
(পর্ব ১০)
২৩
সকাল থেকে ঝড়ো হাওয়াসহ তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে। তবে আজ সাইফের কলেজ না যাওয়ার ছুতো বের করার সুযোগ নেই। কেননা, আজ শুক্রবার। বৃষ্টি হোক বা রোদ উঠুক, আজ সে বাসায়ই থাকবে। সকাল থেকে বৃষ্টি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সে শোয়া থেকে উঠেনি। প্রতিদিনের মতোই সেদিনও তেমন একটা ঘুম হয়নি রাতে। তাই সকালে একটু ঘুমানোর চেষ্টা করলো সাইফ। কিন্তু তার ঘুম আসলো না।
সিনথিয়ার কথা ভাবলো সাইফ। সিনথিয়া তাকে প্রোপোজ করেছিল। সে বেশ অবাক হয়েছিল সেদিন। এভাবে তাকে ভালোবেসে বসবে সিনথিয়া, সাইফ সেটা ভাবেনি। সিনথিয়াকে মুখের উপর না বলে দেয়ার কথাও মনে করলো সে। হয়তো তাকে আরেকটু বুঝিয়ে বলা উচিৎ ছিল। মেয়েটা নিশ্চয়ই অনেক কষ্ট পেয়েছে। কিন্তু তা নিয়ে আর বেশি মন খারাপ করলো না সাইফ। সিনথিয়া এখন ওর জীবন সম্পর্কে যথেষ্টই জানে। এরপরও যদি পুরনো ভালোবাসা ধরে রাখে, তাহলে সাইফের এখানে কী-ই বা করার আছে?
সিমির কথা মনে পড়লো সাইফের। এ অবশ্য নতুন কিছু নয়। প্রতিদিন সারাক্ষণই সিমির কথা মনে পড়ে ওর। সিমি এই মুহুর্তে কী করছে, কেমন আছে জানার জন্য সাইফের মন খুব ছটফট করে। এক রকম দাঁত চেপে রেখে নিজের কষ্টটা নিজেই চাপা দিয়ে রাখে সে। যতোই চেষ্টা করে না কেন অন্য কিছু ভাবার, তার মনে কেবল একটাই জিনিস ঘুরেফিরে আসে, সিমির স্মৃতি।
আজ সিমির হাত ধরে হাঁটছে সাইফ। অনেকদিন পর সিমির হাত ধরেছে ও। সিমির হাত ধরায় যে কতো আনন্দ তা কোনোদিনই সাইফের অনুভূতি এড়িয়ে যায়নি। কিন্তু আজ যেন এই আনন্দ অসীম হয়ে উঠেছে। সিমি ইতস্তত ভঙ্গিতে হাঁটছে ওর সঙ্গে। সাইফ তাকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করছে, তারা দু’জন আবার আগের মতো হয়ে উঠতে পারে।
‘না সাইফ,’ সিমি বলল, ‘আমার মনে হয় না।’
সাইফ তাকে আশ্বস্ত করলো, ‘তুমি কষ্ট পেয়েছো, এ জন্য তোমার মন মানতে চায় না সিমি। বিশ্বাস করো, একটু চেষ্টায়ই আমরা আগের মতো হতে পারবো।’
সিমি চুপ করে রইল। সাইফ বলল, ‘মানুষ হয়তো নিজেকে বদলাতে পারে না। আমাদের তো কারোরই কাউকে বদলানোর দরকার নেই। মাঝখানে এতোদিন আমাদের মাঝে যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে কেবল সেটা ঠিক হলেই আমরা আবার ঠিক হয়ে যাবো। আর ভুল বোঝাবুঝিটা তো আর এখন নেই, তাই না?’
সিমি তবুও চুপ করে রইল। তার মনে হয়তো ভয় হচ্ছে আবারও কষ্ট পাওয়ার। কিন্তু সাইফের মনে হচ্ছে সিমি ওর এতো অনুরোধ কখনোই ফেলতে পারবে না। সিমি ওকে ভালোবাসে। সাইফের এই দৃঢ় বিশ্বাস থেকেই সে সিমিকে বারবার কাছে টানতে চাইছে। সে সিমিকে অনেক অনেক ভালোবাসে। সিমিকে ছাড়া ও অনেক বেশি একা হয়ে যায়। কিছুতেই তাকে ছাড়া ভালো থাকতে পারবে না সাইফ।
সিমিকে দেখে সাইফের মনে হচ্ছে সিমি আরেকবার কাছে আসতে চাইছে। সাইফ সিমির কাঁধে হালকা করে একটা চুমু খেলো। সিমির শরীরটা যেন কেঁপে উঠলো। সাইফ মনে মনে হাসলো। সিমি সেই প্রথমদিন থেকেই সাইফের প্রতিটা স্পর্শ অনেক বেশি ফিল করে। এমনকি শেষবারও সাইফ ওর কাঁধে আদর করার পর সিমি কেঁপে উঠেছিল। সাইফের ব্যাপারটা খুবই সুইট মনে হয়। আজ এতোগুলো দিন পর সিমির সেই কেঁপে উঠা দেখে সাইফের মনে হলো যেন শত-সহস্র বছর পর আকাশে বিশাল চাঁদ উঠেছে। সাইফ কিছু বলল না। এ যে শুধুই অনুভব করার জন্য।
Continue reading →