিকেশনটিতে। শুধু সংবাদ শিরোনামই নয়, আপনার জন্য তথ্য-প্রযুক্তি, বিজনেস, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান, খেলাধুলা, প্রকৃতি ইত্যাদি ক্যাটাগরীর ব্যবস্থা রয়েছে অ্যাপ্লিকেশনে। যার মাধ্যমে আপনি যেই সংস্থার যেই বিভাগের সংবাদ পড়তে চান, সেই সংস্থার সেই বিভাগের সংবাদই আপনি পড়তে পারবেন। এই অ্যাপ্লিকেশনটির মাধ্যমে আপনাকে সিএনএন, রয়টার্স, বিবিসি, বিডিনিউজ টুয়েন্টি ফোর প্রভৃতি সাইটে সংবাদ শিরোনামের জন্য ঢুঁ মারতে হবে না, বরং একস্থান থেকেই আপনি সব এজেন্সির সর্বশেষ সংবাদের শিরোনাম পেয়ে যাচ্ছেন।


দ্রুততর সংবাদ শিরোনাম খোঁজ করার জন্য রয়েছে ক্যাটাগরীর সুবিধা।

এই অ্যাপ্লিকেশনটি যে কেউ ব্যবহার করতে পারবেন। অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন। অ্যাপ্লিকেশনটি তৈরি করেছেন গোলাম কিবরিয়া স্বপন (বিবর্তনের সম্পাদক)।

অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহারের পর আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না যেন।

বিভাগ: IT
Tagged: , , , , , ,

এটি জীবনের সবচাইতে কষ্টকর ব্যাপার

সেপ্টেম্বর 14, 2008 · Leave a Comment

বাংলাদেশের আজ সুদিন। সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম ছড়াচ্ছে। হাতে কলমে না হলেও সমগ্র বিশ্ববাসীও জানে যে বাংলাদেশে প্রচুর সংখ্যক প্রতিভাবান মানুষ জন্মে। যথাযথ মর্যাদা কিংবা সুযোগের অভাবে অধিক জনঅরণ্যে তারা আবার হারিয়েও যায়। প্রতিভাচর্চার পর্যাপ্ত ক্ষেত্র আর সুদৃষ্টির অভাবে বাংলাদেশের প্রতিভাবানদের শতকরা কতজনের প্রতিভার যে বিকাশ ঘটছে, তা আজও অজানা।
যাই হোক, আজ বাংলাদেশেরই সুদিন। কারণ বাংলাদেশের এক যুবক যে বিবিসিতে সংবাদকর্মীর দায়িত্ব পালন করে থাকে, সে বিশ্বের সবচাইতে ক্ষমতাধর ব্যক্তির ইন্টারভিউ নিতে যাচ্ছে। প্রথমে খবরটা সে বিশ্বাস করতে চায়নি। কিন্তু তার ব্যক্তিত্বতায় মুগ্ধ হয়ে বিবিসি কর্তৃপক্ষ তাকেই নির্বাচিত করেছে সেই মহান (!) ব্যক্তিটির এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার নেবার। যার নামে আজ সমগ্র বিশ্ব কাঁপে। যার কথায় জাতিসংঘ উঠে-বসে। যাকে সবাই মনে মনে ঘৃণা করলেও সামনে সম্মান করে। তাকে যে সম্মান করতেই হবে। পৃথিবীটাযে তারই‍! তার সামনে পান থেকে চুন খসলেই যে পৃথিবী থেকে বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হবে!

এই মহামান্য ব্যক্তিটি আর কেউ নন, জর্জ ডব্লিউ বুশ। বর্তমান বিশ্বের নিঃশব্দ আতঙ্ক।

এই নিয়ে বিশ্ব প্রেস মিডিয়া আর সাধারণ মানুষের উৎকণ্ঠার কোন শেষ নেই। বাংলাদেশের মত নিম্নমানের দেশের সাধারণ একজন অল্পবয়স্ক ছেলেকে কেন এই গুরুদায়িত্ব দেয়া হল, তা নিয়ে সমালোচনায় উঠে পড়ে লাগল সিএনএন রয়টার্স এপি এএফপি, সবাই মিলে। কে জানে, কেন তারা এটা সহ্য করতে পারছে না। তবে যে যাই বলুক, স্বয়ং বুশ এই অনুষ্ঠানে স্বশরীরে উপস্থিতির সম্মতি দিয়েছেন। প্রথম দিকে তিনিও অবাক হননি এমনটা নয়, কিন্তু তার একান্ত কাছের একজন কূটনীতিক তাকের পরামর্শ দিয়েছেন এই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যেতে। কূটনীতিকের মতে, বাংলাদেশের একজন নাগরিকের সাথে টক শো তে বসতে অসম্মতি জানালে বিবিসি সেটা ঢালাওভাবে প্রচার করবে এবং বাংলাদেশের মানুষ স্বাভাবিকভাবেই আপনার উপর আস্থা ও সম্মান হারাবে। কারণ, ক্ষমতা ও নেতৃস্থানীয় লোকেরা যেমনই হোক, বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ অত্যন্ত দেশপ্রেমী। পাকিস্তানের ট্রেনিংপ্রাপ্ত অস্ত্রসুসজ্জিত সেনাবাহিনীকে সাধারণ কিছু গোলাবারূদ এবং পর্যাপ্ত ট্রেনিং ছাড়া বাঙ্গালীরা হার মানিয়ে দিয়েছিল। এই কথা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হানার পর মার্কিন সরকার যথেষ্ট আর্থিক ও খাদ্য সাহায্য দিয়েছে। এতে বাংলাদেশের মানুষ কিছুটা হলেও আমাদের উপর খুশি (!)। আর আপনার মতো উঁচুমানের একজন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের একজন যুবকের সাথে সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে বসেন, তাহলে তো বাংলাদেশ বর্তে যাবে।
সম্মানিত বুশ রাজি হলেন।

সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানটি ধারণ করা হল। সাহসী চালাক যুবক জর্জ বুশের সাথে সম্মতি রেখেই কথাবার্তা চালাল। কারণ সে জানতো, এটা অনিল কাপুরের অভিনীত “নায়ক” ছবি নয় যে জর্জ বুশের অত্যাচারের বিবরণ তুলে ধরবে। তাকে বুঝতে হবে সে কার সাথে কথা বলছে। বিশ্বের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি!

যথারীতি অনুষ্ঠান সম্প্রচার হল। সমগ্র বিশ্ব আরেকবার বাংলাদেশকে শ্রদ্ধার চোখে দেখল। কিন্তু সেই উপস্থাপক যুবক কয়েকদল জঙ্গি’র প্রধান টার্গেট হয়ে রইল। যেইমাত্র তাকে সেই সব জঙ্গিদের কাউকে দেখবে, সেইমাত্র তাকে যেকোন উপায়ে হত্যা করতে হবে। জঙ্গি লীডারদের কাছ থেকে আল জাজিরা ও ভয়েস অব আমেরিকায় ভিডিও টেপ পাঠানো হল। জঙ্গি লীডাররা ঘোষণা করলেন, জর্জ বুশের বন্ধু, বিশ্ব মানবতা ও ইসলামের চরম শত্রু। তাকে হত্যা করা ফরজ, ঠিক যেমনিভাবে জর্জ বুশকে হত্যা করাও ফরজ। এদের কাউকে হত্যা করলে আল্লাহ বেহেশতের গ্যারান্টি দিয়েছেন। বিনা হিসাবে নিশ্চিত বেহেশত। তাই বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ গোপন জঙ্গি সদস্যদের উন্মুক্ত আহ্বান করা হলো, সেই বাংলাদেশী যুবককে হত্যা করার জন্য তক্কে তক্কে থাকতে। বেহেশত নসীবের এই অপূর্ব সুযোগ যেন কোনভাবেই হাতছাড়া না হয়!

এবার বাংলাদেশের ভয়ের পালা। তবে ঐ ছেলের ভাগ্য ভাল ছিল যে সে বুশের পক্ষে (আপাতঃদৃষ্টিতে) ছিল। তাই স্বয়ং বুশ ঐ যুবকের জন্য চিন্তিত হয়ে পড়লেন। তিনি ঐ যুবকের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ফোর্স গঠনের নির্দেশ দিলেন। ঘোষণা দিলেন, এই যুবক চব্বিশ ঘন্টা সাতশ’ রাইফেল ও চৌদ্দশ’ প্রহরীর কড়া প্রহরায় থাকবে যাতে বাইরের একটি ধূলিকণাও ওকে স্পর্শ করতে না পারে।

শুরু হলো ঐ যুবকের বন্দি জীবন। একে তো বন্দিই বলে। চব্বিশ ঘন্টা প্রোটেকশনের মধ্যে থাকতে হয়। ইচ্ছে করলে প্রোটেকশন বাদ দিতে পারে, কিন্তু তার জীবনের প্রশ্ন এতে জড়িত। তাই প্রোটেকশন ছেড়ে বেরিয়েও আসতে পারেনা। কী করবে এখন সে? এই বন্দী জীবন কদ্দিন?


আজও সেই যুবক নিরাপদ আছে। রাইফেল তাকে খুব কড়া প্রহরাই দিয়েছে। তার কিছু হয়নি। সে আপন দেশ, বাংলাদেশে বেড়াতে যেতে চায়। কিন্তু নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে কড়াভাবে নিষেধ করল। বলল, বাংলাদেশে জঙ্গিরা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। কখন কোনদিক দিয়ে কী ঘটে যায় তা বলার কোন উপায় নেই। বাংলাদেশে গেলেই আমাদের প্রোটেকশনের এই মিশন ব্যর্থ হবে। না, এই জীবনে বাংলাদেশে যাবার নাম আর নয়। বাকী জীবন প্রবাসে কড়া নিরাপত্তা জালের মধ্যেই কাটাতে হবে।

কী আর করে সেই অসহায় যুবক। এই আদেশ জারি হবার পর বিবিসি’র অফিসে তার নিজেরই রুমে তার সিনিয়র সংবাদকর্মী তার সাক্ষাৎকার নিতে বসলেন। সেই সাক্ষাৎকার প্রচার হল টিভিতে। সাক্ষাৎকারটা ছিল এমনঃ

(কুশল বিনিময়ের পর)
রিপোর্টারঃ সম্প্রতি সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সী আপনাকে (ভদ্রতার খাতিরে আপনি করে বলা হচ্ছে) নিজ জন্মভূমি বাংলাদেশে আর জীবনেও না যাবার পরামর্শ নয়, একেবারে নির্দেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে আপনার কী প্রতিক্রিয়া?

বাংলাদেশী যুবকঃ আমার প্রতিক্রিয়া অবশ্যই খারাপ। আমি আমার নিজ ভূমিতে, যেই মাটিতে আমার সবচাইতে বেশি অগ্রাধিকার, সেই দেশ- বাংলাদেশে যেতে পারবো না, এটা নিঃসন্দেহে শুধু দুঃখজনক নয়, বরং জীবনের সবচাইতে বড় কষ্টদায়ক ব্যাপার। আমি সি.আই.এ’র বিরোধিতা করব না, কারণ আমি জানি তারা যা বলছে সঠিক বলছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় উন্নতি যদি সফল হয় তাহলে হয়তোবা সি.আই.এ আবার আমাকে দেশে যাবার অনুমতি দিবে। আমি সেই আশায় দিন যাপন করছি।

রিপোর্টারঃ আপনাকে আপনার দেশে যেতে মানা করা হচ্ছে তার একমাত্র কারণ জঙ্গিবাদ, আমরা সবাই জানি জঙ্গি বাহিনীর নেতারা ইসলামের নামে কী সব ঘোষণা এবং তাদের বিশ্বব্যাপী গোপন সদস্যদের প্রতি কী আহ্বান জানিয়েছে। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী?

বাংলাদেশী যুবকঃ আমার মতে, পৃথিবীতে যদি মানুষরূপী সত্যিকারের গাধা থেকে থাকে, তাহলে তারা হচ্ছে এই জঙ্গিবাদের সদস্যগণ। এদের মত বোকা আর হাঁদারাম পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই। মানলাম ওরা আমাকে পছন্দ করতে পারেনি কারণ আমি জর্জ ডব্লিউ বুশের সাথে ভাল আচরণ করেছি। কিন্তু এর পরিণতি কি মৃত্যুদন্ড? পৃথিবীর কোন ধর্ম কি এই মত দেবে? আর সে স্থানে তারা পৃথিবীর সর্বোৎকৃষ্ট ধর্ম ইসলামের নামে এইসব ভুল তথ্য প্রচার করছে। তারা কি মুসলমান? একজন মুসলমানের দায়িত্ব কী? যদি সে ধর্ম প্রচার করতে চায় বা অন্যায়ের বিরোধিতা করতে চায় তাহলে তাকে তো আগে অবশ্যই ধর্ম গ্রন্থ আল-কুরআন এবং এরপর ক্রমানুসারে হাদীসগ্রন্থগুলো গভীর ভাবে অধ্যয়ন করে বুঝতে হবে। তাই নয় কী? অথচ তারা কী করছে, তারা বলছে আমাকে বা জর্জ ডব্লিউ বুশ সাহেবকে মৃত্যুদন্ড তথা খুন করতে পারলে আল্লাহ নাকি বেহেশতের গ্যারান্টি দিয়েছেন। আশ্চর্য, ঐসব জঙ্গি বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে নাকি যার উপর নতুন করে সুরা নাযিল হচ্ছে? যার কাছে প্রতিদিন ফেরেশতা এসে সমসাময়িক বিশ্বে করণীয় সম্বন্ধে আল্লাহর মতামত পৌঁছে দিয়ে যাচ্ছে (নাঊযুবিল্লাহ)? পৃথিবীর এমন একজন মুসলমান যে ইসলামের নূন্যতম জ্ঞানটুকুও অধিকার করে, সেও মত দিবে যে, “না”। তাহলে ঐসব জঙ্গিদেরকে বোকা গাধা ছাড়া আর কী বলে আখ্যায়িত করতে পারি?

—–সমাপ্ত—–
উপরের ঘটনাটুকু পুরোটাই কল্পনার অবদান। বাস্তবের সাথে এর কোন মিল নেই। উক্ত ঘটনা গুলো কখনো কোথাও ঘটেনি। শুধুমাত্র বর্তমানে জঙ্গিবাদের বোকামীর একটি চিত্র তুলে ধরতে গল্পটুকু রচিত হয়েছে।

 

[মূল প্রকাশ]

বিভাগ: Talk of the Time
Tagged: , ,

Jannat – A review

সেপ্টেম্বর 14, 2008 · Leave a Comment

ভারত খুব দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে বিভিন্ন দিকে। তাদের এই এগোনোর মধ্যে সবচাইতে উল্লেখযোগ্য দিক যেটি, সেটি হচ্ছে “বলিউড”। সম্প্রতি যারা বলিউডের হিন্দি ছবিগুলো প্রায়ই দেখেন, তারা তো জানেনই বলিউড সিনেমার দিক দিয়ে কতটা উপরে উঠে গেছে। হলিউডের কাছাকাছিও যেতে না পারলেও তাদের পুরনো ইতিহাস ও ঢালিউডকে ছাড়িয়ে গেছে বহুদূর। তাদের ক্যামেরা হয়ে গেছে উন্নত, রীল হয়ে গেছে দামী, ডিরেক্টররা হয়ে গেছেন আরো অসাধারণ প্রতিভাবান, আর জন্ম হচ্ছে অসাধারণ সব গান ও মিউজিকের। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বলিউড থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত মোট ছবির প্রায় সত্তরেরও বেশি শতাংশ জনপ্রিয়তা পায় শুধুমাত্র গানের জন্য। হ্যাঁ, গানই হচ্ছে বলিউডের ছবির “মুক্তি পাবার আগেই জনপ্রিয় হয়ে যাবার” মূল কারণ। বেশ কিছু ছবি আছে যেগুলোর কোন কাহিনী নেই, কতক্ষণ বকবক করে ছবি নাকি শেষ হয়ে যায়। এসব ছবিও ব্যবসায় সফল হয় কারণ কাহিনী বানাতে না পারুক, দারুণ সুরের একটি গান বানাতে পারলেই ছবি হিট।

এইসব ভেবেই বোধহয় আমাদের জেমস ভাই বলিউডের দিকে পা বাড়িয়েছেন। কারণ, তার প্রতিভানুসারে বাংলাদেশে তাকে ততটা গুরুত্ব দেয়া হচ্ছিল না। যতটুকু পেতেন, তা তার ভক্তদের কাছ থেকে সরাসরি। আর বাংলা ছবিতে অবশ্য তাকে বহু অনুরোধ করলেও তিনি গান গাইতেন কি না সন্দেহ আছে, যদিও গাইতেন, তবু খুব কম। কারণ আমাদের বাংলা ছবি ফ্লপ করে গানের মাধ্যমে। বিশ্বাস না হলে বাংলা ছবি দেখতে চলে যান )

যাই হোক, ফিরে আসছি আজকের মূল বিষয়ে। সব ছবি না হলেও, বেশিরভাগ ছবিই বলিউডের খুব দারুণ হয়। নিশ্চয়ই জানেন কিছুদিন আগে মুক্তি পাওয়া ছবি জান্নাত এর কথা। অনেকে হয়তো জান্নাত ছবিটাকে “ইমরান হাশমী”র উপস্থিতির জন্য বাজেয়াপ্ত করে ফেলবেন। কারণ ইমরান হাশমীর আগের ছবিগুলো (আশিক বানায়া আপনে) দেখলে যেকোন “ভাল মানুষ”ই ইমরান হাশমীর আর কোন ছবি দেখতে ইচ্ছা করবে না।

কিন্তু আমি বলছি জান্নাত পুরো ভিন্ন্। এখানে নেই অশ্লীলতার ছিটেফোঁটাও। এর কাহিনী এক কথায় অসাধারণ, হৃদয় ছোঁয়া। আপাতঃদৃষ্টিতে একে লাভস্টোরি মনে হলেও শুধু লাভস্টোরিই নয়, ছবিটির কাহিনী আরো সুন্দর। এতে রয়েছে কিছু সুক্ষ্ম বার্তা, যা সত্যিই বাস্তব। এছাড়াও বরাবরের মতই ছবির সূরের মূর্ছনায় ছবি মুক্তি পাবার আগেই এটি জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছিল (জান্নাত জাহা, জুদাই, যারা সা)। এছাড়াও ছবির স্ক্রীনপ্লে ও ক্যামেরা সত্যিই দারুণ হয়েছে। সবমিলিয়ে প্রশংসনীয় একটি ছবি।

কাহিনী সংক্ষেপ
অর্জুন (ইমরান হাশমী) একজন সাধারণ মানুষ থাকে প্রথমে। তাস খেলে। কিন্তু প্রতিবারই সে তাস খেলায় হেরে যায়। দারিদ্রতার জন্য সে তেমন কোন ব্যবসাও করতে পারতো না। তবে জুয়া খেলার মত ছোটখাট অপরাধে বরাবরই লিপ্ত থাকতো। তার বাবা ছিলেন সমাজের একজন মান্যগণ্য ব্যক্তি, সৎ, যদিও তার বাবারও আর্থিক অবস্থা ততটা ভাল ছিল না।

একদিন অর্জুনের দেখা হয় একটি মেয়ের সাথে। শপিং মলে। প্রথম দেখায়ই মেয়েটির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে অর্জুন। তারপর তার পিছু নেয়। মেয়েটিকে দেখে একটি আংটির সামনে মনভোলা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে। আংটির দাম অনেক, তার কেনার সামর্থ্যের বাইরে। অর্জুন তখন বিপরীত পাশে গিয়ে যে কাঁচের ভিতরে আংটিটা ছিল, সেটা ভেঙ্গে ফেলে। পুলিশ তখন তাকে থানায় নিয়ে যায়। যাবার সময় অর্জুন বারবার জিজ্ঞেস করে সেই মেয়েটার নাম জেনে নেয়। জয়া (সোনেল)।

কাহিনী এগিয়ে যায়। জয়ার সাথে অর্জুনের প্রায়ই দেখা হয়। কথায় কথায় জয়া একদিন অর্জুনকে বলে, প্রেম করতে হলে গাড়ীর প্রয়োজন হয়। তখন অর্জুন চিন্তায় পড়ে যায়। গরীব সে, গাড়ি পাবে কোথায়?

অর্জুনের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় ছিল অত্যন্ত প্রখর ও আশ্চর্যজনক। সে এই ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়কে কাজে লাগাতে শুরু করে ক্রিকেটের ম্যাচ ফিক্সিংয়ে। এভাবেই সে টাকা আয় করতে শুরু করে। একসময় ইন্ডিয়া ছেড়ে কেপটাউনে চলে যায় তারা দু’জন। কিন্তু সবকিছু গোপন থাকে না বেশিদিন। জয়ার কাছে সব খবর ফাঁস হয়ে যায়।

এভাবেই ঘটনা এগিয়ে যেতে থাকে। একদম শেষ দৃশ্যে পুলিশ চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে জয়া ও অর্জুনকে।
এই শেষ দৃশ্যটিই ছবির সবচাইতে আকর্ষণীয় ও হৃদয়ছোঁয়া পর্ব। শেষ দৃশ্যে কী হয় সেটা বলছি না। আপনি নিজেই দেখুন। আর যারা দেখেছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ, শেষ ঘটনাটা বলবেন না। নিজে দেখলে পুরো ছবির আনন্দটা পাবেন।

যাই হোক, ছবিটা মূলত আমাদেরকে বলে যে, আমরা যতই সততা সততা বলি না কেন, টাকা পয়সা ছাড়া আসলে জীবন অত্যন্ত কঠিন। এমনকি ভালবাসতেও আজকাল টাকা লাগে (যার জলজ্যান্ত প্রমাণ দিতে পারবেন এই ব্লগেরই অসংখ্য ব্লগার ) )। এছাড়াও আরো দারুণ কিছু স্পট ও মিউজিকের সমন্বয় আপনাকে আনন্দ দিতে ব্যর্থ হবে না।

উল্লেখ্য, মুক্তি পাবার পর প্রায় তিন সপ্তাহ একাধারে জান্নাত ছবিটি ভারতের টপ লিস্টের এক নাম্বারে অবস্থান করছিল। এছাড়াও সবদিক মিলিয়ে একটি ব্যবসাসফল ছবিও বটে এটি।

 

[মূল প্রকাশ]

বিভাগ: Movies
Tagged: , , , ,

স্টিকিঃ এই ব্লগের সূচনা

সেপ্টেম্বর 14, 2008 · 2 টি মন্তব্য

বাংলা ব্লগিং ইন্টারনেটে বেশ ঝামেলা হলেও মাতৃভাষা বলে বাংলায় ব্লগিং করার প্রবল ঝোঁকটা দমন করা যায় না। বাংলার সবচাইতে বড় সমস্যা হলো এই যে, ভিজিটরের কম্পিউটারে বাংলা ফন্টটি না থাকলে সেই সাইট দেখা দুষ্কর। অবশ্য এই সাইটে বিশেষ ব্যবস্থায় সবার জন্যই বাংলা দেখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে (উইজেটবারে দেখুন)।

এবারে আসুন জানা যাক এই ব্লগটি কেন তৈরি হল। মূলত বাংলা ব্লগিং করে থাকি আমি সামহোয়্যার ইন ব্লগে। কিন্তু প্রায়ই অনেক ব্লগারের কাছ থেকে অভিযোগ শুনি যে সা.ইন থেকে পোস্ট উধাও হয়ে যায়। আমি ভয়ে ভয়ে আছি কবে আমার পোস্টও নাই হয়ে যায়। দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সা.ইন ব্লগ ব্যাকআপ হিসেবে এই ব্লগ তৈরি করা হল। এছাড়াও সা.ইনে আরেকটি সমস্যা হলো এই যে, আনরেজিস্টার্ড পাঠকরা সেখানে মন্তব্য করতে পারেন না। কিন্তু আমি চাই আমার পোস্টে সকল পাঠক মন্তব্য করুক। সবাই যাতে মন্তব্য করতে পারে সেটাই এই ব্লগ তৈরির অন্যতম উদ্দেশ্য। এখন থেকে সা.ইনে প্রকাশিত আমার সব ব্লগের শেষে এই ওয়ার্ডপ্রেসে প্রকাশিত একই লেখার ব্যাকআপ লিংকও দিয়ে দেয়া হবে, যাতে আনরেজিস্টার্ডরাও মন্তব্য করতে পারেন।

মূলত এটাই হচ্ছে এই ব্লগ তৈরির পেছনে মূল উদ্দেশ্য। বাংলা ব্লগের পাশাপাশি আপনারা আমার ইংরেজী ব্লগটা এবং ব্যক্তিগত ইংরেজি ব্লগটা দেখতে পারেন।

বিভাগ: Admin Told
Tagged: , , , , ,